আজ মঙ্গলবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 184

জাতি হারিয়েছে একজন অভিভাবক: হানিফ সংকেত

বিনোদন ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত। তার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ৩০ ডিসেম্বর ভোর ছয়টায় আমাদের ছেড়ে চির বিদায় নিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।’

আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে হানিফ সংকেত লেখেন, ‘তার এই মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছে একজন অভিভাবক। দেশ ও জাতির কল্যাণে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে এই উপস্থাপক আরও লেখেন, ‘তার এই মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। তার শোকাবহ পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।’

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে লিভার ও কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও বিভিন্ন সংক্রমণজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন।

৮০ বছর বয়সি বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে রয়েছে লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যা।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরামের শ্রীপুর গ্রামে। মা তৈয়বা বেগমের জন্ম পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ীতে। তাদের তিন মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়।

তিনি ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় এবং ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান

মোঃ রাশেদুল ইসলামঃ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের মনে ভোট অধিকারের আস্থা ফেরাতে এবং আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে মেলান্দহ থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতা হিসেবে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলো সহ সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান।​

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন সময় ওসি ওবায়দুর রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন মেলান্দহ থানার ফুলকোচা ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই রাশেদুল ইসলাম এবং সহকারী বিট অফিসার এএসআই ফজলুল হকসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

​৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) দিনব্যাপী তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোট গ্রহণ কক্ষের অবস্থান এবং আশেপাশের পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

​পরিদর্শন শেষে ওসি ওবায়দুর রহমান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের কঠোর থেকে কঠোরতম নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, পেশিশক্তির ব্যবহার বা ভোটদানে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হলে পুলিশ তা কঠোর থেকে কঠোরতম হস্তে দমন করবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

​গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি আরও বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন “সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে মেলান্দহ থানা পুলিশ ঐক্যবদ্ধ । ভোটাররা যাতে ভয়ভীতিহীন পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য আমরা প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছি।

​নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় ভাবে কাজ করবে বলেও তিনি জানান। তিনি সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান এবং সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

২০২৬ সালকে বিশ্বে সবার আগে স্বাগত জানালো কিরিবাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বে সবার আগে নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানালো প্রশান্ত মহাসাগরীয় কিরিবাতি দ্বীপ অঞ্চলের কিরিমাতি। নববর্ষ উদ্‌যাপনকারী প্রথম এই দ্বীপটি সবার আগে নতুন বছরে পদার্পণ করেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ কিরিবাতির অংশ এই দ্বীপটি হাওয়াইয়ের দক্ষিণে এবং অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। কিরিবাতি গঠিত হয়েছে একাধিক অ্যাটল বা বৃত্তাকার প্রবালপ্রাচীর দিয়ে, যা পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত।

গ্রিনিচ মান সময় ১০টায় অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় ৩১ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে কিরিবাতি। যুক্তরাজ্য থেকে ১৪ ঘণ্টা এগিয়ে দেশটির সময়। কিরিবাতি—উচ্চারণ কিরিবাস—১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল এই দেশেই অবস্থিত। এখানকার বহু অ্যাটলে মানুষের বসবাস রয়েছে, তবে অধিকাংশ দ্বীপই খুব নিচু ভূমিতে অবস্থিত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় মারাত্মক ঝুঁকির মুখে আছে।

এই দ্বীপপুঞ্জের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার। ভৌগোলিকভাবে হাওয়াইয়ের প্রায় ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত হলেও, কিরিবাতি সেখানে এক দিন আগেই নতুন বছর উদ্‌যাপন করে।

সূত্র: বিবিসি

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

গৃহবধূ থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী!

বিশেষ প্রতিনিধি: তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, সফলতা ও চরম প্রতিকূলতার এক মিশ্র ইতিহাস। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জাতীয়তাবাদের আদর্শকে সমুন্নত রাখা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং তিনবারের সরকারপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক হয়রানি ও আইনি জটিলতার পাহাড় তৈরি হয়েছিল, তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর আদর্শ থেকে সরে আসেননি। তাঁর ৪৪ বছরের রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য। তিনি ‘গণতন্ত্রের মাতা’, ‘আপসহীন নেত্রী’সহ নানা উপাধিতে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে যখন হত্যা করা হয়, তখন খালেদা জিয়া ছিলেন নিতান্তই একজন গৃহবধূ। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তখন বিপর্যস্ত ও দিশাহারা।

১৯৮২ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

দলের মধ্যে তখন এ নিয়ে বিভক্তি। দলের তরুণ অংশ চেয়েছিল খালেদা জিয়া দলীয় প্রধান হোক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে বিএনপির প্রধান হিসেবে দেখেতে আগ্রহী ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ। 

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এরপর দল পরিচালনায় খালেদা জিয়ার প্রভাব বাড়তে থাকে।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব : ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসে তিনি যে দৃঢ়তা দেখান, তা দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে তাঁকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বরে সাতদলীয় জোট গঠিত হয়। এরশাদ সরকারের সময় তিনি একাধিকবার গৃহবন্দি বা আটক হয়েছিলেন। দীর্ঘ আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি দেশব্যাপী ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যখন সামরিক শাসনের পতন হয় এবং দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়, তখন থেকে তিনি ‘গণতন্ত্রের মাতা’ উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তাঁর দলের বিজয় এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন—এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে তিনি গণতন্ত্রের জন্য একজন সফল যোদ্ধা।

রাষ্ট্রক্ষমতায় খালেদা জিয়া : সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ধারক ভূমিকা পালন করেন। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে বিএনপি জয়লাভ করে এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাজনীতিতে আসার ১০ বছরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া।

তিনি তিন মেয়াদে (১৯৯১-৯৬, ১৯৯৬ সালের সংক্ষিপ্ত সময় এবং ২০০১-০৬) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও স্বীকৃতি পান। তাঁর নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি প্রতিটি নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছেন।

আপস শব্দটি ছিল অনুপস্থিত : খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অভিধানে ‘আপস’ শব্দটি ছিল অনুপস্থিত। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকারের আমলে তাঁকে যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা তাঁর ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিটিকে আরো সুদৃঢ় করেছে। ২০০৭-০৮ সালের জরুরি অবস্থার সময় সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক সংস্কারের নামে যে শুদ্ধি অভিযান চালায়, প্রথম ও প্রধান টার্গেটে থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন তিনি।

বিএনপি সরকারের সফলতা ও উন্নয়ন : ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়া শুধু দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ইতিহাস গড়েননি, বরং তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি নতুন যুগের সূচনা করেন। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে তিনি প্রধানত দুটি ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন করেন—প্রথমত, রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনকে সাংবিধানিক রূপ দেন। এটি ছিল গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর গভীর প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক। দ্বিতীয়ত, তিনি অর্থনীতির উদারীকরণ ও সংস্কারের পথে হাঁটেন।

এই আমলেই বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করেন খালেদা জিয়া। মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়, যা নারী শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। যমুনা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজও শুরু হয় এই মেয়াদে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তাঁর সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়। এই সময়কালে প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ২৯তম স্থানে রাখে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি : গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হতে হয়। ২০০৭ সালে তিনি এক বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে পাঠানো হলে দুই বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগারে থাকার সময় থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যায়। কিডনি ও লিভারের জটিলতা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। ২০২১ সালে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।

খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং ১১৭ দিন পর ৬ মে দেশে ফেরেন। এর পর থেকেই দেশি-বিদেশি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। গত ২৩ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে। ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

একনজরে খালেদা জিয়া

জন্মনাম : খালেদা খানম

ডাকনাম : পুতুল

বাবা : ইস্কান্দার মজুমদার

মা : বেগম তৈয়বা মজুমদার

স্বামী : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান

জন্ম : ১৫ আগস্ট ১৯৪৬

জন্মস্থান : অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়ি

স্থায়ী নিবাস : দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়ায়

আদি নিবাস : ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদারবাড়ি

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়

বোন : খুরশীদ জাহান হক (চকলেট) ও সেলিনা ইসলাম বিউটি। ভাই : মেজর (অব.) সাঈদ ইস্কান্দার এবং শামীম ইস্কান্দার। জীবিত বোন সেলিনা ইসলাম ও ভাই শামীম ইস্কান্দার

সন্তান : দুই সন্তানের জননী। বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো (১২ আগস্ট ১৯৭০-২৪ জানুয়ারি ২০১৫)

* প্রায় অর্ধেক জীবন কেটেছে জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে

* মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় আসেন। বড় বোন খুরশীদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন। পরে ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীতে এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাকিস্তানি সেনারা দুই ছেলেসহ তাঁকে বন্দি করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান।

* বিএনপির হাল ধরেন ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি

* সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ১৯৮৩ সালের মার্চে

* বিএনপির চেয়ারপারসন ১৯৮৪ সালের ১০ মে

* বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনবার

* দেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী

* প্রধানমন্ত্রী : ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে

* ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তৃতীয় মেয়াদের প্রধনমন্ত্রিত্ব শেষ করেন

