আজ , ।   
Home Blog Page 594

শবে বরাতের কিছু আমল

ধর্ম ডেস্ক:

শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতকে বলা হয় ‘শবে বরাত’ যা ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। ফারসিতে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। `শবে বরাত’ অর্থ ‘মুক্তির রাত’। হাদিসে এ রাতটিকে ‘শবে বরাত’ বা মুক্তির রাত বলা হয়নি, বলা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রাত। তবে এ রাতে আল্লাহ তাআলা তার অনেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন এটা বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়। এ থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশ, পারস্যসহ বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এ রাতটিকে ‘শবে বরাত’ বা মুক্তির রাত বলা হয়ে থাকে।

এ রাতের ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন,

يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.

আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে তার সৃষ্টিকুলের দিকে দয়ার দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)

আরেকটি হাদিসে এসেছে,

إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا يَوْمَهَا ‏.‏ فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ أَلاَ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ أَلاَ مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلاَ مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ أَلاَ كَذَا أَلاَ كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ ‏

মধ্য শাবানের রাতে তোমরা নামাজ আদায় করো এবং দিনে রোজা রাখ। এ দিন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছ আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছ রিজিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দান করবো। কে আছ রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছ এই এই প্রার্থনাকারী… ফজরের সময় হওয়া পর্যন্ত তিনি এভাবে ডাকেন। (সুনানে ইবনে মাজা: ১৩৮৮)

আমাদের কর্তব্য এ রাতে বেশি বেশি নেক আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা যেন আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমায় আমরাও শামিল হতে পারি।

শবে বরাতে যে আমলগুলো করণীয়

১. ছোটবড় সব পাপ থেকে আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন।

২. সব রকম শিরক ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে অন্তরকে পবিত্র করুন।

৩. আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীদের সাথে মনোমালিন্য থাকলে তা দূর করুন। কারো প্রতি অন্যায় করে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিন, নিজেও সবাইকে ক্ষমা করে দিন।

৪. ফরজ নামাজের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় নিয়ে নফল নামাজ পড়ুন।

৫. বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করুন।

৬. কবর জিয়ারত করতে যান। কবরস্থানে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটান। মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাহফিরাতের জন্য দোয়া করুন।

৭. ১৫ শাবান দিনের বেলা রোজা রাখুন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে প্রতিবন্ধী ছেলে আটক

মোঃ নিশাদুল ইসলাম:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সিয়াম মোল্লা (১৯)নামের এক প্রতিবন্ধী ছেলের বিরুদ্ধে  মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।  এ ঘটনায় ওই প্রতিবন্ধী ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।
১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে উপজেলার আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাসিমা বেগম ওই এলাকার মিজান মোল্লার স্ত্রী।
এ ব্যপারে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সিয়ামকে বাসা থেকে বের হতে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভে তরকারি কাটার বটি দিয়ে কুপিয়ে তার মাকে হত্যা করেছে বলে সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই স্বীকার করেছে।  তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বের করার জন্য চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/১৪ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে খালেদা জিয়া// সৈয়দ রনো

সৈয়দ রনো: ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে যে শূন্যতার সৃষ্টি করা হয় তা পূরণে ইতিহাসের দাবী, দেশবাসীর আকাক্সক্ষায় বিএনপির অভ্যুদয় ঘটে। বিএনপির ঘোষণাপত্রে বলা হয় বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ইস্পাতকঠিন গণঐক্য, ব্যাপক জনভিত্তিক গণতন্ত্র ও রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত জনগণের অক্লান্ত প্রয়াসের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তি, আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রগতি অর্জন এবং সাম্রাজ্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ অধিপত্যবাদের বিভীষিকা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বিএনপি গঠিত হয়। অপরিসীম দেশপ্রেম, জনগণের কল্যাণ ও দৃঢ়চেতা মনোবল প্রজ্ঞা দিয়ে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে খ্যাত বাংলাদেশকে একটি আদর্শ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে এসেছিলেন মহান নেতা জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং উৎপাদন দ্বিগুণ করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অক্লান্ত প্রচেষ্টা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপুল প্রশংসা লাভ করে। কিন্তু যুগে যুগে দেশ-দেশান্তরে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র সুশাসকদের সামন্তরালেই চলে। তারা সুযোগের সন্ধানেই থাকে। প্রেসিডেন্ট জিয়ার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রমটি ছিলো না। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য তাঁকে হত্যা করে। কিন্তু এই মৃত্যুও যেনো তাঁকে আরো বেশি মহীয়ান করে তোলে। ব্যক্তিগত সততা, উন্নয়ন, ঐক্য এবং সুসম্পর্কের রাজনৈতিক দর্শনের কারণে রাজনীতির ইতিহাসে তাঁর নাম লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে। আপামর জনতার হৃদয়ের মণিকোঠায় তিনি আজও চির ভাস্বর।
খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন: প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাহাদাতের পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার প্রথমে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন এবং দলের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৮২-এর ২৪ মার্চ এরশাদ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মাত্র ৩ মাস আগে নির্বাচিত সাত্তার সরকারকে অপসারণ করে ক্ষমতা দখল করে। বিএনপির কিছু নেতা এরশাদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিলে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বিচারপতি সাত্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিতেও কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা আসে। কর্মীদের দাবি এবং কিছু শীর্ষ নেতার অনুরোধে ১৯৮২-এর ৩ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া দলের প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়ে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে পা রাখেন। বিএনপিকে ষড়যন্ত্র ও নিষ্ক্রিয়তা থেকে রক্ষার উদ্যোগের ফলে পার্টির সিদ্ধান্তে বেগম জিয়া ৮৩-র মার্চে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন: এরশাদের পুরো শাসনামলে বিএনপির রাজনীতি ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। ৮২-র ৩০ মে শহীদ জিয়ার প্রথম শাহাদাত বার্ষিকীতে জিয়ার মাজারে গিয়ে তিনি বক্তব্য দেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে মাজার প্রাঙ্গনে ছাত্রদলকে শপথ বাক্য পড়ান। ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খান নতুন শিক্ষানীতি ঘোষণা করলে বিএনপি তার বিরোধিতা করে এবং ছাত্রদলের নেতৃত্বে আন্দালনের সূচনা করে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত হিসাবে ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে স্বৈরাচারবিরোধী প্রথম মিছিলটি করে ছাত্ররা। ছাত্রদলের ব্যানারে ছিল: এরশাদের পতন চাই। ৭ নভেম্বর খালেদা জিয়া ছাত্রদলকে শপথ পড়ান, পরদিন ক্যাম্পাসে মিছিল হয়। ১১ ও ১২ ডিসেম্বর ছাত্রদলের বর্ধিত সভা ও ১৩ ডিসেম্বর শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে ধর্মঘট করে। ছাত্রদলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য ছাত্রদলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাবি ক্যাম্পাসের বটতলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, আইউব, দিপালী সাহা, ফারুকসহ ৭ জন শহীদ হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিছিল হলে পুলিশের গুলিতে ১৫জন নিহত হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা গায়েবানা জানাজা, ১৯ ফেব্রুয়ারি মৌন মিছিল এবং ২০ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে হরতাল করে। ইতোমধ্যেই বেগম জিয়া তাঁর বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। সমসাময়িক ও সমমনা দলগুলোকে নিয়ে ১৫ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করেন। এরইমধ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি এক বৈঠক থেকে ১৫ দলীয় জোট নেতাদের এবং কর্নেল অলিসহ বিএনপি নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। ছাত্ররা পলাতক, নেতারা কারাবন্দী তবু খালেদা জিয়া শহীদ মিনারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মৌন মিছিল শহীদ মিনারে যায়, তাঁকে প্রধান অতিথি করে বটমূলে হয় জাসাসের আলোচনাসভা। ঘরোয়া রাজনীতির সুযোগে খালেদা জিয়া দেশ সফরে বের হয়ে প্রথম সভা করেন খুলনায় ইউনাইটেড ক্লাবে। ’৮৩-র ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর ৭ দলীয় ও ১৫ দলীয় ঐক্যজোটের মধ্যে বৈঠকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ৫ দফা প্রণীত ও ৬ সেপ্টেম্বর তা ঘোষিত হয়। ২৮ নভেম্বর উভয় জোটের সচিবলায় ঘেরাও কর্মসূচিতে আহত খালেদা জিয়া এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন। ২৮ নভেম্বর রাতেই খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে ১ মাসের আটকাদেশ দিয়ে স্ব-স্ব বাসভবনে অন্তরীন রাখা হয়। এরশাদ তখন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে লোভ ও ভয় দেখান। ’৮৪-র ৭ জানুয়ারি এরশাদ ৫৫টি রাজনৈতিক দলকে সংলাপে ডাকলে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত জোট তা বর্জন করে। ’৮৪-র ১২ জুনায়ারি খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন মনোনীত হন এবং ১লা মার্চ খালেদা-হাসিনা গ্রেপ্তার হন। ’৮৪-র ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদ ১২ জুলাই জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা দিলে দুই জোট তা প্রত্যাখ্যান করে। ৭ দলীয় জোট ২৫ জুলাই প্রতিরোধ দিবস পালন করে। ৫ আগষ্ট জোটের জনসভা ও ২৭ আগষ্ট অর্ধদিবস হরতাল হয়। ২৭ আগষ্ট জামায়াতের জনসভা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয়। ৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সময়সূচী ঘোষণা করে। ’৮৪-র ১৫ অক্টোবর যৌথ গণতান্ত্রিক জোট ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ স্লোগানে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। প্রেসিডেন্ট রেডিও ও টিভির ভাষণে ১৯৮৫ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন স্থগিত করে ও সংবিধানের আংশিক পুনর্জীবনের ঘোষণা দেন।

আপোষহীন উত্তাল আন্দোলন: ’৮৫-র ৬ এপ্রিল বিচারপতি নুরুল ইসলাম তফসিল ঘোষণা করে ও সরকার সামরিক আদালত বিলুপ্ত করে। ১১ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশনে দলের বর্ধিত সভায় খালেদা জিয়া নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তুলেন। ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে খালেদা জিয়া অবাধ রাজনীতির সুযোগ দাবী করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল, ১৪ ফেব্রুয়ারি জনসভা থেকে নির্বাচনের তারিখ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আহ্বান করেন খালেদা জিয়া। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারের সভায় ৫ দফার কোনো ‘আপোষ’ অস্বীকার করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি উভয় জোটের জনসভায় একই দাবী পুনর্ঘোষিত ও ৮ মার্চ হরতাল হয়। ১৮ মার্চ চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে শেখ হাসিনা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বলেন, যারা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান। কিন্তু শেখ হসিনা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২১ মার্চ রাত ১টা ৪০ মিনিটে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ৩১ মার্চ ঢাকা জেলা ক্রীড়া সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির বর্ধিত সভা হয়। ২ মে খালেদা জিয়াকে অসম্মানজনকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। ৮৭-এর ৭ মার্চ যুবদলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তিনি বলেন ‘ক্ষমতা চাইলে এখানে, ঠিক এখানে এসে হাজির হবে। কিন্তু ক্ষমতা নয় সংগ্রাম।’ এ সময় ছাত্রদল সম্পাদক মাহবুবুল হক বাবলুকে হত্যা ও ছাত্রদলের উপর অপরিসীম নির্যাতন নেমে আসে। খালেদা জিয়া আখ্যায়িত হন ‘আপোষহীন নেত্রী’ অভিধায়। ১১ নভেম্বর দুপুরে পূর্বানী হোটেলের বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার করে গৃহবন্দী করা হয় তাঁকে। ‘৮৮-র ১ জানুয়ারি সরকার ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এদিন টিএসসিতে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে খালেদা জিয়া ‘এক দফার’ ঘোষণা দেন। সে সঙ্গে ২২টি ছাত্রসংগঠন নির্বাচনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। ১২ জানুয়ারি থেকে এক দফায় অনঢ় থেকে খালেদা জিয়া দেশব্যাপী জনসংযোগ শুরু করে। এক তরফা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি তিন-চতুর্থাংশ আসন পায়। ২৪ মার্চ, ২৫ এপ্রিল, ২৮ নভেম্বর হরতাল এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় সমাবেশে খালেদা জিয়া জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েমের আহ্বান জানান।

৮৯-র ৮ ও ৯ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টের বিভক্তি নিয়ে যুগান্তকারী এক রায় আসে। ’৮৯-র ২৫ মে ফারাক্কা অভিমুখে মিছিল করেন। ১ নভেম্বর ৭ দলীয় জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গুলিস্তানে ১০ ঘন্টা প্রতীক অনশন করে। এ সময় জেহাদের লাশকে সামনে রেখে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠিত ও ক্যাম্পাসে ডাঃ মিলন ও নূর হোসেন নিহত হলে সেনাসদর দপ্তরে সশস্ত্রবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠক করে তিন বাহিনীর প্রধান এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরশাদ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে তার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানাতে চান। তিনি বলেন, ১ ডিসেম্বর থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার ও প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন এবং ১৫ দিন আগে নিরপেক্ষ উপ-রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। বিবিসিকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়া অবিলম্বে এরশাদের পদত্যাগ দাবি করেন। ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করলে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। এরশাদের আমলে অনুষ্ঠিত ২টি জাতীয়, ১টি প্রেসিডেন্ট, ১টি গণভোট ও ২টি উপজেলা নির্বাচনের সবই প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার কারণে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপির প্রকৃত বিকাশ ঘটে। তিনি বিএনপিকে শুধু রক্ষাই করেননি, প্রতিকূল পথ বেয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি প্রধান শক্তি হিসাবে।

রাজনীতিতে নতুন যুগ ও রাষ্ট্রপরিচালনায় বেগম খালেদা জিয়া: ‘৯১-এর ২৭ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ ৯ বছর পর মুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন হয়। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে খালেদা জিয়া হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজার থেকে প্রচার শুরু করে রাতদিন টানা চষে বেড়ান সারাদেশ। ১৮০০ জনসভা ও পথসভা শেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শেরেবাংলা নগরে সমাবেশে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন। এ সময় দিনে ৩৮টি জনসভায় বক্তৃতা, নির্ঘুম ৪৮ ঘন্টা কাটিয়ে রেকর্ড করেন তিনি। নোয়াখালীতে রব ওঠে- ‘আঙ্গো মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা।’ ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ, বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার জন্য একটি অবিস্মরণীয় দিন। গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিএনপি ১৪৪টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। খালেদা জিয়া ৫টি আসনে নির্বাচন করে সবকটিতে জয়ী হন। বিএনপি জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে। ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১১ জন কেবিনেট মন্ত্রী ও ২১ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রীপরিষদ গঠন হলে ২০ মার্চ তিনি শপথ নেন। সেদিন তিনি প্রধানমন্ত্রীর নয়, নিজের গাড়িতেই স্মৃতিসৌধে যান। প্রধানমন্ত্রীত্বের ১২তম দিন ১ এপ্রিল মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীত্বের ৩৯ দিনের মাথায় ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণীঝড় হলে খালেদা জিয়া ৬ মে থেকে ৯ মে তাঁর দপ্তর চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পক্ষে ঐতিহাসিক বিল ৬ আগষ্ট সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। অবসান ঘটে দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির। বিএনপি সরকারের উদার নীতির নানা অর্থনৈতিক সংস্কারে ‘তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ’ থেকে বাংলাদেশ ‘ইমার্জিং টাইগার’-এ পরিণত হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে বিএনপি সরকারই প্রথম মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক, কোস্টগার্ড প্রতিষ্ঠাসহ নানা উদ্যোগ নেয়। এ সময় আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে এবং আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল পালন করে। প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে নির্দলীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে খালেদার প্রস্তাব কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টিফেনের মধ্যস্থতায় ফর্মুলা (নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের ৫ জন করে এমপি নিয়ে অন্তবর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠন) প্রস্তাব ও পাঁচজন নাগরিক নেয়ার উদ্যোগ আওয়ামী লীগ গ্রহণ না করায় ব্যর্থ হয়। এর মধ্যে সেনাপ্রধান নাসিমের নেতৃত্বে একটি ব্যর্থ সেনা অভ্্ূযত্থানেরও ঘটনা ঘটে। ‘৯৬-র ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন করে খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন। ২৫ মার্চ রাতব্যাপী সংসদ অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পাশ করে বিএনপি। ৩০ মার্চ সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাস বিচারপতি হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে আসে-তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা। ‘৯৬-র ১২ জুন সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ১১৬ আসন পেয়ে বৃহত্তম বিরোধী দল হিসাবে সংসদে যায়। পরবর্তী ৫ বছরে খালেদা জিয়াসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার, হত্যার শিকার হন। আওয়ামী সরকারেরর দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সারাদেশে সভা সমাবেশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ, দেশব্যাপী রোডমার্চ, গণমিছিল, মহাসমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট করে। ‘৯৯-র ৩০ নভেম্বর ২৯ মিন্টো রোডে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের জোট হিসেবে গঠিত হয় চারদলীয় জোট। তবে এরশাদ জোট ছাড়েন। ২০০১-র ২৯ মার্চ নাজিউর রহমান মঞ্জু আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করে জোটে থাকেন। অবশেষে ১৫ জুলাই আওয়ামী লীগ বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

২০০১-র ১ অক্টোবর বিএনপি জোট ২১৫টি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয় এবং ১০ অক্টোবর সরকার গঠন করে। নানা প্রতিবন্ধকতার ভেতরেও চারদলীয় জোট সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে নকলমুক্ত পরীক্ষা, মেয়েদের বিনামূল্যে পড়ালেখাসহ শতাধিক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি ও উন্নীত করে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেয়া হয় ব্যাপক পদক্ষেপ। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় স্থাপন ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটে এ সময়েই।

ওয়ান-ইলেভেন ও বিএনপি: ২০০৬-র ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপি। আওয়ামীলীগ ও ১৪ দল ২০০৭-র ২২ জানুয়ারি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও বয়কট করে। ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে বিরোধী দলের লগি-বৈঠায় নিহত হয় ৭জন। বিচারপতি কেএম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচারপতি এম এ আজিজের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ। ১১ জানুয়ারি তিন বাহিনী প্রধানসহ ৯ ডিভিশনের জিওসি প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মদের সঙ্গে সাক্ষাত করে জরুরি অবস্থা ও কেয়ারটেকার চিফ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন। আসে ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন ‘অস্বাভাবিক’ সরকার। সে সরকার দুর্নীতি অনুসন্ধান ও বিচারের নামে ‘মাইনাস টু ফর্মুলায়’ দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরাতে চায়। জিয়া পরিবার ও বিএনপি হয় মূল টার্গেট। ২০০৭-র ৭ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির সিনিয়ার যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমানকে। এপ্রিল মাসে খালেদা জিয়াকে জোর করে বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হলে ছোট ছেলে কোকোকে ২৪ ঘন্টা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয় এবং খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তিনি সেদিন বলেন, ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই।’ এরপর কার্যত তাকে গৃহবন্দী করা হয়। এদিকে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মান্নান ভূইয়াকে দিয়ে দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তবে সারাদেশের কর্মী-সমর্থকরা এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেন। খালেদা জিয়া বিভিন্ন জেলা ও বহির্বিশ্বে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নির্দেশনা দেন। ২ সেপ্টেম্বর রাতে খালেদা জিয়া ও কোকোকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগ মুহূর্তে বেগম জিয়া সংগঠনবিরোধী কার্যকালাপের অভিযোগে মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া এবং যুগ্ম-মহাসচিব আশরাফ হোসেনকে বহিষ্কার এবং বর্ষীয়ান নেতা খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে দলের নতুন মহাসচিব নিয়োগ দেন। ষড়যন্ত্রকারিরা সাইফুর রহমানকে চেয়ারম্যান ও মেজর (অবঃ) হাফিজকে অস্থায়ী মহাসচিব করে কমিটি গঠন করে এবং গঠিত কমিটিকে স্বীকৃতি দেন সিইসি ড. এটিএম শামছুল হুদা। ৫ নভেম্বর খালেদা জিয়া কারাগার থেকে নির্বাচন কমিশনকে লেখা চিঠিতে মহাসচিব হিসেবে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ’র সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানান। কারাগারে থেকেই আইনজীবীদের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেন। ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি মায়ের মৃত্যুতে খালেদা জিয়াসহ তারেক-কোকোকে দু’ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়। ৫ মার্চ নাইকো মামলায়, ২৩ জুন ও ৯ জুলাই গ্যাটকো মামলায় সংসদ ভবনে নির্মিত বিশেষ আদালতে হাজিরা দেন খালেদা জিয়া। তিনি কারাগারের ঠিকানায় ভোটার হতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিবন্ধনের শেষ দিন ৮ মার্চ পর্যন্ত তিনি ভোটার হননি।

১৩ আগষ্ট আইনজীবীদের বলেন, মুক্তির জন্য অবৈধ সরকারের কাছে কোন আবেদন করবেন না। ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও তারেক রহমানকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়া হয়। এ সময় তার অনঢ় মনোভাবের কারণে সরকার জরুরি আইন প্রত্যাহার ও বন্দী নেতাদের মুক্তি দেন। এসময় অস্বাভাবিক সরকার গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন করার প্রস্তাব দিলে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন। দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী বন্দী এবং পলাতক থাকা স্বত্ত্বেও এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি না থাকা স্বত্ত্বেও শুধু গণতন্ত্রের স্বার্থে বেগম জিয়া শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সারাদেশে ক্লান্তিহীন নির্বাচনী সফর করেন। তবে ২০০৮-র ২৯ ডিসেম্বরের পাতানো জাতীয় নির্বাচনে ৩৩ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও মাত্র ২৯টি আসন পায় বিএনপি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ১৪ ফেব্রুয়ারী / ক.ই.ও.

শবে বরাত উপলক্ষ্যে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় তারেক রহমান

আলোকিত ডেস্ক:

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সব মুসলমানের অব্যাহত সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বরাত অর্থ নাজাত বা মুক্তি, তাই শবে বরাতের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এ রাতের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। এ মহান রাতে আল্লাহ পাক তার সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। আর এ কারণেই এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ বান্দারা সারারাত আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রত্যাশায় নিজেদের ভুল-ভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। নিঃসন্দেহে এই রাত ফজিলতপূর্ণ। আল্লাহপাক এই রাতে তার বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন। সব অনাচার, অপকর্ম ও অপবিত্রতা থেকে পরিত্রাণ পেতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এবং মহান রাব্বুল আলামীন অনুগ্রহ প্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন।

তিনি বলেন, আমরা সবাই সহিংসতা, রক্তপাত, হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করে মানব জাতির বৃহত্তর কল্যাণে নিজেদের নিবেদিত রাখবো, মহিমান্বিত রাতে আমাদের এই নিবেদন নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করবেন। আমি পবিত্র শবে বরাতের এই রজনীতে দেশ, জাতি তথা মুসলিম বিশ্বের উত্তরোত্তর উন্নতি, কল্যাণ ও শান্তি কামনা করছি।

অপর এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের পবিত্র ও কল্যাণময় রজনী হচ্ছে শবে বরাত। শবে বরাতে মানুষ আল্লাহর কাছে নিজের দোষের জন্য ক্ষমা চায়। এই রাতে আল্লাহ তা’আলার নিকট যারা ক্ষমাপ্রার্থী তাদের পাপ তিনি ক্ষমা করেন, আর যারা অনুগ্রহপ্রার্থী তাদের তিনি অনুগ্রহ করেন। ইসলাম মানুষকে সরল-সোজা ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন বিধান প্রদান করে। নিজেদের সকল অমঙ্গল থেকে রেহাই পেতে নিষ্কলুষ, নিষ্পাপ পথে চলার জন্য মুসলমানরা এই রাতে আল্লাহ’র কাছে সাহায্য চেয়ে মোনাজাত করবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই পবিত্র রাত ক্ষমার রাত হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সৌভাগ্যের রজনী আলোকোজ্জ্বল মহিমাময়। এই রাতে সবার জীবনে নেমে আসুক সুখ, সুন্দর এবং কল্যাণের বারিধারা। আমি আল্লাহ’র দরবারে কায়মনোবাক্যে সেই মোনাজাত করি। এই রহমত ও বরকতের রজনীতে আল্লাহ’র নির্দেশিত পন্থায় আমরা সবাই মানব জাতির কল্যাণে কাজ করে যাবো। এজন্য আল্লাহ’র নিকট ধৈর্য ও উদ্যম কামনা করছি। পবিত্র শবে বরাতের এই রজনীতে দেশ, জাতি ও মুসলিম বিশ্বের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করি।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা : দেবিদ্বার উদ্যোক্তা মেলা

নাজমুল হাসান:

তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্ভাবনী চিন্তা ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিকাশে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেবিদ্বার উপজেলায় আয়োজিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা। দেবিদ্বার উপজেলা উদ্যোক্তা কমিটির উদ্যোগে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির তত্বাবধানে এই উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়।

 ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় বিভিন্ন স্টলে তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছেন। প্রতিটি স্টলে ছিল ভিন্ন ভিন্ন ধারণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার ছোঁয়া। মেলায় অংশ নেওয়া তরুণ উদ্যোক্তারা প্রদর্শন করেছেন তাদের উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা। মেলার ৩৯টি স্টলে দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেয়। মেলায় অংশ নেওয়া তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা দেখে দর্শকরা অভিভূত হয়েছেন অনেকে। উদ্যোক্তার মেলার স্লোগান ছিলো “একটি উদ্যোগ হাজারও সম্ভাবনা, নতুন দিগন্তের উন্মোচনা”

মেলাটি উদ্বোধন করেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন, দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলাম, উপজেলা উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি নাজমুল আলম সরকার, দেবিদ্বার প্রেসক্লাবে সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম সাগর, উপজেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক নাজমুল হাসান নাহিদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সমন্বয়ক মুহ্তাদির যারিফ সিক্ত সহ প্রমূখ।

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নারগিস আক্তার, রুমি, সাবিনা আক্তার, মুহ্তাদির যারিফ সিক্ত, সাকিবুল হাসান মিনহাজ, মাহমুদা আক্তার, ফাতেমা আক্তার, এমদাদুল হক, ফাতেমাতুজ জোহরার মতো আরো তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিল হস্তশিল্প, ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, অর্গানিক ফুড, সুগন্ধি স্টল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা। এছাড়াও মেলায় স্টল স্থাপন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ১২ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এই উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়।
মেলায় অংশ নেওয়া তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা জানান, এই মেলার মাধ্যমে তারা তাদের পণ্য ও সেবা প্রচারের সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়াও তারা বিভিন্ন শিল্প বিশেষজ্ঞ ও সফল উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছেন।

মেলা দেখতে আসা শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার জানান, মেলায় এসে আমি অনেক নতুন ধারণা ও পণ্য দেখতে পেয়েছি। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি মনে করি, এই ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে ব্যবসায়িক চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মেলার আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, এই মেলার মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে জাগ্রত করা সম্ভব হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামীতেও এই ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

আমিরাত সফর শেষ করে দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে যোগদান শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রীড়ামন্ত্রী ড.আহমেদ বেলহুল আল ফালাসি তাকে দুবাই বিমানবন্দরে বিদায় জানান। প্রধান উপদেষ্টা এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দেশ ফিরছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব জানানো হয়েছে। সফরে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে যোগদানের ফাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়িক বিনিয়োগের পরিকল্পনা এবং ক্রীড়া ও শিক্ষা সম্পর্ক গভীর করার মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা আমিরাতের কোম্পানিগুলোকে তাদের কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তর করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল জায়ৌদির প্রস্তাবের পর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশেষ শিল্প পার্ক স্থাপনে নীতিগতভাবে সম্মত হন।

প্রধান উপদেষ্টা বাণিজ্যমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল জাইয়ুদীকে বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পমূল্যের শ্রম ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্রুপগুলো বাংলাদেশকে হালাল পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত করতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার সফরকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ সাথে ছিলেন।

ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে যোগ দিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দুবাই পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

শবে বরাত উপলক্ষ্যে গরু-মুরগি ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে

আলোকিত প্রতিবেদক:

সারাদেশে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। দিনটিকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে উর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে চাহিদা বেশি থাকার সুযোগে বেড়েছে, গরু, মুরগি ও খাসি মাংসের দাম।

খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেও প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে। শবে বরাতের দিন ৭৮০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কেজি প্রতি গরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গরুর মাংসে দাম বেড়েছে সর্বনিম্ন ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত।

অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম গত তিনদিন আগেও ছিল প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। এখন এক লাফে হয়েছে ২১০ টাকা। এক্ষেত্রে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা করে। গত ছয় মাস ধরে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খাসির মাংস কেজি প্রতি বিক্রি হতো ১১০০ টাকা কেজি দরে। কিন্তু আজ হঠাৎ করে ব্যবসায়ীরা খাসির মাংসের কেজি প্রতি দাম হাঁকাচ্ছেন ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে রাজধানীর শাহজাদপুর কাঁচাবাজার, বাড্ডা কাঁচাবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি মাংসের দোকানে ক্রেতাদের লম্বা ভিড়। ক্রেতারা এসে প্রথমে ব্যবসায়ীদের কাছে মাংসের দাম জিজ্ঞাসা করছেন। বাড়তি দাম শুনে অনেক ক্রেতাই বিক্রেতার কাছে ফিরতি প্রশ্ন করছেন হঠাৎ করে কেন মাংসের দাম বেড়ে গেল। ক্রেতাদের প্রশ্নের উত্তরে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শবে বরাতের বাজারে দাম একটু বেশি থাকে।

রাজধানীর  যাত্রাবাড়ি কাঁচাবাজারে গরুর মাংস কিনতে আসা ক্রেতা বলেন, গত কয়েক মাস ধরেই তো গরুর মাংস ৭৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করে ৮০০ টাকা করে দাম চাচ্ছে। তারা কীসের ভিত্তিতে ৫০ টাকা দাম বাড়িয়েছে এটার কোনো সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। শবে বরাতের সময় মানুষ একটু বাসায় মাংস নিতে পছন্দ করে তাই বাড়তি দাম হলেও কিনে নিচ্ছে। এছাড়া খাসির মাংসের দামও তারা ৫০ টাকা দাম বৃদ্ধি করেছে।

মাংসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে যাত্রাবাড়ি কাঁচাবাজারের মাংস বিক্রেতা বলেন, গরু ও ছাগলের দাম বাজারে প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে মাংসের দাম একটু বেশি। এছাড়া শবে বরাতের সময় দাম একটু বেশি থাকে, এটা নতুন কিছু না।

অন্যদিকে যারা খাসি ও গরুর মাংস কিনতে পারছেন না, তারা ব্রয়লার মুরগি কিনতে গিয়ে বাড়তি দাম দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাজধানীর কারওয়ান কাঁচাবাজারের ব্রয়লার মুরগি কিনতে গিয়ে এক ক্রেতা বলেন, গরু ও খাসির মাংস তো আগে থেকেই অনেক দাম। ব্রয়লার মুরগির দামও বেশি ছিল। কিন্তু ১৯০ টাকা কেজি মুরগির দাম আজ হয়ে গেছে ২১০ টাকা। এভাবে হুট করে দাম বেড়ে গেলে তো আমাদের মত মানুষ জনের অনেক কষ্ট হয়।

মুরগির দামের বৃদ্ধি নিয়ে বিক্রেতা বলেন, গত তিনদিন আগেও ১৯০ টাকা করে বিক্রি করতাম। কিন্তু হঠাৎ সাপ্লাই কমে গেছে। আমার মনে হয় পাইকারি বিক্রেতারা শবে বরাতকে কেন্দ্র করে সাপ্লাই কমাই দিয়ে দাম বাড়িয়েছে। এখন বাড়তি দামে কিনে তো আমাদেরকে বাড়তি দামি বিক্রি করতে হবে।

এদিকে মাংসের বাজারে দামের আগুন থাকলেও সবজির বাজারে টানা স্বস্তি চলছে ক্রেতাদের জন্য।

সর্বশেষ খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি টমেটো ৩০ টাকা করে, আলু ২৫ টাকা, বেগুন আকার অনুযায়ী ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, মূলা ২০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা, দেশী শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফুল ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ২০ থেকে ২৫, লাউয়ের পিস ৪০ থেকে ৬০, টমেটো ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি, ও কাঁচা মরিচের কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্বস্তিতে রয়েছে পেঁয়াজের বাজার দামও। তবে দাম বাড়তি রয়েছে রসুনের। খুচরা বাজারের তথ্য অনুযায়ী প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়, দেশি নতুন রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ এবং আমদানি করা রসুনের কেজি ২৫০ থেকে ২৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে আদারও কেজির  দর বেড়ে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ // সৈয়দ রনো

সৈয়দ রনো:

ক্লান্ত বিছানায় এপাশ ওপাশ ফিরি, স্ত্রী-সন্তান গভীর ঘূমে অচেতন
রাতের কোনো এক প্রহরে বেজে উঠে টুংটাং শব্দ
কেটে যায় তন্দ্রার ঘোর, বেলকনিতে দাঁড়াই
চারপাশে ভৌতিক নীরবতা, যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল নেই
মানুষের উর্ধশ্বাস, ছুটে চলার করুণ চিত্র দেখি

গভীর ঘুমে অচেতন মহল্লার প্রতিটি তল্লাট
কেবল কতোগুলো অর্ধ উলঙ্গ সোডিয়াম বাতি দেখি
জোনাকীর মতো মিট মিট করে জ্বলছে
জ্বলছে দেয়ালে সাটানো মহামানবের ঘুমন্ত ছবি
কারুকাজ নয়, বিখ্যাত কোনো চিত্রকল্পও নয়
সাধারণ রঙতুলিতে আঁকা ছবি
হঠাৎ ছবিটি জীবন্ত হয়ে উঠে ঘরজুড়ে বিলাতে থাকে সুমিষ্ট ঘ্রাণ
তন্ময় হয়ে দেখি নগরায়নে গড়ে ওঠা দালান কোঠা
যেখানে বিলীন হয়েছে সারি সারি পাইনের বন
বিনষ্ট হয়েছে বিশাল ধান কাউনের মাঠ
প্রকৃতির বুক চিরে তর তর করে বইছে রক্ত নহর

অমবস্যার গভীর অন্ধকারে ঐ খানে দেখেছিলাম বাতাবী লেবুর বাগান
রক্তকরবীর চারা, জুঁই চামেলী টগর হাসনা হেনা ফুলের
গন্ধে মৌ মৌ বাতাস, এখন আর নেই
হারিয়ে গেছে সব, হারিয়ে গেছে কালের বিবর্তে কাল
আমিও হারিয়ে যাব একদিন
ভাবছিলাম স্মৃতির এ্যালবাম খুলে
হঠাৎ প্রচণ্ড গুলির শব্দে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সার্কিট হাউজ
ক্ষণিকেই বাংলার ভাগ্যাকাশে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার
থমকে পড়ে গোটা দেশ,সমরে সাহসী সেই বলিষ্ঠ কন্ঠের মহান পুরুষ
বাংলার মানচিত্র বুকে আগলে মেঝেতে পড়ে থাকেন মহান নেতা কালের সাক্ষী হয়ে পাশে পড়ে থাকে রৌদ্রচশমা
মানুষের এক মুঠো ভাত আর ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায়
ছুটেছেন বাংলার আনাচে কানাচে শ্যামলীয়া গাঁয়
শহীদ হন সেই মহান স্বাধীনতার ঘোষক।জানতে ইচ্ছে করে তোমার রক্তের বদলে কতটুকু স্বার্থক হয়েছে বাংলাদেশ ?

চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজের মেঝেতে
লেগে থাকে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ
দূর থেকে ভেসে আসে অর্ধাহারী অনাহারী মানুষ আর
পশুপাখির করুণ আর্তনাদ
যতোদূর চোখ যায় দেখি চার দেয়ালে বন্দী
কারফিউঘেরা পূর্ণিমা রাত
আকাশ দেখি গাঢ় অন্ধকারে ঢাকা
অপুষ্টিতে ভোগা অর্ধাকৃতির এক ফালি চাঁদ
ঘুমিয়ে পড়ে আকাশের বুকে
দেখি দেয়ালে সাটানো সেই চিরচেনা ছবি
শাহাদৎ আঙুল উঁচিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছেন
ছবি খানিকটা নড়েচড়ে ওঠে
কানের কাছে ফিস ফিস করে বলে- যারা একাত্তর দেখেনি
যারা কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রের স্বাধীনতার ঘোষণা শোনেনি
যারা রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি- তাদের বলছি
দেশটা স্বাধীন হয়েছে স্বনির্ভরতার জন্য
দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য
বন্ধ হবে বৈষম্যের দ্বার উন্মুক্ত হবে মত প্রকাশের অধিকার

যারা চুয়াত্তরের ভয়াল দুর্ভিক্ষ দেখেনি
দেখেনি মানুষের হাহাকার, অর্ধাহারে অনাহারে
বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরা মানুষের কংঙ্কাল
তাদের বলবো। বাংলাদেশের কলঙ্ক মুছে,গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন নেতা। মানুষের মুখে তুলে দিয়েছেন, দু’বেলা দু’মুঠো ভাত
সময় গড়িয়েছে বহুদূর
চোখের সামনে ইতিহাসের বাস্তব চিত্র
স্মৃতি মন্থনে নির্মম হয়ে ওঠে, মনের গভীরে চলে ভাঙ্গনের খেলা
অসহ্য মানষিক যন্ত্রণায়,রেলিং ধরে খোলা আকাশের দিকে তাকাই
দেয়ালে সাটানো সেই মহামানবের বজ্রশপথ মুষ্ঠিবদ্ধ হাত
দেয়াল ভেদ করে ক্রমশ আকাশের দিকে ওঠে যায়
সপ্ত আকাশ ভেদ করে আরশ কুরসীতে
এরপর হাত দুটি মেলে নেতা প্রর্থনা করেন
শত ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে, দেশ এগিয়ে যাক আগামীর পথে
গড়ে উঠুক ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ
তাকিয়ে থাকি গভীর অনুরাগে
স্বধীনতার ঘোষকের চোখে মুখে তৃপ্তির হাসি
হাস্যোজ্জ্বল নেতার কণ্ঠে স্পষ্ট শুনতে পাই
স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘোষণা, ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’

বজ্রকণ্ঠে স্বধীনতা যুদ্ধের ঘোষণায়
লক্ষ কোটি আবাল বৃদ্ধ বণিতা, ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে
চলে রক্তক্ষয়ী মুক্তির সংগ্রাম
নয় মাস প্রত্যক্ষ সমরে, অবতীর্ণ হয়ে ছিনিয়ে আনেন
লাল সবুজের পতাকা, অখণ্ড মানচিত্র, অতঃপর বাংলাদেশ

যুদ্ধ শেষে ক্লান্তি মুছে নেমে আসেন পদ্মা মেঘনা যমুনার মোহনায়
শহীদ জিয়ার শরীর দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পড়ে অফুরন্ত লবণাক্ত ঘাম
মিশে যায় পদ্মা নদীর বহমান স্রোতে
হাতে তুলে নেন উন্নয়নের কোদাল
গরীব দুখিদের যাপিত জীবনের কলরব শুনে
তাদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলান নেতা,দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চারণ করেন
‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ
জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! বাংলাদেশ!’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে পূর্ব শক্রতার জেরে যুবদল নেতাকে ‘অপহরণ করে মারধর’

মোঃ শওকত আলী: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে পূর্ব শক্রতার জেরে যুবদল নেতাকে ‘অপহরণ করে মারধর’ ভুক্তভোগী মোরছালিন চৌধুরী।
ফ্ল্যাট বেচাকেনা-সংক্রান্ত ঘটনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদল নেতাকে অপহরণের পর মারধর করা হয়েছে—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী মোরছালিন চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আমির হোসেনের নামে মামলা দায়ের করেন।
মোরছালিন চৌধুরী রাজধানীর গুলশান থানা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার দেওড়ার গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে ঢাকার নতুন বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অভিযুক্ত আমির হোসেন সরাইলস্থ অরুয়াইলের স্থানীয় ব্যবসায়ী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত আমির হোসেনের সঙ্গে মোরছালিন চৌধুরীর ফ্ল্যাট বেচাকেনা-সংক্রান্ত কাজে পরিচয়। মোরছালিন নিজে মধ্যস্থতা করে পরিচিতের কাছ থেকে অভিযুক্তকে ২৪ লাখ টাকা বকেয়া রেখে ফ্ল্যাট কিনে দেন। এ সময় তিনি ক্রেতা আমির হোসেনের কাছ থেকে প্রমাণস্বরূপ একটি স্বাক্ষরযুক্ত চেক রাখেন। তবে সময় পার হলে টাকা পরিশোধ না হওয়ায় মোরছালিন ক্রেতাকে বকেয়া পরিশোধের তাগাদা দেন। তখন স্থানীয় একটি ঠিকানায় দেখা করে টাকা নিতে জানায় অভিযুক্ত আমির হোসেন।
মোরছালিন চৌধুরী অভিযুক্তের দেওয়া ঠিকানায় গেলে তিনি তাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। উপজেলাধীন অরুয়াইল বাজারস্থ আসামির মালিকানাধীন ‘আমির হোসেন মার্কেটের’ গোপন রুমে নিয়ে বাদীকে মারধর করেন। এরপর তার কাছে রক্ষিত চেক জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় বাদীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ‘টাকা বুঝিয়ে পেয়েছেন’ বলে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে সই রাখেন। ভুক্তভোগীকে হাত-পা বেঁধে রুমে বন্দি করে রাখলে গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির সহায়তায় সেখান থেকে তিনি পালিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগী মোরছালিন চৌধুরী বলেন, ‘‘আমাকে বকেয়া টাকা দেবে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড ডেকে নিয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক অপহরণ করে আমির হোসেন তার গোপন আস্তানায় নিয়ে নির্যাতন করেন। আমি অন্য একজনের সহায়তায় গভীর রাতে পালিয়ে প্রাণে বাঁচি।’’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আমির হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ‘‘মামলার কাগজ গতকাল (সোমবার) পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য / সৈয়দ রনো

সৈয়দ রনো

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা। সময়ের বাস্তবতার নিরিখে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের তাগিদে ১৯ দফার রূপান্তর ঘটেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতির ক্রান্তিলগ্নে প্রস্তাব করেন ভিশন-২০৩০। আবারো সময়ের পরিক্রমায় বাস্তবতার নিরিখে রূপান্তরিত ১৯ দফা ও ভিশন-২০৩০ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমন্বয় ও নির্দেশনার ভেতর দিয়ে রূপপরিগ্রহ করেছে দেশের সকল গণতান্ত্রিক দল-মতের অন্তর্ভুক্তিমূলক ৩১ দফায়। তারেক রহমান ৩১ দফায় এক সূতোয় বেঁধে দিয়েছেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী দল সমূহকে এবং সেই সাথে তিনি রচনা করেন বৈচিত্র্যের ভেতর ঐক্যের দর্শন। অতি সম্প্রতি উদ্যাপিত হয়ে যাওয়া ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কনসার্টের নামকরণের ভেতর দিয়ে তারেক রহমান যে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন- সেই বাংলাদেশ মনে করিয়ে দেয়, তাঁর প্রয়াত পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই বিশেষ বাক্যটি- ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ বড়’। বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামল যে ঘুণে ধরা, পঙ্কিল ও ভঙ্গুর রাষ্ট্র রেখে গেছে। সেই রাষ্ট্র মেরামত ও যথাযথ নির্মাণে ৩১ দফার বাস্তবায়ন শুধু মহৌষধই নয় বরং বাস্তবতার নিরিখে এ এক অনিবার‌্যতা। তারেক রহমানের উদ্যোগে ৩১ দফা সঞ্চালিত হচ্ছে বিভাগ থেকে জেলায়, জেলা থেকে উপজেলায়,উপজেলা থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড, এবং ওয়ার্ড থেকে প্রতিটি ঘরে ঘরে মানুষের হৃদয়, মনন ও চেতনায়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন আমাদের জানিয়ে দেয়- রাষ্ট্র ভূমিকে বাসযোগ্য করে তুলতে মানুষের মনোভূমি নির্মাণের কোন বিকল্প নেই। ঘরে ঘরে ৩১ দফা পৌঁছে দেবার ভেতর দিয়ে প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের রাজনৈতিক দর্শনকে সমৃদ্ধ করবার ভেতর দিয়ে নির্মিত হবে আগামীর সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশ।রাষ্ট্র কোনো বায়বীয় ধারণা নয় বরং রাষ্ট্র হলো একটি প্রায়োগিক দর্শন। রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার ফসল নয় বরং রাষ্ট্র হলো আপামর জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা নিজেকে মনে করতেন ‘তিনিই বাংলাদেশ’! কিন্তু শেষ পর‌্যন্ত গণভবনের পেছনের দরজা দিয়ে তাকেও পালিয়ে বাঁচতে হয়েছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনে করেন, ৩১ দফা বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের মালিকানা হবে- দেশের সকল জনগণের এবং যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হবে ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে এবং সকল মানুষের অংশগ্রহণের ভেতর দিয়ে। তারেক রহমান মনে করেন তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীর ওপর যে অত্যাচার ও নির‌্যাতন হয়েছে সেটির জবাব দিতে ৩১ দফার সফল বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন- ৩১ দফার সফল বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে ভোটের অধিকার আদায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে পারলেই একটি বসবাসযোগ্য ও আগামীর রাষ্ট্র নির্মাণ করা সম্ভব। অতি সম্প্রতি তিনি নিজের একটি বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন- তাঁর পিতাকে হত্যা করা হয়েছে, তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সীমাহীন কষ্ট ও ত্যাগ শিকার করেছেন। তাঁর কনিষ্ঠ ভাইকে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে ঠেলে দেয়া হয়েছে এক নির্বাসিত জীবনে। এসব ভুলে গিয়ে তিনি ৩১ দফার নিরিখে নির্মাণ করতে চান ভারতীয় নাগপাশ থেকে মুক্ত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনে বাংলাদেশের জনগণ পিষ্ঠ। গত ১৭ বছরে আওয়ামী শাসনামলে সেটি এমন রূপ পরিগ্রহ করেছিল যাতে দম বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিল দেশের আপামর জনসাধারণের। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে বাংলাদেশের স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করেছে তাই নয় বরং সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশকে বিপন্ন করে সার্বভৌমত্বকে হুমকি সম্মুখীন করেছে। ৫ আগস্ট গণবিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণ এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে স্বপ্ন দেখছে, সেই বাংলাদেশ হবে- স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর। তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা হচ্ছে- ভারতীয় আগ্রাসন মুক্ত সেই সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার বীজ, যে বাংলাদেশ ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজন্ম লালিত স্বপ্ন। ১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ দিক। তারেক রহমানের তখন ক্লাস নাইনের ছাত্র। বাবা-মা রাষ্ট্রীয় সফরে নেপাল যাবেন। এর আগে নেপালের রাজা সপরিবারে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। এক সন্ধ্যায় বাবাকে কাছে পেয়ে মায়ের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বাবাকে বললেন, ‘রাজার ছেলে যদি রাজার সাথে বেড়াতে যেতে পারে, আমরা কেনো তোমার সাথে যেতে পারবো না?’ সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বাবা বলে উঠলেন, ‘তোমরা কোনো রাজার ছেলে নও’। অতি সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর অসাধারণ গুণাবলী দিয়ে নিজের সন্তানদের দেশের সাধারণ মানুষের মতোই বড় করেছিলেন। বাবার রাষ্ট্রনায়োকচিত সেই সকল গুণাবলীর ধারক ও বাহক তারেক রহমান আজ আরো পরিপক্ক ও দেশ ও জনগণের দায়িত্ব নেবার মহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে। ৩১ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি সুসংহত ও সময়োপযোগী নীতিমালা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এই প্রস্তাবনায় গণতন্ত্রের বর্তমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলো নিয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৩১ দফা এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে উঠে এসেছে। গণতন্ত্র, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ভিত্তিতে প্রণীত এই দফাগুলো দেশকে নতুন এক যুগের পথে নিয়ে যেতে পারে। গণতন্ত্রের সংকট বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিনের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালীকরণের জন্য স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করার মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে
উল্লেখযোগ্য। এই নিবন্ধে আমরা ৩১ দফার গুরুত্ব ও তাৎপর‌্য বিশ্লেষণ করে দেখব কীভাবে এটি গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পারে এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

আলোকিত প্রতিদিন / ১৩/ ০২/২০২৫