আজ সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 139

ভারতের আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় অংশ নিলো বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশসহ ৭০টি দেশের নৌবাহিনী। গতকাল বুধবার ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রের বিশাখাপত্তমে হয়েছে এই মহড়া।

মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। নিজেদের ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ ‘সমুদ্র অভিযান’-কে মহড়ায় অংশ নিতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের নৌবাহিনী। ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবারই ভারতে পৌঁছে গিয়েছিল ‘সমুদ্র অভিযান’।

বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড-সহ ৭০টি দেশ তাদের একটি/একাধিক যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল। ইন্দোনেশীয় নৌবাহিনীর ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ কেআরআই বুং তোমো-৩৫৭ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুদ্ধাজাহাজ আল ইমারাত মহড়ায় অংশ নিয়েছে। মহড়ায় ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছে আইএনএস বিক্রান্ত।

মহড়া শুরুর আগে এক বক্তব্যে দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “এই মহড়া আসলে সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি বিভিন্ন দেশের আস্থা, ঐক্য এবং শ্রদ্ধার প্রতিফলন। ভিন্ন ভিন্ন পতাকাবাহী এসব জাহাজ এবং ভিন্ন দেশের নৌ সেনারা ঐক্যের চেতনাকে তুলে ধরছে। আমাদের এ মহড়ার থিম সামুদ্রিক ঐক্য। সম্মিলিত এ নৌবাহিনীর সংকল্প সব বাধাকে অতিক্রম করে যেতে পারে। এটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা।

আন্তর্জাতিক সমুদ্র নীতিতে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ‘‘সমুদ্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতা বজায় রাখতে আমরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত ‘বিশ্ব পরিবার’ নীতিতে বিশ্বাস করে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা এই নীতির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করে ভারত।

সূত্র : পিটিআই

আলোকিত প্রতিদিন/১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

বাড়তে পারে রাতের তাপমাত্রা

 নিজস্ব প্রতিবেদক:

আগামী পাঁচদিনের মধ্যে রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তিন বাহিনীর প্রধানের সাক্ষাৎ

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানগণ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজের দফতরে এই সাক্ষাৎ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী অফিসে পৌঁছানোর পর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌ-বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনের সাথে বৈঠক করেন। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.)। এর আগে আজ সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

এদিকে, দ্বিতীয় দিনের মতো আজ সচিবালয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন তিনি। এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এদিকে, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন তারেক রহমান। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের প্রায় সব বৈঠকই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

৩০ লাখ নতুন দরিদ্র বাড়িয়ে দারিদ্র্যের জাদুকরের বিদায়!

বিশেষ প্রতিনিধি: শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি বিখ্যাত দর্শন হচ্ছে ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের একটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। বাস্তবতা হচ্ছে—সে সুযোগটি তিনি কাজে লাগাতে পারেননি। তার আমলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ লোক দরিদ্র হয়েছেন।

ব্যক্তি খাতের গড় বিনিয়োগ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন : ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের গড় বিনিয়োগ হার ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে তা কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট পতনের ঘটনাটি ছিল গত চার দশকের মধ্যে নজিরবিহীন। ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি : শুধু যে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে তা নয়, সরকারি বিনিয়োগ গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়ন ছিল গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সরকারি বিনিয়োগ হিসেবে প্রচলিত এডিপি বাস্তবায়নের হার জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছিল সাড়ে ১১ শতাংশ। গত ১০ বছরে এর চেয়ে কম এডিপি বাস্তবায়ন হয়নি।
খেলাপি ঋণের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ : ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের কগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আগের বছরের ডিসেম্বর শেষেও বিতরণকৃত ঋণের ২০ দশমিক ২ শতাংশ খেলাপি ছিল। এর মধ্যেই ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ বেড়েছে তা নজিরবিহীন। গবেষণা সংস্থার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ। ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা : নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা রেখে বিদায় নিলেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে ব্যাংকিং উৎস থেকে ৬১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা নিয়েছে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে আরও প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। মজুরি হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি : ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশের নিচে। দেখা যাচ্ছে, ভোক্তার মজুরি বাড়ার হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার এখনো বেশি। এ কারণে মানুষের আয়ের চেয়ে খরচ হচ্ছে বেশি। কমেছে ক্রয়ক্ষমতা। অথচ মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকার নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়িয়ে রেখেছে। এর ফলে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেড়ে গেছে। বেসরকারি খাতের ঋণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বেড়েছে ব্যবসাবাণিজ্যে পরিচালন ব্যয়। অর্থনীতির সব সূচকে যখন বিপর্যয় নেমে এসেছে তখন বেড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বিদায়ি ভাষণে এ রিজার্ভ বৃদ্ধির বিষয়টি গৌরবের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন যাওয়ার সময় স্বস্তি পাচ্ছি যে, আমরা অবস্থার মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের টাকায় রিজার্ভ বাড়ছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’
 

ড. ইউনূসের এ রিজার্ভ রাজনীতির সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত শিক্ষক ও গবেষক ড. লুবনা তুরীন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, রিজার্ভ কোনো রাষ্ট্রের লক্ষ্য না, এটা একটা উপকরণ। লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদন সক্ষমতা, কর্মসংস্থান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি নীতিগত স্বাধীনতা। রিজার্ভ বাড়ছে কি না এ প্রশ্নের চেয়েও কনসার্নিং হচ্ছে, এ রিজার্ভ কোন দামে তৈরি হচ্ছে, কার ক্ষতির বিনিময়ে এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকে কোন কাঠামোয় আটকে রেখে। এ গবেষকের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে, আমদানি সংকুচিত করে, শিল্প খাতকে চাপে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে রাষ্ট্রকে ‘শক্ত’ দেখানের জন্যই রিজার্ভ বাড়ানোর দিকে মনোযোগী ছিলেন ড. ইউনূস।

প্রতিশ্রুতি, দায় ও সুবিধা গ্রহণ : দায়িত্ব গ্রহণ করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে ড. ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করবেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সফল পরিণতি দিতে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনি ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা খাত এবং তথ্যপ্রবাহে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পূর্ণ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবেন, যার লক্ষ্য হবে দুর্নীতি, লুটপাট ও গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া তিনি তাঁর দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। তাঁর  আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর সরকারের উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করাও হয়েছে। দুদক অভিযোগ তদন্ত করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যে সম্পদের হিসাব দিয়েছেন তা নিয়েও রয়েছে জনমনে সন্দেহ ও বিস্তর প্রশ্ন। এমনকি তিনি প্রধান উপদেষ্টা পদে আসীন থেকে তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কর ছাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থ পাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সরকারি অনুমোদন ও বিশেষ সুবিধা পায়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা শহরে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২নং বারশত ইউনিয়নে, আলোচনার শীর্ষে আবদুল করিম সহ ৪ জন

আনোয়ারা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:  এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বইতে শুরু করেছে স্থানীয় নির্বাচনী হাওয়া। আসন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যোগ্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর মধ্যে আনোয়ারার ২ নং বারশত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে এক তরুণ ও পরিচ্ছন্ন নেতার নাম আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুল করিম। সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম ওলা মিয়ার সুযোগ্য সন্তান আবদুল করিম দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির সাথে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ডিগ্রিধারী এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তার অবদান চোখে পড়ার মতো। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর ‘বিদ্যুৎসাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আবদুল করিম বাংলাদেশ হজ্ব এজেন্সি এসোসিয়েশন এর বর্তমান কমিটির সক্রিয় সদস্য এবং বিগত কমিটিতে তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী এই তরুণ নেতা এলাকায় সৎ, পরোপকারী ও নিরহংকারী হিসেবে পরিচিত। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকলেও জনপ্রিয়তায় অনেকটাই এগিয়ে আছেন আব্দুল করিম। স্থানীয়দের মতে, তার বিনয়ী নেতৃত্ব ও বিগত দিনে দাবি আদায়ের আন্দোলনে আপোষহীন ভূমিকা তাকে সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় জায়গা করে দিয়েছে। এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারুণ্যের গণজোয়ার এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের কারণে ২ নং বারশত ইউনিয়নে করিম-ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন শিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে চেয়ারম্যান পদে তার বিজয় এখন সময়ের দাবি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবদুল করিম জানান, সুযোগ পেলে আমি ২ নং বারশত ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবো। বিশেষ করে বারশতের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করে তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি সাধারণ মানুষের জনকল্যাণ ও স্থানীয়দের ভাগ্যোন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বারশতে আবদুল করিম এর পাশাপাশি আলোচনায় আরো যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ও গুন্ধীপ গ্রামের ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন এর নাম।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জনগণের মনে শান্তি-নিরাপ*ত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী!

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদার মুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার সম্মান ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চাই—মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, তথা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালে দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সারা দেশে জুয়া ও মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন- ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট বড়, সব ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ ও স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা-বিক্রেতা ও গ্রহীতা, এই সরকার সবারই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।

সরকারপ্রধান বলেন, রমজান মাসে রোজাদাররা, বিশেষ করে ইফতার-তারাবিহ-সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রতা সাধন প্রতিটি মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। অফিস আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস বিদ্যুৎ পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ বলেই আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাটে-মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ ও জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার ‘প্ল্যান পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সব অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রামুতে পুলিশের অভিযানে দেড় লক্ষ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তা*র 

আবু সায়েমঃ কক্সবাজার জেলার আওতাধীন রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ লক্ষ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ( ১৭ ফেব্রুয়ারি)  রাত ৯  টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাম্বারবিহীন  পিক-আপ যোগে মরিচ্যা হতে রামু হয়ে  কক্সবাজার – চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচারকালে রামুর শিকলঘাটা ব্রিজের দক্ষিণে মরিচ্যা – রামু সড়কের উপর অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি চলাকালে কর্ত্যব্যরত পুলিশ সদস্যরা থামার সংকেত প্রদান করেন।
চালক সংকেত অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে চেকপোস্টের ব্যারিকেড ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে। রামু থানা পুলিশের টিম পিকআপটির পিছু ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে পিকআপটি রামু থানাধীন ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের রামু কেন্দ্রীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থামে। গাড়ি হতে ৩/৪ জন মাদক কারবারি  পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এসময় রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের হোসেন আহমদের পুত্র মো: হারুন( ২৯) কে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। আভিযানিক দল গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া। তিনি বলেন, প্রাত্যহিক অভিযানের অংশ হিসেবে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ইয়াবা চালানের পেছনে কারা কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে শীঘ্রই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সংশ্লিষ্ট আসামির বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হবে। ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ডিমলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

সোহেল রানা-বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডিমলায় মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতি সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরানুজ্জামান এর সভাপতিত্বে দিবসটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) ঠাকুর দাস রায়,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অবঃ প্রভাষক আবুল কাশেম সরকার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) মামুনুর রশিদ,উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ডিমলা সদর ইউনিয়নের আমির নুরমোবাশ্বের হোসেন,জামায়াত নেতা  মিনানুরজ্জামান মিন্টু, এনসিপি নেতা শাকিল প্রধান,রাশেদুজ্জামান রাশেদ, মজিবুল, সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মাহবুব খান, বিএমআই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় সাংবাদিকগন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হবে। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ভাষা শহীদদের স্মরণে রচনা, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় আত্মত্যাগকারী ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রতিবছর দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাহরি-ইফতার-তারাবিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দে*শ প্রধানমন্ত্রীর!

বিশেষ প্রতিনিধি: সাহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন তিনি। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন—সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে জনগণ আমাদের কাছ থেকে যে সুশাসন এবং জবাবদিহি চায়, সে ক্ষেত্রে আমরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যে কোনো ধরনের প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি এবং বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘আগামীতে যে রমজান শুরু হচ্ছে, এই রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা প্লাস সfহরি, ইফতার, তারাবির সময়টা যেন বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন থাকে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারের যে কমিটমেন্ট, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় যে বিষয়গুলো বলেছেন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সেগুলো কিভাবে ইমিডিয়েটলি কিছু দৃশ্যমান কাজ করা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়েও তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, আলোচনা করেছেন। সেখানে শ্রমবাজার ওপেন করার জন্য যদি প্রধানমন্ত্রী একটি সফর দেন মিডল ইস্টে, সেটা আমাদের জন্য একটা সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। আমাদের জায়গা থেকে এটিও বলেছি, তার জায়গা থেকে আরো কিছু পরামর্শ আমাদের দিয়েছেন, যেগুলো কাজের ক্ষেত্রে আমরা মেনে চলব।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মব জাস্টি*স নিয়ন্ত্রণ করবে সরকার : মির্জা ফখরুল

বিশেষ প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যতটুকু খারাপ ছিল, এটাকে ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করতে হবে। বুধবার সচিবালয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছি আমরা। চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে দেশকে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যিনি আমাদের এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার প্রথম কথাটি ছিল বাংলাদেশের জন্য.. আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। মন্ত্রিসভা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, বাংলাদেশের মানুষের সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবে এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সামনের দিকে। ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র হলো আমাদের প্রধান উপাদান, যেটিকে নিয়ে আমরা সামনে এগোচ্ছি। অর্থাৎ আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। আমরা সেই গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এটার পুরোপুরি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, একেবারে তৃণমূল মানুষের সঙ্গে। আমার একটা অ্যাডভান্টেজ আছে, আমি কিন্তু একসময় নিজে লোকাল গভর্নমেন্টে ছিলাম। তো আমরা এই জিনিসগুলো সম্পর্কে কিছু ধারণা রাখি। আমি বিশ্বাস করি যে আপনাদের এই মন্ত্রণালয়কে অত্যন্ত গতিময় একটা মন্ত্রণালয়ে পরিণত করতে পারব। মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে, সেই সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব। গেল দেড় বছর ব্যাপক মব জাস্টিস হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবশ্যই। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একটা বিপ্লব হয়েছে, বিদ্রোহ হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এসব মুহূর্তের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে, এটা মনে করার কারণ নেই। এক-দেড় বছর আমরা পার হয়েছি একটা ইন্টারিম গভর্নমেন্টের অধীনে। তারা একটা ইলেকশন দিয়ে গেছে। ইলেকশন করে একটা গভর্নমেন্ট হয়েছে, ইলেকটেড গভর্নমেন্ট হয়েছে। এটাই তো একটা বড় অর্জন। অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রয়োজন নেই। কারণ তারা একটা বিশেষ মুহূর্তে দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সময়, আমি মনে করি, আমার দলও মনে করে যতটুকু প্রয়োজন ছিল, তারা সেই কাজের সিংহভাগ করতে পেরেছে। মূল সমস্যাটা কী ছিল? ট্রানজিশন টু ডেমোক্রেসি। সেটি তো তারা করে দিয়ে গেছে। সুতরাং তাদের সেই কৃতিত্ব দিতেই হবে। তারা অনেক ভালো কাজ করেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি