আজ শুক্রবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2525

টাঙ্গাইলে বাসের ধাক্কায় সিএনজির একই পরিবারের চারজন নিহত

প্রতিনিধি,টাঙ্গাইলঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এই ঘটনায় আহত হয়েছে সিএনজির চালকসহ আরও ২ জন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ভূঞাপুরের পশ্চিম ভূঞাপুর গ্রামের আল-আমিন, তার স্ত্রী শিউলি বেগম, আল আমিনের বাবা সোহরাব মিয়া ও মাতা ছালেহা বেগম। এর মধ্যে আল আমিন ও শিউলি বেগম উপজেলার ভদ্রশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এছাড়া আহত হয়েছেন একই গ্রামের সিএনজি চালক ফেরদুস। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিএনজি চালিতো অটোরিক্সাটি রাবনা বাইপাস এলাকায় মহাসড়কের আন্ডারপাস দিয়ে টাঙ্গাইল শহরের দিকে ঢুকছিলো। এসময় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি দ্রুতগামী বাস সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজির চালকসহ ৬ জন গুরুতর আহত হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগীতায় আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে নেয়ার পর এক নারীর মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে ঢাকা নেয়ার পথে একজন ও দুপুর আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এই ঘটনায় আহত আরও ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

সাভারে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধি, সাভারঃ সাভারে ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের নিহত সকল সদস্য এবং একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সকল শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে সাভার বাজার রোড ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির উদ্দ্যোগে অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাভার পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল গনি,এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১নং প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম মানিক মোল্লা,সাভার বাজার রোড ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও পৌর আওয়াম লীগ নেতা নুর মোহাম্মদ,একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত ঢাকা জেলা উওর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবা পারভিন,সাভার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সানজিদা শারমিন মুক্তাসহ আরো অনেকে।

 

 আলোকিত প্রতিদিন/২১ আগস্ট’২০/এসএএইচ

মাইগ্রেইন : ভীতি নয়, নিয়ন্ত্রণে আনুন । ডা. মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

মাইগ্রেইন
ভীতি নয়, নিয়ন্ত্রণে আনুন
ডা: মোহাম্মদ আহাদ হোসেন

মাইগ্রেইন- এক ধরনের মাথা ব্যথা। এই ধরনের মাথা ব্যথায় যারা ভূগছেন তারা জানেন জীবন কত দুর্বিষহ হতে পারে। জীবনের প্রতিটি সময় কাটে অজানা আতঙ্কে- কখন ব্যথা ওঠে। সামাজিকভাবে তারা অনেক কিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী করতে পারেন না। কিন্তু এই অবস্থা থেকে কি পরিত্রাণ নেই? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে যেয়েই মাইগ্রেইনের ব্যথা নিয়ে লেখার চেস্টা করছি। বরাবরের মতো এবারও এই বিষয়ের সর্বশেষ তথ্য সরবরাহ করার চেস্টা করবো।

মাইগ্রেইন মাথা ব্যথার প্রকৃতি কেমন?
মাইগ্রেইনের মাথা ব্যথা সাধারণ মাথা ব্যথা থেকে আলাদা। সাধারণত মাথার এক দিকে হয়, তবে দু’দিকেও হতে দেখা গেছে। যাদের মাইগ্রেন হবার প্রবণতা আছে তাদের শব্দ, আলো, গন্ধ, বাতাসের চাপের তারতম্য ও কিছু খাবার যেমন- চকলেট, আঙুরের রস, পনির ইত্যদির প্রভাবে পুনরায় নতুন করে ভয়ঙ্কর মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে। তবে মাইগ্রেনে শুধু মাথা ব্যথাই হয় না, তার সঙ্গে আরো কয়েকটি স্নায়ুবিক উপসর্গ হয়ে থাকে (যেমন- কিছু আলো বা শব্দের অনুভূতি)। উপসর্গ অনুযায়ী মাইগ্রেনের মধ্যেও অনেক রকমফের আছে। কারো কারো মতে সেরকম কয়েকটি মাইগ্রেনের উপসর্গ থাকলে মাথা ব্যথা না থাকলেও মাইগ্রেন হয়েছে বলা যেতে পারে। এগুলোকে এটিপিক্যাল মাইগ্রেইন বলে। কিছুকিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের মাথা ব্যথার আগে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় যাদের ‘অরা’ বলে। যেমন- চোখে ভিন্ন রকম কিছু দেখতে পাওয়া, কথা বলায় অসঙ্গতি, মুখের একপাশে বা হাতে বা পায়ে ভিন্ন অনুভূতি হওয়া। এগুলোকে অরা বলে। মাইগ্রেইন মাথা ব্যথা এর সাথে অরা থাকলে তাকে ক্ল্যাসিক মাইগ্রেইন বলে।

অন্যান্য মাথা ব্যথা থেকে মাইগ্রেইনের ব্যথা আলাদা করার উপায়?
কিছু কিছু উপসর্গ জানা থাকলে অন্যান্য মাথা ব্যথা থেকে এটিকে আলাদা করা যায় সহজেই।
• ব্যথা ২ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।
• বমি বমি ভাব হতে পারে।
• আলোর দিকে তাকাতে অসুবিধা হতে পারে।
• অতিরিক্ত শব্দের কারণে ব্যথা বাড়তে পারে।
• ঘন ঘন হাই ওঠা ও কাজে মননিবেশ করতে অসুবিধা হতে পারে।
• অরা বা পূর্ব লক্ষন থাকতে পারে।
• পরিবারে অন্য কোনো সদস্যের এই ধরনের ব্যথা থাকতে পারে।
• ৫-৪-৩-২-১ ধরনের লক্ষণ থাকতে পারে। যেমন- ৫ বা তার বেশি বার ব্যথা ৪ ঘণ্টা থেকে ৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর সাথে অন্তত ১টি লক্ষণ যেমন- বমি বমি ভাব, আলো বা শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা।

মাইগ্রেইন মাথা ব্যথার কারণ কী?
বংশগত সমস্যা : আমাদের দেহের অধিকাংশ রোগের ক্ষেত্রে জন্মগত সমস্যা একটি কারণ হয়ে থাকে। মাইগ্রেইনের ব্যতিক্রম নয়। জন্মগত সমস্যা বেশ কয়েকটি কারণে হতে পারে।
১. মানব দেহের সকল কিছু জীন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই জীনগত সমস্যার কারণে আমাদের মস্তিষ্কে সেরেটোনিন নিঃসরণের পরিমান কমে যায়। যে কারণে মস্তিষ্কে ব্যথা নিয়ন্ত্রঙ্কারী স্নায়ু সক্রিয় হয়ে ব্যথা হয়।
২. গবেষণায় দেখা গেছে মাইগ্রেইনের ব্যথার সময় মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। এ সময় মস্তিস্কের আবরনে রক্ত সরবরাহকারী রক্ত নালী থেকে এক ধরনের প্রোটিন নিঃসরণ হয়। যা ব্যথা নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকে সক্রিয় করে ও ব্যথা হয়।
৩. যারা সেনসিটিভ মস্তিস্কের অধিকারী তাদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেইনের ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪. কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা গ্রহণের পর মাইগ্রেনের ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায় বা হালকা ব্যথার ভাব থাকলে তা পরিপূর্ণ মাইগ্রেনের ব্যথায় রূপ লাভ করে। তার মধ্যে নিম্নলিখিত খাবার উল্লেখযোগ্য :

  •  চকোলেট
  • পনির
  • মদ্যপান
  • কোলা জাতীয় পানীয়।

৫. মাইগ্রেন রোগী কিন্তু পাশাপাশি সাইনাস সমূহের প্রদাহে ভুগছেন বা প্রচন্ড সর্দি কাশি বা ঠান্ডায় ভুগছেন; তাদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথার প্রকোপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
৬. যখন প্রচন্ড গরম পড়ে এবং পরিবেশের অবস্থা ভ্যাপসা আকার ধারণ করে, তখন মাইগ্রেনের রোগীর মাথা ব্যথার প্রকোপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে শীতকালে যদি ঠান্ডা বাতাস বেশি লাগে বা কুয়াশা পরিবেষ্টিত অবস্থা বিরাজ করে তখন এর প্রকোপ আরো বেড়ে যায়।
৭. হরমনের প্রভাব : মাইগ্রেইন এর মাথা ব্যথা সাধারণত মেয়েদের বেশী হয়। যে সকল মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালে যখন মাসিক শুরু হয় তখন মাসিক নিয়ন্ত্রণকারী হরমনের তারতম্য হয়। যে কারণে মাইগ্রেইনের ব্যথা উঠতে পারে। যারা দীর্ঘদিন জন্ম বিরতিকরণ পিল খাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রেও তাদের অধিকাংশ সময় ইস্ট্রোজেন বেশী থাকে। তারা মাইগ্রেইনের ব্যথার ঝুঁকিতে থাকেন। অনেকের ক্ষেত্রে মাসিকের পূর্বাবস্থায় মাইগ্রেইনের ব্যথা উঠতে পারে।
৮. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ : যারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করেন বা মানসিক চাপে থাকেন তাদের শরীরে হরমনের তারতম্য হয়। যে কারণে তারা মাইগ্রেইনের ব্যথার ঝুঁকিতে থাকেন। এছাড়াও এসকল রুগীদের উচ্চ রক্তচাপ, নিদ্রাহীনতা, হতাশা থাকে যে কারণেও মাইগ্রেইনের ব্যথা ট্রিগার হতে পারে।
৯. অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া : আমরা যখন অনেক বেশি মিষ্টি খাবার খেয়ে ফেলি তখন আমাদের রক্তের সুগারের মাত্রা বেড়ে যায় যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ইনসুলিনের উৎপাদন হতে থাকে। যার ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা নেমে যায়। এভাবে হঠাৎ হঠাৎ রক্তে সুগারের মাত্রার তারতম্যের কারণে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে।
১০. হঠাৎ করে কফি খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া : সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিয়মিত ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খেতে অভ্যস্ত, তারা হঠাৎ করে সেই অভ্যাস ত্যাগ করলে বা বন্ধ করে দিলে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হতে পারে।
১১. অতিরিক্ত আওয়াজ : অতিরিক্ত আওয়াজ, খুব জোরে গান শোনা ইত্যাদির কারণেও মাইগ্রেনের সমস্যা শুরু হয়ে যেতে পারে।

মাইগ্রেইন নিয়ন্ত্রণে এক্সারসাইজ বা ব্যায়ামের উপকারীতা :
১. ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর অনেক দিক থেকেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। শরীরের সকল জায়গায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। হার্টের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. মাথা ও ঘাড়ের কিছু চমৎকার এক্সারসাইজ আছে যেগুলো মাথায় ও ঘাড়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। ভালো ঘুম হতে দারুনভাবে সাহায্য করে।
৩. এক্সারসাইজ ও সঠিক ঘুমের মাধ্যমে শরীরের হরমন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এঙ্কেফালিন নামক পদার্থ নিঃসরণ বাড়ায় যাতে মানসিক চাপ কমে ও বিভিন্ন স্ট্রেসে স্বাভাবিক থাকার প্রবণতা তৈরি হয়।
৪. গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়োমিত ব্যায়াম করেন তাদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেইনের এটাক কমে যায়। ধীরে ধীরে অনেক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
৫. এক্সারসাইজের মাধ্যমে শরীর থেকে এন্ডরফিন নামক পদার্থ নিঃসরণ বেড়ে যায়। যা শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা কমাতে পারে। আমরা মরফিন বা প্যাথেডিন ঔষধের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রনের জন্য ব্যবহার করি এই এন্ডরফিন এদের সমগোত্রিয় ও শরীরের আভ্যন্তরীণ পদার্থ।

মাইগ্রাইনের ব্যথায় এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম করার নিয়ম :
১. আপনি যদি হঠাৎ করে ব্যায়াম শুরু করেন, তাহলে আপনার শরীরে হঠাৎ অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হবে যেটা ভালো নয়।
২. ব্যায়মের সময় আপনার রক্তের গ্লুকোজের সংকট হতে পারে। সেক্ষেত্রে হালকা কিছু খেয়ে নিতে পারেন।
৩. ব্যায়ামের সময় আপনার পানি শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই ব্যায়ামের পূর্বে পরিমাণ মতো পানি পান করে নিলে ভালো হয়।
৪. প্রথমেই অতিরিক্ত চাপের এক্সারসাইজ না করা ভালো।
৫. একটি ডায়রি সংরক্ষণ করুন। সেখানে লিখে রাখুন আপনার মাইগ্রেইনের এটাক ব্যায়ামের সাথে সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে কিনা।
৬. ব্যায়াম শুরুর আগে প্রস্তুতি নিন। পানি ও হালকা খাবার সাথে রাখুন।
৭. ব্যায়ামের ক্ষেত্রে নিচের স্টেপগুলো ফলো করা যায়-

  • খাওয়া
  • পান করা
  • ওয়ার্ম আপ
  • হালকা ঢিলেঢালা পোশাক পরা
  • পরিকল্পনা করুন
  • মনে রাখুন- শরীরের উপর চাপ হয় এমন কিছু করা যাবে না।

কোন ব্যায়াম মাইগ্রেইনের জন্য উপকারী?
       • ঘাড় ও মাথার ব্যায়াম
• জগিং
• সুইমিং
• সাইকেলিং

ঘাড় ও মাথার ব্যায়াম :
ঘাড় ও মাথার ব্যায়াম মাইগ্রেইন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকারী। এতে মাথা ও ঘাড়ের মাংশ পেশী সচল থাকে, রক্ত চলাচল ভালো থাকে, মাথা ও ঘাড়ের জয়েন্টসগুলো সচল থাকে। ঘুম ভালো হবে। ঘাড় ও মাথার সাধারণ ব্যথাগুলো ধীরে ধীরে চলে যাবে। আপনি স্ট্রেস ফ্রি অনুভব করবেন।
• চিন টাগ : ঘাড়ের একটি খুবই কার্যকারী ব্যায়াম। মাথা ও ঘাড় সোজা রেখে এক আঙ্গুল দিয়ে নিজের থুতনী স্পর্শ করুন। এবার ঘাড় শক্ত করুন। একই সাথে থুতনী পেছনের দিকে একটু সরে আসবে। এভাবে ৫-১০ সেকেন্ড থাকুন। পদ্ধতি টি ৫-১০ বার করুন।
• দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে থুতনীকে নিচের দিক থেকে উপরের দিকে চাপ দিন ও থুতনীকে নিচের দিকে চাপ দিন যাতে ঘাড় ও মাথা সোজা থাকে।
• মাথার ডান পাশে ডান হাত দিয়ে চাপ দিন ও একই সাথে মাথা দিয়ে হাতের উপর চাপ দিন যাতে মাথা সোজা থাকে, ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। একইভাবে বাম পাশে করুন।
• যে কোনো এক হাতের তালু দিয়ে কপালে চাপ দিন ও একই সাথে কপাল দিয়ে হাতের উপর চাপ দিন যাতে মাথা ও ঘাড় সোজা থাকে। এভাবে ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন।
• দুই হাতের আঙ্গুলগুলো লক করে তালুর দিকের অংশ দিয়ে মাথার পেছনের দিকে চাপ দিন ও একই সাথে মাথার পেছন দিক দিয়ে হাতের উপর চাপ দিন যাতে মাথা ও ঘাড় সোজা থাকে। এভাবে ৫-১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন।
• পুরো পদ্ধতিগুলো সকালে ও বিকালে করার চেষ্টা করুন।

মাথা ব্যথার সাথে যে সকল লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন :
• মাথা ব্যথার সাথে চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া সবসময়ের জন্য।
• মাথা ব্যথার সাথে খিচুনি থাকলে।
• মাথা ব্যথার সাথে শরীরের কোনো অংশ অবশ অনুভব করা।
• মাথা ব্যথার সাথে জ্বর ও ঘাড় শক্ত হওয়া থাকলে।
• মাথা ব্যথার সাথে স্মরণ শক্তি কমে যাওয়া শরীরের ব্যালেন্স না থাকা।

মাইগ্রেন ব্যথার চিকিৎসা কী?
মাইগ্রেন ব্যথার আজ পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত মেডিকেল চিকিৎসা নেই। বিভিন্ন ধরনের পেইন কিলার ব্যাবহার করা হয়। এসকল পেইন কিলার দীর্ঘদিন ব্যাবহারের ফলে পেটে আলসার, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো দীর্ঘদিন ব্যাবহার মোটেই ভালো সিদ্ধান্ত নয়।
TMS ( Transcranial Magnetic Stimulation) : মাইগ্রেনের ব্যথার একটি আধুনিক চিকিৎসা। উন্নত দেশগুলোতে এটা ব্যবহার করা হয়। এটি কীভাবে কাজ করে এটা পরিস্কার না। তবে গবেষনায় দেখা গেছে এটি কাজ করে।

মাইগ্রেন ব্যথার রুগীদের করণীয় :
       • মাইগ্রেন এর ব্যথার উদ্রেককারী বিষয় গুলো এড়িয়ে চলুন।
• চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। যে কোন বিষয় পরিবারের সাথে শেয়ার করুন। পরামর্শ নিয়ে কাজ করুন।
• নিয়োমিত দেখানো ব্যায়াম গুলো করার চেস্টা করুন।
• নিয়োমিত সঠিক সময় ঘুমাতে যান ও সঠিক সময় ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন।
• সঠিক নিয়মে ঘুমের অভ্যাস করুন। ঘুমের সময় ঘাড়, মাথা স্বাভাবিক পজিশনে রাখার অভ্যাস করুন। শুধু মাথার নিচে বালিশ না দিয়ে ঘাড়ের নিচে বালিশ ব্যাবহার করুন ৷ সোফা বা চেয়ারে ঘুম পরিহার করুন।
• খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন। যে সকল খাদ্যে মাইগ্রেন ট্রিগার হতে পারে সেগুলো পরিহার করুন।
• অবসর সময়কে আপনার প্রিয় জিনিসের সাথে উপভোগ করুন। যেমন- বাগান করা, গান, কবিতা, লেখালেখি।
• অতিরিক্ত বা অধিক্ষণ টিভি বা স্ক্রিন দেখা থেকে বিরত থাকুন।

মনে রাখতে হবে মাইগ্রেনকে শত্রু ভাবা যাবে না। বরং একে মেনে নিয়ে একে ভালো বন্ধুতে রূপান্তর করুন। আপনার নিয়ম নয় বরং মাইগ্রেনের নিয়মে অভ্যস্ত হওয়ার চেস্টা করুন। তাহলে মাইগ্রেন সমস্যা আপনাকে কোনো ক্ষতি করবে না বরং নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ধীরে ধীরে মাইগ্রেন ব্যথার চক্র পরিবর্তিত হবে। মাইগ্রেন আপনার নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

(লেখক : কনসালটেন্ট ও পেইন ফিজিশিয়ান
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতা, ঢাকা।)

আলোকিত প্রতিদিন/২০ আগস্ট-২০২০/জেডএন

টাঙ্গাইলে বন্যায় ১ লক্ষ ৭৩৯১ জন কৃষকের ১৪১২৫.০৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি

প্রতিনিধি, টাঙ্গাইলঃ চলমান বন্যায় টাঙ্গাইল জেলায় ১৮ হাজার ১২৬ হেক্টর নিমজ্জিত জমির মধ্যে ১৩ হাজার ৮৯২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ১ লক্ষ ৭ হাজার ৩৯১ জন কৃষকের ১৪১২৫.০৭ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জেলার ১২টি উপজেলা ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, মির্জাপুর, নাগরপুর, বাসাইল, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, গোপালপুর, সখীপুর ও দেলদুয়ারে বন্যার প্রভাব পড়েছে। যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বেশি ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি ও ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি। উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় বোনা আমন ১০ হাজার ৫৮৮ হেক্টর, বোনা আমন বীজতলা ১ হাজার ৩৫৯ হেক্টর, আউশ ১ হাজার ৮০৮ হেক্টর, সবজি ১ হাজার ৪৬৪ হেক্টর, পাট ৭৬৫ হেক্টর, তীল ১ হাজার ৬৫২ হেক্টর, আখ ৬৫ হেক্টর, কলা ৪৫ হেক্টর এবং লেবু ৩৮০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গত ১১ জুলাই পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ৫ হাজার ৯২৮ হেক্টর নিমজ্জিত জমির মধ্যে ৩ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ২৭ হাজার ২৩৩ জন কৃষকের ৪১৫৫.০৭ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়। গত ১৩ আগষ্ট পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ হাজার ১৯৮ হেক্টর নিমজ্জিত জমির মধ্যে ১০ হাজার ৫১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ৮০ হাজার ১৫৮ জন কৃষকের ৯৯৭০ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বলেন, একদিকে করোনা, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা। দুই মিলিয়ে আমাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে আমাদের। কর্মহীন হয়ে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরকারিভাবে আর্থিক সাহায্য করা হবে না। পর্যায়ক্রমে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ ৪ শ’ জন কৃষককে বিনামূল্যে চারা, ৪ হাজার কৃষককে মাস কলাইয়ের বীজ ও সার, ৮ হাজার কৃষককে সবজি বীজ, প্রতি উপজেলার ১৬ জন করে কৃষককে মেশিনের সাহায্যে বীজ বপন করে দেওয়া হবে। সেইসাথে কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৯ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

 

সোনারগাঁয়ে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

প্রতিনিধি, সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টি.এম মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) মোঃ খোরশেদ আলম। অনুষ্ঠানে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সোনারগাঁও থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি গাজী মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি, সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন তুষার, সাংবাদিক পনির ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় যুব মহিলালীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরিন সুলতানা ঝরা, মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু প্রমূখ। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে  বক্তারা বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৯ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

কুয়াকাটায় ছাত্রলীগ নেতাসহ ৫ জুয়ারী গ্রেফতার, আহত ৪ পুলিশ সদস্য

সংবাদদাতা, কলাপাড়া(পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেল কিংস থেকে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান সহ ৫ জুয়ারীকে আটক করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহিপুর থানার এস আই আসাদুজ্জামান জুয়েলের নেতৃত্বে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল কিংস থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান (২৯), মহিপুরের সামসুল হক মুন্সির ছেলে কলিম মাহামুদ (৩২), মহিপুরের আলমগীর হাওলাদারের ছেলে চিহ্নিত জুয়ারি রবিউল (২৭), মহিপুর ইউনিয়নের সেরাজপুর গ্রামের ইউসুফ আলী নায়েবের ছেলে জুয়ারি গোলাম মাওলা (৩০) ও দুমকির পাঙ্গাশিয়ার জালাল খানের ছেলে কুয়াকাটা বনানী প্যালেসের ম্যানেজার শাহিন খান (৩৫) কে নগদ টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ গ্রেফতার করা হয়। জুয়ারীরা এসময় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করলে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়।  আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, মহিপুর থানার এস আই আসাদুজ্জামান জুয়েল, এস আই মনির হোসেন, কনেষ্টবল ইব্রাহিম, কনেষ্টবল নজরুল। পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক ভুইয়া জানান, এটি একটি ষড়যন্ত্র মুলক ঘটনা, তাদেরকে নিয়ে যাবার সময় পুলিশের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার  তীব্র নিন্দা জানান তিনি। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও জুয়ারী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদেরকে কলাপাড়া জুডিশিয়াল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ আগস্ট’২০/এসএএইচ

সুন্দরগঞ্জে চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা, গাইবান্ধাঃ  গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে তার অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিকার ও বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, মোখলেছুর রহমান রাজু ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করে। বর্তমানে তার স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। তিনি গত ১৮ মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করেন না। ফলে এলাকার জনগণ ইউনিয়ন পরিষদের নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান রাজু পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা না করে নিজের খেয়ালখুশিমত কার্যক্রম পরিচালনা করে। এছাড়াও তিনি ১% ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ও এলজিএসপি’র সভা না করে নামে বেনামে প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাত করে। শুধু তাইনয়, শিশু ভাতার অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ, এডিবি’র বরাদ্দ সম্পর্কে ইউপি সদস্যদেরকে না জানিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাৎ, করোনাকালিন সময় সারের ভর্তুকির অর্থ আত্মসাৎ, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের অর্থ আত্মসাৎ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বাবদ অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ ও হয়রানী করে আসছে। এছাড়া ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের কোন প্রকার কার্যকারিতা নেই। ফলে সাধারণ জনগণকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এব্যাপারে ইতোপূর্বে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধার ডি.ডি, এলজি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য মমতাজ আলী, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য জোসনা বেগম ও রাশেদা বেগম এবং এলাকাবাসি আব্দুর রাজ্জাক আলম, মো. মোসলেম আলী প্রমুখ।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

 

সাভারে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও বৃক্ষরোপন অনুষ্ঠিত 

প্রতিনিধি, সাভারঃ সাভারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া মাহফিল,গণভোজ ও বৃক্ষরোপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইন এলাকায় সাভার ইউনিয়ন যুবলীগের উদ্দ্যোগে অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমানের ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির,সাভার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী সোহেল রানা,সাভার থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফয়সাল আহম্মেদ,সহ-সভাপতি আব্দুর রব,যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ-আল-রাজি,সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন খাঁন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ,ঢাকা জেলা উওর ছাএলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন আনু,সাভার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক,সাভার ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তুহিন,  যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম তুহিন, যুবলীগের নেতাকর্মী,এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ আরো অনেকে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

 

কক্সবাজারে পুলিশের সহযোগিতায় পাগলী নারীর সন্তান প্রসব

আবু সায়েম, কক্সবাজারঃ কক্সবাজার সদর মডেল থানার পশ্চিম পার্শ্বে সড়কে পুলিশের সহায়তায় সন্তান প্রসব করেছে এক পাগলী নারী। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সদর মডেল থানার পশ্চিম পার্শ্বে সড়কে প্রসব ব্যাথার খবর পেয়ে সন্তান প্রসবের যাবতীয় সরঞ্জাম এবং মহিলাদের সহযোগিতায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই আনছারুল হক সুজনের নেতৃত্বে অবশেষে পাগলীটি  একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা  জানান, ২৫-২৮ বছরের একজন পাগলী নারী সন্তান সম্ভাব্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। বিষয়টি এসআই আনছারুল হক সুজনকে জানালে তিনি তারঁ সঙ্গীয় ফোর্সসহ গিয়ে সন্তান প্রসবের যাবতীয় সরঞ্জাম এবং মহিলাদের সহযোগিতায় সন্তান প্রসব করার কার্যক্রম সম্পাদন করে সন্তান  প্রসব হওয়ার সাথে সাথে  পুলিশ সদস্য চন্দন আর্চায্য সৈকত নিজ হাতে বাচ্চাটি  তুলে নেন। পরে বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাঃ খায়রুজ্জামান কে অবগত করলে তিনি  দ্রুত মা ও নবজাতককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। এসআই আনছারুল হক সুজন জানান,  মা ও নবজাতকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি খায়রুজ্জামান স্যার মহিলা এবং বাচ্চার যাবতীয় চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পাদন সহ সুস্থ করার জন্য যাবতীয় খরচ বহন করার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ পুলিশ আত্নমানবতার সেবায় সব সময় নিয়োজিত। দেশের চরম ক্রান্তিলগ্ন এবং দুঃসময়ে জনগণের পাশে এসে দাঁড়ায়। মানুষকে প্রত্যক্ষ সেবা এবং মানবসেবা প্রদানে বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর। প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান,পাগলী নারী সন্তান প্রসব নিয়ে খুবই যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। আশে পাশের মানুষ কেউ এগিয়ে আসে নি,কিন্তু পুলিশ এগিয়ে এসে সন্তান প্রসব পর্যন্ত কার্যক্রম সম্পাদন করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের এসকল গর্বিত সদস্যদের নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ আগস্ট’২০/এসএএইচ

 

পাওনা ২৬৫ কোটি টাকার দাবিতে বিজেএমসি প্রধান কার্যালয়ে পাট ব্যবসায়ীদের ৩ দিনের অবস্থান ধর্মঘট

 নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্ধ ঘোষিত রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫টি পাটকলে পাট সরবরাহ বাবদ বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) কাছে পাওনা ২৬৫ কোটি টাকা আদায়ের দাবিতে অবশেষে বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ থেকে তিন-দিনের অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রান্তিক পাট চাষী ও পাট ব্যবসায়ীরা। একই দাবিতে এর আগে জাতীয় সংসদে পাট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণসহ বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ধর্না দিয়েছেন বারংবার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহৃদয় হস্তক্ষেপ চেয়ে তার কাছে স্মারকলিপি পেশসহ মানব বন্ধন ও অন্যান কর্মসূচিও পালন করেছেন। কিন্তু পাওনা টাকা পরিশোধের ব্যাপারে বিজেএমসির কাছ থেকে আজ অবধি কোনো আশ্বাস পর্যন্ত মেলেনি। বাধ্য হয়ে নিজেদের ও পরিবারের জীবন বাঁচাতে এই পাওনা টাকা আদায়ে আজ মঙ্গলবার থেকে এই অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন তারা। কর্মসূচি আগামীকাল বুধবার এবং এবং পরশু বৃহস্পতিবার ও অব্যাহত থাকবে। এতেও সুরাহা না হলে এরপর আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানান তারা। কেননা, এই টাকার ওপরই এখন আমাদের জীবন-মরণ নির্ভর করছে, জানান পাট ব্যবসায়ী নেতারা।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির এই কঠিন দুঃসময়ে পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে পড়ায় অকস্মাৎ ব্যবসা হারিয়ে এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছেন পাট ব্যবসায়ীরা। তার ওপর বিজেএমসির কাছে টাকা আটকা পড়ায় একমাত্র সম্বল সামান্য যে পুঁজি নিয়ে তারা ব্যবসা করেন, হারিয়েছেন সেটুকুও। ফলত পুঁজিশূন্য সর্বশান্ত হয়ে তারা আজ পথে বসার মুখে। অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘পাট ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধে বিজেএমসি নীরব কেন?’ ‘পাওনা টাকা আদায়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই’ সহ বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

চলমান দুঃসহ পরিস্থিতির কথা জানিয়ে নিজেদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী নেতারা। এ সময় বিজেএমসির কাছে পাওনা টাকা আদায়ে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে পাট ব্যবসায়ী নেতারা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিজেএমসির ২৫টি পাটকলে পাট সরবরাহ করে আসছি। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরের পাট সরবরাহ বাবদ বিজেএমসির কাছে ২৬৫ টাকা পাওনা হয়েছে আমাদের। অথচ সেই পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই ২৫টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আগে পাটকলের শ্রমিক নেতাসহ অন্যান্য অংশীদারদের সাথে এ বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা করা হলেও আমাদের সাথে কোনোরূপ আলোচনা করা হয়নি। অথচ আমাদের সরবরাহ করা পাট দিয়ে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেই বিজেএমসির কর্মকর্তা-কর্মচারির বেতন পরিশোধ ও অন্যান্য দায় মেটানো হচ্ছে। বিজেএমসির এই অমানবিক নির্লিপ্ততা এবং আমাদের টাকা পরিশোধের ব্যাপারে বিক্রয় করে ঔদাসীনতা দেখে আমরা মর্মাহত। উপরন্তু মাথার ওপর ব্যাংক ঋণ আর সুদের বোঝার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দেনার চাপে আজ আমরা দিশেহারা। আমাদের ছেলেমেয়েরা ও পড়াশুনা থেমে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় পড়ে গেছে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎতের মুখে। গভীর দুর্দশার মধ্যে আমাদের অনেক ব্যবসায়ী মৃত্যু বরণও করেছেন ইতোমধ্যে। ফলে দুর্বিষহ অন্ধকারের মধ্যে পড়ে গেছে তাদের পরিবার। এই মানুষ ̧লোকে বাঁচাতে আজ আমরা তাই আর কোনো উপায় না পেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা হয়েছি। অথচ নির্মম সত্য হচ্ছে, এই আমরাই কিন্তু চিরকাল পাট উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ব এসব পাটকল এতোকাল বাঁচিয়ে এসেছি। দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম রেখেছি। ব্যবসায়ীক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- খন্দকার মাহমুদুর রহমান, স্বপন কুমার সাহা প্রমূখ।

চলমান এই সংকটকালে এর আগে জাতীয় সংসদে মাননীয় পাটমন্ত্রী নিজেও অঙ্গীকার করে বলেছিলেন, পাটকলগুলোর কাছে পর্যাপ্ত পাটপণ্য মজুত রয়েছে। সেগুলো বিক্রি করেই পাট ব্যবসায়ীদের টাকা পরিশোধ করা হবে। আমরা জানি, সম্প্রতি ৩৩২ কোটি টাকায় মজুত থাকা এসব পাটপণ্য বিক্রিও করেছে বিজেএমসি। কিন্তু মহান সংসদে পাটমন্ত্রীর দেয়া সেই অঙ্গীকারের পরও পণ্য বিক্রি মাধ্যমে অর্জিত এই অর্থ দিয়ে পাট ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি বিজেএমসি। সেই টাকা পরিশোধে আদৌ কোনো আশ্বাস কিংবা উদ্বোগ নিতেও দেখা যাচ্ছে না তাদের মধ্যে। অমানবিক এ পরিস্থিতির অবসানে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে পাট্য ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এই টাকার ওপর আমাদের জীবন-মরণ নির্ভর করছে। সহৃদয় প্রধানমন্ত্রী যাতে এ ব্যাপারে তার মানবিক নির্দেশনা দিয়ে বিজেএমসির কাছে পাওনা এই ২৬৫ কোটি টাকা পরিশোধের ব্যাবস্থা নেন, সেদিকে আকুল আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে দেশের দুই হাজারের বেশি প্রান্তিক চাষী ও পাট ব্যবসায়ী ও তাদের অসহায় পরিবারের সদস্যরা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ আগস্ট-২০২০/জেডএন