আজ সোমবার, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 328

বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য: আমিনুল হক 

ইমরান হোসেন : বিশেষ প্রতিনিধি। 
প্রকাশ,৯ আগষ্ট রোজ শনিবার ২০২৫ ইং
বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, “আমরা চাই সহনশীল, ধৈর্যশীল এবং প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার সমস্যা সমাধান করে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানের স্বপ্ন ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।”
শুক্রবার বিকেলে পল্লবীর বাউনিয়াবাধে ঢাকা অগ্রগামী ক্রীড়া সংসদের আয়োজনে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমিনুল হক স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করে সমাধানের চেষ্টা করবেন। ব্যর্থ হলে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হবে। প্রভাব বিস্তার নয়, বরং মানুষের সাথে মিশে মতামত নিয়ে কাজ করতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের নামে শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছে, সাধারণ মানুষের কল্যাণে কিছুই করেনি। খেলাধুলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের প্রত্যেকটি স্কুলে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের করে আনতে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় সারা দেশে আয়োজন করা হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রেখে সুস্থ জাতি গঠনই হবে প্রধান উদ্দেশ্য।
স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পল্লবী-রূপনগরের নিম্ন আয়ের পরিবারদের সন্তানদের জন্য বিনামূল্যে পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। বেকার যুবকদের জন্য সরকারি-বেসরকারি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লবী থানা ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলীম মিরাজ। উপস্থিত ছিলেন মাহাবুব আলম মন্টু, সাজ্জাদ হোসেন, আসরাফ আলী গাজী, আনিছুর রহমান, মোকছেদুর রহমান আবির, আসলাম হোসেন গাজী, শহিদুল ইসলাম চান, সৈয়দা দিলারা ইসলাম পলি প্রমুখ।
এরআগে আমিনুল হক পল্লবী মিল্ক ভিটা মোড়ে বিএনপি নেতা এডভোকেট আলী আসরাফ লিটনের মা মরহুমা শাহানাজ বেগমের রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হ-ত্যা-র ঘটনায় মোট গ্রে*প্তার-৭

কামাল হোসেন, গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করার ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তার হল সাতজনকে গ্রেফতার করা হলা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাতের দিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জিএমপির উপকমিশনার রবিউল হাসান জানান, সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী বেগম, স্বাধীন, আল আমিন এবং সুমন। ফয়সাল ও তার স্ত্রী ও স্বাধীনকে গাজীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, আল আমিনকে উত্তরার তুরাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে মামলার অন্য দুই আসামি মো. ফয়সাল হাসান ও মো. শাহ জালালকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ফয়সালকে নগরীর চান্দনা এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে এবং শাহ জালালকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার চর মসলন্দ মোড়লপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

র‌্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার এসপি কে এম এ. মামুন খান চিশতী আগামীকাল (৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে অবস্থিত সিপিএসসিতে ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে ব্রিফ করবেন তিনি।

প্রসঙ্গত, নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের গাজীপুর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে এবং গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হ*ত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাহসী সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় গাজীপুর সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হোতাপাড়া এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শতাধিক সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একজন সাংবাদিকের জীবননাশ নয়, বরং দেশের মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। দিনের আলোয় জনসমক্ষে একজন সংবাদকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা দেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বক্তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে, দেশের সকল সাংবাদিক সংগঠনকে একত্রিত করে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো সাংবাদিককে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়। বক্তারা একবাক্যে বলেন, “তুহিনের রক্ত বৃথা যাবে না—ন্যায়বিচারের জন্য দেশের প্রতিটি সাংবাদিক শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
মানববন্ধনে গাজীপুর সদর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মাহাবুব হোসেন, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ফের আলোচনায় বসবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

তিনি বলেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে রচিত এবং স্বাক্ষরিত সনদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে তা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা দরকার। সেই লক্ষ্যে কমিশন এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে আলোচনা করবে।

আলী রীয়াজ বলেন, আশা করা যায় যে, এই প্রক্রিয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি উপযুক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গত দুই পর্বের আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত জাতীয় সনদ প্রণয়নের লক্ষ্যে তাৎপর্যপূর্ণ সুপারিশ বা সংস্কারের ব্যাপারে জাতীয় ঐকমত্য সম্ভব হয়েছে।

প্রথম পর্বের সংলাপে ১৬৫টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য অর্জিত হয়েছে। যার কিছু কিছু সরকার এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে (অধ্যাদেশ, নীতি ও নির্বাহী সিদ্ধান্তে মাধ্যমে)। দ্বিতীয় পর্বের সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ ২০টি সাংবিধানিক ইস্যুতে আলোচনা হয়। সেখানে ১১টি বিষয়ে সব দলের সমর্থনে জাতীয় ঐকমত্য এবং বাকী ৯টি বিষয়ে অধিকাংশ দলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, তাতে কোনো কোনো দলের ভিন্নমত উল্লেখ থাকবে।  রাজনৈতিক দলগুলোর বিরূপ মনোভাবের কারণে ২৫টি বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ আগস্ট ২০২৫/মওম

ভারত থেকে পণ্য নেওয়া বন্ধ করল অ্যামাজন-ওয়ালমার্টসহ বৈশ্বিক বড় বড় মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট, টার্গেট ও গ্যাপসহ বড় বড় মার্কিন রিটেইলাররা ভারত থেকে অর্ডার স্থগিত করেছে।

এনডিটিভি প্রফিটকে একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে বলে ৮ আগস্ট শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভারতীয় রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, মার্কিন ক্রেতারা ই-মেইল ও চিঠির মাধ্যমে পোশাক এবং টেক্সটাইল পণ্যের চালান আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছে। শুল্ক আরোপের কারণে ক্রেতারা বাড়তি খরচ ভাগাভাগি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকদেরই এই বোঝা বহন করতে বলেছে।

বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ট্রাম্পের আরোপ করা দ্বিগুণ শুল্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রগামী অর্ডার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে। ফলে ভারতের ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ওয়েলস্পান লিভিং, গোকালদাস এক্সপোর্টস, ইন্ডো কাউন্ট ও ট্রাইডেন্টের মতো ভারতীয় বড় বড় রপ্তানিকারকদের পণ্য বিক্রির ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক।এছাড়া ভারতের পোশাক এবং টেক্সটাইল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় রপ্তানির বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩৬.৬১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির ২৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম টেক্সটাইল রপ্তানিকারক ভারত আশঙ্কা করছে, এই পরিস্থিতিতে তারা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কাছে অর্ডার হারাতে পারে, যাদের ওপর বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ২৫ শতাংশ ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে।

এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তেল আমদানির জন্য ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা জরুরি ও উপযুক্ত।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ল্ককে “অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক” বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারতের জ্বালানি আমদানি বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং ১.৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

ভারতের দাবি, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে ইউরোপে সরবরাহ মোড় ঘুরে যাওয়ায় তারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি শুরু করে। তখন যুক্তরাষ্ট্র এই আমদানিকে সমর্থন জানিয়েছিল, যাতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল থাকে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ আগস্ট ২০২৫/মওম

পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বিশেষ জুলাই-গ্রাফি*তি অঙ্ক*ন!

বিশেষ প্রতিনিধি, জুলাই শহীদ ও গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বিশেষ গ্রাফিতি অঙ্কনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

সেতু কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থান একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়, যেখানে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বীর শহীদ ও সংগ্রামী জনতার আত্মত্যাগ চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এখানে।
এই মহিমান্বিত স্মৃতি অম্লান রাখার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের ম্যুরালে বিশেষ গ্রাফিতি অঙ্কনের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়েছে, এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক চেতনা সেতুর স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মিশে এক অনন্য ইতিহাসবাহী শিল্পরূপে পরিণত হচ্ছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো পদ্মা সেতু সংলগ্ন ম্যুরালে অঙ্কিত এই গ্রাফিতি শুধু সৌন্দর্যের সংযোজন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে জাতির সংগ্রামী অতীতকে জীবন্তভাবে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস। 

গ্রাফিতি অঙ্কন উপলক্ষ্যে গত ৭ আগস্ট সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ সশরীরে সেখানে উপস্থিত থেকে গ্রাফিতি অঙ্কনের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ, প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ ফেরদাউস, সেতু কর্তৃপক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে, এই উদ্যোগ শুধু শিল্পপ্রেমীদের নয়, বরং সমগ্র জাতির হৃদয়ে নতুন প্রেরণা জাগাবে এবং দেশের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, ৪২ হাজার একর এলাকা পুড়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘অড’ অঞ্চলে দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক এই দাবানলে রাজধানী প্যারিসের চেয়েও বড় এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

আগুন নেভাতে কাজ করছেন দুই হাজারেরও বেশি দমকলকর্মী এবং সেনাসদস্য। কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও আগামী কয়েকদিন আগুন জ্বলতে থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ৮ আগস্ট শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ফ্রান্সে চলমান দাবানলের ভয়াবহতা পেরিয়ে গেছে প্যারিস শহরের আয়তনকেও। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই দাবানল এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও আগামী কয়েকদিন ধরে তা জ্বলতেই থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

গত মঙ্গলবার রিবোত গ্রামের কাছে শুরু হওয়া এই আগুনে একজন নারী মারা গেছেন এবং ১১ জন দমকলকর্মীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিবিসি বলছে, আগুন নেভাতে ২ হাজারেরও বেশি দমকলকর্মী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে আছেন। ৫০০টিরও বেশি অগ্নিনির্বাপক যানবাহন এবং পানিবাহী বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। আগুন এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে— যা প্রায় ৪২ হাজার একরের সমান।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, আগুন “নিয়ন্ত্রিত” হলেও এখনও নিভে যায়নি। আগামী কয়েকদিন ধরে কাজ চলবে। এরই মধ্যে ওই অঞ্চলের বনাঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কারণ সেখানে বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন ঝুঁকি রয়েছে।

উপগ্রহ চিত্রেও দাবানলের ধোঁয়া ও পোড়া ভূমির বিস্তীর্ণ চিহ্ন দেখা গেছে। ১৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের বাড়ি ঘরে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু একে “অভূতপূর্ব দুর্যোগ” বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবানলের কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ও খরার কথা বলেছেন। পরিবেশমন্ত্রী আগনেস পানিয়ে-রুনাশেও দাবানলের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন।

বাইরু জানান, দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পেছনে তীব্র বাতাস, শুকনো গাছপালা এবং প্রচণ্ড গরম ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে জোনকিয়ের গ্রামে কয়েকটি বাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। গ্রামটির মেয়র জ্যাক পিরো জানিয়েছেন, “গ্রামের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকা পুড়ে গেছে। গাছপালাও পুরোটাই পুড়ে গেছে, চারপাশে শুধু কালো ছাই।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত বুধবার বলেছেন, “রাষ্ট্রের সব সম্পদ এই দুর্যোগ মোকাবেলায় নিয়োজিত রয়েছে”। তিনি সবাইকে “চূড়ান্ত সতর্কতা” অবলম্বনের আহ্বানও জানিয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ আগস্ট ২০২৫/মওম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর যেকোনো দলের প্রভাব চাপানো ও দখলের বিরুদ্ধে বিএনপি : নজরুল ইসলাম

৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মহাখালীর গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে লিঁয়াজো কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাই তাহলে চেষ্টা করব কোনো প্রতিষ্ঠানেই যেন কোনো ধরনের জবরদস্তি না হয়। সবাই যেন যার যার ইচ্ছা অনুযায়ী,যা অনুশীলন করতে চায় তা করতে পারে। ক্ষমতায় এলে নিশ্চিত করব যাতে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন কারো দখলে না থাকে। শিক্ষার প্রকৃত অগ্রগতি যেন নিশ্চিত হয়।

এর আগে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সালাহ উদ্দিন আহমদ।

নজরুল ইসলাম বলেন, মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। আপনাদের হাত দিয়ে প্রতিবছর লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে এবং তারা সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, আপনারা (বিএনপি নেতৃদ্বয়) নিশ্চিন্তে থাকুন, সহিহ ইসলামের পক্ষে যারা থাকবেন, এ দেশের আলেম-ওলামারা, ২০ হাজার দরবার, ৫৫ লাখ ছাত্র-ছাত্রী তাদের অভিভাবক সবাই মিলে তাদের সাথে থাকবেন। তাদের পেছনে এ দেশের লাখ লাখ হাক্কানী আলেম-ওলামাদের পাশাপাশি কোটি কোটি ভোটারও থাকবে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী। এ সময় জমিয়াতের কেন্দ্রীয় এবং বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ আগস্ট ২০২৫/মওম

গাজীপুরে চাঁদা*বাজি নিয়ে লাইভের পর সাংবাদিক তুহিনকে কু*পিয়ে হ#ত্যা

অনলাইন ডেস্ক, গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহীনকে (৩৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে তিনি। তিনি দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’র গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। তুহিন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেটের সামনে চায়ের দোকানে বসে ছিলেন সাংবাদিক তুহীন। এসময় ৪-৫ জন যুবকের সঙ্গে তুহিনের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই যুবকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করলে ঘটনাস্থলেই তুহীনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান জানান, এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিক কি-না, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া জিএমপির বাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বলেন, “নিহত ব্যক্তি একজন সংবাদমাধ্যম কর্মী। তার মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান জানান, পুলিশ এখনও হত্যার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এখন জনমনে। তবে কারা কী কারণে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জুলাই ঘোষণাপত্র ও নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিকদলের প্রতিক্রিয়া স্বাগত, ইতিবাচক, হতাশা

জাহিদ হাসান হৃদয়:
জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলবে এবং গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে।  তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলের। এদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে জুলাই সনদ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, আরও অনেক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। এদিকে সরকার ঘোষিত ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
জুলাই ঘোষণায় দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলবে এবং গণতন্ত্র উত্তরণের পথকে সুগম করবে।   তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলের । এ সময় তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে, আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি এই নির্বাচনকে সফল করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এবং একটি কার্যকর জাতীয় সংসদ গঠনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, এই ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলো যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু হবে। সুযোগ সৃষ্টি হবে একটি সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে গঠিত সত্যিকারের প্রগতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের। এ সময় বিএনপিসহ যে সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, শহীদ, আহত বা পঙ্গু হয়েছেন-তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিএনপি মহাসচিব।  এদিকে সরকার ঘোষিত ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের ঘোষণা ইতিবাচক, জুলাই সনদ অপূর্ণাঙ্গ: এদিকে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে জুলাই সনদ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, আরও অনেক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বুধবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এখানে আরও অনেক বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত ছিল। আমরা আশা করি যে, বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বিগত ১৬ বছরের জুলুম, নিপীড়ন, গুম-খুন, অত্যাচারের বিরুদ্ধে ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা অনেক স্বৈরশাসকের পতন দেখেছি, অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে জনতার অনেক সংগ্রাম দেখেছি, কিন্তু বাংলাদেশের ’২৪ এর সরকার পতনের যে দৃশ্য, সেটা একেবারেই ব্যতিক্রম। এই কৃতিত্ব জনগণেরই। সকল রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক, হকার, শ্রমিক—শেষদিকে জুলাইতে এসে আন্দোলনটা এমন একটা সর্বজনীন রূপ লাভ করে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, আবারো যেন সেই দুঃশাসন ফিরে আসতে না পারে, দেশে ইনসাফপূর্ণ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কায়েম হবে—সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল জনগণের। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সভা-সমাবেশ করার অধিকার, বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আপামর জনসাধারণ। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই জনগণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। জুলাই আন্দোলন সংগ্রামের ঘটনাকে ধারণ করে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদের দাবি সর্বমহলের। এ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপ করেছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল ৫ আগস্ট অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৮ দফার জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণাপত্র একটি অপূর্ণাঙ্গ বিবৃতি। এতে গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। ঘোষণাপত্রে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের কথা বলা হলেও ১৯৪৭ এর আজাদিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ নেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা, মাদ্রাসা শিক্ষক ও ছাত্র, প্রবাসী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের ভূমিকার উল্লেখ নেই; যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার ও অবহেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ৯ দফা, যা এক দফায় রূপান্তরিত হয়েছিল; সে বিষয়টিও ঘোষণাপত্রে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। এ জন্য ৬টি কমিশন গঠন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দুই পর্বের দুই মাসেরও অধিক কাল যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং ১৯টি বিষয়ে ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অথচ প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক পঠিত জুলাই ঘোষণাপত্রে তার উল্লেখ নেই। ঘোষণায় কখন কীভাবে তা কার্যকর করা হবে, তা উল্লেখ না করে ঘোষণাকে গুরুত্বহীন করা হয়েছে। পরবর্তী সরকারের হাতে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়ায় হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগ, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই চেতনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করার দীর্ঘদিনের যে ঐতিহ্য, তা উপেক্ষা করে জুলাই ঘোষণার দিনেই নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছে। তথাপি জাতীয় স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণাকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। অতীতে সকল গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ ও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল। সারা দেশে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। আমরা লক্ষ্য করছি নির্বাচনের উপযুক্ত যে পরিবেশ থাকার কথা ছিল, তা সরকার এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। এজন্য প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত টাইমলাইন অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে তার আইনি ভিত্তি দিতে হবে। অতীতে বিভিন্ন অভ্যুত্থান ও আন্দোলন হয়েছে, পরবর্তী সময়ে তার আইনিভিত্তি দেওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। যেমন ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর লিগাল ফ্রেম ওয়ার্কের ভিত্তিতে ৭০-এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত গণপরিষদে ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুমোদন হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন দ্রুত সম্পন্ন করে অধ্যাদেশ, এলএফও বা গণভোটের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি প্রদান করা না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম বিফলে যাবে। তাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনী ও সংস্থার কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে স্বৈরাচারের দোসরদের মুক্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের সকল স্তরে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশের আপামর জনতা জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্রকে কেন্দ্র করে যে প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল তা পূরণ না হওয়ায় জনগণের মাঝে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। শহীদ ও আহতদের পরিবারসহ জুলাই যোদ্ধাদের মাঝে নতুনভাবে উৎকণ্ঠা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের রূপরেখা কী হবে, তা জাতির কাছে অস্পষ্ট। এমতাবস্থায় আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, অনতিবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্রে উপরে উল্লেখিত জনআকাঙ্ক্ষার অপরিহার্য বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
জুলাই ঘোষণাপত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই: এদিকে সরকার ঘোষিত ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুপস্থিত রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। জুলাই ঘোষণাপত্র এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আখতার হোসেন বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা, জুডিসিয়াল কিলিং, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদের হত্যার বিরুদ্ধে আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের কথা এতে উল্লেখ থাকলে ঘোষণাপত্র পরিপূর্ণ হতে পারত। গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ আরো অসংখ্য আন্দোলন সংগ্রাম করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের এই পরতে আমাদের জাতীয় জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ছাপ রেখে গেছে, সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করলে জাতির জন্য আরও গর্বের হতে পারতো। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনী সময় ঘোষণা নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমাদের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনের আগে বিচারকে দৃশ্যমান করা এবং সংস্কার করা এটি এই সরকারের কর্তব্য। তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার প্রস্তুতি আমাদের দিতে হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৭ আগস্ট ২০২৫/মওম