আজ , ।   
Home Blog Page 688

মানিকগঞ্জে কোয়াবের কার্যকরী ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত 

মো: মহিদ:
তানজিলুর ফারগানি তানজুকে সভাপতি এবং মাসুদ রায়হানকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়েছে। ১১ নভেম্বর সোমবার বিকেলে জেলা শহরের সাবিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারন সভা ও কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠিত হয়।
কোয়াবের সহসভাপতি সাঈদ খান মজলিশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আগামী চার বছরের জন্য ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদের পাশাপাশি একজনকে প্রধান উপদেষ্টা ও পাঁচ জনকে উপদেষ্টা করে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রশিদ সামিউল ইসলাম অর্ক। উপদেষ্টা হয়েছেন সাঈদ খান মজলিশ, সাব্বির আলী খান শিবলী, জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, তোবারক হোসেন খান রিয়াদ ও ইকবাল হোসেন।
কার্যকরী পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন, সহ-সভাপতি : তামজিদুর রহমান, আবুল বাসার, আসিফ ইকবাল রনি, সফিকুল ইসলাম ফিরোজ, ওবায়দুর রহমান, সহ সাধারণ সম্পাদক: তুতিলুর ফারগানি সম, হুমায়ুন কবীর শাহীন, কাজী হারুনুর রশীদ পিন্টু, জিয়া উদ্দিন রকি, মিঠুন চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক: ফজলে রাব্বি, সহ-সাংগঠনিক সাউদ ইসলাম পলাশ, আনিদ খান, রিয়াজুল মোল্লা, কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান ফরিদ, সহ-কোষাধ্যক্ষ: শরিফুল ইসলাম পাখী, দপ্তর সম্পাদক: জনি খান, প্রচার সম্পাদক: রাদ আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক: সাইদুর ইসলাম সজল।

পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মোহাম্মদ বিন সালমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় ‌‘গণহত্যার’ অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানালো সৌদি আরব। মুসলিম এবং আরব নেতাদের এক সম্মেলনে তিনি লেবানন ও ইরানে ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছেন। খবর বিবিসির।

দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াদ এবং তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষণ প্রকাশ করে ইরানের মাটিতে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি অন্য নেতাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গাজা যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি ব্যর্থতা’। তিনি গাজায় তীব্র খাদ্য সংকটের জন্য ইসরায়েলকেই দায়ী করেছেন। প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সৌদ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রাথমিক পর্যায়ে সংঘাত এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এরপরেই যুদ্ধের সূচনা হয়। এতে ১২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।

এ ঘটনার পর ইসরায়েল হামাসকে ধ্বংস করতে পাল্টা অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত তাদের অভিযানে গাজায় ৪৩ হাজার ৬০০ বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের চিহ্নিত করা গেছে তাদের ৭০ ভাগই নারী ও শিশু।

এবারের সম্মেলনে অংশ নেওয়া অন্য নেতারাও গাজায় জাতিসংঘ কর্মকর্তা এবং স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের ‘অবিরাম হামলার’ নিন্দা জানিয়েছেন। গত মাসে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ইসরায়েল ও দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করে বিল পাশ হয়েছে। ইসরায়েলের অভিযোগ সংস্থাটি সেখানে হামাসের সঙ্গে মিলে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ গাজায় ত্রাণ সহায়তা সরবরাহ করার উদ্যোগ সীমিত করার জন্য এ ধরণের পদক্ষেপের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে এবারের এই সম্মেলন এমন সময় হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জিতে হোয়াইট হাউজে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা ট্রাম্পের ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে সচেতন। তবে তার সাথে এ অঞ্চলের নেতাদেরও ভালো সম্পর্ক আছে। তারা চান একটি চুক্তির মাধ্যমে এ অঞ্চলের সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প তার প্রভাব ব্যবহার করুন। সৌদি আরবে জো বাইডেনের চেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেশি অনুকূল ভাবা হয়। যদিও তার মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তিনি অতীতে যা করেছেন তা নিয়ে মিশ্র দৃষ্টিভঙ্গি আছে।

তিনি ২০২০ সালে ‘আব্রাহাম চুক্তি’ করেছিলেন যার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কোর সাথে ইসরায়েলের পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সুদানও এটি করতে সম্মত হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতাতেই তখন এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার পর বাহরাইন ও আরব আমিরাত তৃতীয় ও চতুর্থ উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

এবার ট্রাম্পের জয়ের পর সৌদি একটি সংবাদপত্রের শিরোনাম ছিল এমন- ‌‌‘একটি নতুন আশার যুগ। ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন এবং স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি’। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। নিজের জামাতা জেয়ার্ড কুশনারের মাধ্যমে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন।

অন্যদিকে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে তিনি ইসরায়েলকে খুশি করেছেন এবং আরব বিশ্বকে হতাশ করেছেন।

ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের জন্য ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে একটি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিকে অনুমোদন দেওয়া। বেশিরভাগ দেশই মনে করে এসব বসতি অবৈধ।

২০২০ সালে ইরানে রিভল্যুশনারি গার্ডের নেতা কাশেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে ইরানকে ক্ষুব্ধ করেছেন। তবে উপসাগরীয় অনেক দেশ তাতে আবার খুশি হয়েছে। তবে এটাও সত্যি যে এখনকার মধ্যপ্রাচ্য সেই মধ্যপ্রাচ্য নয় যা তিনি প্রথম মেয়াদ শেষে হোয়াইট হাউজ ছাড়ার সময় রেখে গেছেন।

নেত্রকোণায় সেনাবাহিনীর অভিযানে ২৮ কেজি গাঁজা সহ ২ জন আটক

শহীদুল ইসলাম রুবেল:
নেত্রকোণা জেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে ২৮ কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
নেত্রকোণায় দায়িত্বরত ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিসানুল হায়দার সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোণা আর্মি ক্যাম্পের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল নূর ই আহমদ আল শাফী এর নেতৃত্বে একটি টিম ১১ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নেত্রকোণার শ্যামগঞ্জের ময়লাকান্দা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী দুলাল মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়।সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দুলাল মিয়া গা ঢাকা দিলেও সেখান থেকে তার দুইজন সহকারীকে আটক এবং ২৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ লক্ষ ৪০ চল্লিশ হাজার টাকা। আটককৃত মাদক ব্যাবসায়ীরা হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ময়লাকান্দা গ্রামের মোঃ লাল মিয়ার কন্যা আছিয়া আক্তার (৪৪) ও একই গ্রামের ইমান আলীর পুত্র চাঁন মিয়া(৫০)।
মাদক ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া এবং তার অপর সহকারী তোতা মিয়াকে আটকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পরবর্তীতে নেত্রকোণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক  মোঃ এনামুল হক জানান আটকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান-সচিব লাঞ্ছিত, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বহিষ্কার

নাহিদ ইসলাম (রাজশাহী): রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবকে নিজ কার্যালয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডের সচিব বাদী হয়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নগরের রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহিম এবং সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আমিনুল করিম।
বোর্ডের চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, জাহিদুর রহিমের বিরুদ্ধে একজন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। সেসব সিদ্ধান্ত পাল্টে দেওয়ার জন্যই সোমবার দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে যান তিনি।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সোমবার দুপুরে জাহিদুর রহিম ও তাঁর ভাই আমিনুল করিমসহ ১০-১৫ জন ব্যক্তি বোর্ডের চেয়ারম্যান অলীউল আলমের কক্ষে ঢোকেন। তাঁদের মধ্যে আলোচনার এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় দরজার সামনে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এরপর বোর্ড চেয়ারম্যান সচিব হুমায়ুন কবিরের কক্ষের সামনে যান। সচিবও ওই সময় বের হন। এ সময় সচিবকেও মারার জন্য তেড়ে যান। এ ছাড়া চেয়ারম্যান ও সচিবকে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন বহিরাগতরা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, জাহিদুর রহিম ও তাঁর ভাই আমিনুল করিম একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে কয়েকজনকে নিয়ে বোর্ডে যান। তিনি তাঁদের সামনে অভিযোগ তোলেন, চেয়ারম্যান ও সচিব দুর্নীতি করেছেন। আর অন্যায়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে চেয়ারম্যান কাগজপত্র বের করে দেখান, তাঁর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সঠিক নয়। বরং জাহিদুর রহিমের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারপরও বোর্ডে চেয়ারম্যান ও সচিবকে লাঞ্ছিত করা হলে পুলিশ যায়। সেনাবাহিনীর একটি দলও আসে। এরপর বহিরাগতরা চলে যান।
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অলীউল আলম বলেন, তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বহিরাগতদের নিয়ে এসে বোর্ডে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির অভিযোগে জাহিদুর রহিম ও তাঁর ভাই আমিনুল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই ভাইসহ ৩০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে জাহিদুর রহিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন বলেন, বোর্ডে সচিব ও চেয়ারম্যানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে উল্লেখ করে সচিব হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁরা তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করবেন।
আলোকিত/১২/১১/২০২৪/আকাশ

ইন্টারপোলে হাসিনাকে গ্রেফতারে রেড নোটিশ জারি করতে আইজিপিকে চিঠি

আলোকিত প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে চিঠি দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন সংস্থা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংস্কার কাজ পরিদর্শন শেষে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করার জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার আসামি শেখ হাসিনাসহ সব পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। পলাতক আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

তিনি বলেন, খুব দ্রুতই ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হবে। পলাতক ফ্যাসিস্ট চক্র পৃথিবীর যে দেশেই থাকুক না কেন তাদের ধরে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। গত ১৭ অক্টোবর জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের পৃথক মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অন্য যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, তারা হলেন– শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, দীপু মনি, আ ক ম মোজাম্মেল হক, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শেখ সেলিম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলে শামস পরশ, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশিদ, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক র‌্যাব ডিজি হারুন অর রশিদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ড. জাফর ইকবাল, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামসহ ৪৬ জন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। অপর দুই জন হলেন– বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নাহিদ ইসলাম (রাজশাহী): মাদক বিরোধী গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকের অপব্যবহার রোধকল্পে গঠিত রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কমিটির প্রথম সভা সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তাগণ মাদক নিয়ন্ত্রণে মাদকের সরবরাহ কমানোর সাথে সাথে এর চাহিদা হ্রাসে কাজ করা, মাদক বিরোধী অভিযান বৃদ্ধি করা, মাদকের প্রাথমিক পর্যায়ের মামলা (দুই এক বার মাদক সেবন) সমাজ সেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসারের নিকট প্রেরণ, মাদক বিরোধী কার্যক্রম যৌথ উদ্যোগে করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ডোপ টেস্ট ছাড়া এখন কোনো সরকারি চাকুরির পরীক্ষায় নেওয়া হচ্ছে না। তাই যারা মাদক সেবন করবে তাদের সরকারি চাকুরি পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এ সময় বিভাগীয় কমিশনার মদ বিক্রির জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তদের মদ উত্তোলন এবং বিক্রয়ের তথ্য যাচাই করতে এবং নিবন্ধিত মদ্যপায়ীদের পক্ষে অন্য কেহ মদ ক্রয় করছে কিনা তা মনিটরিং করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
রাজশাহী বিভাগের আট জেলা জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রচারণা কমিটির সদস্যবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত/১২/১১/২০২৪/আকাশ

কৃষকবান্ধব সেচ নীতিমালা ও পানি ব্যবস্থাপনার দাবি

নাহিদ ইসলাম (রাজশাহী): বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তপক্ষের (বিএমডিএ) সেচ নীতিমালা-২০০৮ এর পরিবর্তন এবং কৃষকবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনার দাবিতে বরেন্দ্র কৃষকেরা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন থেকে কৃষক সমতির মাধ্যমে নির্বাচন করে বিএমডিএর গভীর নলকূপ অপারেটর নিয়োগ ও এগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কৃষক সংগঠনকে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
সোমবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সামাজিক সংগঠন সবুজ সংহতি রাজশাহী, বরেন্দ্র কৃষক জনসংগঠন সমন্বয় কমিটি, সচেতন নাগরিক কমিটি ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্টান বারসিকের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়। এতে জেলার তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর ও পবা উপজেলাসহ বরেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তরা বলেন- বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে কৃষকের সমস্যা সমাধানে । কিন্তু বরেন্দ্র উন্নয়ন কতৃপক্ষের কিছু বৈষম্যমূলক নিয়ম নীতির কারণে কৃষক পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। খাস পুকুর, দিঘি এবং জলাধারগুলো লিজ প্রথার নামে প্রভাবশালীরা লিজ নেয়, সেখানে প্রান্তিক মানুষসহ কৃষকের পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে বরেন্দ্র ডিপগুলো প্রভাবশালীরা গভীর নলকূপের অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পায়। যার ফলে সঠিক সময়ে পানি না পাওয়া। পানির দাম বেশি নেয়াসহ নানা অনিয়ম দেখা দেয়। এগুলো দূর করতে হবে।
কর্মসূচি থেকে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৯ পরিবর্তন করে কৃষক ও জনবান্ধব করা; খাস পুকুর দিঘি, জলাধার জলমহালগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং বরেন্দ্র অঞ্চলের সকল প্রাকৃতিক জলাধারগুলো সংস্কার করারও জোর দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- কৃষক জাহেদুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, সবুজ সংহতির সভাপতি নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, আদিবাসী যুব নেত্রী সীমা মার্ডি, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যগ্ম সদস্য সচিব আতিকুর রহমান আতিক, কৃষক জিতেন্দ্রনাথসহ প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন বারসিকের গবেষক শহিদুল ইসলাম। মানববন্ধন শেষে পাঁচদফা দাবিতে বিভাগীয় কমিশানারের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণায়ের উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
আলোকিত/১২/১১/২০২৪/আকাশ

রাজশাহীর-নওগাঁ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সক্রিয় মোহনপুর থানা পুলিশ

নাহিদ ইসলাম (রাজশাহী): রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় সম্প্রতি সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৯ জনের মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাস্তায় সক্রিয় হয়েছে মোহনপুর থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মোহনপুর এবং কামারপাড়া মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে ট্রাফিকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আক্তার, মোহনপুর থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ। এসময় রাস্তায় চলাচল করা সকল  যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচায় বাছাই করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ চেকপোস্টে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হেলেনা আক্তার, মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাননান, ট্রাফিক জোন ইনচার্জ (টিআই) রবিউল ইসলামসহ মোহনপুর ট্রাফিক বিভাগ ও থানার পুলিশ সদস্যরা।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাননান বলেন, সকাল থেকে চলা বিশেষ চেকপোস্টে কাগজপত্র সঠিক না থাকায় যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা করা হয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত বিশেষ চেকপোস্টে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আক্তার বলেন, রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে দূর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সকল অবৈধ যানবাহন যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স,ফিটনেস সার্টিফিকেট ও অনান্য কাগজপত্র না থাকায় সে সকল যানবাহনে মামলা প্রদান করা হয়। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে রাস্তায় চলাচলকারি সকল যানবাহন এবং চালকদেরকে ট্রাফিক আইন মেনে চলা ও সচেতন করতে বিশেষ এই চেকপোস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোহনপুর থানা পুলিশ নিয়মিত বিশেষ চেকপোস্টে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এছাড়াও যানবাহনে যাদের সকল কাগজপত্র ঠিক আছে তাদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
আলোকিত/১২/১১/২০২৪/আকাশ

মানিকগঞ্জে খাল সংস্কার প্রকল্পে অনিয়ম, কাজ শেষ না করেই ১৪ কোটি টাকা উত্তোলন  

মো. মিজানুর রহমান খান কুদরত, মানিকগঞ্জ 

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার খাল সংস্কার প্রকল্প জনগণের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন যাবত প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় শহরের যানজট পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এদিকে  নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে।

জানাগেছে, ২০২২ সালে মানিকগঞ্জ জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ও পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মো. রমজান আলীর নেতৃত্বে আ’লীগের চিহ্নিত টেন্ডারবাজরা সিন্ডিকেট করে  খাল সংস্কার প্রকল্প হাতে নেয়।বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ঠ প্রকল্পটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দেয়া হয় ওই বছরের ১০ মে। ৫ খন্ডের প্রকল্প প্যাকেজটি বাস্তবায়নের জন্য যৌথভাবে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয় জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেলের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এপেক্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স কামরুল এন্টারপ্রাইজকে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৫ কোটি ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

২০২২ সালের ১৮ মে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করা হয়। প্রভাবশালী টেন্ডারবাজ  চক্র পরবর্তীতে প্রকল্প ব্যয় আরো ৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় উন্নীত করে। এরপর বিল উত্তোলনের জন্য তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করে। ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের সব নির্মাণ সামগ্রী।

পৌরবাসীর অভিযোগ, পতিত ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সাবেক মেয়র, প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ঠিকাদার পরস্পরের যোগসাজসে খাল সংস্কারের নামে অর্থ লোপাটে মরিয়া হয়ে ওঠে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা।

গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর জাহিদ মালেক, রমজান আলী ও আপেল আত্মগোপনে চলে যান। সম্পূর্ণ  বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পের কাজ।

পৌরসভার গঙ্গাধর পট্টি এলাকার বাসিন্দারা জানান, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ থেকে বাজার ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি প্রায় এক বছর যাবত যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে শহরের শহীদ রফিক সড়ক এবং গার্লস স্কুল সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে ভয়াবহ যানজট পরিস্থিতি নিত্যনৈতিক ব্যাপারে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ না হওয়ার আগেই সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার অনেক জায়গায় দেবে যাচ্ছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখা যায়,
জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালটি বর্তমানে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তার অনেকাংশে দেবে যাচ্ছে। যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

প্রকল্প কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মানিকগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানকে অফিসে গিয়ে ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া না গেলে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল বাতেন জানান, সেকেন্ড সিটি রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিআরডিপি-২) এর অর্থায়নে বাস্তবায়াধীন রিএক্টিভেশন অফ মানিকগঞ্জ খাল ইনক্লুডিং স্লোপ প্রোটেকশন, ওয়াকওয়ে, ল্যান্ড স্কেপিং, ফুট ব্রিজ, স্ট্রাকচারার ব্রিজ ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ শীর্ষক প্যাকেজটি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল শেষ হয় ২০২৩ সালের ১০ মে।ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েক দফায় সময়সীমা বাড়ানো হয়। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত সর্বশেষ মেয়াদ ধার্য করে কর্তৃপক্ষ। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ঠিকাদারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আ.ন.ম. গিয়াসউদ্দিন  জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো চল্লিশ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। মোট বরাদ্দকৃত ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ৯’শ ১৩ টাকা। এএর মধ্যে ৫০ শতাংশ টাকা ঠিকাদার কে প্রদান করা হয়েছে।
নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সানজিদা জেসমিন জানান, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সংরক্ষিত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, প্রশাসন নিরব

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ 
নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন নদী খাল বিল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে কিছু বালুখেকুরা। বিট বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে সংরক্ষিত রেখে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে বালুখেকোর সিন্ডিকেটরা । বারবার বলার পরেও প্রশাসন নিরব।
বারহাট্টা উপজেলা সাহতা ইউনিয়নের দেওলী সিংরাজানের রুবেল তালুকদার নামে বিট বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বারহাট্টার সাহতা ইউনিয়নের দেওলী সর্বজনীন জাগরণী আশ্রম এর পাশে আব্দুল লুৎফর ওরফে চান মিয়ার প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ জায়গা ভাড়া নেয় রুবেল তালুকদার। সেখানে বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিশাল এক স্তূপ করে রেখে লড়ি, ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে যাচ্ছে। এক দিকে যেমন সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। অন্য দিয়ে সরকারি রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে নেত্রকোণায় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীদের জানালে তারা বালুর স্তূপ পরিদর্শন করে বালুখেকো  রুবেল তালুকদারকে ২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নেত্রকোণার ক্যাম্পে নিয়ে যায় একটি টিম , পরে বিভিন্ন জিজ্ঞাসা করার পর তাকে ছেড়ে দেন ।
সেনাবাহিনী মেজর জিসান এঁর সাথে যোগাযোগ করে বালুর বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন তারা এটা দ্রুত ফলোআপ করবে ।
বালু ব্যবসায়ী রুবেলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তাতিঁয়র নামক এলাকা হতে এনেছেন। কিভাবে এনেছেন এমন প্রশ্নে বলেন,কংস নদী খনন করার সময় ঐ এলাকার( নাম বলতে পারেনি,) সরকারি ভাবে বালু ক্রয় করেছিলো যা প্রায় ৩ বছর হয়েছে। সেই লোকের নাম্বার চাইলে দিবে বললেও পরে নাম্বার দেয়নি।তখন আরো বলে,কয়েকজন মিলে জায়গায় ভাড়া নিয়ে বালু তোলে রাখেন এখন সেখান থেকে কিনে এনে ব্যবসা করছেন ।
 স্তূপের পাশে বসবাসরত একজন বলেন , এখানে অনেক বছর ধরে বিভিন্নজন বিভিন্ন সময় বালু এনে স্তূপ করে রাখে যার ফলে বাড়ির আশেপাশে ধুলাবালি ঘরে বাইরে ও কাপড়চোপড় দ্রুত ময়লা হয়ে যায় ধুলাবালির কারণে। তার চেয়ে বড় বিরক্ত কারণ হলো বিভিন্ন নদ-নদী থেকে এনে এখানে রাখার সময় ড্রেজার ও গাড়ির শব্দে অতিষ্ঠ। আর রাস্তাঘাটের এখন চলাফেরা করতে কষ্ট হয় , বালু লড়ি ট্রাক যাওয়ার কারণে ভেঙ্গে গেছে। প্রশাসন এর ব্যবস্থা নেয় উচিত।
  এদিকে বারহাট্টা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে উনাকে পাওয়া যায়নি।
 নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের বনানী বিশ্বাস এঁর সাথে বিষয়টি জানালে তিনি ব্যবস্থা নিবে বলে গণমাধ্যম কে আশ্বস্ত করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি