আজ সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 151

তারেক রহমানের ওপর অমানবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান

বিশেষ প্রতিনিধি: ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় তারেক রহমানকে তুলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন ইস্যুতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান তিনি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মুখ্য নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে ডিজিএফআই। বিভিন্ন সময়ে তারা লোকদের উঠিয়ে এনে নিজেদের সেলে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। এর মধ্যে অনেক মন্ত্রী-রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। তারা তারেক রহমানকেও তুলে এনে অমানবিক নির্যাতন করেন।

জবানবন্দিতে ইকবাল করিম বলেন, বেসামরিক ব্যক্তিদের উঠিয়ে এনে ডিজিএফআইয়ের সেলে রাখা অভ্যাসে পরিণত হয়। বস্তুত যে কোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে যা কিছু করা যায় ভেবে এমন মনস্তাত্ত্বিক বাধা দূর হয়ে যায় তাদের। অর্থাৎ যা ইচ্ছা তা-ই করা যায় ভাবতে শুরু করেন তারা।

এ সময় সেনাবাহিনী পরিচালিত অপারেশন ক্লিন হার্টের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। জবানবন্দিতে সাবেক এ সেনাপ্রধান বলেন, ২০০৩ সালে র‍্যাব গঠনের আগে অপারেশন ক্লিন হার্টে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ১২ জন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে ৬০ জন মারা গেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। এই দায়মুক্তি ছিল ‘লাইসেন্স টু কিল’।

এদিন প্রথমে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন- প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদীসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে রয়েছেন আইনজীবী নাজনীন নাহার ও মুনসুরুল হক চৌধুরী।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি   

টাঙ্গাইলে শহীদ জগলুর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলে পুলিশের গুলিতে নিহত টাঙ্গাইলের ছাত্রনেতা মির্জা আবু রায়হান খান জগলুর ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ১০টায় জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যান থেকে একটি শোক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ জগলুর স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়।

সেখানে মরহুমের পরিবার, বিএনপি ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সাবেক সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলামসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন।

পরে পৌর উদ্যানে গণভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু নিজ হাতে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি স্বৈরশাসক এরশাদের আমলে বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলনরত জনতার ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ আন্দোলনের অন্যতম তৎকালীন ছাত্রনেতা মির্জা আবু রায়হান জগলু নিহত হন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

পাকিস্তান থেকে মালবাহী ওয়াগন ও বগি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অন্যান্য দেশের তুলনায় কম মূল্যে দেওয়ায় পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ মালবাহী ওয়াগন ও বগি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে।  ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

তারা বলেছে, উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ এবং লাহোরের মুঘলপুরাতে অবস্থিত পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারিজ ফ্যাক্টরি ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তারা ট্রেনের বগি, ওয়াগনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরির বিষয়টি স্বচক্ষে দেখেছেন।

পাকিস্তান রেলওয়ের লাহোরভিত্তিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স সচিব এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান গত শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন।

সেখানকার প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির খালিলি পুরো ওয়ার্কশপের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রেলওয়ের চলমান প্রজেক্ট নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন। এছাড়া ওয়ার্কশপের কাজকর্ম নিয়ে তৈরি একটি ছোট প্রামাণ্যচিত্র তাদের দেখানো হয়।

পরবর্তীতে তাদের মুঘলপুরার লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ওয়ার্কশপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদন সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলেন, তাদের এ সফর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শক্তিশালী সম্পর্ককে প্রকাশ করেছে।পাকিস্তান রেলওয়ে এখন চারটি দেশে— শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনায় ব্রডগেজ লাইনের জন্য ওয়াগন ও বগি সরবরাহ করছে।

পাক রেলওয়ের কর্মকর্তা খালিলি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রেলওয়ের বিশেষজ্ঞ দল পাকিস্তান সফর করবে। সেখানে তারা প্রযুক্তিগত বিস্তারিত তথ্য জানবেন।

সংবাদমাধ্যম ডনকে তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ ওয়াগন ও বগি কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিন্তু এরমধ্যে ঢাকা আমাদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।”

পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে রেলওয়ে টু রেলওয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এতে উভয়ই লাভবান হবে।

সূত্র: দ্য ডন ।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা হবে : তারেক রহমান

আলোকিত ডেস্ক:

জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর -এর নাম পুনর্বহাল করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানার হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস, অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

তারেক রহমান বলেন, “২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর পতিত, পরাজিত, বিতাড়িত, ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের পোশাকের রং এবং পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পুনর্বহাল করা হবে।”

তিনি বলেন, “বক্তব্য দেওয়ার আগে সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা আমাকে সেনাবাহিনী জন্য কিছু সুপারিশ তুলে দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু কিছু বিধিমালা পরিমার্জন বা সংস্কারসহ এসব সুপারিশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। তবে এতোটুকু বলতে পারি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আপনাদের উপস্থাপিত এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবি-দাওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “সেনাবাহিনী আমার কাছে বৃহত্তর পরিবার বলে মনে হয়। সেনানিবাসে আমার বেড়ে ওঠা। ছোট বেলায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি বড় হয়ে দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার এক ধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। মা সব সময় মনে করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার। সন্তান হিসেবে আমার পিতাকে নিয়ে যেমন আমি গর্ব করি, তেমনি বিশ্বাস করি একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি সেনাবাহিনীকে গর্বিত করেছিলেন।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণের কাছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়াকে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক জনগণ যেমন গর্বিত, তেমনি আমি, আমার পরিবার বিশ্বাস করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও তেমন গর্বিত। জনগণ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে মনে করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং গৌরব সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজেরা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করলে হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। তাঁবেদার এবং অপশক্তির কবলে পড়ার পর দেশের গণতন্ত্র শুধু হরণ হয়নি, একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। এমনকি পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের দিন সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বা রাখতে দেওয়া হয়নি।”

সেনাবাহিনীর হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে আমি এরকম কথা বলতে চাই না— উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না এটা অর্জনের বিষয়। গৌরব ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, তবে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে একটি কথাই বলতে পারি, জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই রাজনৈতিক কোনো স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয় এমন কোনো কাজ-বিএনপি অতীতেও করেনি বর্তমানেও না, ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপির সব সময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি।

তারেক রহমান আরও বলেন, সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে তাদের পেশাদারিত্ব যেন আবর্তিত হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা থাকা জরুরি।

বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য রাখেন মেজর (অব.) মিজানুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এডিসি হিসেবে কাজ করা কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদ প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার থেকে সারাদেশে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন। একইসঙ্গে নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ ও আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণে মাঠে থাকবেন ১ হাজার ৫১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

০৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ তথ্য জানায়। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

ইসি জানায়, সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে রয়েছে। তবে আজকে থেকে তাদের তৎপরতা আরও বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।

মাঠের পরিস্থিতি বর্তমানে নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা নিশ্চিত করেছেন যে দেশের পরিস্থিতি সন্তোষজনক ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাহিনীভিত্তিক সদস্য সংখ্যাগুলো হচ্ছে— আনসার এবং ভিডিপি প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য। পুলিশ প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্য। সশস্ত্র বাহিনী ১ লাখ সদস্য। বিজিবি ৩৫ হাজার সদস্য। বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন এবং আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কোস্টগার্ড।

সাধারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রভেদে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনে ভিন্নতা আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন। মেট্রোপলিটন এলাকা সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন। দুর্গম এলাকা ২৫টি জেলার দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে ১৬-১৮ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শুরুর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে হবে। ২৯৯টি আসনে এবার মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৯ জন, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। মোট ১৩ কোটি ভোটারের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

আজ প্রপোজ ডে, মনের কথা জানাবেন যেভাবে!

লাইফস্টাল ডেস্ক: ভালোবাসা কেবল একটি শব্দ নয় বরং এটি এক গভীর অনুভূতির নাম যা প্রকাশের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। রোমিও-জুলিয়েট থেকে শুরু করে লায়লা-মজনুর অমর প্রেমকাহিনি আমাদের শিখিয়েছে হৃদয়ের বন্ধন কতটা শক্তিশালী হতে পারে। সেই চিরন্তন আবেগের সূত্র ধরেই আজ রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে প্রপোজ ডে বা ভালোবাসার প্রস্তাব দেওয়ার দিন। ভালোবাসা সপ্তাহের দ্বিতীয় এই দিনে অনেকেই তাদের প্রিয় মানুষের কাছে না বলা কথাগুলো প্রকাশ করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যারা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে একটি সুন্দর নাম দিতে চান তাদের জন্য আজকের এই দিনটি অত্যন্ত বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ। মনের কোণে জমে থাকা ভালোবাসা প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিতে সৃজনশীল উপায় অবলম্বন করলে তা স্মৃতি হয়ে থাকে সারা জীবন। চিরকুটে চার লাইনের কবিতা বা নিজের হাতে লেখা একটি চিঠি হতে পারে অনুভুতি প্রকাশের চিরাচরিত কিন্তু শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।

আপনার প্রিয়জন যদি বই পড়তে ভালোবাসেন তবে তাকে একটি পছন্দের বই উপহার দিয়ে তার ভেতরে সুন্দর একটি চিরকুট গুঁজে দিতে পারেন। প্রপোজ ডের ইতিহাস মূলত ১৮শ ও ১৯শ শতাব্দীতে ইউরোপ-আমেরিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে আংটি দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার রেওয়াজ থেকে শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের জনপ্রিয়তার সাথে সাথে এই দিনটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জ-১: ধানের শীষের সমর্থনে ঘিওরে বিশাল র‍্যালি ও জনসভা

​সৈয়দ এনামুল হুদা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবিরের সমর্থনে এক বিশাল র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঘিওর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন দুপুর থেকেই ​নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর ধানের শীষের পক্ষে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ঘিওর এলাকা। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে এসে শেষ হয়। এসময় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ​ ​আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আসন্ন নির্বাচনকে তারা জনগণের মতামত প্রকাশের এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বক্তারা মানিকগঞ্জ-১ আসনে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। ​প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মানিকগঞ্জ-১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবির। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “জনগণ পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।” ​ঘিওর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী ওয়াজেদ আলী মিস্টারের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা যুবদকের আহবায়ক ​কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, সাবেক জেলা বিএনপির দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ​আব্দুল আলীম খান মনোয়ার, জেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, ঘিওর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ​মীর শরিফুল আলম টিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ​আল মামুন ভূঁইয়া ও মিজানুর রহমান খান কুদরত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন -উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ​মাসুদুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব সাইফ সানোয়ার সহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন । ​সভা শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নেন এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইল-৫ আসনে টুকুর নেতৃত্বে ধানের শীষের বিশাল মিছিল

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। এরই অংশ হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে টাঙ্গাইল শহর বিএনপির উদ্যোগে এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নেতৃত্বে ০৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি পুরান বাসস্ট্যান্ড, রেজিস্ট্রি পাড়া ঘুরে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
মিছিলে হাজারো নারী-পুরুষ অংশ নেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে বিভিন্ন স্লোগানে পুরো শহর মুখরিত হয়ে ওঠে।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের উন্নয়নের জন্য তিনি দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে সাতটি দাবি তুলে ধরেছেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসও পেয়েছেন। জনগণের ভোটে বিএনপি নির্বাচিত হলে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ আবারও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই প্রতীক কেবল বিএনপির নয়, বরং দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার প্রতীক। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনের দিনগুলোতে সর্বোচ্চ সহনশীলতা বজায় রেখে কোনো উসকানিতে পা না দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক সবুজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকন্দ, শহর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুর রহমান চৌধুরী, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন মালা, সাবেক সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোকিত প্রতিদিন/০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

গ্রীষ্মের আগেই যুদ্ধ শেষ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া‌-ইউক্রেনের মাঝে চলা সবচেয়ে বড় যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়; সে বিষয়ে উভয় দেশ যেন গ্রীষ্মের আগেই একটি সমাধানে পৌঁছায় সেটা চায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে এমন চাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ এবং মস্কোর মধ্যে নতুন দফার আলোচনা প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই আলোচনা এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং কিয়েভ এতে সম্মত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘আমেরিকানরা প্রস্তাব দিচ্ছে, গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার আগেই উভয় পক্ষ যেন যুদ্ধ শেষ করে এবং তারা সম্ভবত এই সময়সূচি মানতে চাপ সৃষ্টি করবে। (মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন) তাদের কাছে অবশ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নির্বোধ না হই। আর তারা বলছে, জুনের মধ্যেই সবকিছু শেষ করতে চায়।’’

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন একটি পর্যায়ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানাননি তিনি। আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের শান্তি আলোচনায় বড় কোনও অগ্রগতি না হলেও উভয় পক্ষ ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে। পাঁচ মাসের বিরতির পর দুই দেশের মাঝে ওই বন্দি বিনিময় আবার শুরু হচ্ছে। জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

ইউক্রেনের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কীভাবে নজরদারি করা হবে; সে বিষয়ে সামরিক দলগুলো বিস্তারিতভাবে কারিগরি বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিও আলোচনায় এসেছে; যাকে কর্মকর্তারা ‘‘সমৃদ্ধির পরিকল্পনা’’ বলে উল্লেখ করছেন। এতে যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তিনি এমন আলোচনার প্রতিবেদন পেয়েছেন; যেখানে রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এমন কোনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ইউক্রেনের সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে না।

সূত্র: রয়টার্স।

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

শ্যামনগরে গাজী নজরুল ইসলাম এর জনসভায় হাজার হাজার নারী কর্মী উপস্থিতি

এস কে সিরাজ:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, জকসু এজিএস মাসুদ রানা, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বাবু কৃষ্ণ নন্দী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম, সাবেক রাবি শিবির সভাপতি আব্দুর রহিম, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সকাল থেকে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে নকিপুর সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে জড়ো হলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জনসভাস্থল। উল্লেখযোগ্য হারে মহিলা নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, দেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণ শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চায়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, দখলদার ও চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি উপস্থিত জনতাকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর বিচারের দাবিতে উপস্থিত জনতাকে সঙ্গে নিয়ে স্লোগান দেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ে সাতক্ষীরায় চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাতক্ষীরার চারটি আসন জামায়াতের আমীরের নেতৃত্বকে উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাদিক কায়েম আরও বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত হবে, যেখানে হিংসা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ৫৪ বছরের মাফিয়া শাসন ও অনিয়মের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে শতাধিক নেতাকর্মী হারিয়েছে—তারা কিভাবে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? পারবে না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী জুলাই পরবর্তী সময়ে মানুষের পাশে থেকো নিরাপত্তার হাত বাড়িয়েছে, আগামীতে জামায়াত সরকার গঠন করলে আমার মায়েরা বোনেরা নিরাপদে চলতে পারবে, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি উন্নয়নে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা হবে ইনশাআল্লাহ।

জনসভা শেষে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম