আজ মঙ্গলবার, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 170

‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ : প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ১৯ জানুয়ারি সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও-বার্তায় এই আহ্বান জানান তিনি।

বার্তায় তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। ‘হ্যাঁ’-তে আপনি নিজে সিল দিন। আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দিন। ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার এই সুযোগ নেবো।”

ভিডিও-বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিতভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্যে আমরা এর মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করেছি। আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এই গণভোটে অংশ নিন। সনদে আপনার সম্মতি দিন।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “গণভোটে আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছামত সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। এতে আরো বলা আছে, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিরা নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। ক্ষমতার ভারসম্য রক্ষায় পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। আপনার মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পাবে। দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদেরকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না। সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। এরকম আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এর মধ্যে রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামী নির্বাচনে গণভোটে অংশ নিন। রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশা মতো গড়ে তোলার জন্য ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন।”

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

বৈশ্বিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: গুতেরেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে যুক্তরাষ্ট্র দায়মুক্তির সঙ্গে আচরণ করছে। দেশটি মনে করে তাদের ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।

বিবিসি রেডিও ৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিশ্বাস কাজ করছে যে, বহুপক্ষীয় সমাধান অপ্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, তা হলো মার্কিন ক্ষমতা এবং প্রভাবের প্রয়োগ। কখনো কখনো সেই প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডকে পাশ কাটিয়ে করা হচ্ছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর ইউরোপে ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মাঝে জাতিসংঘ মহাসচিব ওই মন্তব্য করেছেন। গুতেরেস বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন নীতিগুলোও বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। এর মধ্যে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সমতার নীতিও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতেও জাতিসংঘের কড়া সমালোচনা করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি সংস্থাটির অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ট্রাম্প সেই সময় বলেছিলেন, তিনি একাই ‘‘সাতটি কখনোই শেষ না হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন’’, যেখানে জাতিসংঘ ‘‘এর একটি যুদ্ধ অবসানে সহায়তা করার চেষ্টা করেনি।’’

তিনি বলেন, পরে আমি বুঝতে পারি, জাতিসংঘ আমাদের জন্য সেখানে ছিল না। ট্রাম্পের এমন কঠোর সমালোচনার মুখে গুতেরেস স্বীকার করেন, জাতিসংঘ সনদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে বাধ্য করাতে সংস্থাটি হিমশিম খাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বড় বড় বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানে জাতিসংঘ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, জাতিসংঘের কোনো চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা নেই; এই ক্ষমতা বড় শক্তিগুলোর হাতেই বেশি।

গুতেরেস বলেন, সংস্থাটিতে সংস্কার প্রয়োজন, যাতে ১৯৩টি সদস্য দেশের সামনে থাকা গুরুতর সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়। তিনি বলেন, কিছু মানুষ মনে করে আইনের শক্তির জায়গায় ক্ষমতার আইন বসানো উচিত।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, বহুপাক্ষিক সমাধানকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না; বরং তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ও প্রভাবের প্রয়োগ এবং কখনো কখনো তা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের তোয়াক্কা না করেই।

গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এখন আর বিশ্বকে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করে না এবং তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য—ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—এর যে কোনো এক সদস্য বর্তমানে প্রস্তাব ভেটো দিতে পারে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই এই ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ বন্ধের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত করেছে।

গুতেরেসের অভিযোগ, ভেটো ক্ষমতা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব স্বার্থ এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি ইউরোপীয় দেশ স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে। পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেস ২০১৭ সালে জাতিসংঘের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং চলতি বছরের শেষে তিনি এই দায়িত্ব ছাড়বেন।সাধারণ পরিষদে তার বার্ষিক ভাষণে বিশৃঙ্খল এক বিশ্বের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান বিশ্ব সংঘাত, দায়মুক্তি, বৈষম্য এবং অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। বৈশ্বিক ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন।

চলমান সংঘাতগুলোর মধ্যে গুতেরেস গাজাকে জাতিসংঘের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেন। যুদ্ধের বড় সময়ে গাজায় সহায়তা বিতরণে জাতিসংঘ বাধাগ্রস্ত হয়। ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন কাঠামোর প্রতি ইঙ্গিত করে গুতেরেস বলেছেন, ১৯৪৫ সালের সমাধান-পদ্ধতি দিয়ে ২০২৬ সালের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। চ্যালেঞ্জ একের পর এক আসছেই—যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব পরিবর্তন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রকাশ্য লক্ষ্যের কথাও বলেন তিনি।

বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থার মৃত্যু এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষায় কিছু বিশ্বনেতার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তারপরও গুতেরেস বলেন, তিনি আশাবাদী থাকতে চান।

‘‘আমি মনে করি, মানুষ অনেক সময় শক্তিশালীদের মুখোমুখি হতে অনিচ্ছুক থাকে। কিন্তু সত্য হলো যদি আমরা শক্তিশালীদের চ্যালেঞ্জ না করি, তবে কখনোই আমরা একটি ভালো বিশ্ব গড়ে তুলতে পারব না।’’

সূত্র: বিসিবি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ জানুয়ারিতে শুরু না হওয়ার কারণ জানালেন-রিজওয়ানা হাসান

উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোও আসন্ন নির্বাচনে তাদের ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাই তাড়াহুরো করে ২৬ জানুয়ারির মধ্যে কাজটি শুরু হবে তা নয়, আমরা একটু সময় দিই যেন কাজটি আরও ভালোভাবে হয়।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের পাঠানো প্রকল্পটি পেয়ে চীনের বিশেষজ্ঞরা যাচাই-বাচাই করেছে। এ প্রকল্প নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। তাই চীনা রাষ্ট্রদূত বলেছেন, প্রকল্পটি তারা খুব ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করছে। যেন কোনো ভুল ছাড়াই তারা কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারে। চীন যতদ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায়।

পানি সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ এবং সেচ কার্যক্রম প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা তুলনামূলক জটিল প্রকল্প। তাই বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চীন বাংলাদেশের সর্ম্পক বন্ধুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল কথা হচ্ছে বন্ধুত্ব। চীন যেহেতু প্রতিবেশী দেশ, তাই তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। এ ছাড়া, চীন একটি বড় হাসপাতাল করার জন্য এগিয়ে এসেছে। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল। কারণ এ কাজ অন্তর্বর্তী সরকার ফেলে রাখেনি। রাজনৈতিক দলগুলোও এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অঙ্গীকার করেছে। তাই হতাশা ছড়ানো যাবে না। একটি সমীক্ষা হয়ে চুক্তি হলে আমরা যে টাকা দেবো পরবর্তীতে আরও বেশি টাকা প্রয়োজন হলে তা পরিবর্তন করা অনেক কষ্টকর।

তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ ছাড়া, এটি একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। তাই আমরা মনেকরি নির্বাচিত সরকার এসে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কাজ করবে। সেই প্রস্তুতিটা আমরা গঙ্গা ও তিস্তার ক্ষেত্রে করে দিয়েছি।

এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড.তুহিন ওয়াদুদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী, সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

রাষ্ট্রের সংস্কার চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন, টাঙ্গাইলে উপদেষ্টা ফাওজুল কবির

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়য়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন- আপনারা যদি সংস্কার চান, পরিবর্তন চান, আপনি যদি বিচার ব্যবস্থা ভালো দেখতে চান তাহলে গণভোটে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন। ১৯ জানুয়ারি সোমবার সকালে টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গণভোট প্রচারণার ‘ভোটের গাড়ি’র সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন- আপনি যদি বাংলাদেশের মঙ্গল চান, আপনি যদি রাজপথের সহিংসতা দেখতে না চান, আপনি যদি মানুষের খুন দেখতে না চান। তাহলে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিবেন। দেশের চাবি আপনার হাতে। এই জন্যই আমাদের গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি। আবার একটা হানাহানি, আবার একটা পাঁচ আগষ্ট হোক, লক্ষ লক্ষ লোক রাস্তায় নেমে আসুক। লোকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটুক। এ ধরনের পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। এ ধরণের পুনরাবৃত্তি আর যেন না হয় তার জন্য ‘হ্যা’-‘না’ ভোট। জনগন যদি এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না চায় তার জন্য সংস্কার কমিশন রিপোর্ট দিয়েছে। এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ‘হ্যা’-‘না’ ভোট। আমরা কোনো রাজা-রাণী নির্বাচনের জন্য ভোটের আয়োজন করিনি। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটের আয়োজন করেছি।
উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান আরো বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বারবার গণ-অভ্যুত্থানের মতো এ রকম
ঘটনা ঘটে না। কিন্তু আমাদের দেশে কেন এটা হয়- এজন্যই আমরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার চাই। আপনারা যদি মনে করেন- আগের সরকারই ঠিক ছিল। গুম, খুন ঠিক ছিল, বিরোধী দলের লোক বাড়িতে থাকতে পারবে না সেটাই ভালো ছিল, তাহলে গণভোটে ‘না’ ভোট দিবেন।
তিনি বলেন, আমরা একটা নতুন দিশা জাতির জন্য সৃষ্টি করতে চাই- যাতে আর কেউ স্বৈরাচার হয়ে ওঠতে না পারে। এ সময় তিনি গণভোটে জনগণের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক গণভোট আয়োজনের লক্ষে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এরআগে ‘ভোটের চাবি, আপনার হাতে’ শ্লোগানে সারাদেশে ভ্রমণরত ১০টি ভোটের গাড়ির একটি টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছলে অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশাত্মবোধক গানের ফাঁকে ফাঁকে গণভোটের প্রয়োজনীয়তার উপর অডিওবার্তা এবং গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর
ড. মুহম্মদ ইউনূসের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ প্রচার ও প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত সহ জেলার বিভিন্ন দপ্তর এবং বিভাগের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

 

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গরুচোর সন্দেহে গ*ণপিটু*নিতে দুজন নি*হত

মো: মহিদ:

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় গরুচোর সন্দেহে দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন উপজেলার দশআনি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মজনু (৩৫) এবং ছয়আনি গ্রামের বান্দু মিয়ার ছেলে দ্বিন ইসলাম (২৩)। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  রবিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ইমাননগর গ্রামের শাকিলের বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে যান মজনু ও দ্বিন ইসলাম। এ সময় বাড়ির লোকজন ও আশপাশের গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। পরে উত্তেজিত জনতা দুজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করেন। রাতেই দুজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে সোমবার ভোর ৬টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত মজনু এবং দ্বিন ইসলামের বিরুদ্ধে সিংগাইর থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

রামুতে পুলিশের অভিযানে রা*ইফেলের গু*লি ও কা*র্তুজসহ অ*স্ত্র ব্যবসায়ি গ্রে*ফতার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে রাইফেলের গুলি ও কার্তুজ সহ ১ জন অস্ত্র ব্যবসায়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
১৭ জানুয়ারি শনিবার রামু থানা পুলিশ ও ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে রামু থানাধীন ঈদগড় ইউপিস্থ পানিস্যাঘোনা সাকিনস্থ আসামী নূর মোহাম্মদ প্রকাশ কালু চৌকিদার এর বসতঘরের ভিতরে ধানের বস্তার ভিতর থেকে ১০ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি,২ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ ও ৩ টি শর্টগানের খালি খোসা উদ্ধার করা হয়।এসময় রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের পানিস্যাঘোনা এলাকার শহর আলীর পুত্র নুর মোহাম্মদ প্রকাশ কালু চৌকিদা(৩৬) কে গ্রেফতার করা হয়। রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া গুলি ও কার্তুজ উদ্ধারসহ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি গুলি ও কার্তুজ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখেছে বলে স্বীকার করে।
ওসি মনিরুল আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি একজন দক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগর এবং পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি সংক্রান্তে ৫টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

রূপগঞ্জের বাঘবের আইডিয়াল হাইস্কুল এবং ইদ্রিস আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষাসফর অনুষ্ঠিত

রিপন পাল: 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাঘবের আইডিয়াল হাইস্কুল এবং হাজী মোঃ ইদ্রিস আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষাসফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৮জানুয়ারি রবিবার কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ি শালবন বিহার, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, ময়নামতি যাদুঘরসহ আশপাশের দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন শেষে তারা কাশবন রিসোর্টে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা করে। আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাঘবের আইডিয়াল হাইস্কুলের সভাপতি  ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান শুক্কুর মাহমুদ।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাঘবের আইডিয়াল হাইস্কুলের প্রধান উপদেষ্টা, হাজী মোঃ ইদ্রিস আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মোমেন, বাঘবের আইডিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদ ভুঁইয়া, পরিচালক এম এ কালাম, আমির হোসেন, সেলিম রানা, ইসলাম মিয়া, কাওছার হামিদ, পূর্বাচল প্রি-ক্যাডেটের সভাপিত আব্দুল্লাহ আল মামুন, চাইল্ড হ্যাভেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক গোলাম রসূল, হাজী মোঃ ইদ্রিস আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক মিজানুর রহমান, মোঃ সৈকত হোসেন, লিখন মিয়া, বাঘবের আইডিয়াল হাইস্কুলের শিক্ষক সোহাগ মোল্লা, সুমন আহম্মেদ, হৃদয় হাসান মুন্না, তানভীর রহমান, শোয়াইব মিয়া, নাসরিন সুলতানা, সাবিকুন্নাহার মুন্নি, আফরিন সুলতানা, সুস্মিতা রাণী প্রমুখ।
পরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও বিদ্যালয় দুইটির শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। র‌্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জামায়াতের আমির

আলোকিত ডেস্ক:

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান।

১৮ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে জামায়াতের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যা হলেন—নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া এবং প্রচার বিভাগের প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

ঢাকা-১৯,সাভার আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীকে চেনেন না সাভার বাসি

শহিদুল্লাহ সরকার:

ঢাকা-১৯, সাভার আসনে জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী এনসিপির দিলশানা পারুল কে চেনেন না সাভারবাসী। জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইন বাদ পড়ায় হতাশ সাভারবাসী। দিলশানা পারুল তিনি অপরিচিত মুখ। সাভারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই কোন তার বিচচরণ
কিংবা পরিচিতি।
তিনি এসেছেন বসন্তের কোকিলের মত উড়ে উড়ে। তাই মন থেকে কেউ তাকে মেনে নিতে পারছেন না।অপরদিকে সাভারে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইন জামায়াতের মনোনয়ন পেলেও জোটের মনোনয়ন থেকে বাদ পড়ায় হতাশ হয়েছেন সাভারবাসী ও জামায়াতে নেতা-কর্মীরা। ইহা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। মাওলানা আফজাল হোসাইন সাভারের বাসিন্দা এবং অত্যন্ত পরিচিত মুখ। দল মত নির্বিশেষে সবাই তাকে চেনেন ও জানেন।
দীর্ঘ ৩০ বছরের
রাজনীতিতে তিনি তিলে তিলে মাঠ গড়ে তুলেছেন। মুহূর্তে তা খড় কুটুর মত উড়িয়ে নিয়ে গেল এক কালবৈশাখী ঝড়ে। মাওলানা আফজাল হোসাইন কে মনোনয়ন দেয়া হলে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি ভোটযুদ্ধ হওয়ার সুমোহ সম্ভাবনা ছিল। জামায়েতের জোট থেকে যে প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে তার সঙ্গে বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থী সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে কোন লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই নেই বলে অভিমত জানিয়েছেন অভিজ্ঞ মহল ও রাজনৈতিক যোদ্ধারা। একরকম একতরফাভাবেই এ নির্বাচন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

উখিয়া ও টেকনাফের জনগণ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে- উপদেষ্টা আদিলুর

আবু সায়েমঃ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমনের ফলে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। স্থানীয় জনগণের পানির চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার রেইন ওয়াটার রিজার্ভার (বৃষ্টি পানি সংরক্ষণাগার) প্রকল্পটি গ্রহণ করে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবে, যা পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১৭ জানুয়ারি শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘রেইন ওয়াটার রিজার্ভার’ (বৃষ্টি পানি সংরক্ষণাগার) প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাম্প্রতিক মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আরাকান আর্মি ছোড়া গুলিতে আহত স্কুল শিক্ষার্থী আফনান ও স্থলমাইন বিস্ফোরণ পা হারানো মোহাম্মদ হানিফের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রকল্প প্রসঙ্গে আদিলুর বলেন, ‘ স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে , এটি এই জনগোষ্ঠীর পানি সংকট সমস্যার সমাধান করবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে এর সুফল ভুগ করতে পারে সেটিই মাথায় রেখে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে’।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ বাংলাদেশের জনগণ ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রহরীরা সদা সতর্ক থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ বাংলাদেশের সীমান্ত লঙ্ঘন করতে পারবে না।’
সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি ইস্যুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ জনগণের ঐক্যের শক্তি আগামীর ১২ ফেব্রুয়ারি ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে, বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানুষ ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে থেকে সকল শঙ্কার অবসান ঘটাবে।’
এর আগে একই দিন সকাল ১১টার দিকে তিনি উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সহ কয়েকটি ক্যাম্পে এডিবির অর্থায়নে এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আবদুল আউয়াল, হেল্প প্রজেক্টের ডিরেক্টর নুর আহাম্মদ, ইএমসিআরপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল কাউয়ুম, ইএপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক গোলাম মুক্তাদির, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আ. মন্নান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, হেল্প প্রকল্পের ডিপিডি মো: মাহমুদ খান,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী প্রকৌশলী ও WASH Training Center এর কো-অর্ডিনেটর আবুল মনজুর সহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের পরামর্শকগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে বান্দরবান শহর থেকে সড়কপথে কক্সবাজারে আসেন তিনি।
১৭ জানুয়ারি ( শনিবার) সকালে তিনি জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন। পাশাপাশি দিনব্যাপী সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।সন্ধ্যায় তিনি বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৬/মওম