দীর্ঘ ৮ বছর পর নড়াইল জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে জ্যামের ভুগান্তিতে অতিষ্ঠ পথযাত্রী
প্রতিদিন তাড়াইল উপজেলা সদর বাজার এলএসডি রোড, থানার মোড়, তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়ন পরিষদ, এশিয়া ব্যাংক, জাওয়ার রোড, উপজেলা পরিষদ, মাদরাসা মার্কেট, মেইন রোডে ব্যাটারীচালিত অটোগাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠা্চ্ছে। যার কারণে দূরপাল্লার যানবাহনসহ বিপাকে পথচারীরা। নির্দিষ্ট কোনো ট্রাফিক না থাকায় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তাছাড়া উপজেলা সদর বাজারে সাপ্তাহিক হাট শনিবার ও মঙ্গলবার হওয়ায় সেদিনের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। আবু বকর, সিদ্দিক ভূঞা, আলামিন ও শিপনসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আমাদের তাড়াইল সদর বাজারে নির্দিষ্ট কোনো ট্রাফিক না থাকায় প্রতিদিন অটো রিকশা ভিড় জমায়। যার ফলে দেখা যায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট জ্যাম লেগে থাকে।
সার আমদানির ৪টি টেন্ডার বাতিল করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির ষড়যন্ত্র
বিশেষ প্রতিনিধি:
অন্তর্বতী সরকারের মধ্যে আওয়ামী ফ্যাসিজমের প্রেতাত্মারা এখন প্রকাশ্যে অবস্থান করছে। অন্তর্বতীকালীন সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে সুকৌশলে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে জন্য করছে নানা ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি করে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরীর চেষ্টা করছেন সরকারের প্রভাবশলী এক সচিব। আর এজন্য গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৭নেভেম্বর পর্যন্ত সার আমদানির ৪টি আন্তর্জাতিক টেন্ডার বাতিল করা হয়।
বিগত ২০২১ সালে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক বর্তমানে একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব। ওই সময় সে দেশের ৮টি বিভাগের সরকারী কর্মকর্তা- কর্মচারীর এবং সকল পেশার মানুষকে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য নানা ভাবে বল প্রয়োগ করে। এছাড়া যেসব সরকারী কর্মকর্তা- কর্মচারীরা সেসময়ে তার কথা অমান্য করেছে চাকুরী ক্ষেত্রে তাদেরকে নানা ভাবে হয়রানী করেছেন। এছাড়া তিনি সে সময় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাধ্যতামুলক অবসরে পাঠিয়েছে। কৃষি তে রবি- বোরো মৌসুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌসুমে দেশের সিংহভাগ জমিতে সার ব্যবহার করা হয়। জাতীয় চাহিদার প্রেক্ষিতে জেলা ভিত্তিক বরাদ্দ কর্ম সুচি জারি করে মন্ত্রণালয়।
অন্তর্বতী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর নিজের রুপ পরিবর্তন করে সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সুকৌশলে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। অন্তর্বতী সরকার কে বেকাদায় ফেলতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষেপিয়ে তোলতে বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের প্রধান এবং প্রথম এজেন্ডা হিসেবে প্রথমেই সারাদেশে সৃষ্টি করেছেন সারের তীব্র সংকট। সারা দেশের কোথাও বিএডিসি এবং বিসিআইসি’র গুদামে নেই কোন সার। সারের জন্য প্রান্তিক চাষীরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও কোন সার পাচ্ছেনা। এই মুহূর্তে সার সংকটের কোন সমাধান না হয় তাহলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের কৃষিখাত। সারের এই অবস্থা চলমান থাকলে চলতি বোরো মৌসুমে সার সংকটের কারনে দেশের চরম খাদ্যসংকট দেখা দিবে এতে করে দেশের বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হবে সরকার। যার ফলে সরকারের বিরুদ্ধে যেকোন মুহূর্তে ফেঁসে উঠবে দেশের জনগণ। দেশে খাদ্য শস্য চাষাবাদে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে বিএডিসি কতৃক নন ইউরিয়া সার আমদানি করে থাকে সরকার। কিন্তু ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের দোসর ওই সচিব দায়িত্ব গ্রহনের পর গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত নন ইউরিয়া সার কেনার ৪টি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বানের পর সেগুলো বাতিল করে । যার ফলে দেশে সারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরদের কে নির্দেশ দিয়েছেন গ্রাম-গঞ্জের কৃষকদের কাছে গিয়ে সার সংকট নিয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য। শেখ হাসিনার এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন ওই সচিব। অন্তর্বতী সরকারের মধ্যে আওয়ামী ফ্যাসিজমের প্রেতাত্মারা এখন প্রকাশ্যে অবস্থান করছে। অন্তর্বতীকালীন সরকারকে বিপাকে ফেলতে এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে সুকৌশলে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে জন্য করছে নানা ষড়যন্ত্র। তাদের মধ্যে অন্যতম মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক, এক সময়ে তুখুড় ছাত্রলীগ নেতা সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং বর্তমান কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। সার সংকট সৃষ্টির কারসাজি এবং ৪টি টেন্ডার বাতিলের অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তার সেল নাম্বারে (০১৭১১-১২৭৩০৬)একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
কথিত কাবাঘর ভেঙ্গে দিল ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন
দেশনেতা থেকে বিশ্বনেতা শহীদ জিয়া // সৈয়দ রনো
সৈয়দ রনো : সেনাবাহিনীর প্রতি আওয়ামী লীগের মনোভাব অগ্রহণযোগ্য ছিল মর্মে মন্তব্য করেছিল আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত মিত্র বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়, ‘আমাদের দেশের সামরিক বাহিনীর জন্ম ও ভিত্তি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার মতো সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান আমলে সামরিক বাহিনীর যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর প্রতি আমাদের পক্ষ থেকে তেমন বৈরীসুলভ দৃষ্টি গ্রহণ করা খুবই ক্ষতিকর হবে।’ জিয়ার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে কেবল শাসক পরিবর্তন হয় তা নয়; বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্র কেমন হবে; এর দার্শনিক ভিত্তি কী হবে, এর একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রায়োগিক রূপরেখা পাওয়া যায়। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের দার্শনিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি গঠন করেন, যা পর্যায়ক্রমে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। পররাষ্ট্রনীতিতেও জিয়াউর রহমান সফল ছিলেন। সব বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ছিল তাঁর পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। ১৯৮১ সালে তৃতীয় ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আলকুদস কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ। ইরাক-ইরান যুদ্ধাবসানের উদ্দেশ্যে গঠিত নয় সদস্য বিশিষ্ট ইসলামী শান্তি মিশনে তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তিনি শুধু বাংলাদেশের নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের একজন জনপ্রিয় নেতা। তাঁর সময়েই বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে জাপানের মতো শক্তিধর দেশকে পরাজিত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদ লাভ করে। তবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন ছিল,তিনি সেই সময়টুকু পাননি।
যারা এদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অপছন্দ করত, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষা করত, এদেশ বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক যারা তা চাইত না, সেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর ইশারায় কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তারা এদেশের জনপ্রিয় প্রাণপ্রিয় নেতা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ঘাতকের তপ্ত বুলেট তাঁর হৃদস্পন্দন স্তব্ধ করে দিল। দেশ বিরোধী ঘাতক চক্র ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সহযোগিতায় নির্মমভাবে শহীদ করে প্রেসিডেন্টকে। তাঁর শাহাদাতে জাতি কলংকিত। সেদিনই আমরা সেই কলংক থেকে মুক্ত হতে পারব যেদিন আমরা গড়তে পারব জিয়ার স্বপ্নের সেই সোনার বাংলাদেশ। সাদামাটা প্রকৃতির মানুষ ছিলেন তিনি: পোশাক-পরিচ্ছেদ ও আহারে তাঁর কোনো বিলাসিতা ছিলো না। তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দুই পুত্র, আত্মীয়স্বজনকে এদেশের মানুষ খুব একটা চিনতেন বলে মনে হয় না। তাঁর দুই পুত্র লেখাপড়া করতো সাধারণ মানের স্কুলে। তাঁর মৃত্যুর পর নিজস্ব সম্পদ হিসেবে তার পরিবার-পরিজনের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেননি। এমনকি তাঁর পরিবারের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই ছিল না। তৎকালীন সরকার মানবিক কারণে বর্তমান ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবনটি বেগম খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেয়। যে বাড়ি থেকে জিয়া পরিবারকে উচ্ছেদ করে আওয়ামী সরকার। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে সততার এই উদাহরণ বর্তমান বিশ্বে বিরল। আসলে জিয়াউর রহমান সততা ও দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক কালজয়ী মহান নেতা। একটি জাতি গঠন ও দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতাই যথেষ্ট। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ জিয়া ছিলেন বাংলার আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। স্বাধীনতা উত্তর দুর্ভিক্ষ পিড়িত জনগণ শেখ মুজিবের মৃত্যুর পর যখন শুধু অনিশ্চয়তা আর হতাশা ছাড়া কিছুই চোখে দেখছিল না, ঠিক তখনই জিয়া জ্বালিয়েছিলেন আশার আলো, বাংলাদেশের জনগণ বুকে বেঁধেছিল অনেক বড় স্বপ্ন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। নানা কারণে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর সততা, নিষ্ঠা, গভীর দেশপ্রেম, পরিশ্রমপ্রিয়তা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণাবলি এ দেশের গণমানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। তিনি ছিলেন একজন পেশাদার সৈনিক। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল অন্য কোনো রাষ্ট্রনায়কের ভাগ্যে তা জোটেনি। মাত্র ছয় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। কিন্তু সাধারণ মানুষ তার ওপর ছিল প্রচণ্ড আস্থাশীল। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তাঁর ওপর মানুষের এই আস্থায় কোনো চিড় ধরেনি। বাংলাদেশের প্রথম জননির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মহান নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত তথা ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে ২টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণাটি দেন তখন তিনি নিজেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচয় দেন। এদিকটির বিচারে তিনিই দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তবে সেটি ছিলো স্বঘোষিত, আপামর জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। আবার যখন যুদ্ধকালীন সময়ে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় তখন সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয় সিলেকশনের মাধ্যমে। সেটাও আপামর জনসাধারণের দ্বারা নির্বাচনের মাধ্যমে নয়। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানও সংসদ সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সর্ব প্রথম দেশের আপামর জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমান। এবার আসা যাক অন্য প্রসঙ্গে। অভ্যুত্থানকারীরা ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করল কেন? অনেকেই মনে করেন, এর পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো তৎকালীন সরকার ও রাজনীতি সম্পর্কে সেনাবাহিনীর মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক মনস্তত্ত্ব। স্পষ্ট ভাষায় বললে, তৎকালীন সামরিক বাহিনীর প্রতি অবহেলা ও ভারতীয় আধিপত্যের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য তারা ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। ১৯৭৪ সালে অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরি করার বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো একটা দানব সৃষ্টি করতে চাই না।’ এর বিপরীতে তিনি রক্ষীবাহিনী নামের একটি আধা সামরিক বাহিনী তৈরি করেন; প্রথমে পুলিশের এটি সহায়ক বাহিনী হলেও পরে এই বাহিনীকে ক্ষমতা দেয়া হয়, যা দিয়ে তারা যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারত এবং অনেকেই মনে করেন তাদের ব্যবহার করা হতো আওয়ামী লীগের সমালোচকদের বিরুদ্ধে। এর সাথে যুক্ত হয় বাকশাল নামের একদলীয় শাসন ব্যবস্থা, যা ব্যাপকভাবে সমালোচিত ও নিন্দিত হয়। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতা বিপ্লবের পর জিয়াউর রহমান রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসেন। ১৯ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়া দেশে গণতান্ত্রায়নের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট এক সামরিক বিদ্রোহে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হলে মোশতাক সরকার দেশে সামরিক শাসন জারি করে। ২৫ আগষ্ট খন্দকার মোশতাক সরকার জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর চীফ অফ ষ্টাফ নিয়োগ করেন। নভেম্বরে পুনরায় সেনা বিদ্রোহে খন্দকার মোশতাক ক্ষমতাচ্যুত হন এবং আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম প্রেসিডেন্ট হন। এ সময় বিদ্রোহী সেনারা জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করে রাখে। ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লবে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে পুনরায় সেনাবাহিনীর চীফ-অফ-ষ্টাফ পদের দায়িত্বের সাথে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বও দেয়া হয়। ১৯৭৬-এ কলম্বোতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ ৭ জাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদ লাভ করে। ১৯৭৬ সালেই তিনি উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন উদ্বোধন করেন। ১৯৭৬-এর ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৬ সালের ৮ মার্চ মহিলা পুলিশ এবং ঐ বছরেই গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন। প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবু সায়েমের পদত্যাগের পর ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে জিয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদ অধিষ্ঠিত হন এবং প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। মে মাসে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং আস্থা যাচাইয়ের জন্য ৩০ মে গণভোট অনুষ্ঠান ও ‘হাঁ’ বা ‘না’ সূচক ভোটের ব্যবস্থা করেন। তাঁর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোটে বিপুল জনসমর্থন লাভ করেন। এই ইতিহাস এটাই প্রমাণ করে যে, জিয়াউর রহমানই ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম জননির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিপরীতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক প্লাটফর্মে থেকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি এদেশের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগানোর প্রয়াস চালান। অনেকটা সফলও হন তিনি। এ জাতীয়তাবাদী দর্শনই একটি জাতি ও দেশের রক্ষাকবচ।
কী ঘটেছিলো সেই নির্মম কালো রাতে: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘জাতীয় সেনাবাহিনী’ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। প্রশিক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠা দ্বারা অফিসারদের নিজ নিজ পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও তাদের মাঝে দেশপ্রেম জাগাতে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি। ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন তাদের। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সামরিক বাহিনীর একটা ক্ষুদ্র গ্রুপ দ্বারা সংঘটিত একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হলেও এটা সত্য যে, তিনিই সামরিক বাহিনীতে ঐক্য ও সংহতি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই রণাঙ্গনে ভূমিকা রাখার জন্য পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারে ভূষিত জিয়াউর রহমানের সাথে এম এ জি ওসমানীর এই শীতল সম্পর্কের কারণ কী? কেনই বা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রচলিত জ্যেষ্ঠতার নিয়ম লঙ্ঘন করে, মুক্তিযুদ্ধে অতুলনীয় অবদান রাখার জন্য খেতাবপ্রাপ্ত বীর উত্তম জিয়াউর রহমানকে একাধিকবার পদবঞ্চিত করা হলো? এই প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি। চট্রগ্রামে বিএনপির উপদলীয় কোন্দল নিরসনের লক্ষ্যে ২৯ মে সকালে পতেঙ্গা বিমান বিন্দরে পৌঁছলেন রাষ্ট্রপতি জিয়া। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বি চৌধুরি, মহিবুল হাসান, নাজমুল হুদা, ড. আমিনা, নৌ বাহিনীর প্রধান এম এ খান প্রমুখ। চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে হাল্কা নাস্তা সেরে বারান্দায় আলোচনায় বসলেন বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে। বেলা সাড়ে বারটার দিকে জুমার নামাজের বিরতি। সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা পরে চকবাজারের নন্দনপুরা মসজিদে নামাজ আদায় করেন জিয়া। নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লীদের সাথে কুশল বিনিময় করে ফিরে আসলেন সার্কিট হাউজে। দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দুপুরের খাবার সেরে ঘন্টা দেড়েক বিশ্রাম নেন। বিকালে চবির ভিসি, অধ্যাপকবৃন্দ, আইনজীবী, সাংবাদিক প্রমুখ আগত অতিথিদের সাথে আড়াই ঘন্টা আলাপ করেন। তারপর স্থানীয় বিএনপির দুই উপদলের সাথে আলাদাভাবে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আলোচনা করেন। এর মধ্যে চট্রগ্রামের ডিসি ও পুলিশ কমিশনারের সাথে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক লে. কর্নেল মাহতাবুল ইসলাম তাঁর খাবার পরখ করে শেষ করলে রাত ১১টার একটু পরে জিয়াকে রাতের খাবার দেয়া হয়। ডিনার শেষে ঢাকায় তাঁর স্ত্রী খালেদার সঙ্গে টেলিফোনে মিনিট পনেরো কথা বলেন জিয়া। জীবনের আলো নিভে যাবার ৫ঘন্টা আগে ঘরের আলো নিভিয়ে ঘুমুতে গেলেন জিয়া। নিশ্চিন্তে বিছানায় নিদ্রায় গেলেন তিনি। ওদিকে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে এগিয়ে আসছে ঘাতক দল। বাইরে তখন তুমুল ঝড় বৃষ্টি আর বিদ্যুতের ঝলকানি। রাত আড়াইটার দিকে কালুরঘাটস্থ রেডিও ট্রানসমিটারের কাছে হাজির হল ঘাতক দল। ঘাতকদলের নেতৃত্ব দেয় লে. কর্নেল মতিউর রহমান। ঘাতকদল তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে আক্রমণ পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়। মতি থাকল দ্বিতীয় দলে যারা প্রথম দলকে পেছন থেকে সহায়তা দিবে। রাত সাড়ে তিনটার সামান্য কিছু পরে দল তিনটি প্রচণ্ড বৃষ্টির মাঝে আস্তে আস্তে গাড়ি চালিয়ে এগুতে থাকে। ঘাতকদল বিনা বাধায় সার্কিট হাউজে ঢুকে পড়ে। ভীতি সঞ্চার করতে রকেট ল্যান্সার থেকে ফায়ার ও গ্রেনেড চার্জ করা হয় আর মেশিনগানের গুলি চালানো হয়। পাহারারত ৪৪ জন পুলিশের ১ জন নিহত, ১২ জন আহত ও বাকিরা আত্মগোপন করেন। রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের সৈন্যরা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল। যে দুজনের রাষ্ট্রপতির কক্ষের সামনে পাহারা দেবার কথা তাদের আগেই খতম করে দেয়া হয়। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা কর্মকর্তা লে. কর্নেল আহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজ দু’তলায় রাষ্ট্রপতির শয়নকক্ষের পেছনের কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। রকেটের আওয়াজে তারা জেগে উঠেন। রাষ্ট্রপতিকে বাঁচাতে তারা তাদের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাবার আগেই ঘাতকদের গুলিতে নিহত হন। ঘাতকদলটি ঐ সময় দুতলায় রাষ্ট্রপতির ৯ নম্বর কক্ষ খুঁজতে শুরু করে। ঘাতকদলের একজন ঐ কক্ষের দরজা ভেঙ্গে ফেলতেই ঘরে ড. আমিনাকে আবিস্কার করেন। ফলে রাষ্ট্রপতির খোঁজে ওরা এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। তারা ইতোমধ্যেই বুঝতে পারে রাষ্ট্রপতি আছেন ৪ নম্বর রুমে। ঘাতকদলের একজন ঐ কক্ষের বারান্দার দিকে দরজায় লাথি দিয়ে ভাঙ্গতে চেষ্টা করে। গোলাগুলি আর চিৎকার চেচামেচিতে উঠে বসলেন রাষ্ট্রপতি! কী ব্যাপার? ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে বেরিয়ে এলেন দরজা খুলে, পরণে রাতে শয্যার পোষাক। গভীর আত্মপ্রত্যয় আর অগাধ আস্থা নিয়ে বেরিয়ে এলেন এবং জানতে চাইলেন- ‘কী চাও তোমরা?’ কাছে দণ্ডায়মান লে. মোসলেহউদ্দিন রীতিমত ঘাবরে যান। সে জিয়াকে আশ্বস্ত করে বলে- ‘স্যার আপনি ঘাবরাবেন না। এখানে ভয়ের কিছু নেই।’ মোসলেহ উদ্দিনের ঠোঁট থেকে জিয়ার প্রতি আশ্বাসবাণী মিলিয়ে যাবার আগেই লে. কর্নেল মতিউর রহমান তার এসএমজি থেকে অতি কাছ থেকে ব্রাশ ফায়ার করেন। জিয়ার শরীরের ডানদিক একেবারে ঝাঝরা করে ফেলে। দরজার কাছেই মুখ থুবরে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন জিয়া। এরপর মতি তার বন্দুকের নল দিয়ে জিয়ার প্রাণহীন দেহ উলটিয়ে নেয়। তারপর ক্ষিপ্তপ্রায় মতি জিয়ার মুখমণ্ডল আর বুকের ওপর তার এসএমজির ট্রিগার টিপে রেখে ম্যাগাজিন খালি করে তার খুনের নেশা মেটায়। আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চারটায় জিয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। জিয়াকে খুন করে ঘাতকদল ঝটপট সার্কিট হাউজ ছেড়ে চলে যায়। জিয়াউর রহমানকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে দাফন করা হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়ার জানাজায় বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম ঘটে যেখানে প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের জনগণের মাঝে অভূতপূর্ব শোকের ছায়া নেমে আসে। গণমানুষের এ শোক জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও নীতির প্রতি দেশবাসীর ব্যাপক সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ বলে প্রতীয়মান হয়। মৃত্যুর এতোদিন পরেও তাঁর প্রতি বাংলার গ্রাম-গঞ্জের তথা আপামর জনতার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৬-ই ফেব্রুযারী/২০২৫
সাবেক এমপি ছানোয়ারসহ আওয়ামী লীগের ৩ নেতা গ্রেফতার
নির্বাচনের মাধ্যমে ফয়সালা হয়ে যাবে, জনগণ কাকে ক্ষমতা দেবে: গয়েশ্বর
আলোকিত ডেস্ক:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আশা করি, আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার আগেই অন্তর্বর্তী সরকার যথাযথভাবে নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে ফয়সালা হয়ে যাবে, জনগণ কাকে ক্ষমতা দেবে। জনগণই দেশের মালিক। সেই জনগণ যদি ১৯৭১ এর যুদ্ধের বিরোধীদের ভোট দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনে, আমার আপত্তি নেই।’
১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তৃণমূল দলের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ-একটা নির্বাচন আদায় করার জন্য জনগণকে যেন রাস্তায় গুলি খেয়ে মরতে না হয়। আপনারা সময় মতো নির্বাচনটা দেন, তাতে আপনারা ফুলের পাপড়িতে ঢাকা পরবেন। আপনাদের গলায় যত মালা পড়াবো তত মালার ওজন আপনারা সইতে পারবেন না। আপনাদেরকে আমরা সম্মানের সঙ্গে আনছি, সম্মানের সঙ্গেই বিদায় করতে চাই। আপনারা দায়িত্বটা পালন করেন। আর যদি আমাদেরকে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামান কতটুকু সময় টিকবেন, সেটা একটু ভেবে দেখবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এসে যাবে এজন্য এই সরকারকে রাখতে হবে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারা জীবনের জন্য দরকার। আর তারা যতক্ষণ পর্যন্ত সুস্থ-সবল না হবে,নতুন দল না হবে, ততদিন পর্যন্ত নির্বাচন দেবেন না, এটা তো পক্ষপাতিত্বমূলক।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই সরকার যদি একবার গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে তো আমাদের নিজ পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। এমন একটা দিন আসুক, চাই না। এখন একটা নির্বাচন হোক।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এই যে রাজনীতিবিদদের মধ্যে সংস্কারের চিন্তা-ভাবনা, ইতিবাচক মনোভাব- এটা তো কম কথা না। আমরা যে ভুলগুলো করেছি, যার জন্য দেশের আজকের এই দুরবস্থা, সেটিকে সঠিক জায়গায় আনতে গেলে একটা স্বাধীন দেশের জন্য যে পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করা দরকার, সেটাই সংস্কার।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের দেশের বুদ্ধিমান লোকদের আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এই বুদ্ধিমান লোকেরাই রাজনীতিবিদদের মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। আমরা রাজনীতি করি বলে তারা মনে করে, আমরা মুর্খের দল, কোনও লেখাপড়া করি নাই। সে কারণেই আজকে যেসব জ্ঞানীগুনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে আছেন, যারা সমাজে সুন্দর সুন্দর কথা বলেন, তাদের কথা সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনতেছেন। আমাদের কথা শুধু একটা ফর্মালিটি যে, বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, অমুক দলকে ডাকা হয়েছে। এত ডাকাডাকির দরকারটা কী? নির্বাচনের পদ্ধতি তো আমাদের জানাই আছে। ভোটার তালিকা করবেন. যা করবেন করে ফেলেন। একটা নির্বাচন দিয়ে দেন। আমাদের মতামতের দরকার কী? কোনও দরকার নাই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরাতো ৩১ দফা দিয়েই রেখেছি। যে যে কমিশন বানিয়েছেন তাদের ৫ জনকে বসিয়ে দেন। সেখানে কী বাদ দিতে হবে, যোগ করতে হবে করেন, বা তাদের কোনও ভাবনা থাকলে দিতে পারেন। একেকটা কমিশন ২০০ পৃষ্ঠা, ৩০০ পৃষ্ঠা লিখে পাঠাবে আর সারাদিন এগুলো পড়বো, এটা হয়? হয় না।’
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম
কারো রক্তচক্ষু বা ধমকে কাজ করার প্রয়োজন নেই: প্রধান উপদেষ্টা
আলোকিত ডেস্ক:
জেলা প্রশাসকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে কারো রক্তচক্ষু বা ধমকের কারণে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। কারো ধমক শুনবেন না।
১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে ৩ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নিজের মতো করে যেটা আইন, যেটা দেশের জন্য করা দরকার, সেটা করতে হবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আইন করে দিয়েছি, কিন্তু গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছায়নি। অথচ আমরা এখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছি। এই যে দূরত্ব এটা যেন না থাকে। বিনা কারণে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। হয়রানি করাটাই যেন আমাদের ধর্ম। সরকার মানেই মানুষকে হয়রানি করা, এটাকে উল্টে দিতে হবে। সরকার ভিন্ন জিনিস। আপনার অধিকার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের কাজ।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম
বাংলাদেশ-ভারতসহ কয়েকটি দেশের আর্থিক সহায়তা বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয়ে আরেকটি পদক্ষেপ নিলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অনুমোদিত ও ধনকুবের ইলন মাস্ক পরিচালিত সংস্থা সরকারি সক্ষমতা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সি বা ডোজে)। সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রাকৃতিক ইত্যাদি খাতে বরাদ্দ অর্থ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। সেই তালিকায় আছে বাংলাদেশের ও ভারতের নাম।
১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজেদের অ্যাকাউন্টে সংস্থাটি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
ওই ঘোষণায় বলা হয়, মার্কিন করদাতাদের অর্থ নিচের খাতগুলোতে খরচ হওয়ার কথা ছিল। এগুলো বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি দেশের নাম ও যে খাতে যতটুকু অর্থ বরাদ্দ ছিল, তা তালিকাবদ্ধ করা হয়েছে।
সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ ছিল। এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য দুই কোটি ১০ লাখ ডলারের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
তালিকায় আরও কয়েকটি দেশ এবং তাদের জন্য বাতিল্কৃত তহবিলের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে আছে, মোজাম্বিকের জন্য এক কোটি, কম্বোডিয়ার জন্য ২৩ লাখ, সার্বিয়ার জন্য এক কোটি ৪০ লাখ, মলদোভার জন্য দুই কোটি ২০ লাখ, নেপালের জন্য তিন কোটি ৯০ লাখ এবং মালির জন্য এক কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম
জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই
মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ, নীলফামারী তিস্তা অববাহিকার রংপুর অঞ্চলের মানুষ জীবন জীবিকা মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে তিস্তা নদী।এক সময়ে প্রমক্তা তিস্তাকে এ অঞ্চলের জীবন রেখা বলা হতো। কিন্তু তিস্তা নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণের কারণে তিস্তা আজ শীর্ণ,স্থবির একটি মরা নদীতে পরিনত। বর্ষা আর খোড়া উভয় মৌসুমে তিস্তা এখন এ অঞ্চলের গণমানুষদের মরন ফাদ হয়ে ওঠেছে। বর্ষা কালে বিনা নোটিশে বাঁধ থেকে পানি ছড়িয়ে তিস্তার দূকূল প্লাবিত করে মানুষদের ঘর বাড়ি,আবাদী ফসল নিশ্চিহ্ন করে তোলে, আবার খরা মৌসুমে তিস্তার পানি সরবরাহ শূন্য কোটায় নেমে আসে।ফলে নদীর দুপারে মাইলের পর মাইল এলাকা মরূভূমিতে পরিণত হয়ে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। কিন্তু এই তিস্তার অববাহিকার মানুষ দীর্ঘ দিন থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্ছিত। তিস্তা মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে রাজনৈতিক স্থবিরতা।

