আজ রবিবার, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 114

শিক্ষার্থীদের উপবৃ*ত্তির টাকা বিত*রণে নতুন পদ*ক্ষেপ নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মায়ের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

নতুন পদক্ষেপ বা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জিটুপি (G2P) প্রক্রিয়ায় মায়েদের হাতে এই টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে মায়ের অনুপস্থিতিতে বাবা অথবা বৈধ অভিভাবক এই সুবিধা পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তির আওতায় আসবে। একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে, যা দিয়ে তারা স্কুল ব্যাগ, ড্রেস, জুতা ও টিফিন বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে পারবে।

সোমবার (৯ মার্চ) প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২৬ জারি করে এই নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে।

নতুন নিয়মে উপবৃত্তির হারও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ৭৫ টাকা ও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১৫০ টাকা করে পাবে। একই পরিবারের দুইজন শিক্ষার্থী থাকলে তারা ৩০০ টাকা পাবে। এছাড়া যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু আছে, সেখানকার শিক্ষার্থীরা মাসে ২০০ টাকা এবং একই পরিবারের দুইজন হলে ৪০০ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে।

উপবৃত্তি সচল রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসে অন্তত ৮০ শতাংশ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া বার্ষিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ৩৩ শতাংশ)। কোনো শিক্ষার্থী টানা তিন মাস অনুপস্থিত থাকলে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে ডিজিটাল তদারকি করবে। অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অনিয়ম হলে প্রচলিত আইনে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে ।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

রাজধানীর মিরপুরের বাণিজ্যিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুর-২ নম্বরে অবস্থিত ১১তলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের তৃতীয় তলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের চেষ্টার পর  আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

৯ মার্চ সোমবার বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম।

তিনি বলেন, আমাদের ছয়টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আগুন লাগা ভবন থেকে মোট ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী।

এছাড়া এক নারীকে আহত অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ।

এর আগে সোমবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এই আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

আলোকিত প্রতিদিন /০৯ মার্চ ২০২৬ /মওম

ঐতিহ্য*বাহী টাঙ্গাইল শাড়ি দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রা*ণান্ত চেষ্টা

 পাইকারীতে পোয়াবাড়ো খুচরা বিক্রিতে শঙ্কা
 জিআই ও ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে নির্ভরতা
 জনপ্রিয়তা পাচ্ছে থ্রিপিস-পাঞ্জাবী

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

বসন্তের ফুরফুরে হাওয়ার মতোই টাঙ্গাইলের তাঁত এলাকাগুলোতে এখন এক অন্যরকম আনন্দের শিহরণ। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, লোকসান আর অনিশ্চয়তার চাদর সরিয়ে আবারো ‘খটখট’ শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে দেলদুয়ারের পাথরাইল, সদর উপজেলার বাজিদপুর এবং কালিহাতীর বল্লা-রামপুর। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই টাঙ্গাইল শাড়িতে নতুন করে হাওয়া লাগায় মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্ত চেষ্টায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আসন্ন ঈদুল ফিতর ও বৈশাখ সামনে রেখে ঝিমিয়ে পড়া এই শিল্পে এখন কিছুটা হলেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। জানা যায়- টাঙ্গাইল শাড়ির যাত্রা শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের শেষভাগে। টাঙ্গাইলের বাজিতপুর, পাথরাইল, নলসন্ধা ও চণ্ডী এলাকার বসাক সম্প্রদায়ের তাঁতিদের হাত ধরে এই শিল্পের বিকাশ ঘটে। সিল্ক, কটন, জামদানি ও সফট সিল্কের নিপুণ কারুকাজে তৈরি এই শাড়ি এর সূক্ষ্ম বুনন ও বৈচিত্র্যময় পাড়ের নকশার জন্য অনন্য। মাছ, পদ্ম বা লতার মোটিফ সমৃদ্ধ এই শাড়ি ওজনে হালকা এবং পড়তে আরামদায়ক হওয়ায় যুগ যুগ ধরে এটি বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ টাঙ্গাইল শাড়ির ‘জিআই’ স্বীকৃতি দাবি করলে এক বৈশ্বিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে বাংলাদেশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে গেজেটভুক্ত করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ‘ঐতিহ্যবাহী
টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প’ ইউনেস্কোর ‘অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি বাংলাদেশের একক অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে সুসংহত করেছে। বৈশ্বিক স্বীকৃতি এলেও মাঠপর্যায়ে তাঁতিদের জীবন সংগ্রাম এখনও কাটেনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্যে কিছু জটিলতার কারণে ঐতিহ্যবাহী শাড়ির রপ্তানি অনেকটা কমে গেছে- যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সুতা ও রঙের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে প্রান্তিক তাঁতিরা তাদের লাভের অংশ হারাচ্ছেন। ফলে অনেক দক্ষ কারিগর পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া হাতে বোনা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের জায়গায় স্বল্পমূল্যের ‘পাওয়ার লুম’ শাড়ির বিস্তার ঘটায় প্রকৃত হস্তশিল্পীরা প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। সরেজমিনে জানাগেছে- গত কয়েক বছর ধরেই টাঙ্গাইল শাড়ির বাজার এক চরম দুঃসময় পার করছিল। সুতার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট, অন্তর্বর্তী সরকারের ভারত বিরোধিতায় বাজার হারিয়ে অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঋণগ্রস্ত হয়ে অনেক কারিগর পৈতৃক পেশা ছেড়ে রিকশা চালানো কিংবা দিনমজুরি কাজে নাম লেখাতে বাধ্য হন। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসায় বাজারে গতি ফিরতে শুরু করেছে। তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত নানা সূত্রমতে, জেলায় তাঁতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে নানা রকম তথ্য পাওয়া গেলেও অধিকাংশই অসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন বেসিক সেন্টারগুলো শুধুমাত্র তাদের ঋণগ্রহিতাদের সংখ্যার ভিত্তিতে তাঁত সংখ্যা সংরক্ষণ করে থাকে। তন্তুবায় সমবায় সমিতি নিষ্ক্রীয় থাকায় তাদের কাছে হাল সময়ের তাঁত সংখ্যার সঠিক হিসাব নেই। বিসিক বা পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের কাছেও রয়েছে আংশিক বা খন্ডাংশের হিসাব।
তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, টাঙ্গাইল জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। মাঝখানে মন্দার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ তাঁত বন্ধ হয়ে গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার চালু হতে শুরু করেছে। বাতাঁবো’র কালিহাতী(বল্লা) বেসিক সেন্টারের সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের হিসাব
অনুযায়ী ১৬টি প্রাথমিক ও ১টি মাধ্যমিক তাঁতি সমিতির মোট তাঁত সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। এরমধ্যে এক হাজার ৬৯৫জন তাঁতির বিপরীতে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ২ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ আদায়ের হার ৮৭ শতাংশ। এছাড়া আর্থসামাজিক ও চলতি মূলধন সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে ৬৩১জন তাঁতির মাঝে ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। চলতি ঋণ আদায়ের হার ৭৬ শতাংশ। বাতাঁবো’র টাঙ্গাইল(বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারে একাধিকবার গিয়েও কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দেখা পাওয়া যায়নি। অফিসে বিশালাকার তালা ঝুলতে দেখা গেছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও বেসিক সেন্টারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইল জেলা শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চণ্ডী, নলুয়া এবং কালিহাতীর বল্লা ও রামপুর এলাকা এখন অনেকটা উৎসবমুখর। তাঁতিরা দিনরাত এক করে বুনছেন জামদানি, সিল্ক, সফট সিল্ক এবং টিস্যু সিল্কের মতো আকর্ষণীয় শাড়ি। বর্তমান বাজারে টাঙ্গাইল শাড়ি মানভেদে ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে
উৎসবের সময় ৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অনলাইন ও অফলাইন উভয় মার্কেটেই টাঙ্গাইল শাড়ির চাহিদা রয়েছে। সরাসরি হাটের পাশাপাশি বর্তমানে ই-কমার্স এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যাপক বেচাকেনা হচ্ছে। সূত্রমতে, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে এবছর টাঙ্গাইলে প্রায় ২৪ লাখ শাড়ির বিপরীতে ৩৫০ কোটি টাকার শাড়ি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা দামের শাড়ির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে ভারতের জিআই ট্যাগ নিয়ে বিতর্কের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে টাঙ্গাইল শাড়ির প্রতি আবেগ ও চাহিদা বেড়েছে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ। তবে সামগ্রিকভাবে শাড়ি ব্যবহার না করায় এ শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বাধ্য হয়ে তাঁত মালিক বা তাঁত ফ্যাক্টরী মালিকরা হাতে বোনাতাঁত বা হ্যান্ডলুমে থ্রি-
পিস ও পাঞ্জাবীর কাপড় তৈরির দিকে ঝুঁকছে। আজকাল শাড়ির পাশাপাশি বেশিরভাগ ফ্যাক্টরীতে থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবীর কাপড় তৈরি করতে দেখা গেছে।

পাথরাইল এলাকার তাঁতপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়- এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দিন-রাত সমান করে কাজ করছেন কারিগররা। কোনো কোনো বাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাকু চালানোর শব্দ। তাঁতি রহমত আলী জানান, গত বছর ঈদের আগে ঘরে চাল ছিল না- বেচাকেনা না থাকা ও ‘মব’ এর ভয়ে মালিকও টাকা দিতে পারে নাই। এবার মালিক অগ্রিম টাকা দিয়েছে, দিন-রাত কাজ করছেন। তিনি শাড়ি ও থ্রি-পিসের কাপড় বুনেন। অপর তাঁতি ধীরেন পাল যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোং এর ফ্যাক্টরীতে খটখট করে একটানা কাজ করছেন। তিনি জানান, ঈদ ও বৈশাখে শাড়ির চেয়ে থ্রি- পিস ও পাঞ্জাবীর চাহিদা বেশি থাকে। তাই মালিকরা থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবী তৈরির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। তাছাড়া টাঙ্গাইল শাড়ির তুলনায় থ্রি-পিস ও পাঞ্জাবী তৈরিতে কারুকাজ অনেক সহজ, পরিশ্রমও কম। সে তুলনায় মজুরী বেশি। ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের চাহিদাকে মাথায় রেখে এবার বাজারে এসেছে বালুচরী, জামদানি, তসর, সিল্ক এবং সফট সিল্কের ওপর হাতে করা নিপুণ নকশার শাড়ি এবং নানা রঙ-বেরঙ ও কারুকাজের থ্রিপিস-পাঞ্জাবী। শাড়িতে হাতে করা এমব্রয়ডারি এবং কাঁথা স্টিচের কাজ করা টাঙ্গাইল শাড়ি এখন তরুণীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। শাড়ি ব্যবসায়ীরা জানায়, রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা সরাসরি তাঁত সমৃদ্ধ এলাকায় আসছেন। আগে যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা মব ভায়োলেন্সের ভয়ে পাইকাররা আসতে চাইতেন না- এখন তারা নির্ভয়ে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সুতার দাম এখনো কিছুটা চড়া থাকায় লাভের গুড় পিঁপড়েয় খাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের মতে, সুতা ও রঙের আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিলে এবং সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা গেলে এই শিল্প হারানো গৌরব পুরোপুরি ফিরে পাবে। কালিহাতী(বল্লা) বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাঁত শিল্প ও এ শিল্পের বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদ্যোগে বস্ত্রমেলা সহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নিয়মিত ক্ষুদ্রঋণ ও চলতিমূলধন হিসেবে ঋণ দিয়ে তাঁতিদের সহায়তা করার চেষ্টা করছে। টাঙ্গাইল জেলা শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, এ শিল্প বরাবরই অবহেলিত। তাঁতবোর্ডের কার্যক্রম শুধুমাত্র ঋণ দেওয়া আর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গাইল শাড়ি শুধু দেশের চাহিদা মেটাবে না বরং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ঐতিহ্যের সুতোয় বোনা এই শিল্পে জড়িতরা এখন কেবল বেঁচে থাকার লড়াই করছে না বরং বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্নে বিভোর।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

জ*ঙ্গল সলিমপুরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাঁড়া*শি অভি*যান

মুহাম্মদ জুবাইর:

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে শুরু হয়েছে দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সাঁড়াশি অভিযান। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিশাল যৌথ অভিযান চলছে।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) ফজরের নামাজের পর থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখে অভিযান পরিচালনা করছেন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন সদস্য, ৪০০ র‍্যাব সদস্য এবং ১২০ বিজিবি সদস্য অংশ নিয়েছেন। এছাড়া অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৫টি সাঁজোয়া এপিসি যান, তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ রাখা হয়েছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় অভিযান পরিচালনায় বিশেষ কৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, প্রায় দুই যুগ ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকা বিভিন্ন অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এখানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল ছিল। এই সুযোগে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখানে নিজেদের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্র তৈরির কারখানা, মাদক ব্যবসা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এসব অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে আলীনগর ও ছিন্নমূল নামের কয়েকটি এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে জীবিকার সন্ধানে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে আসেন ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই ফারুক। প্রথম দিকে ইয়াসিন চট্টগ্রাম শহরে সিএনজি অটোরিকশা চালাতেন এবং নগরের একটি বস্তিতে বসবাস করতেন। পরে কিছুদিন একটি জুট মিলে চাকরিও করেন তিনি।কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে ভাড়া নেন একটি ঘর। এরপর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের এনে সেখানে আশ্রয় দিতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গড়ে ওঠে তার নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী।
পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী পাহাড় কেটে মাটি ও জমি বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে থাকেন ইয়াসিন ও তার ভাই ফারুক। পাহাড় কেটে একদিকে মাটি বিক্রি এবং অন্যদিকে দখল করা জায়গা বিক্রি করে অল্প সময়েই তারা কোটিপতি বনে যান।
এইভাবে বিশাল একটি এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা ওই জায়গার নাম দেন ‘আলীনগর’। স্থানীয়দের দাবি, কার্যত এটি হয়ে ওঠে একটি আলাদা রাজ্য, যেখানে দেশের প্রচলিত আইন কার্যকর ছিল না। আলীনগরে প্রবেশের জন্য ছিল তিনটি নির্দিষ্ট পথ। এই তিনটি পথেই সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকত ইয়াসিন বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা। তাদের অনুমতি ছাড়া বাইরের কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারত না। একইভাবে ভেতরে থাকা কেউও অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে পারত না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে বসবাসকারীদের ওপর কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছিল। কেউ অতিথি নিয়ে এলে অতিথির জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন কার্ড জমা দিতে হতো নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। যারা স্থায়ীভাবে সেখানে বসবাস করতেন, তাদের ইয়াসিনের স্বাক্ষর করা বিশেষ পাস দেওয়া হতো। সেই পাস দেখিয়ে তারা বাইরে যাতায়াত করতে পারতেন। কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও কেউ থানায় অভিযোগ করতে পারতেন না। বরং ইয়াসিন ও ফারুকের কথিত আদালতেই বিচার হতো। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে এক ধরনের অঘোষিত শাসন ব্যবস্থা চালু ছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সম্প্রতি সরকার জঙ্গল সলিমপুরের খাস জমিতে বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তথ্যমন্ত্রী, কয়েকজন সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি মেয়রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুলাই সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা।

এই ঘটনার পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরে এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে ১৮ জুলাই ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।এরপর জেলা প্রশাসন আলীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি মাটি কাটার স্ক্যাভেটর, ছয়টি ড্রাম ট্রাক এবং একটি বড় ট্রাক জব্দ করে। এসব যন্ত্রপাতি পাহাড় কাটা ও অবৈধ মাটি বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হতো বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় রোকন মেম্বার নামে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর উত্থান ঘটেছে। তার নেতৃত্বে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এলাকার সচেতন মহলের মতে, ইয়াসিন ও রোকন মেম্বারের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, চট্টগ্রাম শহরে যেসব ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে, তার অনেক অপরাধীই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বসবাস করে। তারা মূলত গ্রেপ্তার এড়াতে এই দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল জঙ্গল সলিমপুর এলাকা। সম্প্রতি এই এলাকায় অভিযানে গিয়ে র‍্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত এবং তিনজন আহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে।

এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে এবং সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের তথ্য, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ইউএভির মাধ্যমে প্রাপ্ত ফুটেজের ভিত্তিতে পুরো অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এই অভিযানের সার্বিক নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ করছে। আজ ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে যৌথ বাহিনী সমন্বিতভাবে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান শুরু করে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় চারদিক থেকে এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের সময় সাঁজোয়া যান, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রয়োজনে সহায়তার জন্য।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা ধ্বংস করা এবং এলাকাটিকে অপরাধমুক্ত করা।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযান চলমান রয়েছে এবং পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়েছে। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

তারাবির সময় হঠাৎ অসুস্থ কাবার ইমাম,নামাজ শেষ হলো যেভাবে

ধর্ম ডেস্ক:

তারাবির নামাজের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মক্কার পবিত্র কাবা শরীফের ইমাম শায়খ আবদুল্লাহ আল-জুহানি। চার রাকাত নামাজ আদায়ের পর ক্লান্তি এবং শারীরিক অবসাদ অনুভব করায় তিনি নামাজ থেকে সরে দাঁড়ান। পরে বাকি নামাজে ইমামতি করেন আরেক ইমাম শায়খ বান্দার বালিলা।

রমজান মাসে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। এরই মধ্যে এক রাতে নামাজ পড়াতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কাবা শরীফের ইমাম শায়খ আবদুল্লাহ আল-জুহানি।

চার রাকাত তারাবি আদায়ের পর তিনি ক্লান্তি ও শারীরিক অবসাদ অনুভব করেন। এ অবস্থায় তিনি নামাজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। তখন সঙ্গে সঙ্গেই সামনে এসে বাকি নামাজে ইমামতি শুরু করেন আরেক ইমাম শায়খ বান্দার বালিলা।

রমজানজুড়ে মসজিদুল হারামে ইমামরা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কোরআনের দীর্ঘ অংশ তিলাওয়াত করেন। লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে তারা মুখস্থ কোরআন থেকে তিলাওয়াত করে তারাবির নামাজ পরিচালনা করেন, যা শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য।

এ ঘটনার পর মুসল্লি এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই শায়খ আবদুল্লাহ আল-জুহানির দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন।

তিনি নামাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরপরই শায়খ বান্দার বালিলা তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসল্লির জামাতের ইমামতি অব্যাহত রাখেন।

আলোকিত প্রতিদিন /০৯ মার্চ ২০২৬ /মওম

প্রতিদিন ১০০ কোটি ডলার খরচ: যু#দ্ধ নিয়ে মহাবিপদে ট্রাম্প!

আলোকিত ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ। প্রতিদিন বিপুল সামরিক ব্যয়, জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি এবং ভোটারদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ মিলিয়ে এই যুদ্ধ এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ্যখন।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের খরচ প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দেখা দিতে শুরু করেছে।

ভার্জিনিয়ার আরলিংটনের কাছে লিবার্টি গ্যাস স্টেশনে কাজ করেন ৫৬ বছর বয়সী ইয়াম সিতৌলা। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরেই জ্বালানির দাম প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে। কখনো ১০ সেন্ট, কখনো তারও বেশি। গ্রাহকেরা প্রায়ই জানতে চাইছেন কেন দাম বাড়ছে।

হোয়াইট হাউস থেকে কয়েক মাইল দূরের এই স্টেশনেও ইরানে মার্কিন হামলা শুরুর পর থেকে নিয়মিত দাম বাড়ছে। সিতৌলার ভাষায়, তার মালিক প্রায় প্রতিদিনই ফোন করে সাইনবোর্ডে নতুন দাম বসাতে বলছেন। এমনকি সামনে আরও ১ দশমিক ৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় আকারের সামরিক মোতায়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মোট ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল ব্যয় ট্রাম্পের মাগা সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছে।

জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় নয়। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ক্যাপিটল হিলের একটি গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানির বাজারেও।

প্লাইমাউথ ইনস্টিটিউট ফর ফ্রি এন্টারপ্রাইজের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড স্টার্ন বলেন, জ্বালানির দাম অনেক সময় জনমতের বড় সূচক হয়ে দাঁড়ায়। বারাক ওবামাও একসময় বলেছিলেন, তার জনপ্রিয়তার অনেকটা বোঝা যেত গ্যাসের দামের মাধ্যমে।

এদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে যে ট্রাম্প বিদেশনীতি নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কি না। যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়, তাহলে দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন তদন্ত, অভিশংসন এবং আইন প্রণয়নে অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে।

পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জ্বালানির দাম কমানোর উপায় খুঁজতে বলেছেন। এমনকি ফেডারেল গ্যাসোলিন কর সাময়িকভাবে বাতিল করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের বড় উদ্বেগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয়। ওয়াশিংটন পোস্টের এক জরিপে ২৫০০ জনের বেশি মানুষের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও কম বলেছেন তারা আর্থিকভাবে এগোচ্ছেন। আর ৪৫ শতাংশ বলেছেন খাদ্যের দাম তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সোর্সঃ দ্য টেলিগ্রাফ-

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

তিলকখালী খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক

শহীদুল ইসলাম রুবেল:

বিএনপির চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেখানো পথেই হাটছেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক।তিনি আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে নিজ হাতে কুদাল দিয়ে মাটি কেটে টুকরি মাথায় নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত তিলকখালী খাল খনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় তার মতো বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সংসদ সদস্যকে অনুসরন করে কুদাল টুকরি নিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন।এ উপলক্ষে আজ সদর উপজেলার মেদনি ইউনিয়নের কৃষ্ণাখালি নামক স্থানে সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই খাল খননের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে খাল পাড়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টুর সঞ্চালনায় খাল খনন কাজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নেত্রকেণা- ২ (সদর -বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জিপি এডভোকেট মাহফুজুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, মনিরুজ্জামান দুদু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সারাদেশে পুকুর, খাল উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যায়ে ৪ হাজার ২০ মিটার দীর্ঘ তিলকখালী খাল খনন করা হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

সৌদি আরবে ই*রানি হা*মলায় মার্কিন সেনা নি*হত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবে ইরানি হামলায় আহত এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই ঘটনার পরপরই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দেশটিতে অবস্থানরত তাদের জরুরি কাজে নিয়োজিত নন এমন কর্মী ও তাদের পরিবারকে সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

গত ১ মার্চ সৌদি আরবে চালানো ইরানি হামলায় ওই মার্কিন সেনা আহত হয়েছিলেন। পরে গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স রবিবার জানিয়েছে, আল-খারজ গভর্নরেটের একটি আবাসিক এলাকায় সামরিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিহত দুজনের বাইরে আহতদের সবাই বাংলাদেশি প্রবাসী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সৌদি আরবে এটিই প্রথম হতাহতের ঘটনা।

সূত্র: এপি

আলোকিত প্রতিদিন /০৯ মার্চ ২০২৬ /মওম

ভারতে বসে শেখ হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

আলোকিত প্রতিবেদক:

ভারতে বসে শেখ হাসিনা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ্বং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট ভারতে পালিয়ে গেছে, কিন্তু সেখানে বসে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে, যা রীতিমতো ফৌজদারি অপরাধ।

৮ মার্চ রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

ফখরুল বলেন, ‘গত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা অসংখ্য পরিবারকে নিঃস্ব করেছে, শত শত মানুষকে গুম এবং খুন করা হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি। গুম ও খুনের চেয়েও বড় ভয়াবহ বাস্তবতা হলো ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার এ নিয়ে কোনও অনুশোচনা নেই।

গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক। যে সব পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে তাদের সন্তানদের মানুষ করা, বেঁচে থাকা ও সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলো অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সন্তানদের মানুষ করা, বেঁচে থাকা ও ভালোভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, আমি ফিরে গিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাব, তার কাছে চিঠি লিখব যে এসব পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে এটি তাদের প্রাপ্য হওয়া উচিত।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে নির্বাচন হয়েছে, কেউ মন্ত্রী হয়েছে, কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন, আবার অনেকেই বড় চাকরিতে গেছেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগের কারণে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, তাদের সন্তানরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। অন্তত তাদের ভবিষ্যৎকে একটু সুন্দর করার চেষ্টা করা সবার দায়িত্ব।

মির্জা ফখরুল আবেগঘন কণ্ঠে জানান, আন্দোলনে নিখোঁজ বা নিহতদের অনেক সন্তানকে তিনি ছোটবেলা থেকে দেখেছেন। কেউ কেউ বাবাকে হারিয়ে বড় হয়েছে। এমন পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে সহ্য করতে না হয়, সেজন্য সমাজ এবং রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

সানজীদা আখতার তুলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

আলোকিত প্রতিদিন /০৯ মার্চ ২০২৬ /মওম

যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে বিমানের জরুরি অবতরণ

আলোকিত ডেস্ক:

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান জরুরি অবতরণ করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যশোরে রানওয়েতে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। তবে কোনও হতাহত হয়নি।

৯ মার্চ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, জরুরি অবতরণ করা প্রশিক্ষণ বিমানটির বৈমানিক নিরাপদে আছেন এবং বিমানের কোনও ক্ষতি হয়নি।

আলোকিত প্রতিদিন /০৯ মার্চ ২০২৬ /মওম