আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 12

নাফ নদীতে সশস্ত্র চক্রে*র সঙ্গে বিজিবির গো#লাগুলি

বিশেষ প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৩টায় উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাহারপাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর শূন্যরেখার কাছে মিয়ানমার থেকে জেলের বেশে নৌকাযোগে কয়েকজন অস্ত্রধারী সশস্ত্র ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পরবর্তীতে বিজিবির টহল দল পরিত্যক্ত নৌকাটি জব্দ করে তল্লাশি চালিয়ে একটি জি-থ্রি রাইফেল, তিনটি জি-থ্রি খালি ম্যাগাজিন, তিনটি ফাইবার খালি ম্যাগাজিন, ৫১৫ রাউন্ড গুলি, একটি সিম্ফনি বাটন মোবাইল ফোন, দুটি এয়ারটেল সিম, ৪ হাজার পিস ইয়াবা, একটি জি-থ্রি পাউচ, দুটি লুঙ্গি, একটি কলার গেঞ্জি, নগদ ২০ টাকা এবং ১২ প্যাকেট সিগারেট উদ্ধার করে।

বিজিবির গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হ্নীলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ কাব্যিক চর এলাকায় জেলের বেশধারী দুই রোহিঙ্গার কাছ থেকে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত একই সশস্ত্র দল পালংখালীর এ ঘটনাতেও অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির জনবল মোতায়েন ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ জনগণ এবং জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে তারা সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বংশী নদীতে গোসলে নেমে কিশোরের মৃ#ত্যু

মামুন আহমেদ জয়, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাই উপজেলার ইসলামপুর এলাকার বংশী নদীতে গোসল করতে নেমে আব্দুস সালাম (১৩) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ জুন) আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বংশী নদীতে গোসল করতে যায় আব্দুস সালাম। একপর্যায়ে নদীতে লাফ দিলে সাঁতার না জানার কারণে সে পানিতে তলিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ২টা ৫০ মিনিটে দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ধামরাই ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট এবং অধিদপ্তরের একটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

দীর্ঘ সময় পানির নিচে অনুসন্ধান চালানোর পর নদীর গভীরতা ও তীব্র স্রোতের কারণে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে কিশোরটির মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে ধামরাই ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আল আমিন খানের নেতৃত্বে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহ ফায়ার সার্ভিসের বডি ব্যাগে করে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত আব্দুস সালাম ধামরাই উপজেলার ইসলামপুর পঞ্চাশ এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুস সেলিম খানের ছেলে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নদীতে গোসল ও সাঁতারের সময় শিশু-কিশোরদের প্রতি আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

৬ নবজাতকের মৃ*ত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অবহেলা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আলোকিত প্রতিবেদক:

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে চরম অবহেলা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে এবং প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যারা তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় হাতে পাওয়া যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষটি চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত ছিল না। কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় ও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়, যা নবজাতকদের অবস্থার অবনতির একটি কারণ হতে পারে।

তিনি আরও জানান, তদন্তে সংশ্লিষ্ট নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, দায়িত্বে থাকা সেবিকাদের চরম অবহেলা ও সমন্বয়হীনতা ছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো চিকিৎসককে দ্রুত অবহিত করা হয়নি এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৯০০ বর্গফুটের একটি কক্ষে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রোগী ও স্বজন অবস্থান করছিলেন, যা ধারণক্ষমতার বাইরে ছিল। সেখানে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণের ঘাটতি ছিল বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি ছিল না। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নার্সদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও ছিল না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালটি যেহেতু পূর্ণরূপে বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি নয়, তাই আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি জানান, আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

বাজেট ২০২৬-২৭, পূর্ণাঙ্গ সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ঘো#ষণা আসছে

আলোকিত প্রতিবেদক: প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা দারিদ্র্যের বৃত্ত ভেঙে দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তরের ‘মহা-পরিকল্পনা’ নিয়ে আসছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও সর্বজনীন করার এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন করে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে এই নিরাপত্তা জালের আওতায় আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও অরক্ষিত (ভালনারেবল) জনগোষ্ঠীর জন্য ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা উভয়ই বাড়ানো হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় মোট ১৮টি ভাতা এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের চেয়ে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে ১১ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। সামাজিক সুরক্ষা খাতে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি করে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা করা হচ্ছে। সামাজিক সহায়তা খাতে চলতি অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সেখান থেকে বৃদ্ধি করে আগামী অর্থবছরে সামাজিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৬২ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিস্তৃতির পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে লাইফ-সাইকেলভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা আগামী বাজেটে তুলে ধরতে যাচ্ছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে খণ্ডিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যবস্থা থেকে সরে এসে সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করে ১১ জুন জাতীয় সংসদে পূর্ণাঙ্গ সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ঘোষণা দেবেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

পর্যায়ক্রমে সব নাগরিককে আজীবন সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব নাগরিককে সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নিয়ে আসাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত ও নির্বাচিত প্রতিটি খাতে ধীরে ধীরে মানুষের কাছে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিএনপির ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ছাড়া, খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন করে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হবে। নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তাভিত্তিক ১৮টি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩ কোটি ৬৩ লাখে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে প্রথমবারের ফ্যামিলি কার্ড বাবদ ১২ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। ৪১ লাখ কার্ডধারীরা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে দেওয়া হবে বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’, যার মাধ্যমে কৃষকরা বছরে ২৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে খাল খনন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৬ লাখ ৬৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৪ লাখ ২ হাজারে উন্নীত করা হচ্ছে।

আগামী বাজেটে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে প্রবীণদের সুরক্ষায়। বিশেষ করে ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য এবার বাড়তি ভাতার ঘোষণা থাকছে। বর্তমানে ৬১ লাখ নাগরিক প্রতি মাসে ৬৫০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পেলেও আগামী বাজেটে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের ভাতার সংখ্যা বাড়ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, বীরউত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকদের মাসিক ভাতা বাড়ানো হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে নতুন করে পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও বিনিয়োগ সংকটের এই সময়ে বাজেটে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে পরিবারের সবচেয়ে অবহেলিত ও কঠোর পরিশ্রমী মানুষটির (নারী) প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া এবারের বাজেটের লক্ষ্য। কৃষক ও সৃজনশীল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের ক্ষমতায়ন এবং বেসরকারি খাতের জন্য নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ তৈরি করাও বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত থেকেছে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং বিনিয়োগ সংকট বাড়ছে, সেখানে প্রথমেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়া জরুরি। আমরা দেখেছি পরিবারের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষ হচ্ছেন গৃহকর্মে নিয়োজিত নারী। তিনি সবার শেষে ঘুমান, সবার আগে ওঠেন, কিন্তু তার কোনো সামাজিক বা আর্থিক মূল্যায়ন নেই। কারণ তার নিজস্ব আয় নেই। এ কারণে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সরাসরি নারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি হচ্ছে কৃষক। তাদের জীবনমান উন্নত না হলে কৃষিও এগোবে না।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বিশ্বকাপের ফিফা অ্যালবামেও সানজয়, সঙ্গে থাকছেন নোরা ফাতেহি

বিনোদন ডেস্ক:

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পারফর্মেন্স এর খবর তো আগেই জানা, এবার ফিফার অফিসিয়াল মিউজিক অ্যালবামে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে এবং সংগীত প্রযোজক সানজয়। একই অ্যালবামে বিশ্বের নামকরা সংগীত তারকাদের সঙ্গে তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সানজয় নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং পরিশ্রমের ফল হিসেবে ফিফার মতো বৈশ্বিক মঞ্চে নিজের গান অন্তর্ভুক্ত হওয়া তার জন্য গর্বের মুহূর্ত।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যালবামে তার গান ‘সির সির’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ট্র্যাকে নোরা ফাতেহি ও ভেজড্রিমসহ একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্পীর সঙ্গে পারফর্মেন্সে থাকছেন তিনি।

একই অ্যালবামে শাকিরা, দ্য রোলিং স্টোনস, ড্যাডি ইয়াঙ্কি, বার্না বয় ও রেমার মতো বিশ্বখ্যাত সংগীত তারকার গানও স্থান পেয়েছে। ফলে এটি বিশ্বসঙ্গীতের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক সংগীত প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সানজয় পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠেন এবং বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক একজন ইডিএম (ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক) প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে কাজ করছেন। ইলেকট্রনিক এবং ফিউশন ঘরানার সংগীতে তার কাজ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত—বিশেষ করে বলিউড ও আরবান পাঞ্জাবি মিউজিক ঘরানায় দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। এরই মধ্যে তার প্রযোজনায় গান করেছেন অরিজিৎ সিং, গুরু রন্ধাওয়া, সুনিধি চৌহান, জনিতা গান্ধী, বেনি দয়াল, আমেরিকান আইডলের শিল্পী এলিয়ট ইয়ামিন, ট্রেভর হোমস ও অ্যাশ কিংসহ আরও অনেকে।

সংগীত ক্যারিয়ারে সানজয় বলিউডের সংগীত অঙ্গনেও কাজ করেছেন। একাধিক জনপ্রিয় হিন্দি গানের সংগীত প্রযোজনা ও অ্যারেঞ্জমেন্টে যুক্ত থাকার মাধ্যমে তিনি বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বলে জানা যায়। সমসাময়িক হিন্দি ও ফিউশন সংগীতের বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ জুন ২০২৬/মওম

বিশ্বকাপের আগে ফিফার নতুন সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়

আলোকিত প্রতিবেদক:

ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোতে পুনঃব্যবহারযোগ্য (রিফিলযোগ্য) পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে ১০৪ ম্যাচের এই মহাযজ্ঞ ঘিরে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে ফিফার নতুন নীতিমালা সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা টিকিটধারীদের ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে যে স্টেডিয়ামে আর কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল বহন করা যাবে না। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে এক লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার স্বচ্ছ ও খালি প্লাস্টিক বোতল বহনের অনুমতি ছিল। গত ২ জুন সেই নিয়ম পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য আঘাতের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্টেডিয়ামের বাইরে হাইড্রেশন স্টেশন, মিস্টিং জোন, ফ্যান এরিয়া ও কুলিং টেন্ট রাখা হবে। পাশাপাশি ভেন্যুর ভেতরে পানির মূল্যও নির্ধারিত থাকবে।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক সমর্থক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অভিযোগ করেছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে মূলত পানীয় বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় বাড়ানোর পথ তৈরি করা হচ্ছে। তাদের মতে, দর্শকদের স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনের চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফুটবল সমর্থক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত পানি সহজলভ্য রাখা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পানির বোতল নিষিদ্ধ করা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে একই ধরনের আবহাওয়া থাকলেও এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। বরং তখন দর্শকদের জন্য পানির মূল্য তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছিল।

এদিকে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম জানিয়েছে, তাদের ভেন্যুতে মাত্র দুই ডলারে পানীয় কিনে সীমাহীন রিফিল সুবিধা পাওয়া যাবে। এই উদ্যোগ সমর্থকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে ফিফার এই সিদ্ধান্ত এখন ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তি এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের অভিযোগ—দুইয়ের মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দর্শকদের মৌলিক সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রশ্ন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসতে পারে যারা 

বিশেষ প্রতিনিধি: মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা চায় পরীক্ষিত ও ত্যাগিদের, যারা কঠিন সময়ে সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারবে।
মিটফোর্ডের মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সময় দেখা গেছে, আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (AUST) এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহ কিছু গুপ্তরা দল থেকে পদত্যাগ করে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পদে গুপ্তরা ঢুকে সুযোগ নিবে এরকম পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য মাঠ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের কেন্দ্রীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ সহ সব পর্যায়ের পদে দেখতে চায়। যেহেতু কেন্দ্রীয় সংসদ হচ্ছে , বিএনপি’র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরীর পাইপলাইন তাই এখানে বিভিন্ন পদে তারাই আসুক যারা সৎ, মেধাবী, স্মার্ট, ত্যাগী এবং কর্মীবান্ধব হিসেবে সুপরিচিত।

শেষমুহুর্তে যারা আলোচনায় আছেন তাদের মধ্যে –

০৬-০৭ সেশনে : আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া।

০৭-০৮ সেশনে : নাসির উদ্দিন নাসির,শ্যামল মালুম,জহির রায়হান আহমেদ।

০৮-০৯ সেশনে: ইজাজুল কবির রুয়েল, সাফি ইসলাম,খোরশেদ আলম সোহেল, শফিকুল ইসলাম, এইচ এম আবু জাফর, মনজুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, সীরাতুল সাঈম।

০৯-১০ সেশনে: আমান উল্লাহ আমান,মোঃ হাসানুর রহমান , আরিফুল ইসলাম, সালেহ মোহাম্মদ আদনান, মমিনুল ইসলাম জিসান, শরিফ প্রধান শুভ, ফারুক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।

১০-১১ :মাসুম বিল্লা, আমিনুল ইসলাম, মিয়া মো: রাসেল, গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, মাসুম বিল্লা(কার্জন মাসুম), খন্দকার অনিক।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ঘাটাইলে নিখোঁজের চারদিন পর লা*শ মিললো ডোবায়

রাহাত সরকার:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর এক যুবদল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার কাউনটার বিল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মিন্টু খান (৪৫) উপজেলার আমুয়াবাইদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি ছাত্রদলের সাবেক কর্মী ছিলেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে মিন্টু খান বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান জানান, বুধবার রাতের দিকে কাউনটার বিল এলাকা থেকে মিন্টু খানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে মিন্টু খানের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ জুন ২০২৬/মওম

রামিসা ধ*র্ষণ ও হ*ত্যা মামলার রায় ৭ জুন

আলোকিত প্রতিবেদক:

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন (রোববার) মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার পর বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। এর মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর আগে বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ওইদিন আদালতে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ভিডিও ফুটেজ এবং বিভিন্ন আলামত উপস্থাপন করা হয়। এতে রামিসার নিখোঁজ হওয়া, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারের বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তার বিষয়টিও আলোচিত হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় সোহেল রানা প্রথমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। একপর্যায়ে তিনি ‘ডলার’ নামের একজনের কথা উল্লেখ করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তদন্ত নথি কিংবা ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই নামের কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এসে নতুন কোনো নাম উল্লেখ করা বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা বিচার বিলম্বিত করার কৌশল হতে পারে। তিনি আরও জানান, আদালতে দেওয়া সোহেল রানার বক্তব্য নথিভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় আসবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে।

মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তে জব্দ করা বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।

মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

এখন রামিসার পরিবারসহ সারা দেশের মানুষের নজর আগামী ৭ জুন ঘোষিত হতে যাওয়া এই বহুল আলোচিত মামলার রায়ের দিকে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

আর্জেন্টিনা সমর্থক বান্ধবীর বাসায় গিয়ে ব্রাজিল সমর্থক আ#টক!

 ‍বিশেষ প্রতিবেদক: শরীয়তপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থক এক তরুণীর বাসায় দেখা করতে গিয়ে রুহুল আমিন নামের এক ব্রাজিল সমর্থককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে বিয়ের শর্তে ওই যুবক ও তরুণীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (০২ জুন) রাতে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাঁগচী বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, রুহুল আমিন সদর উপজেলার আঁটিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সে। তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের বাবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ব্রাজিল দলের সমর্থনে নিয়মিত পোস্ট করতেন ফেসবুকে। অপরদিকে তরুণী আঁখি আক্তার আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক তিনিও ফেসুবকে ছবি পোস্ট করতেন তিনি।

মঙ্গলবার রাতে ঘোরাঘুরি শেষে রুহুল আমিন আংগারিয়া বাগচী বাজার এলাকার ওই তরুণীর বাসায় গেলে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের আটক করে ফেলে। পরে তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে রুহুল আমিন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেও দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের দাবি করেন সেই তরুণী।

একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে বিয়ের শর্তে তাদের পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়। বর্তমানে তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে ফুটবল উন্মাদনার মধ্যে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

শরীয়তপুর ব্রাজিল সমর্থক ফ্যান্স ক্লাবের সদস্য সালাউদ্দিন মুন্না বলেন, রুহুল আমিন গত বিশ্বকাপের পর থেকে আমাদের ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নেই। তাই এ ঘটনার দায় আমরা নিচ্ছি না।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা সমর্থক ফ্যান্স ক্লাবের সদস্য আবিদ খান বলেন, ফুটবল দলগুলোর খেলোয়াড়দের আচরণ যেমন, অনেক সময় সমর্থকদের মধ্যেও তার প্রভাব দেখা যায়।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে আমরা তাদের থানায় নিয়ে আসি। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি