মেঘনার ডুবোচরে মাছ ধরার নৌকা উল্টে ২ জেলে নিহত, নিখোঁজ ২
মুরাদনগরে সেনা অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
নাজমুল হাসান:
কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় ১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন দেবিদ্বার সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা।
০৬ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মুরাদনগর উপজেলার সদর এলাকা উত্তর পাড়া বাংলালিংক টাওয়ারের পাশে লালু মিয়ার বাড়ি থেকে ১ কেজি গাঁজাসহ তাদের আটক করা হয়। আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী তারু মিয়া (৬০) মুরাদনগর সদর এলাকার উত্তর পাড়ার মৃত লালু মিয়ার ছেলে। আরেকজন হলেন মেহেদী হাসান বাবু (১৯), একই থানার ১৬ নং ধামঘর ইউনিয়ন পরমতলা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। অভিযান পরিচালনা করেন দেবিদ্বার এবং মুরাদনগরের ৩৮ বীরের মেজর নাজিউর রহমান এর নির্দেশনায় সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ এনামুল এর নেতৃত্বে। সহযোগী হিসেবে ছিলেন লেন্স কর্পোরাল ফিরোজ, লেন্স কর্পোরাল শামীম সহ সঙ্গীয় ফোর্স।
৩৮ বীরের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এনামুল বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে, মুরাদনগর উপজেলার সদর এলাকায় উত্তরপাড়া লালু মিয়ার বাড়িতে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মাদক বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তখন আমি আমার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করি এবং তার বসত ঘর থেকে মাদক সেবনকারী মেহেদী হাসান বাবু সহ মাদক ব্যবসায়ী তারু মিয়াকে আটক করি। তখন তার নিজ বসতঘর থেকে ছোট ছোট কাগজে মোড়ানো প্যাকেট থেকে ১ কেজি পরিমাণ গাঁজা পাই। পরবর্তীতে ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুরাদনগর থানার এস আই জালাল আহমেদের কাছে হস্তান্তর করি।
স্থানীয়রা জানান, তারু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক ব্যবসা করেন। তার কারণে এলাকার যুবক সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে দিনরাত মাদক নিতে মানুষ আসে। এই মাদক ব্যবসায়ীর কারণে এলাকায় চুরি ডাকাতি বেড়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও আছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর-২৪/মওম
২০০ বোতল ফে*ন্সিডিল সহ ১ মা*দক কারবারি গ্রে*ফতার
ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে: খন্দকার মোশাররফ
আলোকিত প্রতিবেদক:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনে পালিয়ে গেছে। অবৈধভাবে একটি দেশে আশ্রয় নিয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা ভারত থেকে ষড়যন্ত্র করছে। আজকে ছোট খাটো বিষয় নিয়েও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য যতরকমের ষড়যন্ত্র আছে, সবগুলো করা হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে। দেশকে রক্ষা করতে হবে।
৬ ডিসেম্বর শুক্রবার প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে ৯০’এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সম্প্রতির সাথে বসবাস করে আসছে। কিন্তু, আজকে ভারত থেকে শুরু করে আমাদের কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোক কেন একটা সমস্যার সৃষ্টি করছে। কেন আমাদেরকে সারাবিশ্বে মানহানি করছে। এটার একটাই উদ্দেশ্য, সেটি হলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকার নিরপেক্ষ সরকার। এই সরকারকে আমরা সমর্থন করি। এ সরকার একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংস্কার করা উচিত। নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ দেওয়া উচিত।
সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী এবং ডাকসু’র সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেন, আজকে সকল পাঠ্যপুস্তকে সকল আন্দোলনের পটভূমি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। সকল নেতৃত্বকারীদের নাম সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, হাজার হাজার ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। এই রাষ্ট্রকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। আজকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজকে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি চলছে এটা আমরা কামনা করিনি। যে আন্দোলন হয়েছে সে আন্দোলনের সফলতা আমরা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে পাবো। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে বসে লন্ডনে একটি জমায়েতে নাকি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য রাখবে। এই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আর প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। অন্তত ১৫ বছর তাদেরকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, এসরকারকে আমরা সমর্থন করি। এসরকারকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এসরকারের হাত ধরেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। আজকে বাংলাদেশে অনেক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়াও বিএনপির দিকে কেউ যদি আঙ্গুল তোলে তাহলে বুঝতে হবে তারা প্রকৃত আন্দোলনকারী নয়।
আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর-২৪/মওম
বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে শিগগিরই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে শিগগিরই। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির বন্দরনগরী করাচিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এই ঘোষণা দিয়েছেন।
ফলে উভয় দেশ এবং দেশের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। করাচিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এস এম মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট শিগগিরই চালু হবে, যা দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, হায়দ্রাবাদ চেম্বার অব স্মল ট্রেডার্স অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রির (এইচসিএসটিএসআই) সহযোগিতায় হায়দ্রাবাদে দুই দেশের আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারকদের জন্য একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে।
এছাড়া মাহবুবুল আলম ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক বাণিজ্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তানের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই ইভেন্টে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে তাদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করা হবে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, হায়দ্রাবাদ চেম্বার পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
এসময় তিনি পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাজার হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এইচসিএসটিএসআইকে ঢাকায় তাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে বলেন। তিনি ব্যবসায়ীদের ভিসা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং ত্বরান্বিত করারও প্রতিশ্রুতি দেন।
মাহবুবুল আলম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ তার পণ্য ৮০টি দেশে রপ্তানি করে বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করছে। তবে, তিনি পাকিস্তানের সাথে শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের মাধ্যমে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে এইচসিএসটিএসআই-এর সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম মেমন বলেন, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের মধ্যে নিহিত। তিনি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও এসময় তুলে ধরেন। এছাড়া ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গত ১১ নভেম্বর পাকিস্তান থেকে সরাসরি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছানোর বিষয়টিকে তিনি মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করেন।
মেমন এসময় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানের প্রদর্শনীতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান এবং পাশাপাশি হাইকমিশনকে বাংলাদেশে এক্সপোতে যোগদানের জন্য পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের যথাযথ সুবিধা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ উভয় দেশের বৃহত্তর বাণিজ্য সহযোগিতার পথ আরও প্রশস্ত করবে।
এছাড়া তিনি ঢাকায় শুল্ক ছাড়পত্রে পাকিস্তানি পণ্য রপ্তানিকারকরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে থাকেন সেগুলো তুলে ধরেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। এই ধরনের প্রক্রিয়াগুলো আরও সুগম করার জন্য একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সুপারিশও করেন মুহাম্মদ সেলিম মেমন।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর-২৪/মওম
অবশেষে জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন: কাজী নজরুল!
আলোকিত প্রতিবেদক : আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের-আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ জ্বালা, চির লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের!
[কাজী নজরুল ইসলাম, কবিতা: বিদ্রোহী, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ]
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাম এতদিন ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে মানুষের মুখে মুখে ফিরলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছিল না তখন। এবার সেই স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তাকে জাতীয় কবি হিসেবে ভূষিত করে গেজেট প্রকাশের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবটি এনেছে।
তবে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের নাম সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি উপদেষ্টা পরিষদ।
এ বিষয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়নি। কারণ সংবিধান সংশোধন করতে হলে সংসদ লাগে। এখন তো সে অবস্থা নেই। যখন সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি আসবে তখন এটি সেখানে অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই এ বিষয়ে দাবি জানিয়ে এসেছি। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সরকারকে জানানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনেকে আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, এটা দ্রুত করা হবে। অবশেষে এটা হওয়ার খবরটি জেনে ভালো লাগছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পর গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুরু হয় সংস্কার-যজ্ঞ। এরই ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৯৮৭ সাল থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে দেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হলেও এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি নেই। শুধু কবি কাজী নজরুল ইনস্টিটিউট আইনে জাতীয় কবি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামের নাম লেখা আছে।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। ১৯৭৬ সালে নজরুলকে স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদানের সরকারি আদেশ জারি করা হয়। সে বছরই ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, সম্পাদক। তার মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা অতুলনীয়। সাহিত্যের নানান শাখায় বিচরণ করলেও কবিসত্তাই তার প্রধান পরিচয়। তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলিÑ রণসংগীত: চল্ চল্ চল্। ছোট গল্প: ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলি মালা। উপন্যাস: বাঁধন হারা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা। কবিতা: প্রলয়োল্লাস, আগমনী, খেয়াপারের তরণী, বিদ্রোহী, কামাল পাশা, খুকী ও কাঠবিড়ালি, লিচু-চোর, খাঁদু-দাদু, আনোয়ার, রণভেরী, কোরবানী ও মোহররম। তার ইসলামী গজলগুলোও কালোত্তীর্ণ সৃষ্টি।
কাজী নজরুল ইসলাম জগত্তারিণী স্বর্ণপদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, পদ্মভূষণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি পেয়েছেন। ১৯৪২ সালে কাজী নজরুল মারাত্মকভাবে স্নায়ুবিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়লে আকস্মিক তার সব সক্রিয়তার অবসান হয়। মৃত্যু অবধি সুদীর্ঘ ৩৪ বছর তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
মানিকগঞ্জে বিএনপি অফিসে অগ্নি*সংযোগ, আ*হত-১
টাঙ্গাইলে সকল ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে জেলা পুলিশের সম্প্রীতি সমাবেশ
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দিন, টাঙ্গাইল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন, জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক রমেশ চন্দ্র সরকার, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাধন চন্দ্র চক্রবর্তী, জেলা পুজা উদযাপন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চিত্ত রঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুণ ঝন্টু, টাঙ্গাইল জেলা ইমাম ও মুয়াজ্জিন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জন জেৎরা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ বোর্ডের ট্রাস্টি শ্যামল হোড় প্রমুখ।
এরআগে একটি সম্প্রীতি র্যালি জেলা সদরের হেলিপ্যাড থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পুলিশের মাল্টিপারপাস শেডে সমাবেশে যোগ দেয়। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মৃধ্যার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সরাতে চলছে চক্রান্ত
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ ৫ই আগস্ট স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয়গুলো পার করছে অস্থির সময়।এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কুচক্রী মহল কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উসকে দিয়ে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্প্রতি নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের মৃধ্যার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের পদত্যাগের দাবিতে গত ৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের সকাল ১০টায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
জানা যায়, মানববন্ধনে উপস্থিত একাংশ ছাত্র ছাত্রীদের দাবির মুখে বিকাল ৩টায় প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক পদত্যাগ করেন।পদত্যাগের পরদিন ৮ অক্টোবর ঐ সকল ছাত্র ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সদর উপজেলার ইউএনওকে। আনীত অভিযোগ বিষয় নিয়ে সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন,মৃধ্যার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট ২৩টি অভিযোগ করে।উক্ত অভিযোগের আলোকে তদন্ত করে শাস্তি যোগ্য অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করা হয়।তবে প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের পদত্যাগ পত্রটি গৃহীত হয়নি বলে জানান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার প্রায় ৪৫ দিন পর অর্থ্যাৎ ১৮ নভেম্বর বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষক ও কর্মচারীরা প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ এনে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রদান করেন।নির্বাহী কর্মকর্তা আঁখি নুর জাহান নীলা বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,উক্ত অভিযোগের আলোকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।সেই চিঠিতে তাদেরকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করার জন্য বলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) আহবায়ক, সদস্য সচিব পৌর কল্যাণ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের ১জন অভিভাবককে সদস্য হিসাবে সেই কমিটি করা হয়।বর্তমানে কমিটির তদন্তের কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়।
এদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক থেকে শিক্ষকতা করছেন।তিনি যদি এতোটাই খারাপ হতেন তাহলে দীর্ঘদিন এখানে কি করে শিক্ষকতা করেন? এরপরেই বিস্ফোরক মন্তব্য তাঁর, প্রধান শিক্ষকের অপরাধ তিনি শিক্ষকদের তাদের মন মতো চলতে দেন না।তিনি বলেন,বাজার সংলগ্ন স্কুল হওয়াতে এখানে স্থানীয় বখাটেরা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ইভটিজিং করতো।একদিন খবর পেয়ে ঐ ইভটিজারদের বাজারে গিয়ে দৌড়ে দৌড়ে পিটিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক। ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, গত ১০ আগস্ট দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার প্রারম্ভে তিনি ১বিষয়েও ফেল করা শিক্ষার্থীদের আগামী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেবেন না বলে ঘোষণা দেন।সেই ঘোষণাটি তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।এছাড়াও আরো নানাবিধ চক্রান্ত জড়িয়ে আছে প্রধান শিক্ষককে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।
ঘটনার অনুসন্ধানে বিদ্যালয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাসকে না পেয়ে সহকারী শিক্ষক মাওলানা শরীফ হোসাইনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান,ঘটনার সূত্রপাত তো সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে।আমরা মনে করি এই নিয়োগে আর্থিক লেনদেন হয়েছে।এর আগে নৈশ প্রহরী ও অফিস পিয়ন নিয়োগ থেকেও প্রধান শিক্ষক আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন।এছাড়াও মোট ১৮ টি অনিয়মের অভিযোগ করেছি।আশাকরি এর মধ্যে কয়েকটি হলেও আমরা প্রমাণ করতে পারবো।যদি প্রমাণ নাও করতে পারি তারপরেও প্রধান শিক্ষক হিসাবে হিরন্ময় ভৌমিক এখানে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।আর তাছাড়া তিনি স্বৈরাচারী কায়দায় বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন।বিদ্যালয়ের সকল কিছু একক সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়ন করতেন বলে জানান।তবে
মাওলানা শরীফ হোসাইনের এই বক্তব্যের মধ্যে দুরভিসন্ধিমূলক চক্রান্ত লুকিয়ে আছে বলে মনে করেন সাবেক ঐ অভিভাবক সদস্য।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক বলেন,আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হবে।আমি আবার আমার প্রিয় বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবো।সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ঘুস গ্রহনের বিষয়ে তিনি বলেন,এটা পুরোপুরি সত্য নয়।তৎকালীন অভিভাবক সদস্যের পরামর্শে মিষ্টি খাওয়ার জন্য তিনিই ৫০,০০০ হাজার টাকা দেন।
“আমার ভাগের টাকা আমি না নিয়ে তখনই ফেরত দিয়ে দেই”।
এদিকে অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,দীর্ঘ ২মাসেও প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাউকে পদায়ন না করায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তাঁরা অচিরেই প্রধান শিক্ষক পদায়নের জন্য জোর দাবি জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

