আজ মঙ্গলবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 177

শাহজালালের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে নামবেন তারেক রহমান

আলোকিত ডেস্ক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে আগামী ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সিলেট সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমেই তিনি দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করবেন।

১০ জানুয়ারি শনিবার বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভোটের প্রচার শুরুর বিষয়ে ১০ জানুয়ারি শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ২২ তারিখ থেকে আমাদের সব ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।’ তবে প্রচারের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ২১ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর পরদিন ২২ জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। ঐতিহ্য অনুযায়ী, সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারের সূচনা করে বিএনপি। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় তারেক রহমান বিভিন্ন স্থানে পথসভা এবং জনসভায় অংশ নেবেন। এর ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারে একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার পর তিনি শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেবেন।

গত শুক্রবার ৯ জানুয়ারি রাতে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক শেষে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিতের কথা জানানো হয়। একই দিনে তিনি দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

সূত্র: বাসস

আলোকিত প্রতিদিন/ ১১ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠছে

রিপন পাল:

শীতের প্রভাব কিছুটা কম থাকায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় ছিলো ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মেলাপ্রাঙ্গণ প্রাণচাঞ্চল্য হয়ে ওঠে।  ১১জানুয়ারি রবিবার পণ্য কেনাবেচাও হচ্ছে গত কয়েক দিনের তুলনায় বেশি। এতে বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও আয়োজকরা খুশি।
মেলায় প্রবেশের জন্য ই-টিকেটিং সেবা কার্যক্রমে এবার গেইটে ভিড় নেই। নেই কোন কোলাহল। তাতে ক্রেতা-দর্শনার্থী বিশেষ করে শিশু, তরুণী ও নারীরা স্বাচ্ছন্দে মেলায় প্রবেশ করেছেন। দর্শনার্থীরা ঘরে বসেই মোবাইল টেলিফোন নির্ভর যেকোনো আর্থিক লেনদেনের সুবিধা কিংবা দেশের স্বনামধন্য বেশ কিছু ব্যাংকের একাউন্ট ব্যবহার করে সহজেই টিকেট সংগ্রহ করতে পারছেন। প্রবেশের সময় মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত এই টিকেটের ইমেজ প্রদর্শন করে একজন ব্যক্তি বা টিকেটে উল্লেখিত সংখ্যক দর্শনার্থী সহজেই মেলায় প্রবেশ করতে পারছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রবিবার বেলা ১১টা থেকে ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করে। শীতের পোশাকের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এবারের মেলায় শিশুদের জন্য শিশুপার্ক, স্লিপার, নাগরদোলা, ওয়ারবল ও মিনি ট্রেনসহ রাইডগুলো ছিল আকর্ষণীয়। তবে এ রাইডের টিকিটের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নারীদের পছন্দের কসমেটিকস, গৃহস্থালি তৈজসপত্র, থ্রি-পিসের দোকানে ভিড় যেন লেগেই ছিল।
মেলার বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নের পাশাপাশি খাবারের দোকানগুলোতে ছিল ভোজনরসিকদের উপচেপড়া ভিড়। মেলায় এসেছেন, কিন্তু কিছু খাননি এমন একজনকেও বোধ হয় খুুঁজে পাওয়া যাবে না। ভিড় এতটাই ছিল যে, কোনো কোনো খাবারের স্টলে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খেতে হয়েছে।
গতকাল প্রবেশ গেইটে কোন ভিড় ছিলো না। অধিকাংশ ক্রেতা-দর্শনার্থী ই-টিকিট ব্যবহার করছে। তাতে এবছর মেলার স্থায়ী কাউন্টারগুলো থাকে অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা। স্মার্ট মোবাইল ফোনে ই-টিকেটের ইমেজ ও ভিসিবল ডিজিটাল সাইন (ভিডিএস) নামে পরিচিত কিউ আর কোড প্রদর্শনের সাথে সাথেই স্ক্যানারের কল্যাণে যাবতীয় তথ্য পৌঁছে যায় ই-গেইটে। আর তথ্যপ্রাপ্তির কল্যাণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য খুলে যায় এই গেইট। একজন দর্শনার্থী প্রবেশের পর আবারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ গেট বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তী দর্শনার্থী প্রবেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। এভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাজার হাজার দর্শক মেলায় প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে এ বছরও।
বিএসএম এন্টারপ্রাইজের বিক্রয় প্রতিনিধি রাব্বি আহম্মেদ বলেন, রবিবার দর্শনার্থী এসেছে প্রচুর। বিক্রিও হয়েছে বেশ। দিন দিন মেলা জমে উঠছে।
আক্তার ফার্নিচারের প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ দুলাল রায় বলেন, বিক্রি যেমনই হোক, মেলায় প্রচার প্রচারণা হচ্ছে প্রচুর। নতুন নতুন পণ্যগুলো দর্শনার্থীদের দেখানো হচ্ছে। অনলাইনে পণ্য দেখা ও ক্রয়ের জন্য অর্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়াও ক্রেতা দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। সাড়াও পাচ্ছি বেশ।
রাজধানীর পরীবাগ থেকে আসা গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মেলার শিশু পার্কের প্রবেশ টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়া হচ্ছে। হাজি বিরিয়ানি হাউজে খাবারের দাম বেশি আদায় করা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। তবে হাজি বিরিয়ানির বিক্রয় প্রতিনিধি সগির আহম্মেদ তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভারতীয় কাশ্মীরি সিল্ক কার্পেটের বিক্রয় প্রতিনিধি রিপন চন্দ্র পাল বলেন, কনকনে শীতের পোশাকে ছাড় দেওয়ায় ক্রেতারা খুশি। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
অর্গানিক রিভানা কসমেটিকসের ইনচার্জ মাইশা ইসলাম অন্তু বলেন, ছুটির দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশ ভালোই। কেনাবেচা হচ্ছে প্রচুর। রবিবার ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমনে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠে।
মেলায় প্রবেশের টিকিটের দায়িত্বে নিয়োজিত হৃদয় হাসান বলেন, রবিবার লক্ষাধিক মানুষ টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছে। গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৩৫হাজারেরও বেশি মানুষ টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছে। জমে উঠেছে অতি আকাঙ্খার বাণিজ্য মেলা।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, গত শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে মেলায় প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। পণ্য বিক্রিও হয়েছে প্রচুর। এবারের মেলা ব্যবসা সফল হবে বলে তিনি আশা করছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১১ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

চমেকে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করল দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক)-এ আগত রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা চালু করেছে দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন। মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করার সুযোগ পাবেন। চমেক একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী ও স্বজনের ভিড় থাকে। অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগান্তিতে পড়তে হতো তাদের।

 

রবিবার (১১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর প্রধান ভবনের নিচতলায় পানির প্ল্যান্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মো. শামসুল আলম। এসময় ফিতা কেটে ও পানি পান করে প্লান্টটি উদ্বোধন করেন চমেক এর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।

 

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, এমন মহান উদ্যোগে আমাদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন কে প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই। এই কাজটি সম্পূর্ণ সদকায়ে জারিয়াহ। মানুষকে পানি পান করানো অনেক সওয়াবের কাজ। চমেক কর্তৃপক্ষও উক্ত প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন, তাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সবাই আল্লাহকে খুশি করার জন্য কাজটি করেছি। আল্লাহ আমাদের এই কাজকে কবুল করুক, আমিন। ভবিষ্যতেও এমন কাজে আমরা ফাউন্ডেশনের পাশে আছি।

 

প্রজেক্ট এর মূল উদ্যোক্তা ও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বিশুদ্ধ পানি অন্যতম। বিশেষ করে একটি বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অনেক সময় পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। সেই জায়গা থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন-বিশেষ করে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব মো. শামসুল আলম, চমেক কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আমাদের সকল স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন মানুষের কল্যাণে, মানবতার সেবায় এবং সমাজের প্রয়োজনীয় এমন আরও কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাবে।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক জিনিসই অপ্রতুল। প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। তাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা এতদিন চ্যালেঞ্জের ছিল। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন যে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আজ এই বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে রোগী ও তাদের স্বজনরা উপকৃত হবেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান আরও উন্নত হবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসবে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় মানবিক উদ্যোগের পাশে থাকবে। এই উদ্যোগ যেন দীর্ঘদিন সুচারুভাবে পরিচালিত হয়-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আগে বিশুদ্ধ পানি বাইরে থেকে কিনে আনতে হতো। এখন প্রতিটি ফ্লোরেই সহজে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি পাওয়া যাবে, যা অনেক স্বস্তির। বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ এর অবসান ঘটেছে।

 

প্ল্যান্টটি থেকে হাসপাতালের ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে মিলিয়ে পুরো ভবনে মোট ৪০টি পানির পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে রোগী ও স্বজনদের পানির জন্য আর বাইরে যেতে না হয় বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে না হয়। এ বিশুদ্ধ খাবার পানি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। পুরো প্রজেক্টটি সচল রাখার জন্য একজন মানুষকে মাসিক বেতন ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্ল্যান্টটি প্রতিদিন ১ লাখ মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম। পানযোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাবে অনেক সময় তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়াও হাসপাতালের আশেপাশের দোকানগুলোর বিরুদ্ধে পানির বোতল বিক্রিতে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বহুদিন ধরে। দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধান এনে দিয়েছে।

টাঙ্গাইলে প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

সাইফুল ইসলাম সবুজ, টাঙ্গাইল:

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। ১০ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত ওই বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে দলীয় প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের শহীদ মিনার থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের হবিবুর রহমান প্লাজার সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। বিক্ষোভ চলাকালে নেতাকর্মীরা ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দাও’, ‘আমরা সবাই মুসাব্বির হবো’সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রৌফ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম খান ঝলক, সদস্য সচিব সালেহ আহমেদ শাফী ইথেন প্রমুখ।
বিক্ষোভ মিছিলে জেলা, সদর উপজেলা ও শহর শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১০ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, এসআইসহ আহত-৪

খোরশেদ আলম:

আশুলিয়া সাভার বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার আসামি ও স্থানীয় যুবলীগ নেতাকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ সদস্যরা। হামলায় এক এসআইসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হলে তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী এবং শিশু হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সকালে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রুবেল হাওলাদার। আগে রাত শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার গোমাইল বাংলাবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার পুলিশ সদস্যদের মধ্যে একজন হলেন- আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ মনিরুল ইসলাম। বাকিরা তার সহকর্মী, তবে প্রাথমিকভাবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ৯ টার দিকে এসআই মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আশুলিয়ার গোমাইল বাংলাবাজার এলাকায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি ও ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করতে যায়
এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ মনিরুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হামলার শিকার পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে আশুলিয়ার নারী এবং শিশু হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে এসআই মনিরুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রুবেল হাওলাদার জানান, হামলার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১০ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা ও প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে, সেটা আমরা দেখেছি চব্বিশের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যাতে মতবিভেদ না হয়ে যায়, বিভেদের কারণ না হয়। সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

 ১০ জানুয়ারি শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চাই না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তার অভিজ্ঞতা সবার জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।  আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। আমরা অবশ্যই ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। আগামী ২২ তারিখ থেকে আমাদের সব (নির্বাচনী ইশতেহার) নিয়ে জনগণের কাছে যাব।

৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে বলে জানান তারেক রহমান। এই পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা।

এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন বলে জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।

তিনি আরও বলেন, এই সুবিধা হবে সর্বজনীন, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিবিভাগের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে।

স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে চান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণকে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই সচেতন করতে হবে। এজন্য ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ হবেন নারী। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্য উন্নত হবে, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, এমন সমালোচনা করুন, যাতে আমরা দেশের জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১০ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

সৌদি ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিচ্ছে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরব-পাকিস্তানের নিরাপত্তা জোটে তৃতীয় দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে তুরস্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট (এসডিএমএ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে। চুক্তির বক্তব্য ও শর্তাবলী বিস্তারিতভাবে কোনো দেশই প্রকাশ করেনি, তবে দুই দেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কোনো দেশের ওপর যদি বহিঃশক্তির আক্রমণ ঘটে, তাহলে অপর দেশ সর্বাত্মকভাবে আক্রান্ত দেশের পাশে থাকবে।

এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র। বিশ্বে পাকিস্তানই একমাত্র মুসলিম দেশ, যার পরমাণু অস্ত্র আছে। চুক্তির আওতায় এই পরমাণু অস্ত্রও রয়েছে।

তাছাড়া যদিও এটি এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে একটি; তারপরও ৬ লাখ সেনাসমৃদ্ধ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

চুক্তিত স্বাক্ষরের দুই দিন পর ১৯ সেপ্টেম্বর এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, “আমাদের এই চুক্তিটি ন্যাটোর আদলে তৈরি করা হয়েছে; অর্থাৎ এটি প্রতিরক্ষামূলক, আক্রমণাত্মক নয়। কোনো দেশে হামলা বা আগ্রাসন চালানোর কোনো সুযোগ এখানে রাখা হয়নি। তবে যদি সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তানের ওপর হামলা হয়, তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করব।”

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর একমাত্র এশীয় দেশ তুরস্ক। তবে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের মতানৈক্যের জেরে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক শীতল। তাছাড়া মধ্যএশিয় ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে প্রভাবশালী তুরস্ক এশিয়া এবং আফ্রিকা অঞ্চলেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী। এক্ষেত্রে পাকিস্তান ও সৌদির সহায়তা আঙ্কারার জন্য বেশ সহায়ক হবে বলে মনে করেন তুরস্কের রাজনীতি এবং কূটনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসডিএমএ জোটে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে গত অক্টোবর থেকে সৌদি ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলেচনা চলছিল তুরস্কের কর্মকর্তাদের। সেই আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এই পর্ব শেষ হলেই এসডিএমএ জোটে যোগ দেবে তুরস্ক।

সূত্র ; ব্লুমবার্গ

আলোকিত প্রতিদিন/ ১০ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় দ্বিতীয় ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় 

রিপন পাল:
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ১০ জানুয়ারি  শনিবার দ্বিতীয়  ছুটির দিনে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়েছে। কন কনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের মেলাপ্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়তে থাকে। বিকাল ৫টায় বাণিজ্যমেলা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দর্শনার্থীর সমাগমে বিক্রেতা, মেলার আয়োজক এবং প্রবেশ টিকিটের ইজারাদার খুশি।
মেলায় থাকছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশ স্কয়ার। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ডপ্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করছেন। মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিসহ রয়েছে দেশি-বিদেশি ৩২৭টি স্টল। ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য রয়েছে ব্যাংকের একাধিক বুথ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
মেলায় আসা শিশুদের জন্য রয়েছে দুইটি শিশুপার্ক। মেলাg পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে সিসিক্যামেরা। সতর্ক অবস্থায় রয়েছে নয় শতাধিক পুলিশের একাধিক টিম। রাজধানীসহ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার লোকজন যেন নির্বিঘ্নেমেলায় আসতে পারেন সেজন্য অন্যান্য বছরের মতো রয়েছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস। এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ ৩২৭টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে। দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, গৃহসামগ্রী, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, ক্রোকারিজ, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হোম ডেকর, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, খেলনা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা ধরণের পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,দ্বিতীয় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেলায় আসার প্রস্তুতি ছিল অনেকেরই। তাই অধিকাংশ দর্শনার্থীই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। ফলে মেলার প্রবেশদ্বারে ঠেলাঠেলি কিংবা চাপের মুখে পড়তে হয়নি। ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করেন। দুপুর ১২ টার পর দল বেঁধে তারা মেলায় প্রবেশ করেন। বিকালে মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়নে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ঢল নামে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা স্টলগুলোতে তাদের পছন্দের পণ্য ঘুরে দেখেন। কেউ কেউ কেনাকাটাও করেন। বেশি ভিড় ছিল কাপড়, অলংকার, শো-পিস, তৈজসপত্র, কুটির শিল্প ও ইলেতট্রনিক্স পণ্যের স্টলে। বিক্রিও হয়েছে বেশ।
গতকাল শনিবার মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমাগম। স্টলগুলোতে নারীদের ভিড় ছিল বেশি। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই মেলায় এসেছেন। পছন্দের জিনিস কিনেছেন। প্লাস্টিক পণ্য, ক্রোকারিজ, ইমিটেশনের গয়না, শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকসের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন অফার থাকায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। মেলায় শিশুদের জন্য রয়েছে নজরকাড়া ডিজাইনের পোশাক, জুতা ও খেলনা। বিকাল ৩টার মধ্যেই মেলাপ্রাঙ্গণ ভরে যায়। নানা শ্রেণির ও নানা বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলাপ্রাঙ্গণ।
মেলায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি সাহেরা বেগম বলেন, বিগত বছরের মতো এবারও বাণিজ্যমেলায় আমাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি। রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, মোটরসাইকেলের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন আকারের টেলিভিশন এবার মেলায় নিয়ে এসেছি। যমুনা ইলেকট্রনিক্স সবসময় ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে তাদের চাহিদার পণ্য বাজারে নিয়ে আসছে। বিদেশি যত উন্নত প্রযুক্তি আছে সেগুলো মাথায় রেখে আমাদের কোম্পানি নিজস্ব কারখানায় আধুনিক পণ্য তৈরি করছে। এছাড়া মেলায় যমুনার সব পণ্যের ওপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার ফার্মগেইট থেকে মেলায় আসা সৌদীআরব প্রবাসী আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, ছুটির দিন থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় এসেছি। প্রাকৃতিক পরিবেশ আর খোলামেলা জায়গায় মেলার আয়োজন হওয়ায় প্রচুর লোকজনের সমাগম হয়েছে। মেলা উপভোগ করছি। পরিবারের সদস্যরা খুশি। আমারও ভালো লাগছে। মেলা কেন্দ্র করে তার সৌদীআরব থেকে বাংলাদেশে আসা সার্থক হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, মেয়েটি কয়েক দিন ধরে মেলায় আসতে চাচ্ছে। কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার জন্য মেলায় আসিনি। ছুটির দিন পেয়ে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে মেলায় এসে আনন্দ পাচ্ছি।
গাজীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী রহমতউল্লাহ বলেন, মীরের বাজার থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত যানজট থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছি। এখানে প্রয়োজনানুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা প্রয়োজন।
ঢাকার খিলগাঁও এলাকা থেকে মেলায় এসেছেন সালমা বেগম। তিনি জানান, গৃহস্থালি পণ্য কিনেছেন তিনি। প্রথম দিকে দর্শনার্থীদের চাপ কম থাকবে এমন আশায় মেলায় এসেছেন। কিন্তু লোক সমাগম এত বেশি ছিল যে, চলাচল করতে তার কষ্ট হয়েছে বলে জানান।
দিল্লি অ্যালুমিনিয়ামের বিক্রয় প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, বিক্রি কম হলেও ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সমাগম বেড়েছে। তবে দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রিও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকায় এবার মেলার পরিবেশ অনুকূলে রয়েছে। মেলার প্রথম সাপ্তাহিক ছুটি গতকাল শনিবার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমাগম বেড়েছে। কাঙ্খিত দর্শনার্থীদের আগমনে সবাই খুশি। অবশ্যই এবারের বাণিজ্যমেলা ব্যবসা সফল হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১০ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা বাড়ার আভাস

আলোকিত প্রতিবেদক:

ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

১০ জানুয়ারি শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। একইসঙ্গে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস  প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২.২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ছিল ৫৪ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২৯ মিনিটে এবং আগামীকাল ভোর ৬টা ৪৪ মিনিটে সূর্যোদয় হবে।

অন্যদিকে, আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারা দেশের আজকের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১০ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

কালিকাপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

আদম আলী (প্রতিনিধি,রাজবাড়ী):
বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার কালিকাপুরে দোয়া মাহফিল ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কালুখালী ও ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলামের উদ্যোগে কালিকাপুর ইউনিয়নের ঝাউগ্রাম এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন সরদারের নিজ বাড়িতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।”
আলোচনা সভা শেষে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং জিয়া পরিবারের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন সরদার, জিয়া পরিষদ কালুখালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন মাস্টার, উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সরদার শরিফুল ইসলাম সরদার, কালিকাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রঞ্জু, জেলা ছাত্রদলের সদস্য শেখ রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নজরুল বিশ্বাস, ছাত্রনেতা তানভীর ও ইসারত, কালিকাপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মজিদসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, দেশনেত্রীর আদর্শকে ধারণ করে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম