আজ সোমবার, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 18

কুমিল্লায় গভীর রাতে মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে আটক-২, বুড়িচং থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মা*মলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা বুড়িচং থানাধীন ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া নাজিরা বাজারস্থ মেসার্স মদিনা পেট্রোল পাম্বের সামনে চট্টগ্রাম-ঢাকাগামী মহাসড়কের ঢাকা মুখি লেইনে গড়ীররাতে মাছের গাড়ি ডাকাতির চেষ্টাকালে দুই ডাকাতকে আটক করেছে। এই ঘটনায় বুড়িচং থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আসামিরা হলো- ১। মোঃ লাল মিয়া (৪৩), পিতা-মৃত জয়নাল ফরাজী, মাতা-রেনু বেগম, সাং-জাঙ্গাইল্যা (হাজীরহাট ফরাজী বাড়ী), থানা-মেহেন্দীগঞ্জ, জেলা-বরিশাল, বর্তমান সাং-মেরাদিয়া (ইউসুফ মাতবরের বাড়ীর সামনের বাড়ী), থানা-খিলগাঁও, জেলা-ঢাকা, ২। রুবেল আহমেদ সেলিম (৩৬), পিতা-সফিকুল ইসলাম, মাতা-নাজমা বেগম, সাং-নতুন জুরাইন, ০৬নং ওয়ার্ড (আলমতবাগ, প্রফেসর বাড়ী), থানা-শ্যামপুর, জেলা-ঢাকা, ৩। মোঃ শুকুর আলী বয়াতী (৫৩), পিতা-বরকত আলী বয়াতী, মাতা-ছিদ্দিকা বেগম, সাং-কাউশিয়া, ডাকঘর-কাহালিয়ার হাট, থানা-হিজলা, জেলা-বরিশাল, বর্তমান সাং-পানগাঁও (কাজী বাড়ীর গলিতে ডিমের দোকান আছে), থানা-দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা-ঢাকা, ৪। আজাদ জোয়ারদার (৪৮), পিতা-ছবেদ আলী জোয়ারদার, মাতা-খাদিজা বেগম, সাং-কোমরাইল, ডাকঘর-আর কোমরাইল, থানা-ডুমুরিয়া, জেলা-খুলনা, বর্তমান সাং-শামসুরঘাট (বিএনপি পার্টি অফিসের পিছনে বাসা), থানা-দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, জেলা-ঢাকা।

২৩ মে শনিবার ভোর রাত ৩ টার দিকে কুমিল্লা বুড়িচং থানাধীন ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া নাজিরা বাজারস্থ মেসার্স মদিনা পেট্রোল পাম্পের সামনে ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান। যার মামলা নং-৩৭।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী মোঃ মহিউদ্দিন (৪৬) একজন মাছের পোনা ব্যবসায়ী। তিনি প্রায় সময় রাতের বেলায় পিকআপ গাড়ী যোগে বিভিন্ন জায়গায় মাছের পোনা সরবরাহ করে। ২৩ মে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট থেকে পিকআপ গাড়ী যোগে মাছের পোনা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় মামলার বাদী। ২৪ মে গভীর রাত ৩ টার সময় বুড়িচং থানাধীন ৬নং ময়নামতি ইউনিয়নের অন্তর্গত কালাকচুয়া নাজিরা বাজারস্থ মেসার্স মদিনা পেট্রোল পাম্পের সামনে চট্টগ্রাম-ঢাকা গামী মহাসড়কের ঢাকা মুখি লেইনে পৌছিলে একটি সাদা কালারের নাম্বার বিহীন প্রাইভেটকার তাদের পিকআপ গাড়ীর সামনে আসিয়া গতিরোধ করে এবং প্রাইভেটকার থেকে ৪ জন ব্যক্তি নামিয়া তাদেরকে ধারালো চাপাতি, সুইচ গিয়ার, চাইনজ কুড়াল ইত্যাদির সম্মুখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করিয়া বাদী ও ১নং সাক্ষীকে যা কিছু আছে সব কিছু দিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। পিকআপ গাড়ীর চালককে গাড়ীর চাবি দেওয়ার জন্য বলে। রাজী না হলে বাদী ও গাড়ির চালককে তাদের সাথে থাকা ছেনির উল্টা পিঠ দ্বারা মারধর করে এবং ৬০ হাজার টাকা ছিনাইয়া নিয়া যায়। আমাদের শোর চিৎকার করলে স্থানীয় জনতা ১ ও ২নং আসামিকে আটক করে। সেই সময় ৩ ও ৪নং আসামি তাদের নাম্বার বিহীন প্রাইভেট গাড়ী যোগে পালিয়ে যায়। ওই সময়ে রাত্রীকালীন ফাঁড়ি এলাকায় টহলরত দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ঘটনাস্থলে এসে আটককৃত ২ আসামিকে পুলিশি হেফাজতে নেয়। আটককৃত ২ জন আসামি থানায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং সঙ্গীয় পলাতক ৩ ও ৪নং আসামির নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে।

মামলার বাদী মো.মহিউদ্দিন জানান, আসামিরা তাদের টার্গেটকৃত গাড়ীতে সুকৌশলে জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে সুবিধামত স্থানে ডাকাতি করিয়া থাকে। পুলিশ ১ ও ২নং আসামিকে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে নিয়ে পরে থানায় নিয়া যায়। তিনি পলাতক আসামিদের দ্রুত আটকের দাবী জানায়।

আলোকিত প্রতিদিন / ২৫ মে ২০২৬ /মওম

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ: ব্লগার শিপলু কুমার বর্মণের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য প্রচারের অভিযোগে শিপলু কুমার বর্মণ নামে এক ব্লগার ও লেখকের বিরুদ্ধে গতকাল ঢাকায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার ওয়েবসাইট ও এক্স অ্যাকাউন্টে এমনসব পোস্ট ও লেখা প্রকাশ করে আসছেন, যেখানে ইসলাম ধর্মকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মহানবী (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত দিয়েছে।
বাদী ইউসুপ কাউসার আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং জনগণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডের কারণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তিনি আদালতের কাছে কঠোর শাস্তির আবেদন জানান।
মামলাটি আমলে নিয়ে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৬ নম্বর আদালতের বিচারক রনক জাহান তাকি তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগরের মুগদা থানার সিআইডি ইউনিটকে। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২৯৫, ২৯৫(ক), ২৯৮ এবং ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার নথি নম্বর সি.আর.- ১৪৩/২০২৬।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় অবমাননা সম্পর্কিত অভিযোগ বাংলাদেশে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য যদি জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
যদিও অভিযুক্ত শিপলু কুমার বর্মণের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৮ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্যে।

হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মিনা

ধর্ম ডেস্ক:

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সোমবার ভোর থেকেই লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার আকাশ-বাতাস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এখন তাঁবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হচ্ছেন। আজ দুপুর পর্যন্ত হাজিদের মিনায় পৌঁছানোর এই প্রক্রিয়া চলবে।

হজের নিয়ম অনুযায়ী,সোমবার সারা দিন এবং রাত মিনায় ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পার করবেন হজযাত্রীরা। ৯ জিলহজ মঙ্গলবার হজের প্রধান রোকন বা মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য তারা মিনা থেকে আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। যাকে বলা হয় অকুফে বা আরাফার ময়দানে অবস্থান।

আগামী বুধবার পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং শুরু হবে ঈদুল আজহা। এরপর হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন।

মিনা এবং আরাফাতসহ পবিত্র স্থানগুলোতে এখন তীব্র দাবদাহ বিরাজ করছে। সৌদি আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তীব্র গরম থেকে হাজিদের সুরক্ষা দিতে সৌদি সরকার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পবিত্র স্থানগুলোতে ছায়া নিশ্চিত করতে বাড়তি শেড নির্মাণ, মিস্ট ফ্যান বা কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির পাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হাজিদের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম এবং ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল। গরমের কারণে অসুস্থতা এড়াতে হাজিদের ছাতা ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সূত্র : গালফ নিউজ, আরব নিউজ

আলোকিত প্রতিদিন / ২৫ মে ২০২৬ /মওম

প্রেমঘটিত অ*ভিমানে কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীর আ*ত্ম*হত্যা

মোঃ শিহাব উদ্দিন:

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা উপজেলার টিহাটি গ্রামে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অভিমান করে লামিয়া আক্তার অধরা (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ মে দুপুর ১২টা দিকে।
নিহত অধরা টিহাটি গ্রামের কেরামত কাজীর মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে অভিমান করে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বসতঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে নিজের পরিহিত ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় সে।
পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

আলোকিত প্রতিদিন / ২৫ মে ২০২৬ /মওম

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী!

বিশেষ প্রতিনিধি: জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এই জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন করে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ৩০ হাজার বর্গমিটার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন ৩৫ হাজার মানুষ ধারণা করা হচ্ছে। ভিআইপি পুরুষ ২৫০ জন, নারী ৮০ জন, জনসাধারণ পুরুষ ৩১ হাজার ও ৩ হাজার ৫০০ নারী নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে এখানে।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, নামাজের জন্য ভিআইপি পুরুষ কাতার ৫টি, নারীদের জন্য ১টি নির্ধারিত। এ ছাড়া জনসাধারণের জন্য ৬৫টি বড় কাতার ও নারীদের জন্য ৫০টি ছোট কাতার হবে। এতে মোট কাতার ১২১টি হবে।

দক্ষিণের প্রশাসক বলেন, ঈদগাহে প্রবেশের জন্য ১টি ভিআইপি গেট থাকবে। ২টি পুরুষদের ও ১টি নারীদের প্রবেশের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৪টি গেট থাকবে। নামাজ শেষ করে বের হওয়ার জন্য ভিআইপি ১টি ও পুরুষের জন্য ৫টি ও নারীদের জন্য ১টি গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৭টি গেট থাকবে।

তবে যদি আবহাওয়া খারাপ থাকে, তাহলে বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান আব্দুস সালাম।

তিনি আরও জানান, মাতুয়াইল থেকে রাত ৯টা থেকে ঈদের প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ শুধু হবে। ১৩ হাজার ৪৫৩ কর্মী কাজ করবেন। ২ হাজার ১১৭টি যানবাহন নিয়োজিত থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নিজেদের ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে রাজি হয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিজেদের এই ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তরের ব্যাপারে ‘আদর্শগতভাবে’ রাজি হয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

গত ২৩মে শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ার পর একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর করতে ‘আদর্শগতভাবে’ রাজি হয়েছে ইরান, তবে কোথায় এবং কীভাবে এই মজুত স্থানান্তর করা হবে— সে সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সরকারি প্রতিনিধিদের পরবর্তী বৈঠকগুলোতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিছু দিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছিলেন যে ইরানের ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না। তিনি এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ইস্যুতে ইরানের ‘আদর্শগত’ সম্মতিকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাঁক-বদল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

মূলত যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের প্রধান কারণ ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত। ২০২৫ সালের ৬ জুন এ ইস্যুতে একটি বিবৃতি দিয়েছিল জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা আইএইএ। সেই বিবৃতির তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে এবং এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ইরান যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করে— তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।

আইএইএ এই বিবৃতির পর ইরানের পরমাণূ প্রকল্প, সেনাবাহিনী ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল; এক সময় যোগ দেয় মার্কিন সেনাবাহিনীও।

১২ দিন ধরে চলা সেই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, নিহত হয়েছিলেন ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা এবং কয়েক জন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী। তবে সেই অভিযানে ইরানের ইউরেনিয়ামের নাগাল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।

ইরান অবশ্য বরাবরই পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে বোমা তৈরির প্রচেষ্টার কথা অস্বীকার করে আসছে, তবে দেশটির পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে বিরোধ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই বিরোধের জেরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ।

সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে

আলোকিত প্রতিদিন / ২৫ মে ২০২৬ /মওম

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ইয়াবা#র গডফাদার আনোয়ারার কানা মান্নান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

আনোয়ারা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম। এক সময়ের ভিখারি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে মাদক সম্রাট নামে খ্যাত আনোয়ারার কানা মান্নান। আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী ওলামা লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের খুরুসকুল গ্রামের কানা মান্নানকে ঘিরে আনোয়ারা- কর্ণফুলিতে চলছে নানান আলোচনা- সমালোচনা। সকলের প্রশ্ন : এক সময়ের ভিখারি কানা মান্নান এতো অল্প সময়ে অটেল সম্পদের মালিক হলো কিভাবে ? জুঁইদন্ডির কানা আলম খানের সহযোগী হয়ে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে একসময় পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিত্তশালীদের দুয়ারে দুয়ারে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়াতেন আনোয়ারার কানা মান্নান। তার ওস্তাদ জুঁইদন্ডির কানা আলম খান জন্ম থেকেই দুই চোখ অন্ধ ছিলো।

কানা মান্নান দুই চোখ পুরোপুরি অন্ধ না হলেও খুব কাছ থেকেই তিনি দুই চোখে সবকিছু দেখতে পায়। এ ব্যাপারে প্রায় দুইবছর আগে পত্রিকার প্রতিবেদক কানা আলম খানের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি কানা মান্নানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে- সেই ১৯৮৮ সাল থেকে দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে কানা মান্নান কানা আলম খানকে সঙ্গ দিতেন এবং ছন্দে শ্লোকে, গান গেয়ে গেয়ে দুজন একসাথে ভিক্ষা করতেন। কানা আলম খান বলেছিলেন কানা মান্নান আমাকে ফাঁকি দিয়ে মাঝেমধ্যে কক্সবাজার- টেকনাফ চলে যেতেন।

কক্সবাজার- টেকনাফ আসাযাওয়া করতে করতে বড় বড় মাদক কারবারিদের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। খুলে যায় কানা মান্নানের ভাগ্যের চাকা। কানা মান্নান হঠাৎ দুটি ফিশিং ট্রলারের মালিক। এ নিয়ে এলাকায় নানান কানাঘুষা। মাছ ধরার ট্রলার হলেও দুটি ট্রলারে করে কানা মান্নান মায়ানমার- টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটের বড় বড় চালান আনতেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কানা মান্নানের মালিকানাধীন মাছ ধরার ট্রলারে চাকরি করতেন সরেঙ্গা গ্রামের মৃত আবদুল বারীর পূত্র মোহাম্মদ লোকমান প্রকাশ লোকমান মাঝি। লোকমান মাঝির বড় ভাই আবু আলম ও লেদু মিয়ার অভিযোগ, সম্ভবত কানা মান্নানের ট্রলারে ইয়াবা ট্যাবলেটের বড় চালান ছিলো, প্রশাসনকে ইয়াবার ঘটনাটি ফাঁস করতে পারে এই ভয়ে কানা মান্নানের নির্দেশে অন্যান্য মাঝিমল্লারা গভীর সমুদ্রে লোকমান মাঝিকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ সমুদ্রে ফেলে দেয়। হত্যাকান্ডের বিষয়ে লোকমান মাঝির স্ত্রী কাউছার বেগম বলেন, আমার স্বামী লোকমান মাঝি হত্যার বিচার চেয়ে অনেকের সাহায্য চেয়েছিলাম, প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে পাগলের মতো ঘুরে কোথাও পাত্তা পায়নি। কাউছার বেগম বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয় কানা মান্নান এবং ট্রলারে কর্মরত মাঝিমাল্লারা।

ফলে বিচারের আশা ছেড়ে দিয়ে স্বামীর ঘরসংসার চিরতরে ত্যাগ করে স্ত্রী কাউছার বেগম বাপের বাড়িতে চলে আসেন। প্রবাদ আছে যে- ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’। অনুসন্ধাানে আরো জানা যায়, কানা মান্নান একসময় পুলিশের সোর্স ছিলেন। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের অনেক বড় মাপের ইয়াবা কারবারিদের সাথে রয়েছে তার দহরমমহরম সম্পর্ক। ওরা সবাই তার ব্যবসায়ী পার্টনার। অত্যন্ত সুচতুর কানা মান্নান একেক সময় একেক রুপ ধারণ করে চলে । কানা মান্নান তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে দানবীর হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি ইয়াবা সম্রাট হিসেবে স্বীকৃত। চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসির) তালিকায় তিনি ৬১ নম্বর মাদক কারবারি। চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) উপপরিচালক মুকুল জ্যেতি চাকমা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ, বিপি ৭৭০৬১০৮৫৪৪ ।

বিতর্কিত দুই কর্মকর্তার সাথে কানা মান্নানের সাথে ছিলো দহরমমহরম সম্পর্ক। প্রশাসনের এই দুই কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশলে তাঁকে রক্ষা করতেন এবং তার বাড়িতে দুই কর্মকর্তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিভিন্ন সময় দাওয়াত খেতেন। চট্টগ্রামের বিচারিক আদালত ট্রাইব্যুনালে একটি প্রতিবেদনে কানা মান্নানের প্রকৃত ঠিকানা গোপন রেখে মিথ্যা বানোয়াট ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে প্রতিবেদন পাঠালে আদালতের কাছে মুকুল জ্যেতি চাকমার প্রতারণা ধরা পড়ে। সেই প্রতিবেদনের স্মারক নং ৪৪.০৪.১৫০০.০৯৬.১৮.১২৭..১৯.৩৬০। বর্তমানে এ দুই বিতর্কিত কর্মকর্তা অন্যত্র বদলি।

কানা মান্নানরা যেভাবে ভিখারি থেকে কোটিপতি : বঙ্গোপসাগরের উপকুল সংলগ্ন পশ্চিম আনোয়ারার রায়পুর, গহিরা, খোর্দ গহিরা, বারশত ও জুঁইদন্ডি কেন্দ্রীক ইয়াবা কারবারিদের মধ্যে বর্তমানে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সমুদ্র উপকুলীয় এলাকায় ইয়াবা খালাসের খবর পেয়ে মাঝেমধ্যে প্রশাসন শুরু করে বিশেষ অভিযান। মরণঘাতী এসব ইয়াবা কারবারে জড়িত রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, জেলে ও শতাধিক ফিশিং ট্রলারের মালিক। গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে বিভিন্ন সময়ে সাগর উপকুল সংলগ্ন এলাকায় নৌপথে আসা মরণঘাতী ইয়াবা ট্যাবলেট খালাস হয় জুঁইদন্ডির চৌমুহনী সংলগ্ন গোদারপাড়, সরেঙ্গার সাপমারা খালে, রায়পুরের গলাকাটা ঘাট, খোর্দ গহিরার ছিপাতলি ঘাট, পড়ুয়া পাড়া, বাচা মাঝির ঘাট, ছিপাতলি ঘাট, জুঁইদন্ডির শঙ্খের ভরার চর, পারকি সমুদ্র সৈকত, ঘাসফুল সহ আনোয়ারার বিভিন্ন পয়েন্টে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজনকে জড়ো করে এনে এই এলাকায় যেমন মানব পাচার হয়, তেমনি মাছ ধরার ট্রলারে করেই পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে দেশে বিশাল বিশাল ইয়াবার চালান আনা হচ্ছে। জুঁইদন্ডি, রায়পুর, গহিরা ও পারকি সমুদ্র সৈকত দিয়ে মানব পাচার কমলেও প্রতিদিন বাড়ছে ইয়াবা কারবারির সংখ্যা। এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে নেতৃত্বে রয়েছে জুঁইদন্ডির কানা মান্নান। তার প্রধান ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন তারই আপন সহোদর ইয়াবা কারবারি জালাল আহমদ। কয়েকবছর আগে জালাল মাদক মামলায় জেলে গিয়েছিলেন। জেল থেকে ছাড়া পেলেও মাদক ব্যবসার হাল ছাড়েননি জালাল। পুলিশ জঅই ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে বিগত ২০২৩ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ধৃত চার মাদক কারবারির বাড়ি আনোয়ারাায়। তারমধ্যে দলনেতা আবুল হোসেনের বাড়ি জুঁইদন্ডি গ্রামে। আবুল হোসেন কানা মান্নানের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং দুইজনই ব্যবসায়ী পার্টনার।

গত ২৩ মে রবিবার জুঁইদন্ডি ও গহিরা, শোলকাটা ও বারশতের পারকিতে সরেজমিনে তদন্ত করে জানা গেছে কানা মান্নানের দলে রয়েছে শতাধিক শক্তিশালী ইয়াবা কারবারি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াবা কারবারি আমিন শরীফ, শোলকাটা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র ইলিয়াস মীর্জা, শোলকাটা গ্রামের পাখিজা বেগম পাখি, শোলকাটা গ্রামের সম্রাট, গহিরার জলিল আহমদ, দক্ষিণ পড়ুয়া পাড়া গ্রামের হাসান মাঝি, চুন্নাপড়ার শফি, গহিরার ছালে আহমদের ছেলে আবদুল মান্নান, জুঁইদন্ডীর তারেকুল ইসলাম (তারেক)। তারেক কানা মান্নানের মাদক বহনকারী ও দেহরক্ষী হিসেবে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। কানা মান্নানের দলে আরো রয়েছে জুঁইদন্ডির জসিম, চৌমুহনীর মুহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, দোভাষী বাজারের জসিম, আনু মিয়া, রায়পুরের আবদুল জলিল, পট্টিবদ, খোর্দ গহিরা গ্রামের কানা মনু সহ বিশাল সিন্ডিকেট। আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকার মাদক কারবারিদের বিষয়ে চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গোয়েন্দা শাখার উপপরিচালক শামীম হোসেনের সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সব মাদক কারবারির বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো।

তিনি বলেন আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকায় ডিএনসির গোয়েন্দা টিম সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সফল অভিযান চালিয়েছে । শামীম হোসেন বলেন আগামীতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন মাদক ব্যবসা করে রাতারাতি অর্থসম্পদ, বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছে জুঁইদন্ডি, রায়পুর ও গহিরার অনেকেই। পারকী গ্রামের নাম প্রকাশ না করার শর্তে পারকি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেন, প্রায় দেড় দশক ধরে পারকি সমুদ্র সৈকতের লুসাই পার্ককে ইয়াবার আড়ত বানিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ গাড়ি-বাড়ি ও অর্থসম্পদের মালিক হয়েছে। এরপর টাকার জোরে ক্ষমতার প্রভাব, প্রশাসনিক দাপট, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে এলাকায় সম্রাজ্যেও গড়ে তুলেছেন তারা। তারমধ্যে জুঁইদন্ডি ইউনিয়নের খুরুসকুল গ্রামের কানা মান্নান, রায়পুরের আমিন শরীফ, বারশত ইউনিয়নে প্রাক্তন এক জনপ্রতিনিধি সহ অনেকে গড়েছেন বিশাল সম্রাজ্যে।

গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের উচ্চপদস্হ একাধিক কর্মকর্তারা বলেছেন রাতারাতি বিত্তশালী হওয়ার নেশায় ইয়াবা কারবারে ব্যপ্তি বাড়েছে । গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা অনুসরণ করে কয়েকদিন আগে এই প্রতিবেদক রায়পুর, গহিরা, জুঁইদন্ডি ও বারশত ও পারকি গিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানতে পারে যে- সমুদ্রতটে গড়ে উঠা চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা। ওইসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যারা মৎস্য শিকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসা-বানিজ্য করে সাদামাটা জীবন কাটায় তাদের অনেকই এখন ইয়াবা সম্রাট। অল্প সময়ে বিত্তশালী হতে গিয়ে তাদের নাম এখন জায়গা পেয়েছে পুলিশ ও ডিএনসির মাদক কারবারির তালিকায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা সংস্থার এক উর্দ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ইদানীং সাগর উপকুল হয়ে ইয়াবা চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন ইয়াবার ক্ষেত্র লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে পুলিশের পক্ষে নৌপথে অভিযান চালানো কষ্টকর। আর এ সুযোগে বেড়েছে ইয়াবা আমদানি। ইয়াবা ব্যবসা করে দিনেদিনে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া ঐসব মানুষগুলো আনোয়ারার প্রত্যন্ত অঞ্চল মেঠোপথ ঘেঁষেই করছেন সুরম্য অট্টালিকা। মাদক আমদানির বিষয়ে জানতে কানা মান্নানকে ফোন করলে তিনি বলেন আমি অন্ধপ্রতিবন্ধি। মান্নান বলেন আমি মাদক কারবারি নই, বৈধ ব্যবসায় আমি কোটিপতি হয়েছি। তিনি বলেন একটি পক্ষ আমার নামে বদনাম করছে।

মাদক কারবারিদের বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জোনায়েত চৌধুরী বলেন, আনোয়ারা থেকে প্রতিনিয়ত মাদক কারবারি গ্রেফতার হচ্ছে। তিনি বলেন, মাদক কারবারির শিকড় উপরে ফেলা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মাদক কারবারিদের ব্যাপারে আনোয়ারা- চন্দনাইশ- বাঁশখালির সহকারী পুলিশ সুপার মাহামুদুল হাসান বলেন, আমি অত্র অঞ্চলে সদ্য যোগদান করেছি। উপকূলীয় এলাকার মাদক কারবারিদের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন মাদক কারবারিরা সমাজের শত্রু- জাতির শত্রু। এএসপি বলেন, সকলের সহযোগিতায় মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইসলাম অবমাননার অভিযোগে ব্লগারের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলাম ধর্ম, মহান আল্লাহ এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগে মোঃ জাকির হোসাইন নামে এক লেখক ও ব্লগারের বিরুদ্ধে গতকাল ঢাকায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ও এক্স অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে এমনসব লেখা প্রকাশ করেছেন, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

মামলার বাদী ইউসুপ কাউসার আদালতে দাখিল করা অভিযোগে দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ এবং মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করেছেন। তিনি আদালতের কাছে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

২৪শে মে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৫ নম্বর আদালতের বিচারক নাজমিন আক্তার অভিযোগটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তভার শাহবাগ থানার পিবিআই শাখাকে দেওয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি বাংলাদেশ ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯৫, ২৯৫(ক), ২৯৮ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। মামলার নথি নম্বর সি.আর.-২১৯/২০২৬।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইসলাম ধর্ম ও নবী-রাসূলদের নিয়ে অশালীন ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে মোঃ জাকির হোসাইনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার পরবর্তী শুনানি ও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৫শে জুন।

আলোকিত প্রতিদিন / মএ

টাঙ্গাইলে নিহ#ত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁয়!

আলোকিত ডেস্ক: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁর মান্দায়। এ ছাড়া অন্য দুজনের বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলায়।

আজ সোমবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি নিহতদের বাড়ি মান্দা থানার বিভিন্ন গ্রামে। নিহতদের নাম, পরিচয় ও পেশা এখনো জানা যায়নি। তাদের নাম-পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এখন।

খোরশেদ আলম আরও জানান, নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়িই মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাজেন্দ্রবাটি (ডেবরা) থেকে চিকলা বলাক্ষেত্র পর্যন্ত এলাকায়। এ ছাড়া অন্য দুজনের বাড়ি তানোর উপজেলায়।

কালিহাতী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, ভোর ৪টার দিকে রডসহ যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায় ট্রাকটি। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও ১০ জন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

কো*রবানির আগে কাঠপট্রিতে খাটিয়ার জমজমাট বেচা-কেনা

মোঃ আনোয়ার হোসেন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর মাংস কাটার জন্য বরাবরের মত এবারও কদর বাড়ছে খাটিয়ার। কোরবানির পশুর মাংস ও হাঁড় কাটার জন্য প্রয়োজন হয় এই কাঠের খাটিয়ার (ছোট কাঠের টুকরো)। সাধারণত গাছের গোড়ার দিকের গোলাকার কাঠ দিয়ে খাটিয়া তৈরি করা হয়। এই খাটিয়া সারা বছর ব্যবহার করে কসাইরা। খাটিয়াকে নবীনগরের (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার) স্থানীয় ভাষায় অনেকে আবার গাছের গুঁড়িও বলে থাকেন। এরই মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই কিনে ফেলেছেন কোরবানির পশু, এখন শেষ মুহূর্তে পশু কাটার সরঞ্জাম গুলো যেমন- ছুড়ি, দা, টাশকাল, বাঁশ/হুগলার পাটি কিংবা খাটিয়া কিনতে ভিড় করছেন অনেকে। ২৪মে রবিবার দুপুরে নবীনগর উপজেলার সদর বাজার এবং বাঙ্গরা বাজারের কাঠপট্টি ঘুরে দেখা যায়- খাটিয়া ব্যবসায়ীরা কাঠের তৈরি খাটিয়া গুলো থরে থরে একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রেখেছেন।
জানা যায়- খাটিয়া তৈরিতে তেঁতুল গাছের কাঠকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ অন্য কাঠের তুলনায় এ কাঠ দা-ছুরির আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা অনেক বেশি। আগে সারা বছরই কমবেশি এ সব খাটিয়া বিক্রি হত। এখন শুধু কোরবানির ঈদ এলেই বিক্রি বেড়ে যায়। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমিনুল ইসলাম নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী ঈদ উপলক্ষ্যে তার দোকানের সামনে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন এ সব কাঠের গুড়ি বা খাটিয়া গুলো। তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান-“প্রতিটি সাধারণ মানের খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ-৫শ টাকায়। বড় গুলোর দাম ১২শ-১৫ শত টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।” তিনি আরো বলেন-“পশুর মাংস কাটার কাজে এই কাঠের গুঁড়ি বা খাটিয়ার চাহিদা অনেক। কোরবানির দিনে পশুর মাংস কাটতে এটি খুবই প্রয়োজনীয় বস্তু। এ সব গুঁড়ি বা খাটিয়া গুলো মূলত ঈদের আগ মুহূর্তে বেশি বিক্রি হয়। এবারও শেষ মুহূর্তে বেশ ভাল বিক্রি হচ্ছে” বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, কোরবানির ঈদের সময় এ সব খাটিয়া বিক্রি করে ভাল উপার্জন করেন অনেক ব্যবসায়ী। তবে ঈদুল আজহায় বিক্রি হওয়া খাটিয়া থেকে পেশাদার কসাইদের কাজে ব্যবহৃত খাটিয়া গুলোর মান ভাল এবং দাম অনেক বেশি।ক্রি হচ্ছে ৩শ-৫শ টাকায়। বড় গুলোর দাম ১২শ-১৫ শত টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।” তিনি আরো বলেন-“পশুর মাংস কাটার কাজে এই কাঠের গুঁড়ি বা খাটিয়ার চাহিদা অনেক। কোরবানির দিনে পশুর মাংস কাটতে এটি খুবই প্রয়োজনীয় বস্তু। এ সব গুঁড়ি বা খাটিয়া গুলো মূলত ঈদের আগ মুহূর্তে বেশি বিক্রি হয়। এবারও শেষ মুহূর্তে বেশ ভাল বিক্রি হচ্ছে” বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, কোরবানির ঈদের সময় এ সব খাটিয়া বিক্রি করে ভাল উপার্জন করেন অনেক ব্যবসায়ী। তবে ঈদুল আজহায় বিক্রি হওয়া খাটিয়া থেকে পেশাদার কসাইদের কাজে ব্যবহৃত খাটিয়া গুলোর মান ভাল এবং দাম অনেক বেশি।

আলোকিত প্রতিদিন / ২৪ মে ২০২৬ /মওম