আজ , ।   
Home Blog Page 680

প্রতিটি মানুষের দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া উচিত : প্রিয়াঙ্কা

বিনোদন ডেস্ক:

অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। বয়সে ১০ বছরের ছোট পপ তারকা নিক জোনাসকে বিয়ে করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন। তবে কটাক্ষকে কোনোদিনই নিজের জীবনে প্রভাব ফেলতে দেননি। এখন মেয়ে মালতীকে নিয়ে দারুণ সময় কাটছে এ তারকা দম্পতির। তবে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে নিকের ছিল একাধিক সম্পর্ক। যে সম্পর্কগুলো নিয়ে চর্চা সব থেকে বেশি তা হচ্ছে- মিলি সাইরাস, সেলেনা গোমেজ ও অলিভিয়া কুলপোর সঙ্গে।

যদিও একটি সম্পর্কও টেকেনি নিকের। শেষ পর্যন্ত প্রিয়াঙ্কাকে মন দিয়ে তার সঙ্গেই ঘর বাঁধেন পপ তারকা। এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা জানান, তার বিন্দুমাত্র কোনও প্রভাব পড়েনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘এইসব বিষয়ে মাথা ঘামাই না, পাত্তাও দিই না।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারের পুরোনো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে অভিনেত্রী জানান, কখনও যদি তার স্বামী বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তখন কী করবেন তিনি।

অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমি রেগে গেলে খুব চিৎকার করে কথা বলি। যদি জানতে পারি আমার স্বামী সত্যিই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাহলে প্রথমেই হয়ত তার উপর খুব চিৎকার করব। তারপর ঠিক কী করব জানি না। রেগে গেলে মাথা ঠিক থাকে না আমার।’

শেষে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘যদি তাকে খুব ভালোবাসি তবে, আরও একবার সুযোগ দেব। কারণ, আমি মনে করি, প্রতিটি মানুষের দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়া উচিত।’

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ নভেম্বর-২৪/মওম

বাড়ির আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষ করে সফল সাংবাদিক সাকির আমিন

স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের তাতিকোনা মহল্লার আমিন বাড়ির আঙ্গিনায় বস্তায়  আদা চাষ করে সফল হয়েছেন সাংবাদিক সাকির আমিন। ভোরে ঘুম থেকে ওঠে সকাল দশ টা পর্যন্ত সময় টাকে কাজে লাগাতে নিজ ইচ্ছা থেকেই গত বছর ৫০ টি বস্তায় আদা চাষ করে আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায়। এ বছর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খানের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে ১০০ টি বস্তায় বাড়ির আঙ্গিনায় আদা চাষ শুরু করেন সাংবাদিক সাকির আমিন। মসলার উন্নত জাত এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বস্তায় আদা চাষ প্রদর্শনীর মাধ্যমে সিমেন্টের বস্তা সংগ্রহ করে আদা চাষ শুরু করেন দৈনিক কালবেলা পত্রিকার ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি সাকির আমিন। জুলাই থেকে ডিসেম্বর ছয় মাস অপেক্ষা করলেই প্রতি বস্তায় ৩-৪ কেজি আদা উৎপাদন করা সম্ভব। বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ সম্পূর্ণ ঝুঁকি মুক্ত। অতি বৃষ্টি, খরা সহ যেকোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগে এ আদার ক্ষতি করতে পারে না। বস্তা স্থানান্তর করা যায়। কৃষি খাতে আধুনিকতার প্রসার ঘটায় বাড়ির আঙ্গিনা অথবা পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষক  এবং সাধারণ মানুষের। বস্তায় আদা চাষে প্রথমে মাটি, জৈব সার,ছাই,বালি,গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক নিয়ে ভাল ভাবে মিশিয়ে নিতে হয়।তবে আদার কন্দ লাগানোর আগে ছত্রাক নাশক পানিতে শোধন করে নিলে ভাল হয়।মাটি ভর্তি বস্তায় তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। বাড়ির আঙ্গিনা আশপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যেখানে খুশি এসব বস্তা রাখা যায়। প্রতি বস্তায় ৩০ -৪০ টাকার মত খরচ হবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান এবছর উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমি পতিত পড়ে আছে। দুটি প্রকল্পে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আদা চাষের লক্ষ্য মাত্রা থাকলেও বস্তা পদ্ধতির প্রতি কৃষক দের আগ্রহ থাকায় ৫ হেক্টর জমিতে আদা চাষ হয়েছে। হাওরাঞ্চলে এ পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি বিদ মোহাম্মদ তৌফিক হোসেন খান বলেন দেশে বেকারত্ব ও মাদকাসক্ত থেকে তারুণ্যকে বাঁচাতে হলে পান সিগারেটের বদলে আদা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এছাড়া বাড়ির আঙ্গিনায় কম খরচ ও সল্প পরিশ্রমে বস্তায় আদা চাষ করে বেকারত্ব দুর করে সাবলম্বী হওয়া যায় । বাড়ির আঙ্গিনায় আদা চাষি ছাতক অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি সাকির আমিন জানান পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আর্থিক ভাবে সাবলম্বি হতে কৃষি কাজের বিকল্প নেই। কমসময়ে সল্প পূঁজি আর সামান্য পরিশ্রমে সফলতা অর্জন  করতে হলে বস্তায় আদা চাষই উত্তম কাজ। আগামীতে বানিজ্যিক ভাবে আদা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকার অনেকেই বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষে উৎসাহিত হয়েছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ নভেম্বর-২৪/মওম

নাগরপুরে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত ধুনকররা

প্রতিনিধি,নাগরপুর (টাঙ্গাইল): 

আবহাওয়া পরিবর্তনের পাশাপাশি মিষ্টি শীতল হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছে ঋতুর পরিক্রমায় শীত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে কোথায় কোথায় শীতের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর শীতে উষ্ণতা পেতে লেপের কোনো বিকল্প নেই। তবে আধুনিকতা আর পরিবর্তনের মানুষের ঘরে ঘরে এখন রঙ-বেরঙের কম্বলের ব্যবহার হলেও লেপের কদর কমেনি। তাই তো শীতের আগমনী বার্তায় লেপ-তোষক তৈরির কাজে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুনকররা। যেন দম ফেলার সময় নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নাগরপুর উপজেলার অধিকাংশ গ্রামে শতাধিক ধুনকর পরিবার লেপ-তোষক তৈরি ও বিক্রির কাজ করছে। কেউ তুলো ধুনছে, কেউবা ব্যস্ত লেপ-তোশক সেলাইয়ে। একই সঙ্গে দোকানগুলোতে ব্যাপক ক্রেতা সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। যাদের দোকান নেই সেই ধুনকররা তুলা, কাপড় ও ধুনার নিয়ে ভোরে বেরিয়ে পড়ছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগুলোতে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে লেপ বা তোশক তৈরি করছে। তাছাড়া শীতের আগমনে গ্রামের গৃহবধূরা কাঁথা সেলাই করছে। একেবারে দরিদ্র শ্রেণির পরিবারের নারীরা পুরাতন কাঁথা জোড়াতালি দিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

নাগরপুর উপজেলার লেপ-তোশক ব্যবসায়ীরা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় লেপের কদর অনেকটা কমে গেছে। তবে ঐতিহ্যের প্রথা অনুসারে বিয়েতে লেপ-তোশকের ব্যবহার হয়। বর্তমানে শ্রমিকের মূল্য ও তুলার মূল্যসহ আনুষাঙ্গিক কাঁচা মালের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে লেপ-তোশকের মূল্য বাড়াতে হয়েছে। বছরের অন্যান্য সময় তোশক-বালিশসহ টুকিটাকি কাজ থাকলেও শীত মৌসুমে একটু কাজ বেশি থাকে। ক্রেতা মোঃ ইমন বলেন, আমি দুইটি লেপ কিনতে এসেছি। এবার তুলার দাম একটু বেশি। তাই লেপের দাম চড়া।

নাগরপুর সদর বাজারের মায়ের দোয়ার পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস ধরে চলছে লেপ বানানোর কাজ। পুরো শীতজুড়ে চলবে এই কাজ। কাঁচামাল এবং মজুরি মিলিয়ে এক একটি লেপের খরচ পড়ে প্রায় দেড় হাজার টাকা। তুলার বিভিন্ন ধরন অনুযায়ী লেপ বানানোর খরচ কিছুটা কম-বেশি হয়ে থাকে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ নভেম্বর-২৪/মওম

প্রায় ৪ মাস বন্ধ থাকার পর নাম পরিবর্তন করে খুলছে সাফারি পার্ক

মোঃ আরিফ হোসেন জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর

গাজীপুর জেলার সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন এর বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক নামীয় পার্কটি গত ৫ ই আগষ্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জের ধরে ছাত্র জনতা বিপ্লবী দল সাফারি পার্কে ভাংচুর করে। দর্শনাতির নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে কতৃপক্ষ পার্ক বন্ধ করার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ৪ চার মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল ১৬ ই নভেম্বর রোজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম পরিবর্তন করে দর্শনার্থীদের আনন্দ ভ্রমণের বিষয় টি বিবেচনা করে পার্ক টি খুলে দিয়েছে। বর্তমানে গাজীপুর সাফারি পার্ক নামে নামকরণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে পার্ক টি। আনন্দ  উল্লাসে মুখোরিত শিশু সহ সবধরনের দর্শনার্থীরা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাংলাদেশের ফিন্যানসিয়াল ও এনার্জি সেক্টর খেয়ে ফেলা হয়েছে: ড. দেবপ্রিয়

আলোকিত ডেস্ক:

‘বাংলাদেশের দুটো কিডনি। একটি ফিন্যানসিয়াল সেক্টর, আরেকটি এনার্জি সেক্টর। দুটোই খেয়ে ফেলেছে বিগত সরকার’, বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘যারা এনার্জি সেক্টর খেয়েছে, তারাই আবার ফিন্যানসিয়াল সেক্টর খেয়েছে।’
১৬ নভেম্বর শনিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ‘পলিসি ডায়ালগ অন ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দেবপ্রিয় বলেন, ‘মাসোহারা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে লোক রাখা হয়েছিল। তারা টাকা ছাপিয়েছে, ভুয়া রিজার্ভ দেখিয়েছে। ব্যাংক চালানোর মতো যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও এমন ব্যক্তিকে ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’ ‘আমরা মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে আছি। রাষ্ট্রের মেরামত যদি না হয়, দুই পয়সার সংস্কার করে কোনও লাভ হবে না। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা না গেলে, সংস্কারের পথে এগোনো সম্ভব নয়।’ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার পর, যদি দ্রুত সংস্কার না করা যায় তাহলেও এগোনো সম্ভাবনা হবে না বলেও মন্তব্য করেন সিপিডির এই সম্মানীয় ফেলো।

উন্নয়নের বয়ানের ব্যবস্থা করা না গেলে এগোনো সম্ভব নয় জানিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে প্রবৃদ্ধির তথ্য ও উপাত্তে মারাত্মক সমস্যা ছিল। তথ্যে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যেখানে ট্যাক্স জিডিপি বাড়েনি। ট্যাক্স নাই, বিনিয়োগ নাই আর দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখাতে গিয়ে সামাজিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য শিক্ষায় গুরুতর অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংককে ডিজিটালাইজ করতে হবে অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে উল্লেখ করে সেমিনারে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেডের (এবিবি) চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসাইন বলেন, ‘সরাসরি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অর্থনৈতিক সেক্টরে লুটপাট হয়েছে। যেখানে ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদরা জড়িত ছিলেন।’ অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া কোনও উপায় নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার ফারজানা লালারুখ বলেন, ‘বিএসইসি মার্কেট রিফর্ম করতে চায়। বর্তমান মার্কেটকে উল্লেখ্যোগ্য জায়গায় নিয়ে যেতে কাজ করছি।’

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ নভেম্বর-২৪/মওম

৫ বছরের ধারা বদলে দরদের মুক্তি, যা বললেন নায়িকা অপু বিশ্বাস

বিনোদন ডেস্ক…

মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের সিনেমা ‘দরদ’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২২টি দেশে একযোগে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। তবে দেশে দরদের মুক্তিটা কিছুটা ব্যতিক্রম বলা চলে। কারণ প্রায় পাঁচ বছর পর প্রথমবার কোনো উৎসব ছাড়াই শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।

আর এমন মুক্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শাকিব খানের সর্বাধিক সিনেমার নায়িকা ও সাবেক স্ত্রী অপু বিশ্বাস।অপু বিশ্বাস বলেন, ‘ঈদের অনেক দিন পর সিনেমা রিলিজ হলো দেখলাম। দরদ আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য অনেক বড় সুসংবাদ। আর শাকিবের সিনেমা নিয়ে বলার কোনো ভাষা থাকে না।

 লন্ডন, মালদ্বীপ এবং ইউএস-এর যেসব হলে দরদ মুক্তি পেয়েছে, সেগুলোতে প্রায় নব্বই শতাংশ টিকেট বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিনেমাটির নির্মাতা অনন্য মামুন।
তবে একযোগে এতো দেশে মুক্তি পেলেও প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুক্তি পায়নি দরদ। দুই সপ্তাহ পর ভারতীয় দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে দেখতে পারবে সিনেমাটি। দুই সপ্তাহ পর ভারতে মুক্তি দেয়ার প্রসঙ্গে নির্মাতা অনন্য মামুন জানান,দেশের সঙ্গে একই দিনে ভারতে মুক্তি দিলে পাইরেসির ঝুঁকি থেকে যেত। সে কারণে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
‘দরদ’ একটি প্যান ইন্ডিয়ান সিনেমা। এতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী সোনাল চৌহান। এ ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন বলিউডের রাহুল দেব, টলিউডের পায়েল সরকার, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, রাজেশ শর্মা, অলোক জৈন প্রমুখ সহ আরো অনেকে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

পাকিস্তান-বাংলাদেশ জাহাজ চলাচল উপমহাদেশের ইতিহাসে টার্নিং পয়েন্ট: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচি থেকে গত সপ্তাহে একটি পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। ১৯৭১ সালের পর এটিই প্রথম কোনও পাকিস্তানি পণ্যবাহী জাহাজের বাংলাদেশে নোঙর করার ঘটনা।

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগকে ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশন “দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় পদক্ষেপ” হিসাবে বর্ণনা করেছে। আর এই ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে “ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল সম্পর্কের” ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। আগস্টে গণবিপ্লবের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর থেকেই এই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ১৫ নভেম্বর শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।একাত্তরের ছায়া:

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর ১৯৭১ সালের ছায়া অনেকদিন ধরেই প্রকট আকার ধারণ করেছিল। ১৯৭১ সালে ৯ মাস দীর্ঘ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন হত্যা, নির্যাতন ও নৃশংসতার স্মৃতি বাংলাদেশের জাতীয় মানসিকতায় গভীরভাবে আঁচড় কেটেছে। ঢাকা এবং ইসলামাবাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতির জন্য পাকিস্তান কখনোই ক্ষমা চায়নি বা দুঃখ প্রকাশ করেনি। যদিও পাকিস্তান এই বিষয়টিকে মীমাংসিত ইস্যু বলেই উল্লেখ করে থাকে। পাকিস্তান মনে করে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পাকিস্তান প্রকল্প ভাঙার একটি ভারতীয় ষড়যন্ত্র। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুবই আবেগপ্রবণ একটি বিষয়। (পাকিস্তানের পক্ষ থেকে) “যথাযথ ক্ষমা প্রার্থনার” অভাবে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করা অতীতে কঠিন বলেই প্রমাণিত হয়েছে।

পাকিস্তান-ভারত এবং হাসিনা:

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঢাকার কিছু সরকারের অধীনে তিক্ত হয়েছে, বিশেষ করে শেখ হাসিনার অধীনে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন (১৯৯৬-২০০১, ২০০৯-২০২৪) তিনি ১৯৭১ সালে “যুদ্ধাপরাধের দায়ে” “সহযোগী” বা রাজাকারদের নির্মমভাবে বিচার করেছিলেন।যুক্তরাষ্ট্র কেন শেখ হাসিনার ভিসা বাতিল করল?

তিনি “যুদ্ধাপরাধীদের” বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন এবং ২০১৩ সালে এই ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে। হাসিনার শাসনামলে ফাঁসি কার্যকর হওয়া অনেক বিরোধী নেতার মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রথম। আব্দুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডকে পাকিস্তানের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান খুবই দুর্ভাগ্যজনক বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এতে কোনও সন্দেহ নেই যে-১৯৭১ সালে পাকিস্তানের প্রতি তার আনুগত্য এবং সংহতির কারণে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে”।

একইসঙ্গে হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। হাসিনা নিজেই নেহেরু-গান্ধী পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখতেন এবং ১৯৭৫ সালে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তাকে নয়াদিল্লিতে আশ্রয়ও দেওয়া হয়েছিল।

 নতুন সূচনা পাকিস্তানের জন্য:

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের দাবি, গত আগস্টে ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণআন্দোলনে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময় আশপাশে ঘটা তিনটি ঘটনা এখন যা ঘটছে সেই প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য।

প্রথমত, হাসিনা দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার দল এবং পরিবারের অবদান থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু ছাত্রদের বিক্ষোভ যেমন সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছে-বিক্ষোভ ও প্রতিবাদকারীদের রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করার কৌশল কোনও কাজই করেনি।

দ্বিতীয়ত, নয়াদিল্লির সঙ্গে হাসিনার “অতি ঘনিষ্ঠ” সম্পর্কের জন্য বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভও ছিল। অনেকে মনে করতেন, বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত খুব বেশি করে জড়িয়ে পড়ছে এবং হাসিনার প্রতি প্রকাশিত ক্ষোভকে “ভারত-বিরোধী” মনোভাব হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

গত আগস্ট মাসে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজধানীতে চালু থাকা ভারতীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসি) ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

তৃতীয়ত, সংখ্যালঘু নিয়ে বাংলাদেশে সর্বদাই একটি আখ্যান বা বর্ণনা বিরাজমান আছে। আর সেটি ১৯৭১ সালের ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নয় বরং মুসলিম জাতির ট্র্যাজেডি এবং দেশভাগের প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। ঢাকায় হাসিনা-পরবর্তী সরকার ব্যবস্থায় ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।

আর এই সব বিষয়ই বাংলাদেশের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ হাত প্রসারিত করার জন্য পাকিস্তানের পক্ষে আদর্শ পরিস্থিতি গড়ে তুলেছে। শেখ হাসিনার ঢাকা থেকে চলে যাওয়ার পরের মাসগুলোতে একাধিক পাকিস্তানি সম্পাদকীয় এবং মতামত-প্রবন্ধগুলোতে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি কূটনীতিক বুরহানুল ইসলাম নিউজ পোর্টাল প্যারাডিজম শিফটে লিখেছেন, “স্পষ্টতই এখন সময় এসেছে বাঙালি এবং বাংলাদেশের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ১৯৭১ সালের তিক্ত অনুভূতিগুলোকে সরিয়ে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ উভয়েরই তাদের সম্পর্ক পুনর্গঠন করা উচিত।”

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদের বিভিন্ন প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকে উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার এবং উভয় দেশের সম্পর্কের “নতুন পৃষ্ঠা” চালু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ নভেম্বর-২৪/মওম

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূতের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন ‌দি‌ল্লিতে নিযুক্ত অ‌স্ট্রিয়ার বাংলাদেশের অনাবা‌সিক রাষ্ট্রদূত ক্যাথারিনা উইজার।

১৬ নভেম্বর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।  বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের নিযুক্ত অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রদূত ড.ক্যাথারিনা উইজার।

বৈঠকে উপস্থিতি রয়েছেন বাংলাদেশর অস্টিয়ার কনস্যুলার এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ফরেন উপদেষ্টা কমিটি সদস্য তাজভীরুল ইসলাম। তবে, বৈঠকে বিষয়বস্তু সম্পর্কে শায়রুল কবির কিছু জানাতে পারেনি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ নভেম্বর-২৪/মওম

৩১ দফা বাস্তবায়নে দৌলতপুরে বিএনপির ঐক্য ও শান্তি সমাবেশ 

মো. মিজানুর রহমান খান কুদরত , মানিকগঞ্জ 
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য বাঘুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক ঐক্য ও শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকাল ৪ টার সময় বাঘুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বাঘুটিয়া বিকেএস উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস.এ কবির জিন্নাহ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো,. হাবিবুল্লাহ নোমান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, ঘিওর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিকুজ্জান মানিক,
সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান  কুদরত, জেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মো. লোকমান হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল মতিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান ,দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম সালাউদ্দিন সেলিম, সদস্য সচিব আবদুস সালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আলামিন ও সদস্য সচিব রাজীব হোসেন,,থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন আহমেদ এলিট প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস. এ কবির জিন্নাহ তার বক্তব্যে বলেন- বালাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ঐক্য ও শান্তি সমাবেশ হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে আমাদের বহু নেতাকর্মীরা কিভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সে সম্পর্কে  তুলে ধরেন। সভায় আরোও বলেন যারা এতদিন আওয়ামী লীগের দালাল ও সুবিধা বাদী ছিলেন তারা আবার আমাদের দলে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এদের দেখে সাবধানে থাকবেন কোনভাবেই যেন দলের ক্ষতি না করতে পারে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দেশের ক্রান্তিলগ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোনো অন্যায়ের মোকাবিলা করা যায় : ড. ইউনূস

আলোকিত প্রতিবেদক:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোনো অন্যায়, অবিচার মোকাবিলা করা যায়। শুধু তাই নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করা যায়। যেটা আমরা জুলাই-আগস্ট মাসে দেখিয়েছি।

১৬ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে দেশ–বিদেশের ৮০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবে।

নোবেলজয়ী ড. ইউনূস বলেন, কোনো অন্যায়, দোষ না করেও এ দেশের মানুষ কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। অনেক বড় শক্তির মুখোমুখি হওয়াতে আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু আমরা এটাও জানি যে, যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, যখন আমরা এক হয়ে কাজ করি, তখন আমাদের ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে, যেমনটি আমরা ১০০ দিন আগে বাংলাদেশে করেছি।

ড. ইউনূস বলেন, মাত্র একশ দিন আগে একটি অনন্য রাজনৈতিক উত্থানের সম্মুখীন হয়েছিল বাংলাদেশ। গত ১৬ বছর ধরে চলা একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়েছে ছাত্ররা। আমি এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অতিথিদের একটি সদ্য উদীয়মান দেশে স্বাগত জানাই।

জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১,৫০০ ছাত্র জনতা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০ হাজার আহত হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা তাদের সকলকে শ্রদ্ধা জানাই যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যারা সারা জীবনের জন্য তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, চোখ এবং অনেক শারীরিক সক্ষমতা হারিয়েছে, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের উদ্বোধন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এই সময়ে এ ধরনের এই সমাবেশের আয়োজন করার জন্য সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজকে ধন্যবাদ জানাই।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিদেশিদের উদ্দেশে তিনি  বলেন, ঠিক এক’শ দিন আগে এই শহরে যা ঘটে গেছে তা আপনার নিজ চোখে দেখে যান। জুলাই বিপ্লবের সময় তরুণদের আবেগ এবং আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করে রঙিন চিত্রে আঁকা রাস্তার দেয়ালগুলো দেখুন। দেখতে পারবেন কীভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মে কী চায়, তাদের অভিব্যক্তি দেখে যে কেউ অবাক না হয়ে পারবেন না। এই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া না করার জন্য অনুরোধ করছি। এই বিপ্লবের কোনো ডিজাইনার ছিল না, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা ছিল না এবং কোনো সংস্থা এটিকে অর্থায়ন করেনি। তরুণরা তাদের নিজের শক্তিতে করেছে।

সম্মেলনের বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, আমাদের অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছর, উপকূলীয় জেলার মানুষগুলো নানা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় অবিলম্বে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের প্রয়োজন।

ড. ইউনূস বলেন, ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেক জনসংখ্যার বয়স ২৭ বছরের কম। কত বড় শক্তি। তাদের এই সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে অনেক শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব। আমাদের তরুণদের শক্তি আছে বিশ্বকে টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার, আমাদের পরিবেশ রক্ষা করার। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সহযোগিতা, সাহস এবং নিজেদের মধ্যে শেয়ার করার মানসিকতা এবং অটুট বিশ্বাস। আমাদের তরুণরা আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে নিয়ে গেছে। আসুন একে অপরকে চ্যালেঞ্জ করি, একে অপরের কথা শুনি এবং পরিবেশগতভাবে নিরাপদ গ্রহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জীবনধারাসহ একটি নতুন বিশ্ব কল্পনা করার সাহস করি।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে ৭৭টি সেশনে গবেষক, শিক্ষক, লেখক, সমরবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন পেশার আট শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেবেন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬ নভেম্বর-২৪/মওম