* গ্রেপ্তার : বিএনপিতে যোগদানের পর থেকে সব মিলে ছয়বার। এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর

* ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন। জামিনে মুক্ত হন ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর

* ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেত্রী হন

* ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেন

* মামলা : ২০০৭ ও ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থায় ১৩টি, পরে আওয়ামী লীগ আমলে দেওয়া অন্য মামলাসহ মোট মামলা হয় ৩৭টি

* ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত

* ওই দিনই পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়

* ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়

* ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় আ. লীগ সরকার। পরে ছয় মাস পর পর সরকার তাঁর মুক্তি নবায়ন করে

* বাসার বাইরে কোথাও বেগম জিয়া যেতে পারতেন না। এমনকি বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যও অনুমতি দেয়নি শেখ হাসিনা সরকার

* ৬ অক্টোবর ২০১৮ : কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় পিজি হাসপাতালে আনা হয়

* ২৫ মার্চ ২০২০ : সরকারের নির্বাহী আদেশে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। তখন তিনি বন্দি অবস্থায় ছিলেন

* ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে শেখ হাসিনা পালানোর পর মুক্ত হন খালেদা জিয়া

* ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান

* চার মাস পর দেশে ফেরেন ৬ মে

* সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন, নির্বাহী কমিটির সভা, স্থায়ী কমিটির সভা ও ২০ দলীয় জোট সভা ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি

* সর্বশেষ সড়কপথে ঢাকার বাইরে সিলেটে মাজার জিয়ারত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে

* সর্বশেষ জন্মদিন উপলক্ষে গুলশানে চেয়ারপারসন অফিসে কেক কেটে শুভেচ্ছাবিনিময় ২০১৫ সালে

সূত্র : শায়রুল কবির খান, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বঙ্গজননীর জানাজায় জনতার ঢল

আলমগীর মতিন চৌধুরীঃ

খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দেশ বিদেশী বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবিন্দ। বিএনপি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেলা ৩টা বেজে ২ মিনিটে খালেদা জিয়ার জানাজা শুরু হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান। জানাজার আগে খালেদা জিয়ার পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তার মায়ের জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং কারও কাছে কোনো ঋণ থাকলে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। সকাল থেকে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানুষের ঢল নামে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবনের সামনের মাঠসহ আশাপাশের এলাকায়। জানাজাস্থল পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় খামারবাড়ি, ফার্মগেট, আসাদগেট, মিরপুর রোড এবং বিজয় সরণিসহ আশেপাশের এলাকায়ও বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়েই জানাজায় অংশ নেন। খোলেদা জিয়াকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। সম্ভবত এই মুহূর্তে দেশজুড়ে সবচেয়ে শ্রদ্ধা স্মরণে আলোচনার শীর্ষে বঙ্গ জননী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আড়াল হলেও রয়ে যাবেন মননে’ নেতা বিদায় নেন, কিন্তু থেকে যায় আদর্শ। সত্যি বেগম খালেদা জিয়া জাতির মননে স্মরণীয় বরণীয় হয়ে থাকবে থাকবেন, প্রয়াণের পরও শেষ হবে না তার কর্মময় জীবনের গল্প। গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়া চলে গেলেও কেবল টিকেই থাকবে না, বরং নতুন করে জাগ্রত হবে গণতন্ত্রের আদর্শ। পুরো জাতি খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাহত। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে যিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আলোকিত প্রতিদিন পরিবার জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে। বিশ্বের বহু নেতা যখন এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোকবার্তা জানাচ্ছেন, তখন তার স্মৃতির প্রতি সম্মানার্থে আমরা আবারও প্রতিজ্ঞা করছি গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সব কাজের সাথে থাকবে আলোকিত প্রতিদিন। খালেদা জিয়ার জানাজা। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী ঢাকার রাস্তাঘাটে আছড়ে পড়েছে অগণিত জনতার ঢেউ। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ রূপ নিয়েছে জনসমুদ্রে। জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সকাল থেকেই সমবেত হতে থাকেন শোকাহত মানুষেরা। দিনের শুরুতেই মানুষের সারি তৈরি হতে থাকে এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দীর্ঘ হয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে শোকাহত মানুষের লাইন আসাদ গেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। প্রধান সড়কের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি রাস্তা ও গলিপথে মানুষ ধৈর্যের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকের হাতে ছিল দলীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড, আবার অনেকেই নীরবে দোয়া করছিলেন। জনসমাগম কেবল সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে উড়াল সড়কের ওপর এবং আশপাশের ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে জানাজার কার্যক্রম একনজর দেখার চেষ্টা করতে দেখা যায়। হলিক্রস রোড এলাকা, পূর্ব ও পশ্চিম তেজতুরীপাড়া, গ্রিনরোড ও আশপাশের গলিগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। তীব্র যানজট উপেক্ষা করেই স্থানীয় বাসিন্দারা জানাজায় অংশ নিতে দাঁড়িয়ে যান। বিএনপি সমর্থকদের পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন সাধারণ নাগরিকদেরও পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের ব্যাপক প্রভাবের প্রতিফলন। বয়স্ক মানুষ, নারী ও তরুণ—সব বয়সের মানুষই উপস্থিত ছিলেন; অনেককেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত দেখা যায়। এই অভূতপূর্ব জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়। আশপাশের সড়কে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্তৃপক্ষ সবাইকে শান্ত থাকার এবং নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানায়। অনেক শোকাহত মানুষ খালেদা জিয়াকে দেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাস গড়ে দেওয়া এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। ফার্মগেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, ‘খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের সব মানুষের নেত্রী। খালেদা জিয়ার জানাজার কারণে বাড়ানো হয়েছিল মেট্রোরেলের ট্রিপের সংখ্যা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এসেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবনের সামনের মাঠসহ আশাপাশের এলাকায়। খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরাও জানাজায় অংশ নিতে এসেছেন। জানাজা নামাজ শেষে বিকেলে শেরেবাংলা নগরে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তার সরকারের প্রথম মেয়াদকাল ছিল গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে স্বাধীন সময়। এ জন্যও আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাই। এত সংগ্রাম ও ত্যাগের পরও খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায় প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। সাত বছরেরও বেশি সময় তাকে কারান্তরীণ ও গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছে। যা ছিল আইনের অপব্যবহারের এক দৃষ্টান্ত। তিনবারের নির্বাচিত এই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বন্দিদশায় যে আচরণ করা হয়েছে, তা ছিল মর্যাদাহানিকর। দুই বছরের বেশি সময় তাকে নির্জন কারাবাসে রাখা ছিল নিষ্ঠুর ও অমানবিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দলটি হয়ে পড়ে নেতৃত্বহীন। সেই অবস্থায় খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসতে বাধ্য হন। আত্মপ্রচারবিমুখ ও রাজনীতির জগতে অনভিজ্ঞ গৃহবধূ হয়েও তিনি ধীরে ধীরে কিন্তু দৃঢ়ভাবে দল ও দেশের রাজনীতিতে নিজের ছাপ রেখে গেছেন। সুযোগসন্ধানীদের মতো আপস না করার যে দৃঢ়তা তিনি দেখিয়েছিলেন, সেটাই ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের অন্যতম মূল কারণ। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার অবদান ছিল অসামান্য। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তার বিজয় ছিল অভূতপূর্ব। এর মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় ও সুস্পষ্ট লক্ষ্যসম্পন্ন এক রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরশাদের সমঝোতার প্রস্তাবের কাছে নতি স্বীকার করতে বারবারই অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। আর সেই কারণেই এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির যে রাজনৈতিক ভূমিকা, তা সম্পূর্ণভাবে খালেদা জিয়ার কৃতিত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে দল ও দলের নেত্রী জায়গা করে নেয় সাধারণ মানুষের মনে। এ দেশের জনগণ বুঝতে পারে এখানে এমন একজন নেত্রী আছেন, যার কথা ও কাজে মিল আছে এবং লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েও তাকে টলানো যায় না। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করে যথাযথভাবে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন মর্যাদাসম্পন্ন, সংবেদনশীল, ভিন্নমতের প্রতি উদার, দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিজের গুরুদায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। তিনি জানতেন, তার শেখার অনেক কিছু আছে এবং সেই শেখার প্রচেষ্টা তিনি অব্যাহত রেখেছিলেন। বিদ্যমান রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের দাবি মেনে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রকৃত পরীক্ষা দেন তিনি। আমাদের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও জনগণের পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে তিনি বিরোধীদের এই দাবি মেনে নেন। এতে তার উদারতা ও ভিন্নমত গ্রহণের সক্ষমতা প্রকাশ পায়, যা তিনি নিজে কখনো প্রচার করেননি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি ছিল এক বিরল দৃষ্টান্ত এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির এক সুযোগ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিরোধীরা এটাকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে না দেখে উল্টো নিরবচ্ছিন্ন হরতালের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে হয়রানি করতেই ব্যবহার করেছেযা পরবর্তীতে দেশ জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশবাসির সাথে আমরা শোকাহত। এমন সময়ে আমাদের উচিত বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের প্রতি তার অঙ্গীকার নিয়ে ভাবা এবং তার দেখানো পথ ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া। দেশের প্রতি বঙ্গ জননী বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসা ও জনগণের প্রতি অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন করতে সত্যিকার অর্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনি সুসময়।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় পাকিস্তানের স্পিকার ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাসভবনে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও টিভি তাদের এ সাক্ষাৎকারকে ‘বড় ব্রেকথ্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন খালেদা জিয়া। আজ ৩১ ডিসেম্বর বুধবার ঢাকায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন লাখ লাখ মানুষ। খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন। এরমধ্যে আছেন পাকিস্তানের স্পিকার ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা দুজন খালেদা জিয়ার বাসভবনে শোক প্রকাশ করতে যান। সেখানেই দেখা হয় তাদের।

চলতি বছরের মে মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। ওই সংঘর্ষের পর দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে এ প্রথমবার সরাসরি বৈঠক হলো।

পাকিস্তানি সাংবাদিক আনাস মল্লিক মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দাবি করেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের স্পিকারের কাছে হেঁটে যান। এরপর তাদের দুজনের মধ্যে কথা হয়।

গত এপ্রিলে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু এবং কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হন। এই হামলার পেছনে পাকিস্তান জড়িত এমন অভিযোগ তুলে ৭ মে ভোরে পাকিস্তানে প্রথম মিসাইল ছোড়ে ভারত। এর জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা মিসাইল এবং বিমান হামলা শুরু করে। টানা চারদিন এমন হামলা পাল্টা হামলা চলে। যদিও সংঘর্ষ হয়েছে মাত্র চারদিন। কিন্তু এসব হামলার তীব্রতা ছিল ব্যাপক। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। যা এখনো অব্যাহত আছে।

সূত্র: জিও টিভি

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

 

মায়ের কফিনে*র পাশে কোরআন তেলাওয়াত করছেন তারেক রহমান!

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহ এখন তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় নেওয়া হয়েছে। এখানেই দলের নেতাকর্মী ও স্বজনরা খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন। খালেদা জিয়ার কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন ছেলে জনাব তারেক রহমান।

বুধবার সকাল ৯টার একটু আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের উদ্দেশ্যে বের করা হয় খালেদার মরদেহ।

এরপর নেওয়া হয় গুলশানের তারেক রহমানের বাসায়। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। রয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জানাজার আগে মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মায়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৩১ ডিসেম্বর বুধবার বিকাল ৩টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজার আগের পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি এ আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, আমার মা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকতে ঋণ নিয়ে থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি পরিশোধ করে দেবো। তার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।

গতকাল ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মার যান রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসারত অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান।

গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে তিনি ছিলেন দৃঢ় এবং আপসহীন এক নেত্রী। এই রাজনীতিকের চলে যাওয়ায় রাজনীতির ময়দান হারালো এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বৃহৎ জানাজায় অংশ নেয় লাখ লাখ মানুষ

আলোকিত ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, মুসলিম বিশ্বের স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় অংশ নেয় লাখ লাখ মানুষ। বুধবার বিকাল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা এবং লাখ লাখ নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া বিদেশি কূটনৈতিকরা অংশ নেন।

৩১ ডিসেম্বর বুধবার দুপুর ৩টার পরপরই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের খতিব। তার আগে শুধু মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ নয়, আশ পাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষ অবস্থান নেয় জানাজায় অংশ নিতে। তিল ধারণের জায়গা ছিল না।

বিএনপি চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে ভারত। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বড় ছেলে ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিক।

বুধবার পাকিস্তান হাই কমিশন বাংলাদেশ তাদের ফেসবুক পেজে এ খবর জানায়। এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার লাশ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেওয়া হয়। তারপর গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়।  বুধবার সকাল ৯টার দিকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত প্রতিবেদক:

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

৩১ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এসে পৌঁছান তিনি। উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন জানাজা স্থলে।

সংসদ এলাকায় জায়গা না পেয়ে বিভিন্ন সড়কে হাজারো মানুষ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে হেঁটে আসছেন মানুষ কারওয়ান বাজার থেকে যানচলাচল বন্ধ, হেঁটেই জানাজায় যাচ্ছে মানুষ এদিন বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি পৌঁছে। এর আগে বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে ছেলে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে।

সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মরদেহটি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের করে নেওয়া হয় গুলশানে। শুরুতে নিজের দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেওয়ার কথা থাকলেও গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম