আজ বৃহস্পতিবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 94

টুঙ্গিপাড়ায় বি*স্ফোরণে যুবক দ*গ্ধ, সন্দেহ ক*কটেল বা হাতবো*মা

মোঃ শিহাব উদ্দিন:

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ককটেল বা হাতবোমা তৈরি করতে গিয়ে বিস্ফোরণে মতিউর রহমান (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। ২৩ মার্চ সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলার নিলফা বাজার এলাকার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মতিউর রহমান ওই এলাকার মোস্তাক আহম্মেদের ছেলে। বিস্ফোরণে তাঁর ডান হাতের আঙুলের একাংশ উড়ে গেছে এবং হাত-পা ও মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে বসে ককটেল বা হাতবোমা তৈরির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান।
আহতের স্বজনেরা দাবি করেছেন, এক আত্মীয়ের বিয়ে উপলক্ষে আতশবাজি তৈরির চেষ্টা করছিলেন মতিউর। তবে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এ দাবির সঙ্গে ভিন্নতা দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক অসীম কুমার ধর বলেন, ‘আঘাতের ধরন দেখে আতশবাজির বিস্ফোরণ বলে মনে হয়নি। ক্ষতচিহ্ন ককটেল বা হাতবোমার বিস্ফোরণের মতো। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন।’
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মতিউর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশ পাহারায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় তাঁর সঙ্গে পুলিশের দুই সদস্যকে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন /২৪ মার্চ ২০২৬ /মওম

বিশ্বসেরা পেসারে যেভাবে পরিণত হয়েছেন তাসকিন-মুস্তাফিজরা!

ক্রীড়া ডেস্ক:

একসময় স্পিন-নির্ভর দল হিসেবে পরিচিতি ছিল বাংলাদেশের। মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক কিংবা সাকিব আল হাসানদের ভিড়ে নামকরা পেসার বলতে গেলে বিশ্বসেরাদের কাতারে সেরকম বড় মুখ ছিল না। আর এখন টাইগার পেসাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও রাজ করছেন। মুস্তাফিজুর রহমান এবং তাসকিন আহমেদরা কীভাবে বিশ্বসেরা পেসারে পরিণত হয়েছেন সেই গল্প তুলে ধরেছে ক্রিকেটের অ্যালমানাকখ্যাত ম্যাগাজিন উইজডেন।

২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজা নেতৃত্বাধীন দলে বাংলাদেশের পেসাররা বিশ্বক্রিকেটে আলোচনায় আসেন। তবে উইজডেনের মতে, পরিবর্তনের শুরুটা ২০২২ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়ে। সেখানে সিরিজ খেলতে নামার আগে ইতিহাস ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। প্রোটিয়া ভূমিতে ১৩টি ওয়ানডে খেলেও জয়ের মুখ দেখেনি টাইগাররা। এমনকি সেখানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুই সহযোগী দেশের বিপক্ষেও হারতে হয়েছিল। অবশ্য কারণ বোঝা কঠিন নয়। সিম সহায়ক কন্ডিশনে ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ।

২০২২ সিরিজের আগে বাংলাদেশ প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৩ ওভার পেস বোলিং ব্যবহার করত। যেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৩ ওভার বল করে পেয়েছিল মাত্র ৩৭ উইকেট, গড় ছিল ৫৩.৬৭। এমন বোলিং আক্রমণ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় জয়ের আশা করা কঠিনই ছিল। কিন্তু পেস বোলিংয়ে ২০২২ সাল ছিল বাংলাদেশের ভাগ্য বদলের বছর। নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে এবাদত হোসেন ক্যারিয়ারের সেরা স্পেল করেন, পাশাপাশি শরিফুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদও তিনটি করে উইকেট নেন। সেটাই ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যখন বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে জেতে, সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটাররা ৩১৪/৭ স্কোর তোলার পর তাসকিন এবং শরিফুল মিলে পাঁচটি উইকেট নেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে কাগিসো রাবাদার দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসে পড়ে, ফলে সিরিজে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। সেঞ্চুরিয়নে সিরিজনির্ধারণী ম্যাচে তাসকিনের ৫ উইকেট আর মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৬/০ থেকে ১৫৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। পুরো সিরিজে তাসকিন মাত্র ১৪ রান গড়ে ৮ উইকেট শিকার করেন।

এর আগে ক্যারিয়ারজুড়ে কোনো বাংলাদেশি পেসার দক্ষিণ আফ্রিকায় এত উইকেট নিতে পারেননি। মুস্তাফিজের ইকোনমি ছিল ওভারপ্রতি ৪.৩০, আর শরিফুল প্রথম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। চার বছর পর নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জয়টি হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের চেয়ে বেশি উদযাপিত হয়েছে। তবে দুটি ঘটনাকে একসুতোয় বেঁধেছে একটি বিষয়– উভয়ক্ষেত্রেই বড় ভূমিকা ছিল পেসারদের। ডারবানে পরবর্তী টেস্টে ব্যাটিং ধসে পড়ে চতুর্থ ইনিংসে ৫৩ রানে অলআউট হলেও তার আগে পেসাররা মিলে ১১ উইকেট নেন। তা ছিল বাংলাদেশ বা জিম্বাবুয়ের বাইরে টেস্টে পেসারদের ১০ বা তারচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার মাত্র তৃতীয় ঘটনা (দ্বিতীয়টি ছিল মাউন্ট মঙ্গানুইতে)। এরপর তারা আরও চারবার ওই কীর্তি গড়েছে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের ছেলেদের ওয়ানডে রেকর্ড বেশ শক্তিশালী। ২০১৪ সালের নভেম্বরের শুরু থেকে ঘরের মাঠে তারা জিতেছে ৪৮টি ওয়ানডে এবং হেরেছে ১৯টি। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ২.৫২৬, বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকার ২.১২, শ্রীলঙ্কার ১.৩৯৪ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ০.৭৭৭–এর চেয়ে ভালো। অস্ট্রেলিয়ার ২.৬১১ কিংবা ইংল্যান্ড ও ভারতের ২.৫৪১-এর কাছাকাছি।

পরিচিত কন্ডিশনে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে। যদিও ইতোমধ্যে মাশরাফি, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম (টেস্ট বাকি), সাকিব আল হাসান (ওয়ানডে ফরম্যাট বাকি) ও মাহমুদউল্লাহ আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছেড়েছেন। তবুও দেশের মাঠে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। এর পেছনে পেসারদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর থেকে বাংলাদেশের সিমারদের বোলিং গড় পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ সেরা এবং ইকোনমি রেট দ্বিতীয় সেরা। এই দুই সূচকে একসঙ্গে তাদের চেয়ে এগিয়ে নেই কোনো দল। পরিবর্তনটা কতটা বড়। ২০২২ সালের আগে যেখানে বাংলাদেশের পেসাররা প্রতি ওয়ানডেতে গড়ে ৩.১৫ উইকেট নিতেন, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩.৮৫। বোলিং গড়ও কমে ৩৬.০৬ থেকে ৩০.৫৭-এ নেমেছে।

নতুন প্রজন্মের হাত ধরে বাংলাদেশের পেস বিভাগের চিত্র বদলে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের হাতে একাধিক মানসম্মত পেসার আছে। সম্প্রতি ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজে অভিজ্ঞ তাসকিন এবং মুস্তাফিজের সঙ্গে ইতিহাসের দ্রুততম বাংলাদেশি বোলার নাহিদ রানাকে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। তিন ম্যাচে এই পেসত্রয়ী নেন ১৯ উইকেট, গড় ২১.৪২। সিরিজ শেষে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ তাদের ‘সেরা বোলিং বিকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যারা দলকে ‘ম্যাচ জয়ের অধিক সুযোগ’ এনে দেন।

আশার বিষয় হলো– তাসকিন এবং মুস্তাফিজের বয়স এখনও ৩১ পূর্ণ হয়নি, কিন্তু তাদের রয়েছে এক দশকের বেশি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা। বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বাংলাদেশের মুখ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন মুস্তাফিজ। নাহিদ ২৩, শরিফুল ২৪, হাসান মাহমুদ ২৬ এবং তানজিম হাসান সাকিব ২৩। অর্থাৎ, তাদের সেরা সময় সামনে, যদিও ইতোমধ্যে নিজেদের ছাপ রেখেছেন সবাই।

আলোকিত প্রতিদিন /১৮ মার্চ ২০২৬ /মওম

যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত ডেস্ক:

ঈদের দিন কূটনীতিক এবং শিক্ষাবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, ঈদের দিন সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সকাল ১০টায় যমুনায় আসবেন। সেখানে তিনি কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

রুমন আরও জানান, পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা-মাশায়েখ, শিল্পী-সাহিত্যিক ও উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন।

দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের এটিই দেশে প্রথম ঈদ উদযাপন। গত ১৭ বছর তিনি লন্ডনে ঈদ উদযাপন করেছেন। উল্লেখ্য গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি পরিবারসহ দেশে ফেরেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

রূপগঞ্জে ঈদকে ঘিরে ৩শ’ মা*দকের স্পট সক্রিয়, বিপুল মা*দকদ্রব্য মজুদ

রিপন পাল:

ঈদকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো, পূর্বাচল উপশহর, চনপাড়া, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, ইছাপুরা, গোয়ালপাড়া, লাভরাপাড়া, ঠাকুরবাড়িরটেক, গোলাকান্দাইল ৫নম্বর ক্যানেল, নোয়াপাড়া, হাটিপাড়াসহ আশাপাশের এলাকার তিন শতাধিক মাদকের স্পট সক্রিয়। এখানে মজুদ করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য। সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর নির্দেশে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের অভিযানে দুই দফায় বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৫মার্চ রবিবার রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক হুমায়ূন আহমেদ, সহকারী উপ-পরিদর্শক আহসানউল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এসপি, ওসি ও সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু প্রশংসিত হয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদকের স্পট রয়েছে একশ’র অধিক। এসব মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণে ৩০/৩২টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি। মাদকসেবীর সংখ্যা ২৫/৩০হাজার মানুষ। এদের তালিকায় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিরা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের কারো কারো এ তালিকায় নাম আছে। বছরে এসব মাদকসেবীর অপচয় হয় বিপুল পরিমাণ টাকা। সন্ধ্যার পরপরই মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণরাও মাদক সেবনে ঝুঁকছে। বর্তমানে নানা প্রতিকূলতায় মাদকবিরোধী অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ছে। ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বহনে সহজলভ্য হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরাও ইয়াবা ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছে।
রূপগঞ্জের সর্বত্রই যেন চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। এখানে ভাংগাড়ি ব্যবসার অন্তরালে মাদক ব্যবসা চলে। উপজেলার গোলাকান্দাইল সাওঘাট এলাকার একটি পরিত্যাক্ত বিল্ডিংয়ের অভ্যন্তরে মাদক মজুদ করা হয়। গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকা, গোলাকান্দাইল উত্তরপাড়া বালুরমাঠ, কালী মজলিসের বাগ, মুসলিমপাড়া কাঁঠালবাগান, তারাবো পৌরসভার হাটিপাড়া, নোয়াপাড়া, বরাবো, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া, বাগবাড়ী, দেলপাড়া, নয়ামাটি, কামশাইর, বরুণা এলাকা রীতিমতো মাদকের ডিপো করা হয়েছে। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া ও পূর্বাচল উপশহরে মাদকের সয়লাব। রাতালদিয়া, সাওঘাট, পূর্ব দরিকান্দি, মাছিমপুর, রূপসী স্লুইসগেট, কালাদি, আতলাশপুর, হাটাবো টেকপাড়া, গন্ধর্বপুর, দক্ষিণ মাসাবোসহ আরও অনেক এলাকায় মাদকের ব্যবসা এখন জমজমাট। এদের মধ্যে কেউ ইয়াবা, কেউ ফেন্সিডিল, কেউ হেরোইন আবার কেউবা গাঁজার ব্যবসায়ী। তারাবো দক্ষিণপাড়ার নবী হোসেন, নাজমুল, রাসেল, তারাবো উত্তরপাড়ার মানিক, রিফাত, বিল্লাল ও ইমন অবাধে মাদক ব্যবসা করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রূপগঞ্জের চনপাড়া যেন দুর্ভেদ্য মাদক সা¤্রাজ্য। সিন্ডিকেটের কয়েকশ’ নারী সরাসরি এ ব্যবসায় জড়িত। কখনও মাদক ব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে বেদে বহর, কখনও লবণবাহী সাম্পান আবার সিমেন্টের ক্লিংকারবাহী কার্গো জাহাজ।
মাদকের কালো ছায়ায় অন্ধকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার আশায় অনেক তরুণ ও নারীও এ পেশায় ঝুঁকছেন। মাদক বহনে টোকাই ও শিশু-কিশোরদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে। মরণ নেশা গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে স্কাফ, আইসপিল, টিডিজেসিক ও লুপিজেসিক ইঞ্জেকশনসহ নানা ধরণের মাদকদ্রব্যে এখন হাতের নাগালেই।
এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে আধুরিয়া পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব শিল্পকারখানায় রয়েছে কয়েক লাখ শ্রমিক। এদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এসব শ্রমিকদের অধিকাংশ বহিরাগত। এরা ছোট ছোট খুপরি ঘরে কিংবা মেস ভাড়া করে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছে। এসব খুপরি ঘরে মাদক ব্যবসায়ীরা ফেরি করে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে।
সড়ক ও নৌপথে এলাকায় অবাধে মাদকদ্রব্য আসে। মাদক প্রবেশের সবচেয়ে নিরাপদ রুট হচ্ছে বালু নদ। এ নদে পুলিশ টহলের ব্যবস্থা না থাকায় মাদকব্যবসায়ীরা নির্বিঘেœ ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে মাদক নিয়ে আসে। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদী পথে পণ্যবাহী জাহাজে করে মাদক আসে রূপগঞ্জে। সেইসঙ্গে এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে কুমিল্লা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে মাদক আসে রূপগঞ্জে। আশুগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে মাদক আসে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা হচ্ছে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট। আখাউড়া, কুমিল্লা, সিলেট ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে মাদক বাস, নাইট কোচ, সংবাদপত্র বহনকারী মোটরসাইকেল কিংবা ট্রাকযোগে ওই এলাকায় মাদক আসে।
চনপাড়া বস্তিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে মাদক বেচাকেনা চলে প্রকাশ্যে। প্রতি সন্ধ্যায় এই বস্তিতে বসে মাদকের হাট। শুরু হয় কোলাহল। এ রমরমা আসর চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এখানে ফেরি করে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করা হয়। রাজধানীর ডেমরা, সারুলিয়া, যাত্রাবাড়ীসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানুষ চনপাড়া বস্তিতে আসে মাদক সেবন করতে। এখানে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটেছে হত্যাকান্ডের ঘটনাও। স্থানীয় প্রশাসন এখানকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে। মাদকের হাটখ্যাত চনপাড়া বস্তি থেকে থানা রুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও প্রভাবশালীরা নিয়মিত বখরা পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযানে উদ্ধারও হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। গ্রেফতার করা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের। আইনের ফাঁকফোকরে জামিনে এসেই আবারো মেতে উঠে এ ব্যবসায়।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর মোহনায় চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। চনপাড়ায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ রয়েছে অনেক। একদিকে পুলিশ প্রবেশ করলে মাদকসেবীরা অন্য পথে বের হয়ে যায়। এখানে দিনমজুর, ঠেলাগাড়িচালক, রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা, গার্মেন্ট শ্রমিকের পাশাপাশি পেশাদার খুনি, ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা বাস করে। তাদের অনেকেই মাদক ব্যবসায় জড়িত।
মাদকের বিষাক্ত ছোবলে রূপগঞ্জের হাজার হাজার তরুণের জীবন বিপন্ন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও খুনসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসংক্রান্ত দ্বন্দ্বে খুনের ঘটনা তো রয়েছেই।
মাদকের ঘটনায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও রাঘব-বোয়ালরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে পুলিশের সঙ্গে মতের অমিল হলেই চলে লোক দেখানো অভিযান। অভিযানের খবর পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদে চলে যায়। পুলিশের অভিযান ব্যর্থ হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে মাদক বহন করে থাকেন। ইয়াবা ও ফেনসিডিল বহন করা হয় লাউ, নারিকেল আর ম্যাচের বাক্সের ভেতরে করে। হেরোইন বহন করা হয় মিষ্টির প্যাকেটের ভেতরে। আর গাঁজা বহন করা হয় ছালার চটের ভেতরে করে। মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হয় টোকাই ও শিশু-কিশোরদের। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশু, কিশোর ও মহিলাদের দিয়ে মাদক বহন করা হয়। মহিলাদের স্পর্শকাতর জায়গায় রেখে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজা বহন করা হয়।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত একযুগে নেশার কাজে বাধা দেয়া ও প্রতিবাদ করায় ২০/২২ জন খুন হয়েছেন। ২০২০ সালে কায়েতপাড়া এলাকায় মাদকের দ্বন্দ্বে খুন হন আনোয়ার হোসেন। একই বছর শিংলাবো এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় ছেলে সাইফুল ইসলামের হাতে মা দেলোয়ারা বেগম নিহত হন। রূপসী কাজীপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে খুন হন রাজন মিয়া। মাদক সেবন করেও গত কয়েক বছরে মারা গেছেন ৪/৫ জন।
রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভা মাদক বিরোধী কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব মোজাম্মেল হক প্রধান বলেন, মাদক সমাজের ব্যাধি। মাদক প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। মাদকাসক্তি সমাজ থেকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ নষ্ট করে অপরাধ বাড়িয়ে সুষ্ঠু ও সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করছে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রত্যেকেই আরো সচেতন হতে হবে। প্রশাসনকে সহযোগীতা করতে হবে।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলে। রূপগঞ্জে অনেক দুর্গম ও চনপাড়া বস্তি এলাকাটা ঘিঞ্জি। টের পেয়ে পুলিশ ঢোকার আগেই মাদক কারবারিরা নিরাপদে পালিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো দলের না। তারা দেশ ও জাতির শত্রু। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৫মার্চ রবিবার রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক হুমায়ূন আহমেদ, সহকারী উপ-পরিদর্শক আহসানউল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসা ও সেবন নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছে। শিগগিরই মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সফলতা আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমার কিংবা রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। নেতাকর্মীদের কেউ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে দল থেকে বর্হিষ্কার করে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন /১৮ মার্চ ২০২৬ /মওম

নতুন লুকে ভক্তদের নজর কাড়লেন : পূর্ণিমা

বিনোদন ডেস্ক:

নতুন লুকে ভক্তদের নজর কেড়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন ও ফ্যাশন স্টাইল স্টেটমেন্ট সবকিছু মিলিয়ে তিনি বরাবরই থাকেন আলোচনার কেন্দ্রে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব উপস্থিতি রয়েছে তার।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একগুচ্ছ নতুন ছবি শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, পরিপাটি সাজের সঙ্গে তার নতুন হেয়ারস্টাইল বেশ মানিয়েছে। বিশেষ করে সফট লেয়ার কাট, চকচকে হেয়ার ফিনিশ ও ব্রাউনিশ কালার টোন তার লুকে এনে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।

ক্যাপশনে পূর্ণিমা লিখেছেন, ‘আমার নতুন হেয়ার বোটক্স, সুন্দর কালার আর এই স্টাইলিশ কাটটা আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। মনে হচ্ছে আমি একদম নতুন এক মানুষ।’

শুধু সামনের দিক থেকেই নয়, পেছন দিক থেকেও তার চুলের ভলিউম এবং স্টাইলিং নজর কেছেড়ে নেটিজেনদের। তিনি হেয়ার বোটক্স ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে চুলে এনেছেন মসৃণতা এবং প্রাণবন্ত উজ্জ্বলতা। চোখে স্টাইলিশ ফ্রেমের চশমা ও সাদামাটা কালো পোশাক তার লুককে করেছে আরও পরিণত ও এলিগ্যান্ট। পূর্ণিমার নতুন রূপে মুগ্ধ হয়েছেন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীরাও।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

এক যুগ পলাতক থাকার পর ২২ মামলার আ*সামি গ্রে*ফতার

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় প্রায় এক যুগ পলাতক থাকার পর ২২টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জসীমউদ্দিন (৫০) কে গ্রেফতার করেছে সিংগাইর থানা পুলিশ। ১৮ মার্চ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃত জসীমউদ্দিন উপজেলার জার্মিত্তা ইউনিয়নের সুদক্ষিরা গ্রামের আমির আলীর ছেলে। থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জসীমউদ্দিন দীর্ঘ এক যুগ ধরে গ্রেফতার এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মোট ২২টি মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। এর মধ্যে ১টি জিআর সাজা ওয়ারেন্ট, ২টি সিআর সাজা ওয়ারেন্ট, ২টি জিআর ওয়ারেন্ট এবং ১৭টি সিআর ওয়ারেন্ট মুলতবি রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর চকবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পরও আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন /১৮ মার্চ ২০২৬ /মওম

দুর্গাপুরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩৫টি স্থাপনা

শহীদুল ইসলাম রুবেল:

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এতে অবৈধভাবে নির্মিত ৩৫টি স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার উৎরাইল বাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান। তাঁদের সঙ্গে থানা-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় নির্মিত ৩৫টি দোকান আজ উচ্ছেদ করা হয়েছে। সরকারি জায়গায় থাকা এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্র বলেন, আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। সওজের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

 

 

পাকিস্তানকে হ্রাসকৃত মূল্যে তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিলো রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের পর এবার পাকিস্তানকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালবার্ট খোরেভ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ইসলামাবাদকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল দিতে রাজি আছে মস্কো।

ইসলামাবাদে আয়োজিত সেই সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, ইসলামাবাদ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে পাকিস্তানের কাছে হ্রাসকৃত মূল্যে তেল বিক্রি করবে রাশিয়া।

রুশ রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জ্বালানি খাত এবং এই খাতের যেকোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর নির্ভর করবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন যে, জ্বালানি খাতই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং এই খাতে যেকোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর নির্ভর করবে।

প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালিতে ইরান অবরোধ আরোপ করায় অন্য অনেক দেশের মতো পাকিস্তানও ভোগান্তিতে পড়েছে। কারণ, দেশটি জ্বালানি তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার কারণে জ্বালানির নতুন চালান আসতে পারছে না।

এ কারণে সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম ২০ শতাংশ বাড়াতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তানের সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, ইরানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপ বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জটিল এবং অপ্রত্যাশিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমান উত্তেজনা কখন এবং কীভাবে শেষ হবে— তা বলা কঠিন।”

সূত্র : জিও নিউজ

আলোকিত প্রতিদিন /১৮ মার্চ ২০২৬ /মওম

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ এলাকায় শিংজানি খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন

রানা ইস্কান্দার রহমান:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ এলাকায় শিংজানি খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন আজাদ।

জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ প্রশাসক,পুলিশ সুপার, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভোগা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য শিংজানি খাল পুনঃখনন একটি আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খালটি পুনরুদ্ধার হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

এছাড়াও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে মৎস্য সম্পদের বিকাশ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়—বরং গোবিন্দগঞ্জ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

চন্দ্রায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ও যানবাহনের জটলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার চন্দ্রায় সৃষ্টি হয়েছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ও যানবাহনের জটলা। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্রা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ঘরমুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করে। দূরপাল্লার বাসগুলো মহাসড়কে যাত্রী ওঠা-নামা করতে গেলেই সৃষ্টি হচ্ছে জটলার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা মোড় এলাকার শেষ প্রান্ত খাড়াজোড়ায় সড়কের ওপর যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠাচ্ছে পরিবহনগুলো। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর আনসার একাডেমি এলাকা থেকে চন্দ্রার উড়ালসড়ক পর্যন্ত মোট ৮ কিলোমিটার অংশে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। এর ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

নাবিল পরিবহন বাসের চালক মুস্তফা মিয়া বলেন, পুরো সড়কে কোনো যানজট নেই। শুধু চন্দ্রা এলেই জ্যাম ঠেলতে হয়। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করে তাহলে অনেকটা শৃঙ্খলার সঙ্গে বাসগুলো যাত্রী ওঠাতে পারে। তাহলে আর এই জ্যাম থাকে না। কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের অন্যান্য স্থান ফাঁকা থাকলেও চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছাতে গেলেই যানজটে পড়তে হচ্ছে তাদের। আর দেখা দিচ্ছে ভোগান্তি।

গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল আলম বলেন, বেলা বাড়ার বাড়ার সঙ্ঘে সঙ্ঘে চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। উত্তরাঞ্চলে প্রবেশের প্রধান সড়ক হওয়ায় চন্দ্রায় যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ বেশি। যেটুকু ধীরগতি আছে এটা কমন সমস্যা। বাসগুলো স্টেশনে থেমে যাত্রী ওঠাচ্ছে। যাত্রীরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকায় কিছুটা জটলা রয়েছে। চন্দ্রা এলাকায় আমাদের তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর যাত্রীদের ভোগান্তি অনেক কম।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম