আজ রবিবার, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 124

কুয়েতে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কুয়েতে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২ জন।ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের তৃতীয় দিন আজ সোমবার কুয়েতের স্থানীয় সময় সকালের দিকে ঘটেছে এই ঘটনা। বিমান চালক অবশ্য অক্ষত আছেন। ভূপৃষ্ঠে পতনের শুরুতেই বিমান থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিলেন।

যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে কুয়েতের তেল শোধানাগার মিনা আল আহমাদি রিফাইনারির ভেতরে গিয়ে পড়ে। এতে আহত হন সেই শোধনাগারের ২ জন শ্রমিক।

কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটল, সে সম্পর্কে এখনও যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কুয়েতে মোতায়েন করা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ভুলবশত ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ এজন্য দায়ী।

প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম হলো একটি মার্কিন-নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফরম যেটি আহত এবং হামলা করতে উদ্যত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, শত্রু বিমান, ড্রোন ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এমনিতে এটি নিখুঁত যুদ্ধাস্ত্র তবে বিরল ক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ভুলও করে।

সূত্র : এএফপি

আলোকিত প্রতিদিন/০২মার্চ ২০২৬/মওম

হাটহাজারী উপজেলা কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিল

মোঃজহির উদ্দিন বাবর: উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক শাহাদাত ওসমান চেয়ারম্যান এর সভাপতিত্বে যুগ্ম আহবায়ক জাহেদ মাষ্টার এর সঞ্চালনায় মির্জাপুর গ্রীণপার্ক কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. গিয়াসউদ্দিন চেয়ারম্যান, বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক দলের আহবায়ক বদিউল আলম বদরুল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জাসাস এর সভাপতি কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. জাহেদ উদ্দিন বিপ্লব, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক লায়ন আনোয়ার হোসাইন উজ্জ্বল, হাটহাজারী উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বাবু উত্তম কুমার দাশ, সদস্য সচিব সার্জেন্ট এরশাদুর রহমান মুরাদ, ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব রহমতুল্লাহ মেম্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক লায়লা ইয়াসমিন, হাটহাজারী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. নাসিম মেম্বার, হাটহাজারী পৌরসভা কৃষক দলের সভাপতি মো. এমরান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাফফর, হাটহাজারী উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. রিজুয়ান শফি, সার্জেন্ট জসিম উদ্দিন, মো. আনোয়ার, মো. সিরাজ, মো. আলাউদ্দিন, হাটহাজারী উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আঁখি আকতার, উপজেলা কৃষক সদস্য মো. মোজাহের, মো. ইসহাক, মির্জাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহবায়ক মো. হানিফ ইকবাল, চিকনদন্ডী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি কাজী সোলাইমান, মির্জাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, ধলই ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. বেলাল উদ্দিন রাহী, মেখল ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. সেলিম শিকদার, নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. বদিউল আলম মেম্বার, ছিপাতলী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম সওদাগর, গড়দুয়ারা ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল্লাহ্, দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. মানিক, রহিম হোসেন বিবলু, সহ প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

স্ত্রীর আত্ম’হ’ত্যা’য় প্রধান আসামি আলভী ও অভিনেত্রী তিথি!

 বিনোদন: ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় এবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বামী যাহের আলভী এবং তার কথিত প্রেমিকা ও সহ-অভিনেত্রী তিথিকে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টায় পল্লবী থানায় মামলাটি রুজু  করা হয়।

ইকরার মর্মান্তিক আত্মহত্যার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন নতুন রহস্যের জন্ম হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে আলভীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন ইকরার পরিবারের সদস্যরা। এরপর রাতেই ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় শুধু আলভী এবং তিথিই নন, তার পরিবারের আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

পারিবারিক কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ইকরার স্বজনরা আগে থেকেই আলভীর পরিবারের বিচার দাবি করে আসছিলেন তারা। এবার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল। মামলার পরিণতি সম্পর্কে পল্লবী থানার ওসি এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, তদন্ত শেষে আদালতে যদি আত্মহত্যার প্ররোচনার বিষয়টি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হয়, তবে এই মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে তিনি জানান।

১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি এবং এরপর মামলা দায়েরের খবরে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে মামলার তদন্ত এবং আসামিদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

খামেনিকে হ/ত্যা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে সরাসরি যু/দ্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যাকাণ্ড যেন ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা’। রোববার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় খামেনিকে হত্যার ভয়াবহ প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ক ইরানের প্রেসিডেন্ট।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট নেতাকে হত্যা করা এটা যেন বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলিম, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে তার বৈধ দায়িত্ব ও অধিকার বলে মনে করে।

যেভাবে হত্যা করা হয় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে:
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শনিবার ভোরের দিকে তেহরানে যৌথ অভিযান চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের শেষ মুহূর্তের তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের অত্যন্ত গোপনীয় এক বৈঠক চলাকালীন ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অত্যান্ত গোপনীয় এবং সুরক্ষিত কক্ষে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নিখুঁত হামলা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে সেই সময় পুরোপুরি পর্যুদস্ত করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শুরুতে রাতের দিকে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারেন, খামেনির নির্ধারিত বৈঠকটি সন্ধ্যার পরিবর্তে শনিবার সকালেই শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়।

মার্কিন সূত্র বলেছে, শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে খামেনির বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বিমান ও নৌ হামলা শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ সময় পেলে তিনি আত্মগোপনে যেতে পারেন; এমন ধারণা ছিল মার্কিন গোয়েন্দাদের।

ইরানি দুটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা দেশটির প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েলের এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান তেহরানে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটের দিকে খামেনির ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টিত ভবনে ৩০টি বোমা ফেলে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছিল। এই হামলায় তাকেসহ অন্য ইরানি নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। খামেনির মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।

আলোকিত প্রতিদিন/০১মার্চ ২০২৬/ এম আর এম

তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরের দিকে তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রখ্যাত জ্বালানি গবেষণা সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জি এক পর্যালোচনায় জানিয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) বাজার খোলার সাথে সাথেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।রাইস্ট্যাড এনার্জির মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া।

প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়ে বিশ্ববাজারে ঢুকত যা বর্তমানে থমকে আছে। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের বিকল্প অবকাঠামো ব্যবহার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাজারে প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের নিট ঘাটতি থেকে যাবে।

তেলের দাম ২০ ডলার বাড়লে পরিবহন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বিশ্বজুড়ে হু হু করে বেড়ে যেতে পারে।এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিবে।

আলোকিত প্রতিদিন/০১মার্চ ২০২৬/ এম আর এম

‘লাবণ্যের ছোঁয়াতে’ নিজেকে রাঙালেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরি

বিনোদন ডেস্ক:

অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। অভিনয়ের পাশাপাশি এই নায়িকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব। একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ঐতিহ্যের সাথে লাবণ্যের ছোঁয়া।’

শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, গোলাপি রঙের শাড়িতে সেজেছেন তিনি। সোনালি নকশা করা শাড়ি আর পরিপাটি খোঁপায় বাঁধা চুল- সব মিলিয়ে তার সাজে ফুটে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী আবহ। গলায় মানানসই চোকার, কানে দুল এবং হালকা মেকআপে পূজা চেরিকে দেখাচ্ছে অনিন্দ্যসুন্দর।

এদিকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসিতে ধরা দিয়েছেন পূজা। আরেকটিতে স্নিগ্ধ ভঙ্গিতে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। তার অভিব্যক্তি ও উপস্থিতি ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।

ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই কমেন্ট বক্সে ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসার বন্যা বইতে শুরু করে। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘খুব সুন্দর লাগছে।’ আরেকজনের লিখেছেন, লালপড়ী আপু।

আলোকিত প্রতিদিন/০১মার্চ ২০২৬/ এম আর এম

যুগ শ্রেষ্ঠ বিপ্লবী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

এমএইচ চৌধুরীঃ

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুগ শ্রেষ্ঠ সাহসী কিংবদন্তি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধি মহা বীরের বিপ্লবী বিদায়- ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউ রেজা পহলবীর শাসনামলে তিন বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠানোর পূর্বে তাঁকে ৬ বার গ্রেফতার করা হয়।
ইসলামি বিপ্লবের পর ১৯৮১ সালের জুনে তাঁকে গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়, যার ফলে তার ডানহাত অসাড় হয়ে পড়ে।১৯৮০-র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধকালীন খামেনেয়ী ইরানের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং সেই সময় তিনি অধুনা শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে দৃঢ় বন্ধন গড়ে তোলেন।

এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ এবং এর কমান্ডারদের নির্বাচন ও অপসারণ তিনি করে থাকেন। খামেনেয়ীর বিরোধীদের দমনের ক্ষেত্রে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত খামেনেয়ী ইরানের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তৎকালীন ও প্রথম সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনীর ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। মৃত্যুর অনতিবিলম্ব পূর্বে খোমেনী কর্তৃক মনোনীত তার উত্তরসূরী হোসেইন আলী মোন্তাজেরীর সঙ্গে একটি মতবিরোধ দেখা দেয়। ফলে তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী কে হবেন সে ব্যাপারে কোনো ঐক্যমত্য ছিল না।

১৯৮৯ সালের ৪ জুন বিশেষজ্ঞ পরিষদ ৪৯ বছর বয়সী খামেনেয়ীকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করে। আকবর হাশেমী রফসঞ্জানীর মতে মৃত্যুর পূর্বে খোমেনী তার উত্তরসূরী হিসেবে খামেনেয়ীকে মনোনীত করে গিয়ে ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ১৪ এপ্রিল থেকে খামেনেয়ী আস্তান কুদস রাজাওয়ীর সেবকদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনেয়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।তিনি ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান, সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ, ফরমান জারিকারী এবং অর্থনীতি, পরিবেশ, পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় পরিকল্পনা প্রভৃতি খাতে সরকারি নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগ্রহীতা।করিম সাজ্জাদপুরীর মতে সরকারের নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের পাশাপাশি সামরিক বাহিনী ও গণমাধ্যমের ওপর খামেনেয়ীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ পরিষদ, রাষ্ট্রপতি ও মজলিসের (আইনসভা) সকল পদপ্রার্থীরা অবিভাবক পরিষদ দ্বারা পুননীরিক্ষিত হন, আর এই অবিভাবক পরিষদের সদস্যগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কর্তৃক মনোনীত হন। এরকম ঘটনাও ঘটেছে যেখানে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর অবিভাবক পরিষদের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও খামেনেয়ীর নির্দেশে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।ফোর্বস সাময়িকী ২০১২ সালে তাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর ২১ জন ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়।খামেনেয়ী পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে ফতোয়া জারি করে বলেন যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার ইসলামি বিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ। পশ্চিমা বিশ্বের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আজীবন এই মানুষটি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলামি বিপ্লব ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা, শিয়া-সুন্নি বিভেদ মিটিয়ে মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে কাজ করেছেন। তিনি বিপন্ন ফিলিস্তিনীদের পক্ষে এবং জাতিগত আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনকে নিজের জীবন ও কর্মের মুল স্তম্ভ বানিয়ে, এর ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত তাঁর দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনকাল কাটিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য ভাষণ দিয়েছেন তিনি তাঁর সে কথাগুলো ইরানের আপামর জনগণ ও পৃথিবীর সমস্ত ইসলামী বিপ্লবীদের সময়োপযোগী সাহসী দিকনির্দেশনা দিয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে লড়েছেন জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত। তাঁর বলা কয়েকটি কথা স্মরণীয়ঃ
​​​ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ ধরে রাখতে তিনি বলতেন-
১ “আত্মসমর্পণের চেয়ে প্রতিরোধের খরচ অনেক কম।
২ “যদি কোনো জাতি শত্রুর সামনে মাথা নত করে, তবে তাকে আরও বড় অপমান ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।”

​৩ “ফিলিস্তিন ইস্যুকে তিনি সবসময়ই মুসলিম উম্মাহর প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখতেন।

৪” ​ইসরায়েলের অস্তিত্ব সম্পর্কে বলতেন-
“ইসরায়েল কোনো রাষ্ট্র নয়, এটি ফিলিস্তিনি জাতি এবং অন্যান্য মুসলিম জাতিগুলোর বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী গ্যারিসন (সৈনিক ঘাঁটি)। এই অঞ্চলের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এটি পশ্চিমাপন্থী দেশগুলোর একটি সন্ত্রাসী আস্তানা।

৫” যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে বলতেন- “আমেরিকানদের ওপর কখনো বিশ্বাস করা যায় না। তারা হাসিমুখে কথা বলে ঠিকই, কিন্তু তাদের পেছনের হাতে খঞ্জর লুকানো থাকে।”

​​৬” পরমাণু কর্মসূচি ও বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে ​ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তাঁর বিখ্যাত ফতোয়া ও বক্তব্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে বলেছেন- “আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চাই না, কারণ আমাদের ধর্ম (ইসলাম) গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহার করাকে হারাম (নিষিদ্ধ) ঘোষণা করেছে। আমাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক।

৭” স্বনির্ভরতা অর্জনের বিষয়ে বলেছেন-
“তরুণ প্রজন্মের উচিত বিজ্ঞানের শিখরে পৌঁছানো। কারণ জ্ঞানই হলো শক্তি। যে জাতির জ্ঞান নেই, তাকে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়।

৮”মুসলিম ঐক্য ​শিয়া-সুন্নি বিভেদ সম্পর্কে বলতেন-“যারা শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে বিবাদ উস্কে দেয়, তারা না শিয়াদের বন্ধু, না সুন্নিদের বন্ধু। তারা আসলে ইসলামের শত্রু এবং সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়নক। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতিটি বক্তব্যে একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় সংহতি’ এবং ‘পাশ্চাত্যের ওপর নির্ভরশীলতা ত্যাগের’ আহ্বান থাকতো। তিনি মনে করতেন, ইরানকে বিশ্বের বুকে টিকে থাকতে হলে সামরিক এবং বৈজ্ঞানিক উভয় ক্ষেত্রেই শক্তিশালী হতে হবে। যেটা শুধু ইরান নয়, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আলোকিত প্রতিদিন/০১মার্চ ২০২৬/মওম

আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

১ মার্চ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার। দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মব সংস্কৃতি এবং হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালুকরণ ও ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হত্যা বন্ধকরণ, মহাপরিচালক পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফ এর সম্মেলন, দুই দেশের পুলিশ একাডেমির মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে ভারতের আইটিইসি প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণ, বন্দি বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। হাইকমিশনার এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা একসঙ্গে পারস্পরিক ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করতে চাই।

মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালু করা ও ভিসা দেওয়ার হার বৃদ্ধির জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, আমরা পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দিচ্ছি। কিন্তু গত দেড় বছরে আমাদের বিভিন্ন ভিসা সেন্টারগুলোর ওপর মব হামলা ও বিক্ষোভসহ সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো এবং ভিসা দেওয়ার হার কম ছিলো।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে, সেজন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতক্রমে পর্যায়ক্রমে ভিসা সেন্টারগুলোও খোলা হবে এবং ভিসা দেওয়ার হার ক্রমান্বয়ে বাড়বে।

তিনি বলেন, ভারতীয় হাইকমিশন অফিসসহ ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় ভিসার আবেদন এখন অনলাইনে নেওয়া হয়। সেজন্য ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। মন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-কে নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী বলেন, আরেকটি বিষয় যেটি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে সেটি হলো সীমান্ত হত্যা। তিনি সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো অনেক উন্নতমানের। তিনি ভারতের আইটিইসি প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধি করার প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি হারে প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০১মার্চ ২০২৬/মওম

সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে নাব্যতা সং#কটে কৃষি পণ্য পরিবহনে শেষ সম্বল ঘোড়ার গাড়ি

মাইনুল হাসান মজনু:
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকট প্রকট হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চলে কৃষিপণ্য সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহনের একমাত্র সম্বল হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি। অতিরিক্ত ভাড়ায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেরেছে। দুর্গম চরাঞ্চলের পরিবহনের জন্য বিকল্প ব্যবস্হা চান চরবাসি।
গত ডিসেম্বর মাস থেকেই বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকট বিরাজমান রয়েছে। কয়েকমাসের ব্যবধানে যমুনার পানি একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে এবং এ সংকট দিনদিন চরম আকার ধারণ করছে। ফলে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ সহ আটটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় ধূধূ বালুচরের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বালুচরে কোনপ্রকার যানবাহন চলাচল করছে না। ফলে উপজেলার কৃষকেরা তাদের কৃষিপণ্য পরিবহন নিয়ে বিপাকে পরেছে। তাই কৃষিপণ্য পরিবহন করতে এসব বালুচরে এখন ঘোড়ার গাড়িই এখন  একমাত্র ভরসা। দুপুরের পরে যমুনার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি মালবাহী ঘোরার গাড়ি। এসব ঘোড়ার গাড়িতে কৃষকেরা অতি উচ্চ পরিবহন ভাড়া দিয়ে তাদের কৃষিফসল বাজারজাত করছেন। আবার জমিতে সার কীটনাশকও ঘোড়ার গাড়ি দিয়েই পরিবহন করে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি ফসলের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে ফসল বিক্রি করতে গিয়েও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ বছর রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে ভুট্টা, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, পিঁয়াজসহ প্রায় হাজার কোটি টাকার ফসলের ফলন হয়েছে। যার সবগুলো ফসল কৃষকদের ঘোড়ার গাড়ি দিয়েই পরিবহন করতে হবে। কৃষকদের নিকট থেকে জানা গেছে, ৩ কিলোমিটার রাস্তায় এক বস্তা মরিচ পরিবহন করতে ঘোড়ার গাড়ির ভাড়া বাবদ কৃষকদের ১২০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। অপরদিকে নদীপাড় হতে সেই ফসল আবারো ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা যোগে বাজারজাত করতে হচ্ছে। সেখানেও পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছেন, বালুচরের জন্য যদি সরকার বিশেষ ধরনের কোনও রাস্তার পরিকল্পনা করে, তাহলে সেই রাস্তা দিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলবে এবং কৃষিফসলের উৎপাদন খরচ কমবে। এতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই থাকবে।
সদর ইউনিয়নের চর বাটিয়ার কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে মরিচসহ প্রায় ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ করেছি। আমাদের চরাঞ্চলে এখন প্রচুর পরিমানে ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের একমাত্র সমস্যা হচ্ছে নদীতে পানি না থাকায় নৌকায় ফসল পরিবহন করতে না পারা। বিকল্প পদ্ধতিতে আমরা ঘোড়ার গাড়িতে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করছি। ২ থেকে ৩ কিলোমিটার রাস্তা ঘোড়ার গাড়িতে পরিবহনের জন্য ১ বস্তা মরিচের জন্য ১২০ টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সেটি বাজারে নিয়ে যেতে আবারও অটোরিকশা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এখন বাজারে মরিচের দাম ভালো থাকায় আমাদের কিছুটা লাভ হচ্ছে। তাছাড়া আমরা একেবারেই লোকসানে থাকতাম। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন, আমাদের চরাঞ্চলে পণ্য পরিবহনের জন্য যেনো ভিন্ন কোনও বিকল্প ব্যবস্হা নেয়া হয়। যেখানে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলতে পারবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, এ বিষয়ে গত কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের মধ্যে কানেকটিভিটি সড়ক নির্মাণের জন্য সেখানে বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটি বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের এ সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে।
আলোকিত প্রতিদিন /০১মার্চ ২০২৬ / এম আর এম

গভীর সমুদ্র থেকে ১৫ মানব পাচারকারী আ#টক, নারী-শিশুসহ উ#দ্ধার ১৫৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। একই সময়ে পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দি করে রাখা নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশু সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাত ৩টার দিকে ‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরা’য় নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘কামরুজ্জামান’ ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করতে সক্ষম হন। তল্লাশি চালিয়ে বোট থেকে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ১৫ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, উচ্চ বেতনের চাকরি ও স্বল্প খরচে বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র

আলোকিত প্রতিদিন /০১মার্চ ২০২৬ / এম আর এম