আজ রবিবার, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 136

উল্লাপাড়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

মোঃ রাকিব হোসেন:

সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছ। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এক আলোচনা সভা, যেখানে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য, মাতৃভাষার মর্যাদা এবং জাতীয় চেতনায় ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়, সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬৫ সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ জননেতা মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শারমিন আক্তার রিমা, উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাকিউল আজম, উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি, সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। রফিকুল ইসলাম খান মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মাতৃভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার ভিত্তি। তিনি নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানার ও বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন, একুশ আমাদের চেতনার দীপশিখা। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা আজ স্বাধীনভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছি। তিনি সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরে শুদ্ধ বাংলা চর্চা ও ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে উল্লাপাড়ায় এভাবেই যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

আলোকিত প্রতিদিন/ এমআরএম

রমজানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করছে সরকার: প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী 

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
সরকারের কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, পবিত্র রমজানে নিম্নবিত্তের মানুষের প্রোটিনের যোগান দিতে সরকার ব্যবস্থাগ্রহণ করেছে। রমজান মাসে তৃণমূল পর্যায়ে অসহায়-হতদরিদ্র মানুষগুলো যাতে সুলভমূল্যে দুধ ডিম মাংস কিনতে পারে সেজন্য প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সুলভমূল্যে দুধ ডিম মাংস বিক্রির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সুলভমূল্যে দুধ ডিম মাংস বিক্রির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে- পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা ও খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়গুলোকে সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে অসহায় হতদরিদ্র মানুষগুলোর জীবন-মান উন্নয়নে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিবে। অসহায় মানুষগুলো যাতে সুলভ মূল্যে দুধ ডিম মাংস নিতে পারে এবং এই রমজানে প্রোটিনের বাজার যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে সেজন্যই প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর এই উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে সব জেলাতেই দুধ ডিম ও মাংস বিক্রির এই উদ্যোগটি নেওয়া হবে। যাতে মানুষ তার খাদ্যের তালিকায় যে প্রোটিনের প্রয়োজন সেই প্রোটিনের অভাব পুরন করতে পারে। এ বিষয়ে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরীফা হকের সভাপতিত্বে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্তিম প্রজনন প্রকল্পের পরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. হারুন অর রশিদ।
এসময় টাঙ্গাইল জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. উম্মে ছালিমা সুমা সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক ক্রেতা উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

সোনার দাম ভরিতে বাড়লো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

বিশেষ প্রতিবেদক:

দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে । এরফলে প্রদি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়। তেজাবী সোনার দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়ছেে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

আজ বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নওেয়া হয়ছে।ে পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এই দাম কমানোর ৩ দিন পার এখন একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।

২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ১৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৬৮৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৯১ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৯ হাজার ৭৭ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৭১ হাজার ১১১ টাকা। আজ সকাল ১০টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ এমআরএম

 নতুন চরিত্র নিয়ে বিতর্কে রাশমিকা

বিনোদন ডেস্ক:

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি, ঠিক এই মুহূর্তেই দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিতর্ক! আসন্ন সিনেমা ‘ককটেল টু’-এ তার অভিনীত একটি ‘স্পর্শকাতর’ চরিত্র নিয়ে। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, এই সিনেমায় অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের সঙ্গে সমকামী চরিত্রে পর্দায় হাজির হতে পারেন রাশমিকা।

এদিকে শোনা যাচ্ছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের রাজস্থানের উদয়পুরে অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন রাশমিকা। বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রকাশ্যে এলো তার নতুন সিনেমার সম্ভাব্য প্লট।

জানা গেছে, হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ‘ককটেল টু’ সিনেমায় রাশমিকা ও কৃতি শ্যানন থাকবেন সমকামী দম্পতি হিসেবে। তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে অভিনেতা শাহিদ কাপুরের উপস্থিতি থাকবে; যা নিয়ে সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হবে।

যদিও এখন পর্যন্ত পরিচালক বা অভিনয়শিল্পীদের পক্ষ থেকে এই সমকামী চরিত্রের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিয়ের আগ মুহূর্তে এমন বিতর্কিত চরিত্রে অভিনয়ের খবর রাশমিকার ভক্তদের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ব্লকবাস্টার ‘ককটেল’ সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মাঝে তুমুল আগ্রহ ছিল। সম্প্রতি পরিচালক হোমি আদাজানিয়া শুটিংয়ের শেষ দিনে কৃতি, রাশমিকা ও শাহিদ কাপুরের একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার পরই এই জল্পনার সূত্রপাত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

মানুষের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আমরা আপোষহীন: মানিকগঞ্জে ব্যারিস্টার আরমান এমপি

মো: মহিদ:

ঢাকা–১৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেছেন, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আমরা আপোষহীন থাকবো। প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত আছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে নিজ জেলা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পিতা শহীদ মীর কাসেম আলী–এর কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার আরমান বলেন, “সাংবিধানিক অধিকার আদায়ে আমরা আপোষহীন থাকবো। অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজন হলে জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি। আমরা জান দিব, তবু জুলাই দিব না। তিনি আরও বলেন, শহীদ হাদি ভাইয়ের বিচার এ মাটিতেই হতে হবে। আবু সাঈদের বিচারও এই মাটিতেই হতে হবে। তিনি দাবি করেন, “আমরা শহীদের বংশধর। অধিকার আদায়ের জন্য আমরা লড়ে যাব। আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাব—হয়তো মরে যাবো, তবুও পিছু হটবো না। পিতার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমার পিতা শহীদ মীর কাসেম আলীকে শহীদ করার কয়েকদিন আগে আমাকে ফ্যাসিস্ট সরকার গুম করে নিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ কৃপায় মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আমি যেন এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারি—সবার কাছে সে দোয়া চাই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, জেলা জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, হরিরামপুর উপজেলা আমির হাফেজ লোকমান হোসেন এবং উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ ফারুক হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। কবর জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ও করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। এর আগে সকালে হরিরামপুরের আন্ধার মানিক দারুল আমান ট্রাস্টের একমত বিনিময় সভায় উপস্থিত হন । সেখানে ব্যারিস্টার আরমানকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

৩৬ বছরের শাসনামলে চরম সংকটে খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসনামলে এর আগে বহুবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিদেশি চাপ সামলেছেন। কিন্তু এবার যেন সব সমীকরণ বদলে গেছে। একদিকে মার্কিন বিমান হামলার হুমকি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের পতন; সব মিলিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনি এখন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখোমুখি। মার্কিন হামলা এড়াতে ইরানের দূতরা যখন আলোচনায় দৌড়ঝাঁপ করছেন, তখন রণসজ্জা বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

৮৬ বছর বয়সী এই নেতার কট্টর পশ্চিমা-বিরোধিতা এবং ইরানকে রক্ষার মরিয়া চেষ্টা এখন পুরো অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি খামেনির জন্য মোটেও সুখকর নয়। জানুয়ারিতে দেশজুড়ে হওয়া বিশাল গণবিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় গত বছর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তেহরান এখন কোণঠাসা। লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন খামেনির প্রভাবকে সীমিত করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দাবি জানিয়েছে যে, ইরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে। ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও খামেনি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলি হামলা ঠেকানোর জন্য এটাই তেহরানের একমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র।

১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় বসা খামেনি শুরু থেকেই ছিলেন পশ্চিমের কট্টর সমালোচক। ১৯৮১ সালে এক হত্যা প্রচেষ্টায় ডান হাত পঙ্গু হওয়ার পর থেকে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। তবে নিজের কঠোর আদর্শিক অবস্থানের মাঝেও তিনি প্রয়োজনে কৌশলী হতে জানেন। ২০১৩ সালে তিনি ‘হিরোয়িক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা ‘বীরোচিত নমনীয়তা’ তত্ত্ব দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে অর্থনীতির স্বার্থে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে পড়ে।

খামেনির ক্ষমতার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী ‘বাসিজ’। ২০০৯, ২০২২ এবং চলতি বছরের জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে এই বাহিনীগুলোকে তিনি নিষ্ঠুরভাবে ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ‘সেতাদ’ নামক একটি বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। বিলিয়ন ডলারের এই প্রতিষ্ঠানটি রেভল্যুশনারি গার্ডের অর্থায়নে বড় ভূমিকা রাখে।

একসময় দুর্বল উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য হওয়া খামেনি আজ ইরানের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের পতনের মুখে খামেনির এই দীর্ঘ শাসনকাল এখন এক বড় অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।

আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

নবীনগরে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত 

মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে  উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও শিশুদের চিত্রাংকণ এবং সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা- মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা কৃষি অফিসার- মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটনের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি  হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নবনির্বাচিত সাংসদ এডভোকেট আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রফেসর রেজাউল করিম অধ্যক্ষ নবীনগর সরকারি  কলেজের , খালেদ বিন মনসুর- সহকারী কমিশনার ভূমি, মো. রফিকুল ইসলাম- থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সভাপতি নবীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তিসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তাগণ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম.এ. মান্নান বলেন-“নবীনগর উপজেলাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলন মুক্ত করে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি আরো বলেন- নির্মানাধীন নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক কি ভাবে নবীনগর বাজারকে বাঁচিয়ে নির্মাণ করা যায় এ বিষয়ে আমি কাজ করছি।”
অনুষ্ঠান শেষে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শিশুদের চিত্রাংকণ ও সুন্দর হাতের লেখায় কৃতকার্যদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেয়।
আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

কাতার-বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কাতার এবং বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে শত শত সেনা সরিয়ে ‍নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। কাতার, বাহরাইন, ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরা— মধ্যপ্রাচ্যের এই আটটি দেশে সামরিক ঘাঁটি আছে যুক্তরাষ্ট্রের। এসবের মধ্যে কাতারের আল উবেইদ ঘাঁটিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয়েছিল ইরানের, সে সময় এই ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান।

বাহরাইনে যে ঘাঁটিটি আছে, সেটি ব্যবহার করে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিট। তবে এই দুই ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরানো হলেও বাকি ৬টি ঘাঁটি থেকে কোনো সেনা এখনও সরানো শুরু হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের ৮ ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন মোট ৩০ থেকে ৪০ হাজার মার্কিন সেনা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে চিঠি দিয়েছেন বৈশ্বিক এ সংস্থার ইরানি প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। সেই চিঠিতে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই ইরানে আগ্রাসী অভিযান শুরু করে, সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, সম্পদ এবং অবকাঠামোগত স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে দেশটির সেনাবাহিনী।

আমির সাঈদ ইরাভানির এই চিঠির পরেই কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় পেন্টাগন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোর সার্বিক নির্বাহী দায়িত্বে আছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম। কেন শুধু কাতার এবং বাহরাইনের ঘাঁটি থেকে সেনা অপসারণ করছে— এ বিষয়ে জানতে সেন্টকোমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, আনাদোলু এজেন্সি

আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

দেবিদ্বার উপজেলার পৌর প্রশাসকের সহযোগিতায় জলাতঙ্কের ১০০ ডোজ (Rabix-VC) ভ্যাকসিন ব্যবস্থা

নাজমুল হাসান:

আজ শনিবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে দেবিদ্বার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ ডোজ Rabix-VC ভ্যাকসিন প্রদান করে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. কবির হোসেন ভ্যাকসিনগুলো গ্রহণ করেন।

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গত দুই দিনে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে পাঁচ শিশু গুরুতর আহত হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্কের (Rabix-VC) ভ্যাকসিন না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আহতদের পরিবার। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর ও হাসপাতাল কোয়ার্টারসহ আশপাশের এলাকায় একটি পাগলা কুকুর একাধিক শিশুকে কামড়ায়। এতে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদের ছেলে নৌফল হাসান (৭) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে কুকুরটি পালানোর সময় প্রবাসী ইলিয়াছ হোসেনের ছেলে ইয়াছিন (৬) ও একই এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে মো. জাবেদ হোসেন (৯) কে সহ বিজলি- বাজার এলাকার বেশ কয়েকজন শিশুকে কামড়ায়।

আহত শিশুদের অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক ও সাপের বিষনাশক ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস সালাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুকুর ও সাপের কামড়ের ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কিছু ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম জানান, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

আজ মহান ২১ ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আলোকিত ডেস্ক:

রক্তস্নাত ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি আজ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুল ফোটার এই দিনে বাঙালি জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব বীর সন্তানদের, যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালের এই দিনে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। বাঙালির আজ সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে সেই কালজয়ী গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’

বায়ান্নর সেই উত্তাল দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে নেমে আসা ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের নির্মম গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছিল এক অনন্য ইতিহাস। আজ সেই গৌরবোজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর ও জব্বারসহ নাম না জানা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মায়ের ভাষা। এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা আজ সারা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে।

একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। অমর একুশে উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এই দিনটি একই সঙ্গে শোক এবং অপরিসীম গৌরবের। মাতৃভাষার জন্য প্রাণদানের এমন নজির বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সাথে ভাষা শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার শপথ গ্রহণ করছে।

একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে আজ শনিবার সরকারি ছুটি। আজ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। এছাড়া উত্তোলন করা হবে কালো পতাকা। দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলাদা বাণী দিয়েছেন।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস:

তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রথম ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এর চরম প্রকাশ ঘটে। ওইদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে কিছু ছাত্র শহীদ হন। এ ঘটনায় নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরা প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসেন।

তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ,যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়। যা কার্যকর করা হয় ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ থেকে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের  স্বীকৃতি:

১৯৯৮ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানের কাছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে বসবাসরত দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালাম প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন। সে সময় সেক্রেটারি জেনারেলের প্রধান তথ্য কর্মচারী হিসেবে কর্মরত হাসান ফেরদৌসের নজরে এ চিঠিটি আসে। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ জানুয়ারি রফিককে অনুরোধ করেন, তিনি যেন জাতিসংঘের অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রের কারও কাছ থেকে একই ধরনের প্রস্তাব আনার ব্যবস্থা করেন। পরে রফিক, আব্দুস সালামকে সঙ্গে নিয়ে ‘মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি সংগঠন দাঁড় করান। এতে একজন ইংরেজিভাষী, একজন জার্মানভাষী, একজন ক্যান্টোনিজভাষী, একজন কাচ্চিভাষী সদস্য ছিলেন। তারা আবারও কফি আনানকে ‘এ গ্রুপ অব মাদার ল্যাংগুয়েজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ডে’র পক্ষ থেকে একটি চিঠি লেখেন এবং চিঠির একটি কপি ইউএনওর কানাডীয় দূত ডেভিড ফাওলারের কাছেও প্রেরণ করা হয়।

১৯৯৯ সালে তারা জোশেফের সঙ্গে ও পরে ইউনেস্কোর আনা মারিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। আনা মারিয়া পরামর্শ দেন, তাদের প্রস্তাব পাঁচটি সদস্য দেশ– কানাডা, ভারত, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড এবং বাংলাদেশ থেকে আনতে হবে। তারপর বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিতে ২৯টি দেশ অনুরোধ জানাতে কাজ করেন। পরে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সেখানে ১৮৮টি দেশ সমর্থন জানালে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

‘এখন থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ’– এমন একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয় ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে। সেখানে এ প্রস্তাব উত্থাপন করে বাংলাদেশ।

আলোকিত প্রতিদিন/২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম