আজ , ।   
Home Blog Page 561

ঈদযাত্রায় বকশিসের নামে ৮৩২ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া আদায়!

আলোকিত প্রতিবেদক: এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা ও আশেপাশে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের বিভিন্ন শ্রেণির গণপরিবহনে ২২ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার বার যাতায়াত হতে পারে বলে জানা গেছে। এসময়ে যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদ বকশিশ বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নামে ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

মোজাম্মেল হক বলেন, “ঈদে ঢাকা থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবেন। এ ছাড়া ঈদবাজারসহ নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন গণপরিবহনে বাড়তি ট্রিপ সম্পন্ন হবে। এসব যাত্রীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার নানামুখী তৎপরতার মধ্যেও এবারে ঈদযাত্রায় কেবল ঢাকা ছাড়তেই ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হবে।

মহাসচিব বলেন, “গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের উপকমিটির সদস্যরা গত ২০ মার্চ থেকে ঢাকা মহানগরীতে দেশের সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের ঈদযাত্রা পরিস্থিতি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রীসেবার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমরা দেখেছি, এবারের ঈদে ৯৮% গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ঈদকেন্দ্রিক পরিবহনে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি, পরিবহন কোম্পানিগুলোর বাড়তি খরচের যোগান দেওয়া, পরিবহনের মালিক-চালক-সহকারী ও অন্যান্য সহায়ক কর্মচারীদের ঈদ বোনাস তুলে নেওয়া, পরিবহন মালিকদের বাড়তি মুনাফা লুটে নেওয়াসহ নানা কারণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”

রাজধানীর গণপরিবহন ও অটোরিকশার বিষয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, “রাজধানীতে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। কেনাকাটা, বিভিন্ন টার্মিনালে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন নানা কাজে যাত্রীদের গড়ে প্রতি ট্রিপে ২০০ টাকা হারে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ঈদের আগে রাজধানীতে চলাচলকারী ২০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকার বেশি বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, প্যাডেলচালিত রিকশা ঈদ বকশিশের নামে যাত্রীপ্রতি গড়ে ২০ টাকা হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আমরা মনে করি, রাজধানীতে চলাচলকারী প্রায় ৮ লাখ ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশায় ৮ কোটি ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। এই যানবাহনে যাত্রীদের ১৬০ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে।”

দূরপাল্লার বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, “এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার রুটে বাস-মিনিবাসে ৩০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াতে যাত্রীপ্রতি গড়ে ৩০০ টাকা হারে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সে হিসাবে দূরপাল্লার রুটে বাস-মিনিবাসের যাত্রীদের ৯০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে।”

সংগঠনটি জানায়, প্রাইভেটকার, জিপ ও মাইক্রোবাসের ২০ হাজার, যেখানে ৬০ হাজার ট্রিপে গড়ে ৩,৫০০ টাকা হারে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সে হিসাবে এই পরিবহন ব্যবহারকারী যাত্রীদের ২১ কোটি টাকা বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে।

রেলপথে বাড়তি ঘুষ ও ভাড়া আদায়ের প্রসঙ্গে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদে ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও বিপুল সংখ্যক নিম্ন আয়ের লোকজন কম খরচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে যাতায়াত করেন। এবারের ঈদে ঢাকা থেকে ৮০ হাজার যাত্রী ট্রেনের ছাদে যাবেন। তাদের প্রত্যেককে গড়ে ১০০ টাকা হারে ৮০ লাখ টাকা রেলে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হবে। এ ছাড়া বিনা টিকিটে ২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করবেন, যারা গড়ে ৩০০ টাকা হারে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হবেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি সুপারিশ করেছে, এখান থেকে উত্তরণের জন্য গণপরিবহনে ডিজিটাল ভাড়া আদায় চালু করা, নগদ টাকার লেনদেন বন্ধ করা, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা পদ্ধতিতে প্রসিকিউশন চালু করা এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা এখনই জরুরি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

একশ’টি দলীয় কর্মসূচির প্রত্যেকটিতে অংশ নিয়েছি : ফরহাদ ইকবাল

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেছেন,
ছাত্রাবস্থা থেকে জাতীয়তাবাদের আদর্শ বুকে ধারণ করে গণমানুষের কল্যাণে রাজনীতি করছি। ১/১১ বা করোনাকালীন সব সময় দলীয় কর্মসূচির ঝান্ডাহতে টাঙ্গাইলের মাঠ-ঘাটে মিছিল-সমাবেশ করেছি। দলীয় একশ’ কর্মসূচি বিবেচনা করলে কখনোই ৯৯টি নয়, শতভাগ পালন করেছি- এখনও করছি। সেক্ষেত্রে দলীয় কর্মসূচি পালনের পরীক্ষায় ১০০ তে ১০০ পাওয়ার রেকর্ড আমার। এজন্য বিগত স্বৈরাচার সরকালের রোষানলে পড়ে অনেকবার জেল-জুলুম সহ্য করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইল সদরের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড-গ্রামে আমার পদচারণা আছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের যে কোন মানুষের যেকোন সমস্যায় তার কাছে ছুটে গিয়ে সমস্যার কথা শুনেছি। তাদের সমস্যা সামাধানের চেষ্টা করেছি। ২৫ মার্চ মঙ্গলবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের একটি অভিজাত রেস্টুরেণ্টে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে চা-চক্রে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী শাসনামলের দু:সহ স্মৃতি স্মরণ করে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক
সভাপতি ফরহাদ ইকবাল বলেন, র‌্যাব আমাকে ধরে নিয়ে চারদিন গুম করে রেখেছিল।
এরপর ক্রস ফায়ার করে মেরে ফেলার জন্য আমার হাত-মুখ-চোখ বেঁধে মির্জাপুরের
একটি ব্রিজের পাশে নিয়ে দাঁড় করিয়ে তওবা ও কলেমা পড়ার জন্য বলা হয়। এ সময়
চারপাশে গুলির শব্দে বুঝতে পারছিলাম আমাকে ক্রস ফায়ার দেওয়া হচ্ছে।ঐতিহ্যবাহী এমএম আলী কলেজের দুইবারের ভিপি অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, টাঙ্গাইলের গণমানুষের দোয়া ও আশির্বাদে মহান আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমি মনেকরি টাঙ্গাইলের গণমানুষের কাজ করার জন্যই মহান আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এজন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনে আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি। টাঙ্গাইল শহর ও সবক’টি ইউনিয়নের সমউন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রার্থীর বিকল্প নেই। দলীয় মনোনয়ন পেতে আমি গণমাধ্যমকর্মী ভাইদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চাই।
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন- দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিনিধি রঞ্জণকৃষ্ণ পন্ডিত, সাপ্তাহিক সমাজ চিত্রের সম্পাদক ও ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রতিনিধি মো. মামুনুর রহমান মিয়া, দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, টাঙ্গাইল সমাচারের সম্পাদক মাসুদুল আলম, বাংলা৭১ এর প্রতিনিধি মো. সিরাজ আল মাসুদ, দৈনিক মজলুমের কণ্ঠের প্রতিনিধি মো. মোজাম্মেল হক, দৈনিক খবরের কাগজের প্রতিনিধি জুয়েল হিমু প্রমুখ। দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী ওই চা-চক্রে স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিনিধি, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সহ অন্তত দুই ডজন সাংবাদিক অংশ নেন।
আলোকিত প্রতিদিন/২৬ মার্চ ২০২৫/মওম

চীনের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস: দ্য হিন্দুকে প্রেস সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।  ২৫ মার্চ মঙ্গলবার রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি।

প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিয়েছেন এবং চারদিনের সফরে ২৬ মার্চ বুধবার বেইজিং যাচ্ছেন তিনি।

দ্য হিন্দু বলছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস চীন সফরের আগে ভারত সফর করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ঢাকার সেই সফরের অনুরোধে ভারতের পক্ষ থেকে “ইতিবাচক” সাড়া পাওয়া যায়নি বলে মঙ্গলবার দ্য হিন্দুকে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ২৬ মার্চ চীন সফর করবেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করবেন এবং বাংলাদেশকে চীনা বিনিয়োগের জন্য বিশেষ করে উৎপাদন খাতে একটি গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরবেন।

ড. ইউনূস ভারতের সাথে উষ্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চান উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, “আমরা আসলে আমাদের আগ্রহ দেখিয়েছিলাম এবং গত বছরের ডিসেম্বরে ভারতীয় পক্ষকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। চীন সফর চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এটি করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কোনও ইতিবাচক সাড়া পাইনি।

দ্য হিন্দু বলছে, ড. ইউনূস হলেন দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় নেতা যাকে চার মাসের মধ্যে চীনে আতিথ্য দেওয়া হচ্ছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে. পি. শর্মা ওলি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চার দিনের সফরে চীন ভ্রমণ করেছিলেন।

আওয়ামী লীগ, তাদের সহযোগী ও সমর্থকদের কাজ গুজব ছড়ানো : শফিকুল আলম

শফিকুল আলম আরও জানান, ড. ইউনূস চীন থেকে ফিরে আসার পর ৩-৪ এপ্রিল ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা থাইল্যান্ডে আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় অধ্যাপক ইউনূস এবং মোদির মধ্যে বৈঠকের জন্য আরেকটি অনুরোধ করেছি এবং আমরা ভারতের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ২৬-২৯ মার্চ চীন সফরের সময় বিশিষ্ট চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে বৈঠক করবেন ড. ইউনূস। কারণ তিনি বাংলাদেশকে একটি ব্যবসা-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী যা চীনা উৎপাদন ইউনিটগুলোকে সঠিক ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদান করবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চীনা বিনিয়োগকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়, যার ফলে বাংলাদেশ বেসরকারি চীনা বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে পারে। সফরের এজেন্ডা সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, “২৮ মার্চ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক ছাড়াও অধ্যাপক ড. ইউনূসকে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে আতিথ্য দেওয়া হবে যেখানে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করবেন। এছাড়া ২৭ মার্চ বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করবেন ড. ইউনূস।

ড. ইউনূস এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ফাঁকে নিউইয়র্কে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সাথে দেখা করেছিলেন এবং সেসময় ওয়াং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে “চীনা জনগণের পুরনো বন্ধু” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন।

একই বৈঠকে ড. ইউনূস বাংলাদেশে সৌর প্যানেল তৈরির জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার প্রদত্ত এক ভাষণে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশকে পরিণত করার আহ্বান জানান যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পাশাপাশি ভুটান এবং নেপালকে সমর্থন করবে। ভাষণে তিনি চীন সফরের ঘোষণা দেন এবং বলেন, মালয়েশিয়াও তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে যা তিনি গ্রহণ করেছেন।

ভারত, নেপাল, ভুটান এবং চীনের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবসা-বান্ধব অর্থনীতি হিসেবে তুলে ধরেন ড. ইউনূস বলেন, “ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দিয়েছে। কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আমাদের একটি দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে যেখানে বেশ কয়েকটি শিল্প অঞ্চল এবং বন্দর রয়েছে। এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে রূপান্তরিত করতে পারে।”

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ মার্চ ২০২৫/মওম

চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চার দিনের সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

২৬ মার্চ বুধবার দুপুর ১টার দিকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সফরের বিষয়ে জানা গেছে, ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফর করবেন তিনি। ২৬ মার্চ (বুধবার) দুপুরে চীনের পাঠানো একটি উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে রওনা হবেন। ২৭ মার্চ দেশটির হাইনান প্রদেশে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন ড. ইউনূস। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন তিনি। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের বৈঠক হতে পারে।

২৮ মার্চ বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ড. ইউনূস। একই দিনে হুয়াওয়ে কোম্পানির উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করবেন তিনি। ২৯ মার্চ চীনের বিখ্যাত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। পরে বেইজিং থেকে চীনের একটি বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।

প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফরে ছয় থেকে আটটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি এ সফরে চারটি ঘোষণা আসতে পারে। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশকে এক থেকে দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা দেবে চীন। এছাড়া মোংলা বন্দরের আধুকিয়ানে অর্থায়নের বিষয়টিও যুক্ত থাকবে।

আগামী ২ থেকে ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ৩ এপ্রিল ব্যাংককে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ মার্চ ২০২৫/মওম

সাংবাদিক মামুন হাসানের শুভ জন্মদিন

আলোকিত প্রতিবেদক:

দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক মামুন হাসানের শুভ জন্মদিন । এই সাংবাদিক ও সমাজসেবকের শুভ জন্মদিনে আলোকিত প্রতিদিন পরিবারের পক্ষ হতে শুভ জন্মদিনের নিরন্তর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ মার্চ ২০২৫/মওম

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে, জিয়াউর রহমানের নাম একবারও উচ্চারণ না করায় ‘হতাশ’ বিএনপি!

আলোকিত প্রতিবেদক: জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নাম একবারও উচ্চারণ না করায় হতাশ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বুধবার জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি সাংবাদিকদের এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

 

হতাশা প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি অত্যন্ত হতাশ হয়েছি, গতকাল প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, সেখানে নির্বাচনী রোডম্যাপের কথা বলেননি তিনি। আমি হতাশ হয়েছি, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের নাম একবারও উচ্চারণ করেননি।

এ সময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন সেখানে। এসব নেতাকর্মীরা পরে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

এ সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসন আমলের নির্মম অত্যাচারের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। আমরা আশা করব, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ন্যূনতম সংস্কার করে অর্থাৎ যা নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন তা করে নির্বাচনের ঘোষণা দেবেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই মহান দিবসে আমি সশ্রদ্ধচিত্ত্বে স্মরণ করি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে-যার ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে এদিনে গোটা জাতি মরণাপন্ন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থেমে থাকেননি। তিনি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃত করেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,‘জিয়াউর রহমান বীরউত্তম স্বাধীনতার ঘোষক-এটাই ছিল ইতিহাস। আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃত করেছে, আমরা চাই না সেই ইতিহাস আবার বিকৃত হোক।’

‘আজকের দিনে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিএনপির পক্ষ থেকে গোটা জাতিকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি’, বলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করছি অতি শিগগির আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ফিরে পাব।’

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে নির্বাচন প্রসঙ্গে যে বক্তব্য দিয়েছেন- সে প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে জুন ছয় মাস। সুতরাং এটা কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। আমরা বারবার বলে আসছি, স্পষ্ট রোডম্যাপ ও দ্রুত নির্বাচন। তা না হলে যে সংকটগুলো শুরু হচ্ছে, তা কাটবে না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচনের কথা বলছে না। বিএনপি জাতির স্বার্থে, জাতিকে রক্ষা করার স্বার্থে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার স্বার্থে নির্বাচিত সরকার, নির্বাচিত পার্লামেন্টের কথা বলছে।’

এ সময় জিয়া উদ্যান ছিল লোকে লোকারণ্য। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নেতারা হলেন- বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আমিনুল হক, ডা. রফিকুল ইসলাম, রফিকুল আলম মজনু, এস এম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গোয়ালন্দে ১টি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও চার্জার সহ আটক ১

সোহেল রানা চৌধুরী:

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের অভিযানে ১টি ব্যাটারিচালিত ভ্যান এবং ৯টি ভ্যানের চার্জার সহ সোহান শেখ (২১) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
২৫ মার্চ মঙ্গলবার  রাত সাড়ে তিন টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি সোহান  রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়াড খোলাবাড়ীয়া এলাকার  মৃত মোঃ সিদ্দিক শেখের  ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম এর দিক নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মোঃ সেলিম মোল্যা সংগীয় ফোর্স নিয়ে দৌলতদিয়া পুড়া ভিটা নামক এলাকায়  অভিযান পরিচালনা করে  শহিদ শিকদার এর হোটেলের সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে ১টি ব্যাটারিচালিত ভ্যান এবং ৯টি ভ্যানের চার্জার সহ সোহান শেখ কে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি মোহাম্মাদ রাকিবুল ইসলাম বলেন,গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নিয়মিত মামলা রুজু করে  বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ মার্চ ২০২৫/মওম

মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুতে ১৮ টোল বুথ চালু

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
ঈদ সামনে রেখে মানুষ বাড়ি ফেরা শুরু করেছে। এতে উত্তরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। তবে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ কমাতে এবারে ১৮টি টোল বুথ চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বুথ বরাদ্দ করা হয়েছে মোটরসাইকেলের জন্য।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪২ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ৯৩৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। রবিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪২ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৩৯ হাজার ৪৩২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। তাতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৫০ টাকা। এ ছাড়া অনলাইনে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা টোল আদায় হয়।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ঈদকে সামনে রেখে সড়কটিতে ধীরে ধীরে যানবাহনের চাপ বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, ঈদ এলে এই সেতু দিয়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। এত গাড়ির চাপ সামাল দিতে দরকার আট লেনের সড়ক। আগে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত দুই লেনে যানবাহন চলাচল করলেও এবার চার লেনে চলাচল করছে। সেতুতে চারটি মোটরসাইকেল বুথসহ ১৮টি বুথে টোল আদায় করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ মার্চ ২০২৫/মওম

নবীনগরকে আধুনিক শহরে রূপান্তরের স্বপ্ন, প্রবাসী নজরুল ইসলামের

মোঃ আনোয়ার হোসেন: 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং সৌদি প্রবাসী নজরুল ইসলাম তার জন্মস্থানসহ পুরো নবীনগরকে একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই লক্ষ্যে তিনি ২৪ মার্চ সোমবার নবীনগর প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন।

প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তির সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলাম বলেন,“মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য। আমি চাই  আধুনিক নবীনগর হিসেবে গড়ে তুলতে। এজন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন,“সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা সমাজের ইতিবাচক দিকগুলো যেমন তুলে ধরেন, তেমনি অন্যায় ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকেন। আমার ভালো কাজের প্রশংসার পাশাপাশি যদি কোথাও ভুল করি, গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আবু কালাম খন্দকার, সাবেক সভাপতি শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী শ্যামল, মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কান্তি কুমার ভট্টাচার্য, সিনিয়র সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী, পিয়াল হাসান রিয়াজসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মতবিনিময় সভা শেষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। প্রেসক্লাবের সদস্যদের আন্তরিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে নজরুল ইসলাম নবীনগর প্রেসক্লাবের “দাতা সদস্য” হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং ভবিষ্যতে প্রেসক্লাবের উন্নয়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা নজরুল ইসলামের সমাজসেবামূলক কাজের প্রশংসা করেন এবং তার সুস্থতা ও সফলতার জন্য দোয়া করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ মার্চ ২০২৫/মওম

কিছু দল বোঝানোর চেষ্টা করছে মুক্তিযুদ্ধ কোনো ঘটনাই ছিল না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যেসব দল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতা করেছিল তারা এখন গলা উঠিয়ে কথা বলা চেষ্টা করছে যেন ওই সময় (৭১ সালে) কিছু হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, কিছু-কিছু দল বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ১৯৭১ (মুক্তিযুদ্ধ) কোনো ঘটনাই ছিল না।

২৫ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২৫ মার্চের এই কালো দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এই দেশের মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল। হত্যা করেছে লাখো নিরীহ মানুষ। কিন্তু সেই গণহত্যার জন্য পাকিস্তান এখনও ক্ষমা চায়নি। এ কথাগুলো এখন কেন বলছি, কারণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, কিছু-কিছু মানুষ, একটি গোষ্ঠী ও কিছু-কিছু দল বোঝানোর চেষ্টা করছেন, ১৯৭১ (মুক্তিযুদ্ধ) কোনো ঘটনাই ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের যে আন্দোলন, লাখ-লাখ মানুষের যে আত্মত্যাগ, ৯ মাস ধরে বাড়ি-ঘর ছেড়ে কোটি-কোটি মানুষ যে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল সেই অবস্থা যেন আমরা ভুলে যাচ্ছি। যারা সরাসরি সহযোগিতা করেছে, সরাসরি হত্যাযজ্ঞে সহযোগিতা করেছে তারা এখন গলা উছিয়ে- ফুলিয়ে কথা বলছে। কারও নাম বলতে চাই না, তিক্ততাও সৃষ্টি করতে চাই না।

তিনি আরও  বলেন, ইতিহাস তো ইতিহাসই, কেউ বিকৃত করতে পারবে না। সেই জন্য আজকের এই রাত্রি (২৬ মার্চ) অত্যন্ত কলঙ্ক ও দুঃখময় রাত্রি।

তিনি  বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাসী না, তারা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী। তাই আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্রের সুবিধা দেওয়ার কথা চিন্তা করতে পারেনি।

শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছে, এটাই এদের চরিত্র বলে উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ওরা দেখে, জনগণ যখন ক্ষেপে উঠে, তখন ওরা এভাবে কর্মীদের অরক্ষিত রেখে পালিয়ে যায়। এবার তাই করেছে, জনতার বিক্ষোভে ভারতে পালিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের মহীয়সী নারী বেগম খালেদা প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয় ৯ মাস জেলে ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার প্রথম শুরু হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত দিয়ে, পরে করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের মৌলিক সংস্কার কিন্তু বিএনপির হাত দিয়েই। এখন ৩১ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের প্রস্তাব দিয়েছে তো বিএনপি,২০১৬ সালে বিএনপির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০৩০ ভিশন দিয়েছে। সংস্কার কোনো নতুন বিষয় নয়। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের পাহাড় এনেছে। আমরা সংস্কারের প্রস্তাবনায় মতামত দিয়েছি, পক্ষে – বিপক্ষে। আমরা বলেছি, নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এটি আজ ষড়যন্ত্র সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। যেটা আমরা মেনে নেব না। কারণ সেনাবাহিনী দুঃসময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের ভিত্তি তো বিএনপি করেছে। হঠাৎ করেই একটা বিপ্লব হয়নি, বিএনপির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের মধ্যে উঠে এসেছে।

আরও বক্তব্য রাখেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ মার্চ ২০২৫/মওম