আজ সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 163

নবীনগরে এই প্রথম সুইট কর্ণ চাষে সাফল্য

মোঃ আনোয়ার হোসেন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে প্রথমবারের মতো সুইট কর্ণ (Sweet Corn) আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন বীরগাঁও ইউনিয়নের কেদারখোলা গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন। জানা যায়- নতুন ফসল আবাদে আগ্রহী কৃষক জাকির হোসেন এর আগেও উপজেলায় প্রথমবারের মতো বিটরুট চাষ করে সাফল্য পেয়ে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে তিনি মাত্র তিন শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে সুইট কর্ণ আবাদ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি “সুইট গোল্ড” জাতের বীজ রোপণ করেন।
প্রথমবার চাষ করেও ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি আশাবাদী।
সুইট কর্ণ সাধারণ ভুট্টার তুলনায় নরম, রসালো ও মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় শহরাঞ্চলে এর চাহিদা বেশি। সালাদ, স্যুপ, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই ফসল স্বল্প সময়ে (৭০–৮০ দিন) সংগ্রহ করা যায় এবং বাজার মূল্য তুলনা মূলক ভাবে ভালো হওয়ায় কৃষকদের নিকট এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কৃষক জাকির হোসেন বলেন-“আমি আগে কখনো সুইট কর্ণ চাষ করিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শে মাত্র তিন শতাংশ জমিতে সুইট কর্ণ চাষ করি, ফলন ও ভালো হয়েছে। এলাকার মানুষকে উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বাজারে প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে”।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়- নবীনগরে এটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। সফলতা অব্যাহত থাকলে সুইট কর্ণকে একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। এ লক্ষ্যে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে ফসলটিকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন- “সুইট কর্ণ একটি স্বল্পমেয়াদি ফসল, মাত্র ৭০ / ৮০ দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করা যায়। পাশাপাশি গাছ সবুজ থাকায় এটি সাইলেজ হিসেবে গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। জাকির হোসেনের এই উদ্যোগ নবীনগরে ফসল বৈচিত্র্যকরণ ও আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
কৃষক জাকির হোসেনের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে সুইট কর্ণ আগামী দিনে নবীনগরের কৃষিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

ঝিনাইদহে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব বিষয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

মোক্তার হোসেন মুক্তি: 

ঝিনাইদহে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস উপলক্ষে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে শহরের এইচএসএস সড়কে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ।
মানববন্ধনে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সভাপতি এন.এম. শাহজালাল, এম সাইফুল মাবুদ, সহ-সহপতি নাসরিন ইসলাম, সদস্য সালমা খানম, ইয়েস সহ-দলনেতা মোঃ শাহিন আলম, মানবাধিকার, এনজিও কর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জ্বালানির খাতে সুশাসন, জীবাশ্ব জ্বালানির ক্ষতিকারক দিক সহ সচেতনতা মুলক ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ব জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ সহ জীবাশ্ব পরিবশে বিপর্যয় ঘটছে। তাই পরিবেশ সুরক্ষা করে নিরাপদ বাসযোগ্য পরিবেশ গড়তে জীবাশ্ব জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জীবাশ্ব জ্বালানির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আফরোজা খানম রিতা

মো.মহিদ:

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা। নির্বাচনী এলাকার সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় দিনব্যাপী গণসংযোগ, পথসভা ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন তিনি। প্রচারণাকালে আফরোজা খানম রিতা সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি বলেন, “মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মানুষ উন্নয়ন, সুশাসন ও ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। আমি নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো। প্রচারণায় তার সঙ্গে জেলা ও উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন। এ সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় ভোটারদের অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন পর এলাকায় প্রাণবন্ত নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা পরিবর্তনের পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আগ্রহী।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

বিরুলিয়ায় বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় নামলেন, আনোয়ার হোসেন

শহিদুল্লাহ সরকার:

ঢাকা ১৯ সাভার আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সালাউদ্দিন বাবুর ধানের শীষের প্রচারণায় মাঠে নামলেন, বিরুলিয়া ৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা, আনোয়ার হোসেন, এসময় নির্বাচনি প্রচারণায় তার সঙ্গে ছিলেন, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার, বিরুলিয়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি; আলালউদ্দিন, যুবদলের নেতা মফিজুল ইসলাম সহ অনেকে এসময় প্রচারণায় সঙ্গে ছিলেন। বিরুলিয়া ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামে ভোটারদের ধারে ধারে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করেন এবং সালাউদ্দিন বাবুর ধানের শীষের প্রচারণা করেন, ভোটারদের লিফলেট দিয়ে ভোট চাইছেন, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন এর নিকট এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ভোটারগণ ধানের শীষে ভোট দিবে বলে আশ্বাস দেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

আসামি ধরতে গিয়ে আওয়াম লীগের নেতাকর্মীদের হা*মলায় ৪ পুলিশ আ*হত

রানা ইস্কান্দার রহমান:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

গত ২৫ জানুয়ারি রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই সেলিম রেজা ও উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মীর কায়েস,এস আই মমিনুল, কনস্টেবল হোসেন

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ (রবিবার) রাত সাড়ে আটটার দিকে বাগদা বাজার এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান শফিক মাহমুদ গোলাপকে গ্রেফতার করতে তাঁর বাড়িতে যায় পুলিশ। এ সময় বাড়ির ভিতরে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ব্যাপক মারধর করে এবং পুলিশের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের লোকজন।
একপর্যায়ে এসআই সেলিম রেজা এবং এসআই কায়েস, মমিনিল আহত হন। পরে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীনের নির্দেশে সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) এবিএম রশীদুল বারী’র নেতৃত্বে একটি টহল পুলিশ দল এসে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী মেজর মাসুম। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

নির্বাচনি প্রচারণায় মঙ্গলবার ময়মনসিংহ যাচ্ছেন তারেক রহমান

আলোকিত প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ময়মনসিংহ সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফরে তিনি ময়মনসিংহ,গাজীপুর এবং রাজধানীর উত্তরার তিনটি পৃথক জনসভায় ভাষণ দেবেন।

২৬ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে তার এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। ময়মনসিংহ থেকে ফেরার পথে একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় গাজীপুরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এ সব  কর্মসূচি শেষে তিনি গুলশানের বাসভবনে ফিরবেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

রাশিয়ার হামলায় বিদ্যুৎবিহীন কিয়েভের ১৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রুশ বাহিনীর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ২ দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। রবিবার কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশ্চকো এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন এ তথ্য।

বিবৃতিতে মেয়র বলেছেন, শনিবার রাজধানী কিয়েভসহ দেশজুড়ে ব্যাপকমাত্রায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় কিয়েভের ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ পুরো ইউক্রেনে ১২ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কিয়েভসহ ইউক্রেনের প্রায় সব প্রদেশ ও প্রাদেশিক শহরের গড় তাপমাত্রা এখন শূন্যের নীচে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে বাড়িঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউক্রেনের লাখ লাখ মানুষ।শিগগিরই বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হবে— এমন নিশ্চয়তাও দিতে পারেনি ইউক্রেনের সরকার। কারণ রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবারের হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমূহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এক্সবার্তায় জেলনস্কি আরও জানিয়েছেন, গত ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী কিয়েভসহ পুরো ইউক্রেনে মোট ১ হাজার ৭০০টি সুইসাইডাল ড্রোন, ১ হাজার ৩৮০টি গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৬৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ বাহিনী।

রাশিয়া এই হামলা করলো, যখন ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আবুধাবিতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন ত্রিপাক্ষিক বৈঠক চলছে।

“রাশিয়ার একমাত্র লক্ষ্য এখন আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা। আমরা তাদের প্রতিটি হামলার জবাব দেবো”, শনিবারের এক্সবার্তায় বলেছেন জেলেনস্কি।

সূত্র : রয়টার্স

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবার কেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি গতকাল রবিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ২৬ জানুয়ারি সোমবার সকালে প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় একথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ সময়কালে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২,৪৫৯.৩৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯.২৭ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ চীনা অনুদান সহায়তা।

গত বছরের মার্চ মাসে চীন সফরকালে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে দ্রুততার সঙ্গে চীন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি আধুনিক ১০ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলা, প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।

এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অকোলজি, নিউরোলজি প্রভৃতি বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই হাসপাতাল শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “রংপুর ও ঢাকা-কেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। নেপাল ও ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।”

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজস্ব খাতে প্রায় ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১,১৯৭ জন নার্স এবং ১,৪১০ জন অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় ও দীর্ঘ ভ্রমণজনিত ভোগান্তি কমবে, সময়মতো জীবনরক্ষাকারী সেবা নিশ্চিত হবে এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আলোচ্য প্রকল্পের আওতায় একটি ১০ তলা নতুন হাসপাতাল ভবন, একটি ১০ তলা অধ্যাপক ও সিনিয়র ডক্টর কোয়ার্টার ভবন, একটি ১০ তলা ডক্টরস ডরমেটরি ভবন, একটি ২ তলা বিশিষ্ট ডুপ্লেক্স (ডিরেক্টরস বাংলো) ভবন, দুইটি ৬ তলা বিশিষ্ট নার্স ডরমেটরি ভবন এবং দুইটি ১০ তলা বিশিষ্ট কর্মচারী (২য় ও ৩য় শ্রেণী) কোয়ার্টার ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে।

নীলফামারী জেলায় প্রায় ২১ লক্ষ মানুষের বসবাস, যার বড় অংশ গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী এই জনসংখ্যার জন্য আনুমানিক ৪,৫০০–৬,০০০ শয্যা প্রয়োজন, অথচ বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কার্যকর শয্যা সংখ্যা জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

বিদ্যমান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শয্যা, বিশেষায়িত বিভাগ ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় গুরুতর রোগীদের রংপুর বা ঢাকায় যেতে হয়, যা সময়, ব্যয় ও ঝুঁকি বাড়ায়।

একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, মাতৃ এবং নবজাতক জটিলতা এবং সংক্রামক রোগের বোঝা, যেগুলোর জন্য উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সার্জারি এবং ইনটেনসিভ কেয়ারের প্রয়োজন। ফলে জেলার একটি বড় অংশের জনগণ প্রয়োজনীয় সময়মতো বিশেষায়িত ও জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলায় বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা মূলত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল এবং উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এসব প্রতিষ্ঠানে আইসিইউ, এইচডিইউ, ডায়ালাইসিস, পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট, নিউরো ইমার্জেন্সি, কার্ডিয়াক কেয়ার, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি এবং বিশেষায়িত মাতৃ ও নবজাতক সেবার সক্ষমতা সীমিত।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

চরভদ্রাসনে এক নারীর মুখমণ্ডলে- কামড়ে দিল শিয়াল, হাসপাতালে ভর্তি নারী

আহম্মেদ আল ইভান:

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মুখে শিয়ালের কামড়ে একজন নারী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।২৫ জানুয়ারি রবিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের ভাটি শালেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিয়ালের কামড়ে আহত ওই নারী বর্তমানে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিতসাধীন রয়েছে।

ঘটনার বিবরনে ভুক্তভোগি আকলিমা(৪০) বলেন বাড়ি থেকে একটু দুরে তিনি ক্ষেত থেকে পিয়াজ ওঠাতে যায়। কিছু সময় পড়ে হঠাৎ একটি শিয়াল দৌড়ে এসে তার মুখে কামড় বসিয়ে দেয়। এতে তার নাক, মুখ চোখের উপর বড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। তার চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.হাফিজুর রহমান বলেন চরাঞ্চল থেকে শিয়ালের কামড়ে আহত অবস্থায় ১জন হাসপাতালে এসেছেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শেষে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন গত দুই সপ্তাহ আগে চরের একই এলাকা থেকে সাতজনকে শিয়ালে কামড়িয়ে ছিল। তাদের প্রত্যেককে বিনামূল্যে র‌্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে বর্তমানে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের পাশাপাশি এন্টিভ্যনোম সংকট রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা দিয়েছি। এ সকল ঔষুধ হাসপাতাল গুলোতে পর্যাপ্ত থাকা প্রয়োজন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জানুয়ারি ২০২৬/মওম

গাজীপুর সদর উপজেলা: প্রশাসনিক জটিলতা, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও নাগরিক বঞ্চনা

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধি: নির্বাচনে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ছয় লাখের বেশি মানুষ কাগজে উন্নয়ন, মাঠে অবহেলা—বাস্তবে নেই স্বাস্থ্যসেবা ও দাপ্তরিক কাঠামো সদর হয়েও ‘সদর সুবিধা’ থেকে বঞ্চিত গাজীপুর সদরবাসী গাজীপুর সদর উপজেলা—নাম শুনলেই ধারণা হওয়া উচিত এটি জেলার সবচেয়ে সুবিধাসম্পন্ন এলাকা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। প্রশাসনিক কাঠামোর অগোছালো বিন্যাস, স্বাস্থ্যসেবার তীব্র সংকট, দাপ্তরিক জটিলতা, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও নাগরিক সুবিধাহীনতায় দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে রয়েছে সদর উপজেলার বাসিন্দারা।
সমস্যার দীর্ঘসূত্রতায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে, আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ক্ষোভ এখন প্রত্যাশায় রূপ নিয়েছে, সদর উপজেলায় সদর সুবিধা চাই।
কিন্তু ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার সময় পুরনো উপজেলার বড় অংশ সিটির আওতায় চলে গেলে নতুন এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুনর্গঠিত সদর উপজেলা দাঁড়ায় চারটি ইউনিয়ন নিয়ে—মির্জাপুর, পিরুজালী, ভাওয়ালগড় ও বাড়িয়া। এখানেই শুরু হয় অস্বাভাবিক ও দেশের বিরল প্রশাসনিক কাঠামো। তিনটি ইউনিয়ন জেলায় উত্তর-পশ্চিমে, আর বাড়িয়া ইউনিয়ন পুরোপুরি পূর্ব দিকে—যার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। স্থানীয়দের ভাষায়, একই উপজেলায় দুটি আলাদা পৃথিবী।
গাজীপুর সদর উপজেলার মূল প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভেতর থেকে। যদিও নামমাত্র একটি উপজেলা পরিষদ ভবন আছে, কিন্তু বাস্তব কার্যক্রম সিটিতে হওয়ায় এখানে নেই সেবা গ্রহণের উপযোগী অফিস ব্যবস্থা।
উপজেলার নিজস্ব সংসদীয় আসন নেই; বরং প্রশাসনকে সামলাতে হচ্ছে চারটি ভিন্ন সংসদীয় আসনের বিভিন্ন অংশ। ফলে জন্মেছে চরম দাপ্তরিক জটিলতা। মির্জাপুর, পিরুজালী ও ভাওয়ালগড় থেকে বাড়িয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত দূরত্ব ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। দাপ্তরিক সেবা নিতে একজন সাধারণ মানুষকে ২–৩ ঘণ্টা শুধু যাতায়াতেই হারাতে হয়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, উপজেলা যদি সিটিতে হয়, তাহলে আমরা কোন সদর উপজেলার মানুষ?
এদিকে গাজীপুর সদর উপজেলায় সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে, সরকারি হাসপাতাল ২টি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১টি, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ৫টি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ৫টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ৪৯টি, বেসরকারি ক্লিনিক ৩৬টি। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া বাস্তবতা, সরকারি হাসপাতাল—শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—নেই। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র—নেই। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৫টির মধ্যে ৩টি আংশিক সচল। কাগজে দেখানো বেসরকারি ক্লিনিকের সংখ্যাও বাস্তবে অনেক কম। এলাকায় একটি সিএমএইচ থাকলেও তা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। ফলে প্রতিদিন রোগীদের যেতে হয় গাজীপুর সিটির হাসপাতালগুলোতে—যেখানে পৌঁছাতে লাগে ২৫–৩০ কিলোমিটারের যানজটপূর্ণ পথ। স্থানীয়দের ক্ষোভ—“চিকিৎসা নিতে গিয়ে মানুষ মরছে, আর কাগজে দেখায় সদর উপজেলায় সকল ধরনের হাসপাতালসহ কলেজ হাসপাতালও আছে!
বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মির্জাপুর, পিরুজালী ও ভাওয়ালগড়—এই তিন ইউনিয়নে রয়েছে দুই শতাধিক শিল্পকারখানা। প্রতিদিন কাজ করেন লাখো শ্রমিক। সরকারি হিসাবে ২০২২ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার হলেও স্থানীয়রা বলছেন—এখন তা ছয় লাখ ছাড়িয়েছে।
এত জনবহুল এলাকায় নেই, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শ্রমিক হাসপাতাল, কৃষি অফিস,
সমাজসেবা অফিস, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম,
বিচ্ছিন্ন বাড়িয়া ইউনিয়নের পরিস্থিতি আরও করুণ।
এছাড়াও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক, যা গাজীপুর সদর উপজেলার ভেতর দিয়েই প্রবাহিত। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে লক্ষাধিক যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু—সড়কের পাশের মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নেই। নেই পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নেই দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এছাড়াও মহাসড়ক উপরে রয়েছে ভাসমান দোকানপাট। ফলে সড়কটি উপজেলা বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন এখনো সীমিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের প্রধান দাবি, পূর্ণাঙ্গ উপজেলা পরিষদ ভবন ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শ্রমিক হাসপাতাল, বাড়িয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্নতা দূর করা, যোগাযোগ উন্নয়ন ও বিকল্প সড়ক সহ
সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাধীন উপজেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত করা। এছাড়াও নতুন বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, গাজীপুর সদর উপজেলা একটি অদ্ভুত প্রশাসনিক কাঠামোর ভুক্তভোগী অঞ্চল। নামে সদর—বাস্তবে সবচেয়ে অবহেলিত। আগামী নির্বাচন তাই শুধু একজন প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন নয়। এটি ছয় লাখ মানুষের জীবিকা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক অধিকারের পুনরুদ্ধারের নির্বাচন।
মানুষ এবার প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।
এদিকে সচেতন নাগরিক মহল বলছে, এই নির্বাচনে গাজীপুর সদর উপজেলার মানুষ শুধু একজন প্রার্থী নয়—একটি বাস্তব পরিবর্তন খুঁজছে। বহু বছর ধরে স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, দাপ্তরিক সেবা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে যে অবহেলা চলেছে, তা আর মেনে নেওয়া যাবে না। যারা নির্বাচনে আসবেন তারা যেন পরিষ্কারভাবে প্রতিশ্রুতি দেন—সদর অঞ্চলের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শ্রমিক হাসপাতাল, কার্যকর উপজেলা প্রশাসন এবং বিচ্ছিন্ন বাড়িয়া ইউনিয়নের সেবা-সংকট দ্রুত সমাধান করবেন। জনগণ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চায় সাধারণ মানুষ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি