আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 14

নেপালকে হারিয়ে তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক:

টানটান উত্তেজনাপূর্ণ প্রথম সেমিফাইনালটি ১-১ গোল ব্যবধানে শেষ হওয়ার পথেই ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে চলছিল যোগ করা ৬ মিনিটের খেলা। তখনই শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাশে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে নেয় বাংলাদেশ। তাতেই নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে উঠার কীর্তি গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আগের দুইবার বাংলাদেশ শুধু ফাইনালেই উঠেনি, দুবারই জিতেছে শিরোপা। আর মজার ব্যাপার হলো, এই নেপালকে হারিয়েই দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এর আগেও একবার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু প্রথমবার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না তাদের। হেরেছিল ভারতের বিপক্ষে।

এবারের টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে সেরা চারে জায়গা করে নেয় নেপাল। তারা ভুটানকে ১-০ ও শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোল ব্যবধানে হারায়।

অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোল ব্যবধানে জেতেন মারিয়া মান্দা। পরের ম্যাচেই ঘটে ছন্দপতন। স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৩-০ গোল ব্যবধানে হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফলে গ্রুপ রানারআপ হয়েই সেমিফাইনালের টিকিট কাটে বাংলাদেশ।

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে নেপালের বিপক্ষে খেলতে নেমে শুরুতেই ছন্নছাড়া ছিল চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকেন নেপালের ফুটবলাররা। সেই সুবাদে ম্যাচের ২৩তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীপা শাহির নেওয়া কর্নার কিক থেকে আসে বল গোলে পরিণত করেন গীতা রানি।

পরের মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়ে যোগ্য ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল আদায় করা হয়নি বাংলাদেশের। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে আরও একটি গোল হজম করতে যাচ্ছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শট লাগে গোল পোস্টে।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত কর্নার থেকে সরাসরি শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই চোখ ধাঁধানো গোলে ১-১ ব্যবধানে সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও একবার লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা বাংলাদেশের গোলকিপার মিলি আক্তারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালের দিকেই পাঠিয়েছিলেন। সেটা ঠেকানোর ছিলেন না কেউই। কিন্তু বলটি জালে না জড়িয়ে লেগে যায় গোলপোস্টে।

এদিকে ম্যাচেচর ৭৮তম মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশও। কিন্তু নেপালের গোলকিপার সুব্বার দৃঢ়তায় সেই যাত্রায় বেঁচে যায় হিমালয়ের দেশটি। সাগরিকার নেওয়া শটটি লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি।

১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা। যোগ করা ৬ মিনিটের খেলারও প্রায় তিন মিনিট শেষ হওয়ার পথেই ছিল। আর এমন মুহূর্তে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাসে মেতে ওঠান সামসুন্নাহার-সাগরিকারা। ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো পাসে নেপালের জালে বল পাঠান সাগরিকা। তাতেই ২-১ এ জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুন ২০২৬/মওম

ট্রলি ক্রয়ে মন্ত্রীর নির্দেশ#না মানছে না বেবিচক

বিশেষ প্রতিনিধি: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বহনে ট্রলির জন্য চলছে হাহাকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না ট্রলি। একদিকে চলছে ফিরতি হজ ফ্লাইট অন্যদিকে রেগুলার ফ্লাইট। এতে করে ট্রলির জন্য হাহাকার লেগেছে।

এদিকে সময়মত ট্রলি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন হাজি থেকে শুরু করে সাধারণ যাত্রীরাও। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত ট্রলির ব্যবস্থা করতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর কারণে ফ্লাইট থেকে নামার পর ২/৩ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে লাগেজ নিয়ে বের হতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সঙ্কট চলে আসছে। এক সঙ্গে ২/৩ টি ফ্লাইট অবতরণ করলেই যাত্রীরা আর ট্রলি পান না। বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে তা ট্রলিতে করে নিয়ে বের হতে হতে ২/৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসার পর বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে ট্রলি ও মশা মারার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশে সামনে হজের মৌসুমে ট্রলির কোনরুপ যেন সঙ্কট না হয় বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আসার পর বেবিচকের কেনাকাটা দপ্তর থেকে ৫০০টি ট্রলি কেনার জন্য একটি প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য সদরদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান ট্রলি কেনার প্রস্তাবনা বাতিল করে দেন।

জানা যায়, বর্তমানে এই সঙ্কট তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ট্রলি সংগ্রহ করে শাহজালালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেবিচকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, যেখানে শত কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে ৫০০টি ট্রলি কিনতে আর কত টাকাই লাগত। অথচ এই ট্রলি থাকলে হাজিদের বা সাধারণ যাত্রীদের ট্রলির জন্য হাহাকার পড়ত না। এই ট্রলি কেনার জন্য মন্ত্রণালয় থেকেও নির্দেশনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানেননি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তিনি বলেন, এখন যেহেতু ট্রলির তীব্র সঙ্কট শুরু হয়েছে, হাজিরা বিমানবন্দরে নেমে এ অব্যবস্থাপনা দেখে তা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধমে প্রচার করছেন, তখনই টনক নড়ছে তাদের। এখন এত অল্প সময়ে যেহেতু কেনা সম্ভব না, সেহেতু অন্য বিমানবন্দর থেকে ট্রলি আনা হচ্ছে।

তারা বলছেন, এগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এক ধরনের খামখেয়ালিপনা। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী যেখানে নির্দেশ দিয়েছেন; আর সঙ্কটও তীব্র হচ্ছে সেখানে ট্রলি কিনতে সমস্যা কোথায়? তাদের খামখেয়ালিপনার কারণেই বিমানবন্দরের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে, কর্মকর্তারা অপমানিত হচ্ছেন।

এদিকে আনসার আলী নামের হাজি বলেন, ‘আমরা খুব সুন্দরভাবে গিয়েছিলাম, সেখানেও হজও সম্পন্ন করেছি। কিন্তু ফেরার পর বিমানবন্দরেই ৩ ঘণ্টা আটকে গেলাম। ট্রলি নিতে সিরিয়াল ধরতে হয়েছে। এক পর্যায়ে ট্রলি শেষ হওয়ায় ওই সিরিয়াল ধরে আরও অপেক্ষা করতে হলো। অবশেষে ঘণ্টা তিনেক পরে বের হতে পারেলাম।’

তিনি বলেন, এটা কোনো ব্যবস্থাপনা হতে পারে না। সামান্য ট্রলির কেন সঙ্কট থাকবে? এটা কিনতে তো আর শত কোটি টাকা লাগে না। তাহলে কেন এটার সঙ্কট থাকবে?

ওসমান গনি নামের আরেক হাজি বলেন, ’সামান্য এই ছোট বিষয় নিয়ে কেন আমাদের বা যাত্রীদের এত কষ্ট দিতে হবে? ট্রলি কেন থাকবে না? ট্রলির এই সঙ্কটে আমাদের দেশের জন্য কি ভাল বার্তা দিচ্ছে?’

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ’একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট নামলে যাত্রীর সংখ্যা বেশি হয়ে যায়। ঠিক সেই সময়ে ট্রলির ঘাটতি পড়ে যায়। এতে করে আমরা সমস্যার মধ্যে পড়ে যাই।’

তিনি বলেন, ’এই সঙ্কট কাটানোর জন্য আমরা ইতিমধ্যে সিলেট ও চট্রগ্রাম থেকে ২৫০টি ট্রলি এনেছি। এগুলো আজ বুধবার যোগ করা হয়েছে।’

এদিন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্রলি কেনার প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়নি, চলমান রয়েছে এখনও।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

হামে মৃ*ত্যু ছাড়াল ৬০০, একদিনে আরও ৭ শিশুর প্রাণ*হানি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার (৩ জুন) প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হামে ও হামের উপসর্গে মোট ৬০১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯০ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫১১ জনের।

এ সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ১৯১ জন। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা বিভাগ। বিভাগটিতে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ৪১ হাজার ৪৪৯ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পাচ্ছে

আলোকিত প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত দেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক বার্তা এসেছে জাতিসংঘ থেকে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে। এর ফলে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২ জুন মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছেন, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করা যুক্তিসঙ্গত হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, এই অতিরিক্ত সময় দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং রফতানি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। কারণ এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিশেষ সহায়তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ মূলত ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের কথা ছিল। তবে গত কয়েক বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একের পর এক সংকট দেখা দেয়। কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা চাপের মুখে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সিডিপির কাছে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জানায়। পরে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছেও এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করে চিঠি পাঠান। সরকারের যুক্তি ছিল, অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য অর্থনীতি এবং বাণিজ্য কাঠামোকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

সিডিপির মূল্যায়নে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হলো—দেশটি এলডিসি উত্তরণের তিনটি প্রধান সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে অতিক্রম করেছে। এই তিন সূচক হলো—মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক। কমিটির মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে এই সূচকগুলোর ক্ষেত্রে এমন অবস্থানে রয়েছে, যেখান থেকে নিকট বা মধ্যমেয়াদে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি খুবই কম। অর্থাৎ বাংলাদেশের উত্তরণের যোগ্যতা নিয়ে জাতিসংঘের কোনও সন্দেহ নেই। প্রশ্ন কেবল উত্তরণের সময়কাল ও প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে।

যদিও বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে সিডিপি, তবে তারা কয়েকটি বড় ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে। কমিটির মতে—মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি। এসব বিষয় বাংলাদেশের উত্তরণ প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনও তৈরি পোশাক রফতানি এবং প্রবাসী আয়ের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক ধাক্কার প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কিছু বিশেষ সুবিধা, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ, আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থায় অগ্রাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কারিগরি সহায়তা, এলডিসি উত্তরণের পর এসব সুবিধার অনেকগুলো ধীরে ধীরে কমে যাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে রফতানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পকে নতুন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবেসিডিপি বাংলাদেশের প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্রাটেজির (এসটিএস) প্রশংসা করেছে। এই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো এলডিসি-পরবর্তী রফতানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখা। কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বাড়ানো হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা গ্রহণের সুযোগ পাবে।

সিডিপি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ওপর। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলাদেশকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে— ব্যাংক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়ানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা, রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, বেসরকারি খাতের সক্ষমতা উন্নয়ন।

সিডিপি স্পষ্টভাবে বলেছে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ নয়। বরং এই অতিরিক্ত সময়কে সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

কমিটি মনে করে, শুধু বাংলাদেশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও সহযোগিতা প্রয়োজন। সিডিপি বিশেষভাবে সুপারিশ করেছে—সহজ শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখা, আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি, বাণিজ্য আলোচনা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং এলডিসি-পরবর্তী বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা। এগুলো বাস্তবায়িত হলে উত্তরণের ধাক্কা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সিডিপির এই ইতিবাচক সুপারিশ বাংলাদেশের জন্য একদিকে স্বস্তির, অন্যদিকে সতর্কবার্তাও। কারণ এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয় যে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, কম রাজস্ব আহরণ, রফতানি বৈচিত্র্যের অভাব এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান না হলে এলডিসি-পরবর্তী যুগে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী তিন বছর বাংলাদেশের জন্য হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সময়। এই সময়ের মধ্যে কাঠামোগত সংস্কার, বাণিজ্য কূটনীতি, শিল্প বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করতে পারলে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ শুধু আনুষ্ঠানিক সাফল্যই হবে না, বরং তা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করবে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুন ২০২৬/মওম

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পাইকারি ও গ্রাহক (খুচরা) পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন ঘোষণায় পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি।

ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন এ মূল্যহার চলতি বছরের ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছিল।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ করে।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের প্রতিবেদন জমা, অপেক্ষায় সরকারি তদন্ত রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দিয়েছে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। তবে প্রতিবেদনের বিষয় বক্তব্য এখনও জানানো হয়নি।

এদিকে আজ বুধবার সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের এইচ আর পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল তা গতকালই সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ সরকারের করা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করার কথা, এটি করলে আমরাও প্রেস ব্রিফিং করে আমাদের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সবাইকে জানিয়ে দেব।

যদিও এর আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তারা সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ওই দিন বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর মৃত এক নবজাতকের স্বজন রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিভিন্ন অসংগতি পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, সরকার থেকে করা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে কমিটি। এখনো জমা দেয়নি। তবে আজই জমা দেবে বলে কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি যেন স্বাধীনভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে তার জন্য আমরা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুন ২০২৬/মওম

সব শ্রেণির মানুষের কথা বিবেচনায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাজেট-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাজেট দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের স্বার্থ ও প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের ওপর ঋণের চাপও উল্লেখযোগ্য। তবে এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এমন একটি বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। তবে এটি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতিকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি ভালো সূচনা হবে।”

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, “অতীতে অতিরিক্ত ঋণনির্ভর নীতির কারণে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধেই বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই, যা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

আমার একটা ছাওয়াল আছে, আমাকে ক্ষ*মা করে দেন স্যার: আদালতকে সোহেল

বিশেষ প্রতিনিধি: শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য এজলাসে তোলা হয়েছে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে। এসময় প্রধান আসামী সোহেল বলেন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমাকে মাফ করে দেন স্যার।

বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের আদালতে তোলা হয়। প্রথমে বিচারক আসামিদের সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান।

এরপর তাদের কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, আমার একটা ছাওয়াল আছে আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ছিল ডলার। ওকে কেউ দেখে নাই স্যার। ওরে ধরেন স্যার। আমার পাপের শাস্তি আমারে দেন। আরেকটা কথা আমার বউও নির্দোষ। এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন।

সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাও এসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, স্যার আমি নির্দোষ। আমি কিছু করিনি।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করার আর্জি জানান। আদালত সে মোতাবেক মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। এরপর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার মাত্র এক দিনেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রামিসার বাবা, মা, বোন ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আজ বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই জানা যাবে এই মামলার রায়ের তারিখ।

গত ২৪ মে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় সোহেল।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

হাইকোর্টে রিট খারিজ, নির্ধারিত সময়েই হচ্ছে বিসিবি নির্বাচন

আলোকিত প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিতব্য বিসিবি নির্বাচনের পথে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

বুধবার (৩ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী এবং অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে বিসিবির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ছয়জন কাউন্সিলর।

বিসিবির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় গত ১৬ মে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ এর তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিন ফলাফলও প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন কমিশন ১৭ মে বিকেল ৪টায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে।

এবারের নির্বাচনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত আরও দুইজন পরিচালক বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত হবেন। পরবর্তীতে ২৫ পরিচালকের ভোটে বিসিবির নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হবে।

বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের দায়িত্বে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ও সহকারী সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

দিল্লির রেস্তোরাঁয় ভ*য়াবহ অ*গ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিদেশি নাগরিকসহ নি*হত ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।৩ জুন বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে দক্ষিণ দিল্লির জনবহুল এলাকার লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দক্ষিণ দিল্লির ডিসিপি অনন্ত মিত্তাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি গাড়ির সাহায্যে আগুন সম্পূর্ণরূপে নেভানো সম্ভব হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, রেস্তোরাঁটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বিএনবি) প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৬টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে সেখানে ২৫টির মতো কক্ষ চালানো হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া এবং নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, ডিডিএমএ, ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ অন্যান্য জরুরি সংস্থাকে উদ্ধার এবং ত্রাণ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। দিল্লি সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুন ২০২৬/মওম