আজ , ।   
Home Blog Page 382

ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছাড়তে বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, সবার অতিসত্বর তেহরান ছেড়ে যাওয়া উচিৎ। ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তার কিছুক্ষণ পর থেকেই তেহরানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যেতে থাকে। খবর বিবিসি।

কানাডায় জি সেভেন সম্মেলনে মি. ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন।

জি সেভেন সম্মেলনের জন্য সোমবার কানাডায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে।

কানাডায় থাকাকালীন এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে, ইসরায়েল আর ইরান শীঘ্রই সমঝোতায় আসতে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি ইরানকে ৬০ দিন সময় দিয়েছিলাম পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য। আর ৬১তম দিনে কী হলো আপনারা সবাই দেখেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, আমি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। আর আমি যেমন বলেছি, আমার মনে হয় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে। আমার মনে হয় চুক্তি না করলে, ইরান বোকার মত কাজ করবে।

বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন তেহরানের মানুষকে সরে যাওয়ার কথা বলে ইরানকে চাপের মুখে ফেলে ইসরায়েলের সাথে সমঝোতা করানোর চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিকে, ওয়াশিংটনে ফিরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করছে।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালককে নিয়ে গঠিত।

এই পরিষদ প্রেসিডন্টেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে উপদেশ দিয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে ইসরায়েলের চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকলেও ওয়াশিংটন ইসরায়েলের চলমান অভিযানে যোগ দেবে না বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সিবিএস নিউজ।

এদিকে, এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ।

তবে, তিনি এও জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে ‘অতিরিক্ত সেনা উপস্থিতি’ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হলেও তা কেবলমাত্র ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ‘সুরক্ষা’ নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার তার করা এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে নিরস্ত করার জন্য ওয়াশিংটন থেকে একটি ফোনকলই যথেষ্ট।

তবে, কূটনৈতিকভাবে সংঘাত থামানোর নানা প্রচেষ্টা চলতে থাকলেও ইসরায়েল আর ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মিসাইল ও বিমান হামলা থামছে না।

সোমবার রাতে তেহরানের বেশ কিছু এলাকাসহ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে হামলা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

টানা ইসরায়েলি হামলা আর শহর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি জারি থাকায় সোমাবার দুপুর থেকেই তেহরান ছেড়ে যেতে থাকে হাজার হাজার মানুষ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ছাড়াও পশ্চিম ইরানের দুটি মিসাইল ঘাঁটিতে হামলা করেছে ইসরায়েল।

অন্যদিকে ইরানও ইসরায়েলের বড় শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

আজ মঙ্গলবার ভোরেও তেল আভিভ, জেরুসালেমসহ ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি শহরে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে।

ইসরায়েল-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীনা দূতাবাস।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জর্ডানের দিকে রওনা দেওয়াই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।

চীনা দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে।

বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে, আর নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে, বিবৃতিতে বলা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২৩৪ জন!

আলোকিত ডেস্ক, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩৪ জন। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি।

আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা বিভাগে ৩২, বরিশালে ১১৯, চট্টগ্রামে ২৯, খুলনায় ৫, রাজশাহীতে ৫ ও ময়মনসিংহে ১ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ২২২ জন। আর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের।

প্রসঙ্গত, গত বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন। আর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৫৭৫ জন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার হেরোইনসহ ২ জন গ্রেফতার

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার হোরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।  ১৫ জুন রবিবার বিকাল ৫ টায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল যাওয়ার পাঁকা রাস্তার মো.আব্দুস ছালামের মুদি দোকানের সামনে হইতে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন, সদর উপজেলার মানরা এলাকায় মোঃ সাহেব আলীর ছেলে মো.আব্দুর রাজ্জাক (৩৩), একই উপজেলার উত্তর সেওতা এলাকার মৃত জবেদ আলীর ছেলে মো. তারা মিয়া (৫৫)। ডিবি পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রাজ্জাক ও মো. তারা মিয়া পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. আব্দুর রাজ্জাক এর প্যান্টের পকেট হইতে ১০ গ্রাম হেরোইন এবং মো. তারা মিয়ার লুঙ্গির কোচনা হইতে ১৫ গ্রাম সর্বমোট ২৫ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেফতার করা হয় । উদ্ধার হওয়া হেরোইন এর বাজারমূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা । এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মো.আব্দুর রাজ্জাক এর বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৮টি এবং ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মো. তাঁরা মিয়ার বিরুদ্ধে ৪টি মাদক মামলা রয়েছে। ডিবির ওসি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে হেরোইনসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সদর থানায় একটি মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক বিরোধী এই অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুন ২০২৫/মওম

চতুর্থ দিনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে, বিশ্বনেতাদের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাত চতুর্থ দিনে প্রবেশ করেছে। রাতভর দুই পক্ষই নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। এতে বেসামরিক লোকজন নিহত এবং আহত হচ্ছেন। ১৬ জুন সোমবার ভোরে ইসরায়েলের একটি তেল পরিশোধনাগারে আঘাত হেনেছে ইরান। যদিও আন্তর্জাতিকভাবে কূটনীতি ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে এই দুই চিরশত্রুর মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে বিশ্ব নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করার ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল যে হামলাগুলো চালাচ্ছে, তার ফলে চার দিনে তেহরানে কমপক্ষে ২২৪ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ৯০ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক।

সোমবার ভোরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ছোড়া আরও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী জানায়, বর্তমানে তারা ইরানের হুমকি নির্মূল করতে প্রয়োজনে প্রতিহত এবং হামলা চালাচ্ছে।

লাইভ ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তেল আবিবের আকাশে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে এবং জেরুজালেমের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

এদিকে জি-৭ নেতারা রবিবার কানাডিয়ান রকিজ অঞ্চলে জমায়েত হতে শুরু করেছেন। ইসরায়েল-ইরান সংঘাত এই সম্মেলনের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ সাংবাদিকদের বলেন, যে বিষয়গুলো জি-৭ সম্মেলনের এজেন্ডার শীর্ষে থাকবে, সেগুলো হলো- ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অধিকার না করে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, সংঘাতের আরও বিস্তার এড়ানো এবং কূটনীতির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা।

রবিবার সম্মেলনে রওনা হওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি পরিস্থিতি নিরসনে কী করছেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি একটি চুক্তি হবে। আমার মনে হয় এখনই চুক্তির সময়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কখনও কখনও লড়াই করেই বিষয়গুলো মীমাংসা করতে হয়।’

আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুন ২০২৫/মওম

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ মূলত, চিন্তা ও বিবেককে বন্দী রাখা: তারেক রহমান

আলোকিত প্রতিবেদক:

১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিবস বলে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তার মেয়ে শেখ হাসিনাও একই পথ ধরে তাদের প্রকৃত দর্শন একদলীয় ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন করেছিল নতুন ভাবে। নানা কালাকানুন প্রণয়ন করে সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের ওপর অব্যাহত জুলুম চালিয়েছে তারা। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সত্য উচ্চারণ করলেই নেমে আসত নির্যাতনের খড়গ।১৬ জুন সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনা ছিল বাংলাদেশের ভৌগলিক স্বাধীনতা অর্জন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। চিরায়ত গণতন্ত্রে মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত হয় এবং যার মূল শর্ত হচ্ছে বাক, চিন্তা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ থাকায় রাষ্ট্র ও সমাজ জবাবদিহিতার আওতায় আসে এবং দেশের সরকার গঠনে নাগরিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। কিন্তু স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীনরা স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথচলাকে স্তব্ধ করে দিয়ে একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা কায়েম করে। পরবর্তীকালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের কাঙ্ক্ষিত বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। বাকশাল সরকারের সকল প্রকার অগণতান্ত্রিক কালাকানুন বাতিল করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ মূলত: চিন্তা ও বিবেককে বন্দী রাখা বলে উল্লেখ করে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, এই দিনে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী সব দল বাতিল করে চরম কর্তৃত্ববাদী একদলীয় বাকশাল কায়েম করে তাদের অনুগত ৪টি সংবাদপত্র রেখে গোটা জাতিকে নির্বাক করে দিয়েছিল। ফলে বিভিন্ন সংবাদপত্রে কর্মরত অসংখ্য সংবাদকর্মী বেকার হয়ে পড়েছিল। তাদের রুজি-রোজগার এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম কর্মীসহ সব পর্যায়ের মানুষকে সার্বক্ষণিক শঙ্কিত থাকতে হয়েছে বলে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো একের পর এক ‘ড্রাকোনিয়ান আইন’ প্রণয়ন করে সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভয়াল দুর্গে বন্দী করা হয়েছিল। বিগত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গণমাধ্যম কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করলেও এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত থেকে গণমাধ্যম পুরোপুরি মুক্ত নয়।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বহুদলীয় গণতন্ত্রের মৌলিক উপাদান। গণতন্ত্রের নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্ব দিতে হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুন ২০২৫/মওম

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে  চায় না এবং কোনও ইচ্ছা নেই: পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও ইচ্ছা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।তিনি বলেন, আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না। আমাদের এ রকম কোনও উদ্দেশ্যই নেই। এছাড়া ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে ১৬ জুন সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন, তার দেশের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও ইচ্ছা নেই। ইসরায়েলের চলমান হামলা এবং পশ্চিমা দেশের প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা।

তিনি বলেন, “শত্রুরা যদি মনে করে হত্যা, আক্রমণ আর গুপ্তহত্যার মাধ্যমে তারা আমাদের এবং আমাদের জাতিকে মুছে ফেলতে পারবে— তাহলে তারা ভুল করছে। কারণ, একজন বীর শহীদ হলে তার পতাকা তুলে ধরার জন্য শত শত নতুন বীর তৈরি হয়ে দাঁড়ায়। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে, অপরাধ আর বিশ্বাসঘাতকতা প্রতিরোধ করবে।”

পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান আগ্রাসী কোনো রাষ্ট্র নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না। পশ্চিমারা বলছে, আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা উচিত না। কিন্তু আমরা এমন অস্ত্র পেতে চাই– এই দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। আমাদের এ রকম কোনও উদ্দেশ্যই নেই।”

তবে পেজেশকিয়ান এটাও স্পষ্ট করে বলেন, শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের আছে। তিনি বলেন, “আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখব— জ্বালানি উৎপাদন এবং বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনে। কারণ, পারমাণবিক শক্তি থেকে উপকার পাওয়া আমাদের অধিকার।”

আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুন ২০২৫/মওম

বুবলী না অপু কে বেশি শাকিব খানের কাছের!

বিনোদন, কয়েকদিন আগেই অপু-বুবলীর ভার্চুয়াল লড়াই শুরু হয়েছিল। অপু বিশ্বাস ও বুবলীর সামাজিক মাধ্যমের লড়াইটা অনেকটাই প্রকাশ্যে, দুজনই মাঝেমধ্যেই শাকিব খান ও সন্তানদের নিয়ে পোস্ট দেন। তাদের যুদ্ধটা মূলত এটা নিয়েই। দুজনের পোস্ট থেকে একটা জিনিস প্রকাশিত হতে থাকে যে দুজনই শাকিবের কাছাকাছি রয়েছেন এখনও।

এই লড়াই নতুন করে ঈদের আগে শুরু হলেও ঈদের পর তা আরো বড় আকারে দেখা যায়। 

অপু বিশ্বাস ও শাকিব খান মিলে শপিংয়ে গেছেন, সঙ্গে ছিল আব্রাহাম খান জয়। এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বুবলী নতুন করে জানান দেন তিনিও কম নন। ছেলে বীর ও বাবা শাকিবের সঙ্গে অনেকগুলো ছবি ফেসবুকে আপলোড দেন তিনি।

 

গতকাল ছিল বাবা দিবস। বিশেষ এই দিনটিকে উদযাপনে ঢালিউড নায়িকা অপু বিশ্বাস তার সন্তান ও সন্তানের বাবা শাকিব খানের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। বরাবরের মতো এবারও অপুর পর শাকিব ও নিজের ছেলেকে নিয়ে পোস্ট করেন বুবলী।

এরপরই নেটিজেনদের আলোচনা, দুজনের একজন শাকিবকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিলে বা কোনো মন্তব্য করলে কিছুক্ষণ পরই অপরজনও তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে হাজির হন। 

বিষয়টি অপু বুবলীর পোস্টেও মন্তব্য করে জানান অনেকে। আর এসব মন্তব্য নজর এড়ায়নি অপুর। দিনশেষে তিনি আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি কোনো প্রতিযোগিতায় নেই। সন্তান, শাকিব খান ও বুবলী, ত্রিমুখী এই বিষয়গুলো যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠছে অপুর জীবনে।

 

তবে অপু আসলেই নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, আর বুবলীও চুপ করে থাকবেন-এমনটা কী হয়? সময় বলে দেবে। তবে দুইজনের প্রতিযোগিতা যেভাবেই চলুক না কেন, দুজন যতই কাছের প্রমাণ করার চেষ্টা করুক না কেন। শাকিব খানের সঙ্গে এই দুজনের মানসিক দুরত্ব অনেক দূরে। সূত্র বলছে, অপু বিশ্বাসকে যে কারণে শাকিব খান ছেড়েছেন, একই কারণে ছেড়েছেন বুবলীকেও।

দুজনই স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রকাশ্যে আসতে চেয়েছেন, কিন্তু শাকিব খান এটা চাননি। অপু বিশ্বাস টিভি লাইভে সন্তানসহ এসে জানান দিয়েছেন। ঠিক একই পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন বুবলীও। লিডার আমি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের একটি গানের শুটিং বাকি ছিল। সেখানেই ঝামেলা বাধে। রাতভর মিটিং করে শাকিব মেনে নিতে বাধ্য হন, এবং পরেরদিন দিন শেহজাদ খান বীরকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং বুবলীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। বুবলীর সঙ্গে দূরত্বের শুরু এখান থেকেই শুরু।

শাকিবের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ‘এই দুজনের একজনকেও শাকিব খান পছন্দ করেন না। বরং তাদের আচরণে শাকিব বরাবরই বিরক্ত হন। এসব কর্মকাণ্ড ও ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করা বরাবরের মতো বিরক্ত।

তাঁর মানে অপু-বুবলীর লড়াই হলেও এই দুজনের কেউই শাকিব খানের নিকটস্থ বা শাকিব এদের কাউকে নিয়েই সংসারী হতে চান না- এটা বরাবরই শাকিব খান বলেছেন। এবারও সূত্রটি এমনটাই জানালো।

এদিকে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারেও বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে যায়। কেননা শাকিবের চিন্তা ভিন্ন কোনো নারীকে বিয়ে করে থিতু হওয়া। ওই সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে মুখ খোলেন শাকিব। সেখানে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, শোনা যাচ্ছে আবার নাকি বিয়ে করবেন, তাও আবার সম্বন্ধ করে, পাত্রী নাকি চিকিৎসক! সত্যিই কি ফের সংসারী হবেন?

উত্তরে শাকিব বলেন, ‘মানুষ একা থাকতে পারে না। পরিবার এবং সমাজ নিয়ে বেঁচে থাকে চায়। দেখা যাক, কোনো তাড়াহুড়ো নেই যে নির্দিষ্ট কোনো বছরের মধ্যে বিয়ে করতে হবে। যদি তেমন কিছু হয় পারিবারিকভাবে হবে এবং সেটা বিয়ের পর্যায়ে যাবে। আমার বাবা-মায়ের যেহেতু বয়স হয়েছে সন্তান হিসেবে তারা আমাকে সংসারী দেখতে চান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন জনমনে স্বস্তি, ভোটের হাওয়া

জাহিদ হাসান হৃদয়:

সারা দেশে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় নির্বাচন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধেই হতে যাচ্ছে এমন খবরে জনমনে এক ধরনের স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ বাড়িয়েছেন। শোভাযাত্রাও হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তৎপর অনেকে। কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ভিন্ন কথা বললেও তাদের স্থানীয় নেতারা নির্বাচনী প্রচারে পিছিয়ে নেই। দল থেকে, বিশেষ করে বিএনপি থেকে কারা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়েও কৌতূহলের অন্ত নেই। ছোট দলগুলো বড় কোনো দলের সঙ্গে জোট গঠনের অপেক্ষায়। গত শুক্রবার লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে নির্বাচনের সময় নিয়ে এক ধরনের সমঝোতার পর দেশজুড়ে নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সুষুম নির্বাচন দেশবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের কোনো সমস্যা হবে না। সুষুম নির্বাচন করাটাই এখন অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনকে ওই সময়ে নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য দ্রুত একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে হবে। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় এসে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করার বিষয়টিতে সব রাজনৈতিক দল একমত হবে এমন আশা করাও ঠিক নয়। বেশির ভাগ দলের সম্মতিটাই গ্রহণযোগ্য। দলগুলোর সবাই নির্বাচন চায়। তবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং নতুন একটি দল মনে করে, বেশি সময় পেলে তারা তাদের দল গুছিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু তারা যে দল গুছিয়ে নিতে পারবে সে সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। আবার কারো মতে, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠকে সমঝোতার বিষয়টিতে বেশির ভাগ দল সমর্থন জানিয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথামার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অন্য দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা দরকার। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি গতকাল শনিবার এ বিষয়ে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার একসময় আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বলেছিল। পরে প্রধান উাপদেষ্টা ঘোষণা দিলেন, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে। সব শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। অর্থাৎ আগামী বছর ফেব্রুয়ারির প্রথামার্ধে নির্বাচন হতে পারে। আমার মনে হয়, এ সময়ে নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের কোনো সমস্যা হবে না। এখন নির্বাচন কমিশনকে ওই সময়ে নির্বাচন করতে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে হবে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার জন্য এখনো প্রায় ছয় মাস সময় রয়েছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নির্বাচন হলে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে তফসিল ঘোষণা হবে। কিন্তু তার আগে জাতীয় সংসদের আসনগুলোর সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন, আরপিও সংস্কার করতে হলে সে বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি, পর্যবেক্ষক নীতিমালা, অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার এগুলো করতে হবে, করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। কিছু কাজ নির্বাচন কমিশন আগেই শুরু করেছে বলে আমরা জানি। ভোটার তালিকা প্রস্তুত প্রায় সম্পন্ন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের বৈঠক হওয়া দরকার।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার ধারণা, সব দল এখন নির্বাচনমুখী। কয়েকটি দল তাদের প্রার্থীও চূড়ান্ত করে রেখেছে। মাঠ পর্যায়ে সব দলই, বিশেষ করে জুলাই-গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের দলগুলো জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছে। এ অবস্থায় সঠিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাটাই অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ। দু-এক মাস আগে-পিছে কিছু আসে যায় না। নির্বাচনটা কেমন হলো সেটাই আসল বিষয়। কারণ একটা নির্বাচনের রেশ অনেক দিন থাকে।’ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয়-সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। দেশ দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে চলেছে। সারা দেশে নির্বাচন নিয়েই আলোচনা। লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠকে সমঝোতার বিষয়টি বেশির ভাগ দল সমর্থন জানিয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথামার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অন্য দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা দরকার। এ বিষয়ে আমরা এরই মধ্যে জামায়াত, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের প্রতিক্রিয়ার কথা জেনেছি। তারা কিছুটা নাখোশ। তাদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতে সময়ও বেশি নেই। জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার পর সেই সনদের আলোকে চার-পাঁচ মাসের মধ্যে নির্বাচনী বিধি-বিধানেরও কিছুটা সংস্কার প্রয়োজন হবে। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশের জন্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও আরো উন্নতি ঘটাতে হবে। সব পক্ষের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এটি করা অসম্ভব কিছু নয়।’
সাবেক সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু আলম শহীদ খান মনে করেন, নির্বাচন এ দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। গত তিনটি নির্বাচনে সে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, ‘২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনগণের ভোট হাইজ্যাক করা হয়। ভোট হয়েছে রাতের অন্ধকারে ভোটকেন্দ্র দখল করে। বিনা ভোটে নির্বাচনের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের মানুষের অপেক্ষা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের। অন্তর্বর্তী সরকার একসময় আগামী ডিসেম্বর থেকে জুন, আবার আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে এবং সব শেষে সম্ভাব্য সময় আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগের সপ্তাহে নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছে। কিন্তু এটিও এখন ততটা পরিষ্কার নয়। শর্তসাপেক্ষে হতে পারার মধ্যেই রয়েছে। লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যার তারেক রহমানের সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সমঝোতা বেশির ভাগ দলের কাছে স্বস্তির মনে হলেও জামায়াত ও এনসিপি ভিন্ন কথা বলছে। ড. ইউনূস দেশে ফিরেছেন, তিনি হয়তো উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তের জন্যও হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে। নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা ও অনিশ্চিয়তা কেটে গেছে এটা বলার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি বলে আমার মনে হয়। দলগুলো সবাই নির্বাচন চায়। তবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং নতুন একটি দল মনে করে, বেশি সময় পেলে তারা তাদের দলকে গুছিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু তারা যে দল গুছিয়ে নিতে পারবে সে সম্ভাবনাও দেখছি না। ৫ আগস্টের আগে এই দলের নেতাদের প্রতি যে ধরনের জনসমর্থন ছিল, পরে তা আর দেখা যাচ্ছে না। এই দলটিকে তাদের সভা-সমাবেশ সফল করার জন্য এখন জামায়াত ও কয়েকটি ইসলামী দলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এরা নির্বাচনের জন্য সময় চায়। কিন্তু কতটা সময় চায় তা-ও পরিষ্কার না। এ ছাড়া যে কয়েকটি দল মনে করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন করলে তাদের তেমন সুবিধা হবে না, তারাও দ্রুত নির্বাচনের লক্ষ্যে যেকোনো সমঝোতার বিপক্ষে। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন যারা চাচ্ছে তারাও আসলে সময়ক্ষেপণের পক্ষে।’
সারা দেশে নির্বাচনী তৎপরতা : স্থানীয় প্রতিনিধি ও নিজস্ব প্রতিবেদকদের পাঠানো সংবাদ অনুযায়ী, সারা দেশেই নির্বাচনী তৎপরতা শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা প্রকট। তবে নতুন রাজনৈতিক দল এনএসপি ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্রম নিয়ে মাঠে এগোচ্ছে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তাদের ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, সব কটি আসনের সম্ভাব্য হেভিওয়েট প্রার্থীরা জোরালোভাবে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ ছাড়া সাংগঠনিকভাবেও ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীকে উপস্থিত রাখা হয়। বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এই মুহূর্তে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নেই। বিএনপির পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ আসনে কর্মী সমাবেশ, সভা-মিছিল এবং মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করছেন। একইভাবে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সভা-সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসন থেকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তমিজ উদ্দিন ও ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করছেন। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নাজমুল হাসান অভিও সীমিত পরিসরে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা উত্তরের আমির আব্দুর রউফ এবং খেলাফত মজলিসের ঢাকা জেলা সভাপতি মুফতি আশরাফ আলী সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পোস্টার সাঁটিয়েছেন। তাঁরাও গণসংযোগে ব্যস্ত। অন্যান্য দলের তেমন কার্যক্রম নেই। বরিশালে মাঠে নেমে পড়েছেন আগ্রহী প্রার্থীরা। তাঁরা ঈদুল আজহার ছুটিতে এলাকায় প্রাথমিক গণসংযোগ সেরে নিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির নেতাদের পক্ষ থেকে ভূরিভোজ, মহড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। গতকাল গাজীপুর-২ আসনে নির্বাচনী মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার শুরুতে টঙ্গীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোহা. জামাল উদ্দীন বলেন, বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে তাকওয়াবান, সৎ ও দেশপ্রেমিক মানবিক মানুষকে ক্ষমতায় পাঠাতে হবে। এই জন্য গাজীপুরের প্রতিটি বাড়ি, অলিগলি, ডোর টু ডোর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে জোরদার প্রচার চালিয়ে যেতে হবে। এদিকে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা হলেও কোনো নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি মেহেরপুরের রাজনীতিতে। বর্তমানে মেহেরপুরে বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। ৫ আগস্টের পর মেহেরপুর জেলা বিএনপির নতুন আহবায়ক কমিটি দেওয়ায় দলটিতে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি শুরু হয়েছে। তবে অনেক আগেই মেহেরপুরের দুটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমন্বয় কমিটিও অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিম দুজনেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে সভা, সমাবেশ করছেন। সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতেও তাঁদের সরব উপস্থিতি নজর কাড়ে। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে বিএনপির সহশিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপদেষ্টা খালেদ সাইফুল্লাহ ও জামায়াত প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্যা ভোটের মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে আশরাফ উদ্দিন ও খালেদ সাইফুল্লাহ এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। আ স ম আবদুর রব অসুস্থ থাকায় স্ত্রী তানিয়া রব দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখছেন। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে এই সংবাদে ঝিনাইদহে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে। তারা বলছে, নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করলে দেশের জনগণ উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দেশের চলমান সংকটের নিরসন ঘটবে। আর রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময় অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে। ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘১০ মাস ধরে দেশে কোনো রাজনৈতিক সরকার নেই। ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং নানা অপরাধ বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠনের কোনো বিকল্প নেই। লন্ডনে তারেক রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে নির্বাচনের জন্য যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তাতে আমরা খুশি।’ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেশে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, নির্বাচনের জন্য ঘোষিত সময়ের আগে ওই সব সংস্কার শেষ করবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।’ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, ‘গত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র নেই। আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য এই দীর্ঘ সময় লড়াই-সংগ্রাম করেছি। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে বলে আশা করছি।’

আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুন ২০২৫/মওম

কালিয়াকৈরে বিএনপির কমিটি ঘিরে দুইপক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১০ জন

কালিয়াকৈর  প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায়  রবিবার সকালে  কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনে বিএনপির দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, এতে আহত হয়েছে  ৪০।
গত শনিবার কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির ওই কমিটিতে নুরুল ইসলাম সিকদারকে আহবায়ক ও এম আনোয়ার হোসেনকে সদস্য সচিব অপরদিকে কালিয়াকৈর পৌর সভার কমিটিতে  মাহমুদ সরকারকে আহবায়ক ও মহসিন উজ্জামানকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বিএনপির অপর পক্ষ  এই কমিটি  বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের   করে।
দুই পক্ষের  মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সকালে পদ বঞ্চিত বিএনপির নেতাকর্মীরা লাঠি সোটা নিয়ে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান  করে। দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা  বক্তব্য  শেষে কালিয়াকৈর বিভিন্ন  সড়কে মিছিল নিয়ে  পদক্ষিন করে। অপরদিকে নবাগত  আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে বিরাট মিছিল  কালিয়াকৈরের বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিন করে। একপর্যায়ে  পারভেজ  আহমেদ গ্রুপের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে উপজেলা ও পৌর বিএনপির  আহবায়ক কমিটি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দু’পক্ষের মধ্যে   ইট পাটকেল, ককটেল বিস্ফোরণ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  এই ঘটনায়  পুলিশ কাঁদানী গ্যাস নিক্ষেপ করে  দু’পক্ষইকে ছত্রভঙ্গ  করে। পরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ  নেতাকর্মীদের বুঝিয়ে  শান্ত করে ।
উপজেলা  বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব এম  আনোয়ার হোসেন জানান,   উপজেলা ও পৌর বিএনপির  আহবায়ক কমিটি গঠনে আমাদের নেতাকর্মীরা আনন্দ  মিছিল  করে। এতে অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলে হামলা করে। এতে ২০/২৫  জন নেতাকর্মীরা  আহত হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক  সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ জানান,  উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহবায়ক কমিটির গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এজন্য  এই কমিটিকে বাতিলের দাবিতে আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে। সেই মিছিলে চৌধুরী  ব্যারিস্টার  ইশরাক আহমেদ  সিদ্দিকির নেতাকর্মীরা হামলা করলে আমাদের ১০/১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়  আমরা এই কমিটি বাতিলের  দাবি ও নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানাই।
কালিয়াকৈর থানার অপারেশন (ওসি) যোবায়ের  জানান,  বিএনপির  দুই পক্ষের  নেতা কর্মীরা মিছিল বের করে। পুলিশ এসে দুইপক্ষকে শান্ত করে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইরানে পারমাণবিক আক্রমণ করলে পাকিস্তানও পরমাণু হামলা চালাবে ইসরায়েলে:ইরানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

টানা কয়েকদিন ধরে ইরান এবং ইসরায়েলের হামলা ও পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। গত শুক্রবার ভোরে তেহরানসহ ইরানের বেশ কিছু স্থানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল বিমান হামলা চালায়।

পরে তীব্র শক্তি নিয়ে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। দফায় দফায় এই হামলা এবং পাল্টা হামলার মধ্যেই শঙ্কা বাড়ছে ইসরায়েলের পারমাণবিক হামলার। তবে তেমন কিছু হলে, অর্থাৎ ইসরায়েল ইরানে পারমাণবিক হামলা করলে পাকিস্তানও পরমাণু বোমা ব্যবহার করবে বলে দাবি করেছেন ইরানের একজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা।

পাকিস্তান এ বিষয়ে ইরানকে আশ্বস্ত করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ১৬ জুন সোমবার  এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যেই বিধ্বংসী তথ্য সামনে এনেছেন ইরানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে পাকিস্তানও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালাবে।

এই মন্তব্য করেছেন জেনারেল মহসেন রেজায়ি। তিনি ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য।

ইরানি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল মহসেন রেজায়ি বলেন, “পাকিস্তান আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, যদি ইসরায়েল পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে, তাহলে তারা ইসরায়েলের ওপর পারমাণবিক হামলা চালাবে।”

এই বক্তব্য তিনি দিয়েছেন এমন সময়, যখন ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত দুই দেশের প্রায় ২৫০ জন নিহত হয়েছেন। জেনারেল রেজায়ি আরও দাবি করেন, “পাকিস্তান ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ডাক দিয়েছে। তেহরান এখনও অনেক গোপন শক্তি প্রকাশ করেনি।”

তবে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। কিন্তু দেশটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। বিশ্বের মাত্র ৯টি দেশের কাছে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র আছে এবং ইসরায়েল ও পাকিস্তান উভয়ই সেই তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা আইসিএএন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ইরানকে দেওয়া পাকিস্তানের এই আশ্বাসকে সরাসরি সামরিক প্রতিশ্রুতি না বলে কূটনৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার অনেক দেশ এতে কৌশলগতভাবে জড়িত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে একটি চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেন, “যদি তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করে, তাহলে মার্কিন সেনাবাহিনী এমন শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে যা ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি।”

এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক অনলাইন পোস্টে বলেন, “ইসরায়েলের পারমাণবিক ক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমাদের চিন্তা করা উচিত। কারণ এই সংঘাত শুধু একটি অঞ্চল নয়, পুরো বিশ্বকে বিপদে ফেলতে পারে। ইসরায়েল একটি বেপরোয়া রাষ্ট্র, যাকে সমর্থন করে পশ্চিমা দুনিয়া ভয়াবহ ভুল করছে।”

আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুন ২০২৫/মওম