আজ , ।   
Home Blog Page 347

গোপালগঞ্জে ইউএনওর গাড়ি বহরে হামলা, আহত কয়েকজন!

বিশেষ প্রতিনিধি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি বহরে হামলা, ভাঙচুর করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর ও সমর্থকেরা।

আজ বুধবার সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান।

ইউএনও আরো বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রা ও পথসভা করার কথা রয়েছে। তাদের কর্মসূচি বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা প্রথমে পুলিশের ওপর হামলা করে, পরে আমার গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর চালায় তারা।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রার কথা রয়েছে তাদের। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আগমনের কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকেরা সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় ইউএনওর গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন।

এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়িতে আগুন

প্রতিনিধি,গোপালগঞ্জ:

 জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে হামলা এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৬ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।ওই ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। তারা হলেন সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার ও মিনহাজ। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না। এতে পুলিশের তিন জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি পুড়ে গেছে। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা রয়েছে দলটির।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুলাই ২০২৫/মওম 

ইসি ওয়েবসাইট থেকে নৌকা প্রতীক সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ

আলোকিত প্রতিবেদক:

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে নৌকা প্রতীক সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। ওয়েবসাইটে আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন স্থগিত) নামের পাশে প্রতীক হিসেবে এতদিন ‘নৌকা’র একটি ছবি ছিল। এখন আর সেই ছবি সেখানে নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রতীকটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

নির্বাচন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নৌকা প্রতীক নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগের সিদ্ধান্তই আছে কমিশনের। অর্থাৎ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হলে তখন নৌকা প্রতীক তফসিল থেকে বাদ দেবে কমিশন। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল হলে সেটি ওয়েবসাইট থেকে সরাতে পারে ইসি।

dhakapost

নৌকা প্রতীক রাখা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার খসড়া সংশোধন ঘিরে। এই খসড়ায় ১১৫টি প্রতীক সংরক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের পর ‘দাঁড়িপাল্লা’ও যোগ হয়েছে। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রতীক ‘নৌকা’ তাতে বহাল রাখা হয়, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

১৫ জুলাই মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক ফেসবুক পোস্টে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে লেখেন, ‘‘অভিশপ্ত ‘নৌকা’ মার্কাটাকে আপনারা কোন বিবেচনায় আবার শিডিউলভুক্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালেন? সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই গণঅভ্যুত্থানকে আপনারা জাস্ট বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন। কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এবং কাদেরকে দেওয়ার জন্য এই মার্কা রাখছেন আপনারা?’’

বর্তমানে ইসির তফসিলভুক্ত প্রতীকের সংখ্যা ৬৯টি। এর মধ্যে ৫১টি রাজনৈতিক দলের জন্য এবং ১৮টি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। নতুন তালিকা চূড়ান্ত হলে প্রতীক হবে ১১৫টি।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬জুলাই ২০২৫/মওম 

জুলাই নস্যাতের দায় জামায়াত-শিবিরকে নিতে হবে: মানিকগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দল

মো: মহিদ: 
এক-এগারোর ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসের গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হয়েছে-এই অভিযোগ তুলে জামায়াত-শিবিরকে জুলাই নস্যাতের দায় গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে মানিকগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দল। সারা দেশে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে মানিকগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বেলা ১২ টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ‘ল’ কলেজ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে খালপাড় শহীদ রফিক চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘জামায়াত-শিবির গণতন্ত্র হত্যার কারিগর’, ‘জুলাই ষড়যন্ত্রের বিচার চাই’, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চক্রান্ত বন্ধ কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম হাওলাদার, ক্রীড়া সম্পাদক জিল্লুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিন্নাহ খান জিন্নাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক কাজী নাদিম হোসেন টুয়েল, সদস্য সচিব হয়েছেন মো. রকিবুর ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেনসহ সকল উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিন্নাহ খান জিন্নাহ বলেন, ২০০৭ সালের ১/১১ ও তার ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন হয়েছে, তাতে জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। জুলাই মাসে সেই ষড়যন্ত্র আরও তীব্র হয়। আজ আমরা সেই ইতিহাসকে স্মরণ করছি এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর একটি গুপ্ত সংগঠন পরপর মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জনগণের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্য তো সত্যি, ন্যায় তো ন্যায়ই। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম হাওলাদার বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে গত বছরের এই জুলাই মাসে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। বিপ্লবের বাংলাদেশের সাধারণ ছাত্র, শিক্ষক, সাধারণ জনতা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমমনা দল অংশগ্রহণ করেছে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে। এখন একটা মহল কুৎসা ও মব সৃষ্টি করে দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। এই মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলই মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫জুলাই ২০২৫/মওম 

৯৯৯-এর ফোনে নদীর পাড় থেকে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্রতিনিধি,নোয়াখালী: 
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১৫ জুলাই মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ক্লোজার এলাকার বামনী নদীর পাড় সংলগ্ন কচ্ছপদের খামারের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে মরদেহটি উপজেলার মুছাপুর ক্লোজার এলাকার বামনী নদীর পাড়ের ব্লকের ওপর পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ কল দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। তার গায়ে লাল টি-শার্ট ও পরনে সাদা পায়জামা ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বামনী নদী পাড় সংলগ্ন কচ্ছপদের খামারের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নাম–ঠিকানা জানা করা যায়নি। নিহত যুবকের শরীর ফুলে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ৪-৫ দিন আগে মারা গেছেন। তবে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) বিমল কর্মকার বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫জুলাই ২০২৫/মওম 

নবীনগরে বর্ষায় মাছ ধরার ফাঁদ বেচা-কেনার ধুম   

মোঃ আনোয়ার হোসেন: 
বর্ষা মানেই খাল-বিলে থৈ থৈ পানি। নদী-নালা খাল- বিল নতুন পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যাওয়া। আর নতুন পানিতে ছুটে আসে নানা প্রজাতির মাছ। এ মৌসুমে গ্রামাঞ্চলে নানা কৌশলে মাছ ধরা হয়। বাঁশ দিয়ে তৈরি আনতা, চাই, খৈলশুন (বত্তি), ভাঁইড় (চোকা) এ রকম মাছ ধরার যন্ত্র/ফাঁদ তৈরি এবং কেনা-বেচায় ধুম পড়েছে নবীনগরে। মাছ ধরার অপেক্ষাকৃত সহজ কৌশল হল মাছ চলাচলের পথে এ ফাঁদ পেতে রাখা। খাল- বিল এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে এ ফাঁদ পেতে দেশী প্রজাতির মাছ ধরেন গ্রামের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাই এখন বর্ষার মৌসুমে এখানকার হাট- বাজার গুলোতে মাছ ধরার ফাঁদ কেনা-বেচার ধুম পড়েছে। জানা যায়- উপজেলার মাঝিয়ারা, শ্রীঘর বাজার, শ্যামগ্রাম, ভোলাচং, বাঙ্গরা বাজার, শিবপুর, বিটঘর, বাইশমৌজা প্রভৃতি হাট-বাজার গুলোতে মাছ ধরার এ দেশী যন্ত্র গুলো বেশি বিক্রি হয়। এ যন্ত্র/ফাঁদ তৈরির নির্মাতারা এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তারা বাঁশ কেনা, বাঁশ কাটা, শলাকা তৈরি করা, ফাঁদ বোনার কাজ করেন। এ নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে তাদের পরিবার গুলো। আনতা প্রস্তুতকারী জুয়েল মিয়া জানান- এখন আনতা/চাই তৈরিতে আমরা ব্যস্ত। পরিবারের সবাই মিলে এ কাজ করি। এই আয় দিয়েই সংসার চলে। দেশীয় বাঁশ দিয়ে এ সব উপকরণ তৈরি করা হয়। আরেক প্রস্তুতকারী আমির হোসেন জানান- একটি ভাল বাঁশ থেকে ৩টি আনতা তৈরি করা যায়। প্রতিটি আনতা বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ও আনতা/চাই প্রস্তুতকারী সুমন মিয়া, ইছহাক মিয়া, সুবল দাস জানান- একটি বড় বাঁশের দাম পড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। ধারালো দা দিয়ে বাঁশের শলাকা তৈরি করা হয়, প্রতিটি শলাকা বা কাঠি নিখুঁত ভাবে বুনন করে বেত/সুতা দিয়ে বেঁধে তৈরি করা হয় আনতা/চাই নামক মাছের ফাঁদ। বাঁশ কেটে, শলাকা তৈরি করে একজন মানুষের পক্ষে দিনে ৩টি আনতা তৈরী করা সম্ভব। উপজেলার বাঘাউড়া গ্রাম থেকে আনতা কিনতে আসা রহিম মিয়া জানান- প্রতি বছর শখের বসে আমি ৩/৪টি আনতা ক্রয় করি। বাড়ির পাশে খালে/ড্রেনে (নালাতে) এ গুলো ব্যবহার করে ছোট চিংড়ি, পুঁটি, চান্দা, বৈচা, খৈলশা, ডানকানা, মলা, বাইম/গুতুম, শিং, টেংরা, ছোট টাকি প্রভৃতি মাছ ধরি। এতে বাজার থেকে আমার আর মাছ কিনতে হয় না। বাইশমৌজা বাজারের ইজারাদার জানান- বছরের এই সময় প্রতি সপ্তাহের হাটে চলে আনতা কেনা-বেচার ধুম। প্রয়োজনের তুলনায় বাজারে আনতা/চাইয়ের সরবরাহ কম থাকায় দাম একটু বেশি। কয়েক দিন পর সরবরাহ বাড়বে বলে জানান তিনি।
আলোকিত প্রতিদিন/১৫জুলাই ২০২৫/মওম 

মুক্তিযুদ্ধকে সুপরিকল্পিতভাবে অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে: মির্জা ফখরুল 

আলােকিত ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধকে সুপরিকল্পিতভাবে অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আমাদের কোনো আপস নেই।

১৪ জুলাই সোমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে গণফোরাম আয়োজিত দলটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহসীন মন্টুর স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি, তারা এমন এমন কথা বলছে যে প্রশ্ন এসে যায় আমরা কি ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম?

নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চক্রান্ত চলছে–মির্জা ফখরুল বলেন, দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, লন্ডনে আমরা আলোচনা দেখেছি ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, যতগুলো কমিশন হচ্ছে সবগুলোতেই আমরা আমাদের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছি নিয়মিতভাবে। কিন্তু একটা মহল বলছে বিএনপি নাকি সংস্কারের বিপক্ষে।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫জুলাই ২০২৫/মওম 

১১১ কোটি টাকা খরচে গণভবন হচ্ছে ‘জুলাই জাদুঘর’!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে সংঘটিত ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাদুঘরের ‘সিভিল’ ও ‘ই/এম’ অংশ নির্মাণ ও সংস্কার সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে করার অনুমোদন দেওয়া হয়। আগামি ৫ আগস্টের মধ্যে জাদুঘরটির রূপান্তর কাজ সম্পন্ন করে উদ্বোধন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ ছাত্র–জনতার অংশগ্রহণে সংঘটিত ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি, দমন–পীড়নের দলিল, আন্দোলনের চিহ্নসহ গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ এই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জাদুঘর রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রচলিত টেন্ডার পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হলে দক্ষিণ এশিয়া উন্নত হবে: প্রধান উপদেষ্টা 

আলোকিত প্রতিবেদক:

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশকে শুধু একটি ‘ভৌগোলিক সীমানা’ হিসেবে না দেখার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এর চেয়ে অনেক বড়। বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হলে পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল উন্নত হবে। আমরা যদি নিজেদের আলাদা করে ফেলি, তাহলে আমরা এগোতে পারবো না। আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের একটা সমুদ্র আছে। এটি আমাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।১৪ জুলাই সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট, বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক নতুন বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং অর্থনৈতিক খাতে সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে প্রশংসা করেন।

জাট বাংলাদেশের প্রতি তার গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেন এবং ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালে কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে তার মেয়াদের কথা স্মরণ করেন।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টা, বিশেষ করে ‘আর্থিক খাতের কিছু চ্যালেঞ্জিং ইস্যু’ মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ভালো কাজ করার জন্য আপনাকে এবং আপনার চমৎকার টিমকে অভিনন্দন। আমরা আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।’

তিনি গত বছরের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী মুহূর্ত।’

প্রধান উপদেষ্টা তার সমর্থন ও প্রশংসার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন এটি একটি বিপর্যয়কর অঞ্চলের মতো ছিল, ভূমিকম্পের পরে বিধ্বস্ত একটি জায়গার মতো। আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপরও সব উন্নয়ন সহযোগীরা আমাদের সহযোগিতা করেছে এবং এটি আমাদের অনেক সাহায্য করেছে; এটা আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’

ড. ইউনূস জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তারা এই জাতিকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে। গত জুলাইয়ে আমাদের তরুণরা যা করেছে তা ঐতিহাসিক; বিশেষ করে আমাদের মেয়ে ও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমরা আজ জুলাই নারী দিবস পালন করছি। তাদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তরুণরাই আমাদের দেশের কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের তরুণদের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে এবং তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বেশিরভাগ দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর অভাব রয়েছে, তাই আমরা তাদের কারখানাগুলো এখানে আনতে বলেছি। আমরা শিল্পের জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করবো।’

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট নারীর ক্ষমতায়নে ড. ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশে নারী শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচির অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে, যা অন্যান্য দেশেও অনুকরণ করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে। বৈশ্বিক ঋণদাতা গত অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে এবং আগামী তিন বছরেও একই ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সম্পর্কে একটি আপডেট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন অপারেশনাল ব্যবস্থাপনার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) কনটেইনার হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেয়েছে।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে এটাকে আরও কার্যকর করা। আন্তঃকোম্পানি ঋণ এবং শক্তিশালী ইক্যুইটি বিনিয়োগের তীব্র বৃদ্ধির কারণে আমরা ২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে নেট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছি।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫জুলাই ২০২৫/মওম 

১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাবে ৫৫ লাখ পরিবার: খাদ্য উপদেষ্টা!

বিশেষ প্রতিনিধি, দেশের ৫৫ লাখ দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে আগামী আগস্ট মাস থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

খাদ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আগামী আগস্ট মাস থেকে ফের চালু হচ্ছে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। এতে দেশের ৫৫ লাখ পরিবার প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে ছয় মাস ধরে। প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং বন্যার প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সরকারিভাবে ৪ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর- এই চার মাস চাল বিতরণ করা হবে বলে তিনি জানান। এরপর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। পরবর্তীকালে আবার ফেব্রুয়ারি ও মার্চে চাল বিতরণ করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি