আজ মঙ্গলবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 182

তারেক রহমানের একান্ত সচিব ও প্রেসসচিব নিয়োগ!

বিশেষ প্রতিনিধি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে সরকারের সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও প্রেসসচিব হিসেবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) নিয়োগ পেয়েছেন।

আজ শনিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে এবং ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ এ এম সালেহকে (সালেহ শিবলী) প্রেসসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

স্বামীর ইউনিফর্ম পরে স্ত্রীর ‘টিকটক’, কনস্টেবল প্র*ত্যাহার!

আলোকিত ডেস্ক: পুলিশ কনস্টেবল স্বামীর ইউনিফর্ম পরে টিকটক ভিডিও তৈরি ও প্রকাশ করার অভিযোগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) এক কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কনস্টেবলের নাম মো. সাইফুজ্জামান এবং টিকটক ভিডিওগুলো করেছেন তার স্ত্রী সীমা খাতুন। সীমা খাতুনের বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়। তিনি নিয়মিতভাবে স্বামীর পুলিশের পোশাক পরে টিকটক ভিডিও তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছিলেন। সাইফুজ্জামান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন।

কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ আলী জানান, বৃহস্পতিবার তিনি জানতে পারেন— সাইফুজ্জামান বিয়ে না করে সীমা খাতুন নামের এক নারীকে নিয়ে একই বাসায় ভাড়া থাকছেন এবং ওই নারী পুলিশের ইউনিফর্ম পরে টিকটক ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করছেন। খবর পেয়ে তিনি নিজেই ওই বাসায় যান।

এ বিষয়ে আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, পুলিশ সদস্যের ইউনিফর্ম তার স্ত্রী বা অন্য কেউ পরিধান করতে পারেন না। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জে শিশুদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়েছে। সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশে জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে। এ কারনে কোন ধরনের উৎসব ছাড়া শিশুদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে এগারটার সময় মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের নারাঙ্গাই এলাকার ন্যাশনাল বিদ্যানিকেতন গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ সদস্য খায়রুজ্জামান চৌধুরী, মো. রুহুল আমীন, লিয়াকত হোসেন, প্রধান শিক্ষক কাজী কামরুন নাহার, জেলা সম্পাদক পরিষদের  সাধারণ সম্পাদক মো:আকরাম হোসেনসহ স্থানীয়  গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
আলোকিত প্রতিদিন/০২ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

এক চীন নীতিতে’বাংলাদেশের দৃঢ়ভাবে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচন কামনা করে চীন সরকারের সাম্প্রতিক বিবৃতি এবং একইসঙ্গে নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে জোর দেওয়ায় বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ গভীরভাবে মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশও ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশের এক চীন নীতিকে সমর্থনে স্বাগত জানিয়েছে চীন। ঢাকার চীন দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে বলেছে যে বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্য দেয়, যা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আরও উচ্চতায় গিয়েছে। বাংলাদেশও এক চীন নীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে আনুগত্য প্রকাশ করেছে।’

প্রসঙ্গত, ‘এক চীন নীতি’ অনুযায়ী বিশ্বে কেবল একটি চীন আছে, তাইওয়ান চীনের ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকার সমগ্র চীনের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র আইনি সরকার। এটি চীনের অবস্থানগত কূটনৈতিক স্বীকৃতি, যার ফলে অন্যান্য দেশ এটা মেনে নেবে যে চীনে শুধুমাত্র একটি চীনা সরকার রয়েছে। চীনের জোর দাবি—তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা একদিন পুনরায় একত্রিত হবে।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীন ও তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলন’ অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যকে ‘অপ্রতিরোধ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

তাইওয়ানের চারপাশে চীনের সামরিক বাহিনী যুদ্ধ মহড়া শেষ করার একদিন পর নববর্ষের ভাষণে শি ৩১ ডিসেম্বর বুধবার তাইওয়ান প্রণালির উভয় পাশে চীনা জনগণের মধ্যে ‘রক্ত ও আত্মীয়তার বন্ধন’ তুলে ধরেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

কক্সবাজারে সংঘবদ্ধ ধ*র্ষণে কিশোরীর মৃ*ত্যু, মূলহোতা গ্রে*ফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়ে কক্সবাজারে ১৩ বছর বয়সী মাদরাসা পড়ুয়া এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় হৃদয় হাসান বাবু (২২) নামের তরুন কে মহেশখালীর উপজেলার কালারমার ছড়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

৩১ ডিসেম্বর বুধবার রাতে তাকে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আটক করা হয়। মিডিয়া ফোকাল পয়েন্টের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ডিএসবি) অলক বিশ্বাস কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, বাবুই এ ঘটনার মুলহোতা।সে এই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী।

পরিবারের অভিযোগ, ‘তারা যে ভাড়া বাসায় থাকতো সেই বাড়ির মালিকের সাথে কথা কথাকাটি হলে গত ২২ ডিসেম্বর নিহত কিশোরীকে অপরহরণ করে নিয়ে যায় শহরের সাহিত্যকাপল্লীর বাসিন্দা হৃদয় হাসান বাবু, নায়েমসহ কয়েকজন। পরে নায়েমের বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ৫ দিন পর সে মারা যায়।’

এই ঘটনায় রেকর্ড হওয়া ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলায় প্রধান আসামী বাবুসহ রোকেয়া নামের আরো এক নারীকে এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস জানান, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা জোরালোভাবে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা, কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৌরভ বড়ুয়া বলেন, ধর্ষণের মূলহোতা বাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়।আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন,সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরী পাঁচ দিন আইসিউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যায়।

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

ঢাকা থেকে করাচি ফ্লাইট চালাতে বিমান বাংলাদেশকে অনুমতি দিলো পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ঢাকা থেকে করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট চালাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান।  ২ জানুয়ারি শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা নিউজ।

সংবাদমাধ্যমটি এ অনুমতিকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের একটি ব্রেকথ্রু হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে আকাশ সংযোগের ক্ষেত্রে নতুন বছরে এটি নতুন এক অধ্যায়।

সূত্র জানিয়েছে, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) বিমান বাংলাদেশকে ঢাকা-করাচি ফ্লাইট পরিচালনায় অনুমতি দিয়েছে।

প্রাথমিক অবস্থায় এই অনুমোদন ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এরপর অনুমোদনটি আবারও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

নতুন অনুমোদন অনুযায়ী, বাংলাদেশি এয়ারলাইন্স অফিসিয়ালিভাবে অনুমোদিত রুট দিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে যে রুটে পাকিস্তানে বিমান চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেটি কঠোরভাবে মানতে হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

অনুমোদনের পাশাপাশি করাচি বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আলাদা একটি স্লট প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা থেকে বিমান উড়ার আগে করাচি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ফ্লাইটের বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে অপারেশনাল সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সম্মতি।

দেশটির বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা এবং করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশের জনগণের জন্য লাভজনক হবে। এছাড়া ভ্রমণ সুবিধা উন্নত, জনগণ টু জনগণ সম্পর্ক জোরদার এবং ব্যবসা ও বানিজ্য সম্প্রসারণের পথ উন্মোচিত হবে।

সূত্র: সামা নিউজ

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

শো*ককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে চায় বিএনপি!

বিশেষ প্রতিনিধি: দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ‘শোকে স্তব্ধ’ গোটা বিএনপি পরিবার। তাকে হারানো দলের জন্য এক ‘বিরাট শূন্যতা’। এই শূন্যতা দ্রুতই কাটিয়ে উঠতে চায় বিএনপি। আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় চেয়ারপারসনকে হারানোর এই শোককে ‘শক্তিতে পরিণত করে’ সামনে এগিয়ে যেতে চায় দেশের বৃহত্তর দলটি। ‘খালেদা জিয়া-উত্তর’ যুগে তার পথ ধরেই দল যেন আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র উত্তরণে ভূমিকা রাখতে এবং দেশের সেবা করতে পারে, সেজন্য এখন লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া তার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে বিএনপিকে তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসেন।

বিএনপি মনে করছে, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তার অবর্তমানেও জনগণের এই ভালোবাসা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের পক্ষের যে শক্তি রয়েছে, তা বিএনপিকে বিজয়ী করবে। আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরেই সেটা হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। বছরের পর বছর অসুস্থতা ও রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার মধ্যেও যিনি দলের ঐক্যের চূড়ান্ত প্রতীক ছিলেন, সেই নেত্রীকে ছাড়াই এখন নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে দলটিকে। তার প্রয়াণে বিএনপি এখন পুরোপুরি ‘খালেদা জিয়া-উত্তর’ যুগে প্রবেশ করল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ার পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন দলের সব ক্ষমতা এবং জবাবদিহির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে বিএনপির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এখন প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হওয়া এবং কয়েক বছর ধরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল পরিচালিত হওয়ায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিটা দলের রাজনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নয় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকের অনেকের অভিমত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক দশক ধরে খালেদা জিয়ার প্রাসঙ্গিকতা শুধু আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজনীতির সম্মুখভাগে অনুপস্থিত থাকার সময়ও তিনি ছিলেন দলের নৈতিক ভারকেন্দ্র এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা। তার উপস্থিতির কারণেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিতে পারেনি এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে কারও মনে সংশয় ছিল না।

তিনি বলেন, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ঘন ঘন মিটিং হচ্ছে। যেটা ২০১৮ কিংবা ২০১৪ সালের আগে এভাবে হয়নি। অর্থাৎ বিএনপির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াটা এখন প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া জীবিত ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতেও কিন্তু স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তেই দল পরিচালিত হতো, খালেদা জিয়া হয়তো পরামর্শ দিতেন। এখনো সেই স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তেই বিএনপি পরিচালিত হবে। কিন্তু এখন যেটা হলো—বেগম জিয়ার পরামর্শ, তার অভিভাবকত্ব মিস করবে বিএনপি। কারণ, অসুস্থ থাকলেও তিনি দলের জন্য ‘ছায়ার মতো’ ছিলেন, ঐক্যের প্রতীক ছিলেন। এর অর্থ এই নয় যে, দল বড় কোনো চ্যালেঞ্জে পড়ে গেছে। বিএনপি আগের মতোই আছে। এখন সামনে জাতীয় নির্বাচন। খালেদা জিয়ার এই ইন্তেকালে তার শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবরণ এবং অসুস্থতাজনিত কারণে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান লম্বা সময় ধরে বিএনপিকে পরিচালনা করেছেন; এটা করতে গিয়ে তিনি নিজেও অনেক বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সুতরাং আশা করছি, তারেক রহমানের পরামর্শ এবং স্থায়ী কমিটির সিদ্ধার্থ মিলে বিএনপি আরও শক্তি, আরও সামর্থ্যের সঙ্গে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাবে।

বিএনপির নেতাকর্মী এবং গণতন্ত্রকামী মানুষকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার ভোরে না ফেরার দেশে চলে যান দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাকে হারানো বিএনপির জন্য এক বিরাট শূন্যতা। দলের প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর গৃহবধূ থেকে এসে বিএনপির হাল ধরেন। গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি আমৃত্যু ছিলেন আপসহীন। তিনিই ছিলেন দলের ‘ঐক্যের প্রতীক’। সে জায়গায় বিএনপিতে একটা বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেটা তারা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবেন এবং খালেদা জিয়াকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যাবেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের পক্ষের যে শক্তি রয়েছে, তা বিএনপিকে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, আগামীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে—এটি মানুষ বিশ্বাস করে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোবলের অধিকারী হতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। যত শোকই থাকুক, জাতির স্বার্থে তাকে দৃঢ় থাকতে হবে।’

মাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামী নির্বাচনে দলের বিজয় সুনিশ্চিত করতে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামবেন। এ ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে এখন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনের তপশিল অনুযায়ী, প্রচারণা শুরু হলে সদ্য প্রয়াত মা খালেদা জিয়ার মতো সিলেটে দুই আউলিয়া হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করবেন তিনি। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দ হবে আগামী ২১ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামার আগে পৈতৃক ভূমি বগুড়ায় যেতে পারেন তারেক রহমান। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ সংসদীয় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৌদি বাদশাহর গভীর শোক 

আলোকিত প্রতিবেদক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে পাঠানো বার্তায় শোক এই শোক জানানো হয়।

বাদশাহ তার বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। এ শোকাবহ সময়ে আমরা আপনাদের এবং মরহুমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন খালেদা জিয়াকে অসীম রহমত ও ক্ষমার চাদরে আবৃত করেন, জান্নাতে সর্বোচ্চ স্থান দান করেন এবং আপনাদের সবাইকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করেন। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই আমরা তার কাছেই প্রত্যাবর্তনকারী।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা শোকাহত। এই দুঃখজনক সময়ে আমরা আপনাদের ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জানাচ্ছি। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন মরহুমাকে তার রহমত ও ক্ষমার চাদরে আবৃত করেন, জান্নাতে স্থান দেন এবং আপনাদের সবাইকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।

৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মার যান রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসারত অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান। গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী।

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে বিশেষ দোয়া

আলোকিত ডেস্ক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া পড়া হয়েছে। মুসল্লি এবং সাধারণ মানুষজন এই দোয়ায় অংশ নেন।

২ জানুয়ারি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজ শেষে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করা হয়। এরপর দোয়ায় খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। আল্লাহপাক যেন তাকে জান্নাতের বাসিন্দা করেন- এ কামনাও করা হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ দেশজুড়ে তৃতীয় এবং শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার থেকে ২ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়।

শোকের শেষ দিন আজও দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন জাইমা রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি: সদ্যঃ প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সমাহিত দাদির কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যান তারা। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাইমা রহমান জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। তার সঙ্গে পরিবারের মোট ২০ জন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি