আজ সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 153

১১৬ আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেয়া হয়েছে : ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোরেশোরে প্রস্তুতি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ১১৬টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলোর ব্যালট আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

ইইউ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সচিব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন চিফ আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তারা মূলত আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ব্যালট পেপার পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সচিব জানান, আদালতের নির্দেশনায় শেষ মুহূর্তে কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার কারণে কয়েকটি আসনে ব্যালট পেপার নতুন করে ছাপাতে হয়েছে। তবে ৭ তারিখের মধ্যে সব এলাকায় ব্যালট পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নির্বাচনকালীন গুজব এবং অপপ্রচার রোধকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কমিশন। সচিব বলেন, আমরা মেটার সঙ্গে আলোচনা করছি। আমরা চাই না ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হোক। বরং আমরা মেটাকে অনুরোধ করেছি যাতে বিদ্রূপাত্মক, আক্রমণাত্মক বা অপপ্রচারমূলক কন্টেন্টগুলো ডাউন করে দেওয়া হয়। কমিশনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেল এ বিষয়ে মেটার সঙ্গে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সচিব জানান, সাত দিন সেনাবাহিনী, আট দিন আনসার এবং নিয়মিত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবেন ১৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারা মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকাও দ্রুতই পাওয়া যাবে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি এবং দেশের ভেতরে যারা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের বিষয়ে সচিব জানান, ডাক বিভাগ ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪টি ব্যালট সংগ্রহ করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে ব্যালট পৌঁছেছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮টি। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে ৬ হাজার ৯১ জন কয়েদি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন। তাদের ভোট গ্রহণ ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

দেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, দেশি পর্যবেক্ষকদের কোনো ক্ষোভের কথা আমার দপ্তরে লিখিতভাবে আসেনি। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতো তারাও যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেন, সেদিকে আমাদের নজর আছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, জুলাইয়েই মা হচ্ছেন শবনম বুবলী

বিনোদন ডেস্ক: তবে কি জল্পনাই সত্যি হচ্ছে? চিত্রনায়িকা শবনম ইয়াসমিন বুবলীর ফের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর এতদিন গুঞ্জন হিসেবে ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টির সত্যতা আরও স্পষ্ট হলো। সেই সঙ্গে বেরিয়ে আসছে নানা রকম তথ্য। একাধিক সূত্র  গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, বর্তমানে এই নায়িকা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! এই বছরই (জুলাই মাসে) দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন আলোচিত-সমালোচিত এই চিত্রনায়িকা।

বুবলীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর তার একাধিক ঘনিষ্ঠজন ও সহশিল্পী গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বুবলীর কারণে আটকে আছে ‘ঢাকাইয়া দেবদাস’ সিনেমার শুটিং। প্রথম দফায় চিত্রনায়ক আদর আজাদের বিপরীতে চার দিন শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন বুবলী। দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের শিডিউল দিচ্ছেন না এই নায়িকা। সন্তান জন্ম নেওয়ার পর ফিট হয়ে শুটিং অংশ নেবেন বলে প্রযোজক-পরিচালককে জানিয়েছেন বুবলী নিজেই।

এ প্রসঙ্গে সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর সিকদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রথম লটে বুবলী, আদর আজাদ ও অন্য শিল্পীদের নিয়ে চার দিন শুটিং করেছিলাম। দ্বিতীয় লটে রোজায় শুটিং আছে। কিন্তু বুবলীকে ছাড়াই বাকি কাজ শেষ করতে হবে। বুবলীর বাচ্চা হওয়ার পরে তার বাকি অংশের শুটিং করবেন। সন্তান জন্ম দিতে এই মাসে আমেরিকায় যাচ্ছেন তিনি। ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে আগামী জুনে শিডিউল দিয়েছেন। তবে ধারণা করছি, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি শুটিংয়ের জন্য ফিট হবেন না।

সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে বুবলীর পোশাক ও হাঁটাচলার ভঙ্গিতে বেবিবাম্প স্পষ্ট হয়ে ওঠে ক্যামেরায়। তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। মা হওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে না দিলেও রহস্যে জিইয়ে রেখেছেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার বুবলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। বরাবরের মতো মুখে কুলুপ এঁটে রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে চিত্রতারকা শাকিব খানও নীরব।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক ঘটনায় বিতর্কে বুবলী। এই বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ বুবলী তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ওয়ালে শাকিব খানের সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছিলেন ‘ফ্যামিলি টাইম’। ছবিতে বুবলীর পরিবারের লোকজনও ছিলেন। সেই ছবি দেখেই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন অপু বিশ্বাস। এরপর শাকিব খানের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে ও সন্তান জন্মের খবরে বুবলী আলোচনায় আসেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ‘উধাও’ ছিলেন বুবলী।

সে সময় নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে; সবচেয়ে বড় গুঞ্জন ছিল মা হয়েছেন অভিনেত্রী। সে সময় এই গুঞ্জন অস্বীকার করে প্রকাশ্যে আসেন বুবলী। জানান, আমেরিকায় ছিলেন তিনি, ফিল্ম নিয়ে পড়াশোনা করেছেন নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে। এর কিছুদিন পর সব কৌতূহল ছাপিয়ে প্রকাশ্যে আসে বুবলীর প্রথম সন্তান শেহজাদ খান বীর। সন্তানের বাবা চিত্রনায়ক শাকিব খান।জানা গেছে, ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন বুবলী। এ খবর ফেসবুকে ছবি শেয়ার করে বুবলী নিজেই সামনে আনেন। তবে তার আগে নানা নাটকীতায় অংশ নেন তিনি। মা হওয়ার খবর কেন্দ্র করে সাংবাদিকদেরও হুমকি দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে শেষ পর্যন্ত মা হওয়ার গুঞ্জনই সত্যি হয়েছিল। এবারও সেই পথেই হাঁটছেন বুবলী।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রমজান মাসে অফিসের সময় নির্ধারণ

আলোকিত ডেস্ক:

রমজান মাসে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস নির্ধারণ করেছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুসারে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে।

৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টার পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

প্রেস সচিব বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এর মধ্যে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিট জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। ব্যাংক, বিমা, সুপ্রিম কোর্ট, অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সুবিধা অনুযায়ী অফিস সূচি নির্ধারণ করবে বলে জানান প্রেস সচিব। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর রোজা শুরু হতে পারে ২০ ফেব্রুয়ারি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

আশুলিয়ায় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার-৩

খোরশেদ আলমঃ

ঢাকার আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। এদের মধ্যে একজন ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলও রয়েছেন। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ককটেল সদৃশ বস্তু সহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে আশুলিয়ার থানার ওসি মোঃ রুবেল হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এরআগে, ভোর রাতে আশুলিয়ার বলিভদ্র তালপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল ও তার দুই সহযযােগী স্বপন এবং ফায়জুল।

যৌথ বাহিনী জানায়, ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে আশুলিয়ার তালপট্টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতার জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ অসখ্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে।

আশুলিয়ার থানার ওসি মো: রুবেল হাওলাদার জানান ভোর রাতে জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ তিনজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে যৌথ বাহিনী। তাদের বিরদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র হস্তান্তর করেন যৌথবাহিনী। যার মধ্যে ককটেল সদৃশ বস্তু ররেছে বলেও জানান ওসি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

টাঙ্গাইলে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা হবে,আর কক্সবাজার যেতে হবে না: টুকু

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে টাঙ্গাইলে এমনভাবে পর্যটনশিল্প গড়ে তোলা হবে, যাতে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে না হয়; বরং পর্যটকরাই টাঙ্গাইলে আসবেন।

৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি মাদরাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামী দিনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ভোট দেব ধানের শীষে, দেশ গড়ব মিলেমিশে’ স্লোগান বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। তিনি জানান, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমানের কাছে টাঙ্গাইলের উন্নয়নে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তারেক রহমানও সব দাবি পুরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, টাঙ্গাইল সদরের একজন মানুষও যাতে বেকার না থাকে, সেভাবেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এর অন্তত অর্ধেক চাকরি সদর উপজেলার মানুষের হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এতে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

চরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, যমুনা তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর সেখানে একটি সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এতে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তখন চরের মানুষকে আর চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার যেতে হবে না; বরং বাইরের মানুষই টাঙ্গাইলে ভ্রমণে আসবে।

বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে টুকু বলেন, গতকাল একটি দলের প্রধান টাঙ্গাইলে এসেছিলেন, যাদের নাম জামায়াতে ইসলাম। কিন্তু টাঙ্গাইলের উন্নয়ন নিয়ে একটি কথাও বলেননি। জনগণের জন্য কী করতে চান, সেটাও স্পষ্ট করেননি তারা।

তিনি বলেন, মা-বোনদের কোরআন হাতে দিয়ে তারা ভোট চাইছে। ইমানদার লোক কখনো এমন করতে পারে না। এরা স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের কর্মকাণ্ডও ইসলামবিরোধী। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেছেন, নীল নদের পানি যেমন নীল নয়, জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।

টুকু আরও বলেন, টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাস, কিশোরগ্যাং ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ নগরে পরিণত করতে তিনি কাজ করবেন। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তোলা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

১৭ বছরের লড়াইয়ের ফল নির্ভর করছে কর্মীদের ওপর : আবদুস সালাম

আলোকিত ডেস্ক:

ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং ঢাকা–১৭ আসনের বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যে ভোটাধিকারের জন্য লড়াই চলছে, সেই লড়াইয়ের ফল ভালো হবে না খারাপ, এটা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্ব পালনের ওপর।

৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাজধানী বনানীতে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে এক প্রশিক্ষণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, এই ভোটের জন্য বহু নেতাকর্মী জেল খেটেছেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেই ত্যাগের ফল ঘরে তুলতে হলে ভোটের দিন ও তার আগের প্রস্তুতিতে কোনো গাফিলতি করা যাবে না। সবাই তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে মাঠে কাজ করছেন এবং সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই কাজ করতে হবে।

ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র অনুযায়ী ভোটার তালিকা ভাগ করে প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের চেনা জরুরি। এতে করে কেউ মৃত ব্যক্তির নামে ভোট দিতে এলে বা অনুপস্থিত ভোটার নিয়ে অনিয়মের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ এবং চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব হবে।

ভোটের দিন কোনো অবস্থাতেই পোলিং বুথ খালি রাখা যাবে না বলে নির্দেশনা দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ প্রয়োজনে বাইরে গেলে অবশ্যই অন্য জনকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক দায়িত্বশীল এবং স্ট্যান্ডবাই কর্মী রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কলম, কালি এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সরবরাহ করা হবে। ভোটের দিনের জন্য আলাদা ভোটার তালিকাও দেওয়া হবে। বাকি সময় গণসংযোগে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকা ভোটারদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ রাখতে হবে এবং তাদের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নেতা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, দেওয়া প্রশিক্ষণ মাঠে কাজে লাগলে ইনশাআল্লাহ প্রত্যাশিত ফল অর্জন করা সম্ভব।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে এক লাখ সেনাসদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন : সেনাসদর

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু এবং নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাসদর। আগের নির্বাচনে যেখানে সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতেন, সেখানে এবার প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত টহলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে যাতায়াত এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতেই বাড়তি এই মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে, যা ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর রয়েছে।

৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাসদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন।

নির্বাচনে এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, এর আগের নির্বাচনে কত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিলো, আগের চেয়ে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ৪০-৪২ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এবার এক লাখ সদস্য কেন মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন থেকে এবারের নির্বাচনে আমাদের সদস্য মোতায়েনের পার্থক্য হচ্ছে, এবার ভোটকেন্দ্রের আঙিনা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতে এই অনুমতি ছিলো না। আগের নির্বাচনগুলোতে আমরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দূরবর্তী জায়গায় অবস্থান করেছি। এবার সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেটা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী প্রধান ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সেনাসদস্যদের রেখে বাকি সব সেনাসদস্যকে নিয়োগ করেছেন সুষ্ঠু ইলেকশন করার জন্য।

তিনি বলেন, যে কারণে আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের যে প্রয়োজনীয় যানবাহন অপ্রতুল, আমরা অসামারিক প্রশাসনের কাছে সাহায্য চেয়েছি যেন তারা রিকুইজিশন করে আমাদের গাড়ি দেয়। সেটাও যখন দিতে পারছে না তখন আমরা গাড়ি হায়ার করে হলেও সেনাসদস্যরা যাতে টহল দিতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেনাসদস্যরা প্রস্তুত এটার জন্য, অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দিনরাত টহল পরিচালনা করছেন, শুধুমাত্র ভোটারদের আস্থার জায়গাটা ফিরিয়ে আনার জন্য। এটা করা হয়েছে গত ২০ জানুয়ারি থেকে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। ওই সময় থেকে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল পাকিস্তান। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে দেশটি জানায় তারা ভারতের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে খেলবে না।

শুরুতে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি পাকিস্তান। তবে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানান, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শেহবাজ বলেন, “আমরা টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি যে, আমরা ভারতের বিরুদ্ধে খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি হওয়া উচিত নয়।”

“আমরা খুবই বিবেচনামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকা উচিত। আমি মনে করি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট ছিল উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।”

ভারতের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে পাকিস্তানের খেলার কথা ছিল। কিন্তু দেশটি ইতিমধ্যে এ ম্যাচ না খেলার কথা জানিয়ছে।

ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি এ ব্যাপারে পাকিস্তানকে সতর্কতা দিয়েছে। তারা বলেছে, যদি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান না খেলে তাহলে তাদের পরবর্তীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে পড়তে হবে।

সূত্র: টিআরটি

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

ক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: ডা. শফিকুর রহমান

সোহেল রানা-বিশেষ প্রতিনিধিঃ ডিমলা (নীলফামারী)প্রতিনিধিঃ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা যদি ইনসাফের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেই ছাড়বো।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার মধ্যবর্তী ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ সংলগ্ন হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী মহা  সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা.শফিকুর রহমান বলেন, বুড়িমারী থেকে রংপুর পর্যন্ত সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক হওয়ায় এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য দেশব্যাপী বাজারজাত করা যায়। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের বলে দিতে চাই এই অপকর্মের দিন আজই শেষ। পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে এলে সম্মানজনক কাজের সুযোগ পাবে, আর না মানলে যা করার দরকার তাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অপরাধ ও দুর্নীতির লেজ ধরে টান দেব না, আমরা কান ধরে টান দেব। মাথা ঠিক হলে শরীর ঠিক হয়। গত ৫৪ বছরের জনগণের টাকা লুট হয়েছে, অথচ জনগণ তার প্রাপ্য পায়নি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আপনাদের ভোটে নতুন পথ খুঁজে পাবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, যে তরুণদের নেতৃত্বে পরিবর্তনের আন্দোলন সফল হয়েছে, তারাই দেশকে নতুন পথ দেখাবে। আমরা চাই দালালমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত, ব্যাংক ডাকাতমুক্ত ও ঋণখেলাপিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ।
নীলফামারী জেলা জামায়াতে ইসলামী জেলা আমির (ডোমার- ডিমলা) আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন,লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ও লালমনির হাট সদর আসনের সংসদ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের ।
এতে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক জনতা অংশগ্রহণ করেন এবং তিনটি উপজেলার সনাতন ধর্মের নেতা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। দলটির আমির শেষে তিনি নীলফামারী জেলার ৪ জন ও লালমনিরহাট জেলার ৩ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ভারত থেকে দেশে ফেরার ছক কষছেন আওয়ামী লীগ নেতারা: দ্য গার্ডিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশে অপরাধী এবং পলাতক হিসেবে বিবেচিত; মানবতাবিরোধী অপরাধ, খুন, রাষ্ট্রদ্রোহ কিংবা আত্মসাতের অভিযোগের মুখোমুখি। কিন্তু কলকাতার শপিং মলের ভিড়ে খাবারের দোকানে, ব্ল্যাক কফি আর ভারতীয় ফাস্ট ফুডের তৃপ্তি ছেড়ে আওয়ামী লীগের নির্বাসিত রাজনীতিবিদরা দেশে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক কষছেন।

১৬ মাসেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংঘটিত এক গণঅভ্যুত্থান তাকে নাটকীয়ভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হলে তিনি উড়োজাহাজে করে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি যে রাজপথ রেখে গিয়েছিলেন তা ছিল রক্তাক্ত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর তার সরকারের শেষ দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর তার দলের হাজার হাজার সদস্যও পালিয়ে যান। ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জনগণের সহিংসতা ও ক্রমবর্ধমান ফৌজদারি মামলার মুখে পড়েন তারা। আওয়ামী লীগের ৬০০ জনের বেশি নেতা ভারতের সীমান্তঘেঁষা শহর কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছেন এবং তখন থেকেই সেখানে লুকিয়ে আছেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রম ও সংগঠনটিকে টিকিয়ে রাখতে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত বছরের মে মাসে জনগণের চাপের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে। হত্যা এবং দুর্নীতিসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার চলাকালে দলের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। শেখ হাসিনার পতনের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির প্রথম নির্বাচনে দলটির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলের শেষের দিকে ওই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

তবুও নিজের রাজনৈতিক জীবনের ইতি মানতে নারাজ শেখ হাসিনা। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যেই ভারত থেকে ফিরে আসার ছক কষছেন।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তায় ঘেরা এক গোপন আশ্রয় থেকে শেখ হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও বাংলাদেশে অবস্থারত নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে আলাপ করেন। তার এই রাজনৈতিক তৎপরতা ভারত সরকারের সতর্ক নজরদারির মধ্যেই চলছে; যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং যারা তাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধ পরিষ্কারভাবে উপেক্ষা করে চলেছে।

গত এক বছরে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে ডেকে এনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দলীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে থাকা আমাদের মানুষদের সঙ্গে—দলীয় কর্মী, নেতা, তৃণমূল নেতা এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখছেন। তিনি আসন্ন লড়াইয়ের জন্য দলকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের এই নেতা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাদ্দাম বলেন, ‘‘কখনও কখনও তিনি দিনে ১৫ কিংবা ১৬ ঘণ্টা ধরেও ফোনালাপ ও বৈঠক করেন। আমাদের নেত্রী খুব আশাবাদী, তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনা বীরের মতো ফিরে আসবেন।’’

শেখ হাসিনার শাসনামলে অনুষ্ঠিত গত দুটি নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন।

তবে আওয়ামী লীগ বলছে, তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক বৈধতার সব দাবিই ক্ষুণ্ন হয়ে যায়। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অভিযোগ তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে নিজের প্রতিশোধমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন তিনি। যদিও ড. ইউনূস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা কর্মীদের বলছি, নির্বাচনের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়ানো যাবে না। সব ধরনের প্রচারণা ও ভোট বর্জন এবং এই ভুয়া প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আওয়ামী লীগের এই নেতার বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে; যা তিনি অস্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশে যারা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী ও লুটেরা শাসনের জন্য দায়ী করেন, তাদের কাছে হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে দলটির অবস্থান গভীর সংশয়ের সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বহু বছরের নথিতে দেখা গেছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে সমালোচক ও বিরোধীদের নিয়মিত দমন করা হতো; হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও গোপন বন্দিশালায় আটকা ছিলেন। যাদের অনেকেই হাসিনার পতনের পর কেবল মুক্তি পান। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ভেঙে পড়েছিল এবং নির্বাচন পরিণত হয়েছিল সাজানো প্রহসনে।

শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার নামে দেশজুড়ে গণ-সহিংসতার ঢেউ বয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, তাদের শত শত কর্মী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত, নিহত হয়েছেন অথবা জামিন ছাড়াই কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের অনেক কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন। সাদ্দাম বলেন, আমরা জেলের ভয়ে কলকাতায় থাকি না। আমরা এখানে আছি, কারণ আমরা যদি ফিরে যাই, তাহলে আমাদের হত্যা করা হবে।

• ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন
কলকাতা ও দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় উপস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্থগিত একটি দলকে তাদের ভূখণ্ড থেকে কার্যক্রম চালাতে দেওয়া এবং বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড রাজনৈতিক পলাতক নেতাদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। তবে কলকাতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ভারত থেকে প্রত্যাবাসনের কোনও আশঙ্কা তারা দেখছেন না।

গত সপ্তাহে এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছায়। ওই সময় দিল্লিতে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে শেখ হাসিনা তার প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ দেন। বাঙ্কার থেকে রেকর্ড করা অডিও বার্তায় তিনি আসন্ন নির্বাচনের নিন্দা এবং ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘জোর করে ক্ষমতা দখল’ ও বাংলাদেশকে ‘রক্তে ভেজা দেশ’ বানানোর অভিযোগ তোলেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার প্রকাশ্য ভাষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘‘ভারতের রাজধানীতে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের এবং গণহত্যাকারী হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াটা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা।’’ তবে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এই বিষয়ে কোনও জবাব দেয়নি।

কলকাতায় আরামদায়ক বাসভবন থেকে দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তাদের শাসনামলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে তেমন অনুশোচনা কিংবা আত্মসমালোচনা করতে দেখা যায়নি। অধিকাংশ নেতাই ক্ষমতা হারানোর পেছনে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বরং এই অভ্যুত্থানকে ছোট একটি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম কলকাতা উপশহরে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাপক নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসনের বিলাসবহুল ভিলায় বসবাস করছেন। সেখান থেকে তিনি বলেন, এটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব ছিল না, এটা ছিল আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের জন্য সন্ত্রাসীদের দখল।

দেশে তার বিরুদ্ধে আনা হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের জবাবে হেসে ওঠেন তিনি। বলেন, ‘‘ভুয়া, ভুয়া, ভুয়া।’’

আসন্ন নির্বাচনের ব্যর্থতার ওপর নির্বাসিত নেতাদের প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা অনেকটাই নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন। দলটির নেতাদের দাবি, এই নির্বাচন দেশে স্থিতিশীলতা কিংবা শান্তি আনবে না এবং শেষ পর্যন্ত মানুষকে আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফেরাবে।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কলকাতায় বসবাস করা আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় হাতে গোনা কয়েকজনের একজন, যিনি অতীতের ‘ভুল’ স্বীকার করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন। জয় বলেন, ‘‘আমি স্বীকার করতে পারি, আমরা সাধু ছিলাম না। আমরা কর্তৃত্ববাদী ছিলাম। পুরোপুরি গণতান্ত্রিক ছিলাম না। আমি একমত, ২০১৮ সালের নির্বাচন পুরোপুরি কার্যকর ছিল না। আমরা চেয়েছিলাম এটা আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ হোক; দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা হয়নি।’’

দুর্নীতি ও লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবশ্যই, অনিয়ম ছিল। কিছু আর্থিক বিষয় ছিল; যা হওয়া উচিত ছিল না। এর দায় আমাদের নিতে হবে। তবে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আনুমানিক ২০০ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

কলকাতায় থাকা অনেকের মতো জয়ও জোর দিয়ে বলেন, ভারতে তার নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরলে সম্ভবত কারাগারই তার অপেক্ষায় থাকবে। তিনি বলেন, এখন আমাদের জন্য সময়টা খুব অন্ধকার। মনে হয় না এটা দীর্ঘদিন থাকবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম