আজ রবিবার, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 129

এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ইফতার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের দাওয়াত গ্রহণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে তার হাতে এই আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। মন্ত্রী সানন্দে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন আখতার হোসেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশ যাবে নতুন পথে, ফিরবে না আর ফ্যাসিবাদে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ধানমন্ডি আবাহনী মাঠে ইফতার মাহফিলের মধ্য দিয়েই শুরু হবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল কর্মসূচি।

আখতার হোসেন আরও জানান, এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

 

পাকিস্তান আগ্রাসী বাহিনীকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে : শেহবাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যে কোনো আগ্রাসী বাহিনীকে ধ্বংস করার মতো ক্ষমতা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি আরও বলেছেন, আফগানিস্তানে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী, তাতে পুরো জাতির সমর্থন আছেন।

আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় শেহবাজ বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী যে কোনো আগ্রাসী বাহিনীর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা রাখে। আমাদের পুরো জাতি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আছে।”

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় পাক-আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে আরও কয়েকজন সেনাকে ধরে নিয়ে যায় তারা।

হামলা চলাকালে এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার তাদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”

মুজাহিদ আরও জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে যে বিমান অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের বিমানবাহিনী, তার বদলা হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে। পাকিস্তান বাহিনীর সেই অভিযানে নানগারহার এবং পাকতিয়ায় নিহত হয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।

হামলা শেষে রাত ১২টার দিকে আফগানিস্তান সেনাবাহিনী ফিরে যায়। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা শুরু করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী (পিএএফ)। এতে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩৩ জন এবং আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক।

আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর বেশ কিছু স্থাপনা ধ্বংসও করেছে পিএএফ। শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় জানান, পিএএফের বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরুর পর এক্সে বার্তা পোস্ট করেন শেহবাজ শরিফ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

আবার ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরায়

আলোকিত ডেস্ক:

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়।

মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি।

ভূমিকম্পে সাতক্ষীরায় মানুষ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন বলে জানা গেছে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া অনেকে আতঙ্কিত হয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। এ ছাড়া খুলনা, কুষ্টিয়া, পিরোজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বগুড়া থেকেও ভূমিকম্প টের পাওয়া গেছে।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ২৬ দিনে দেশে অন্তত আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজকের আগে বুধবার রাতে মিয়ানমারে সৃষ্ট ৫.১ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে।

১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন দিয়ে শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রা এবং মিয়ানমারে ৫.৯ ও ৫.২ মাত্রার দুটি কম্পন ছিল। এরপর ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরও দুবার এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

‘স্বপ্নের দেশ’ ছেড়ে পালাচ্ছেন খোদ আমেরিকানরাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আমেরিকা কি অভিবাসীদের দেশ থেকে এখন প্রবাসীদের দেশে পরিণত হচ্ছে? ২৫০ বছরে পদার্পণ করা দেশটির সমসাময়িক চিত্র অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, যত মানুষ দেশটিতে প্রবেশ করেছেন, তার চেয়ে বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার পর এমন চিত্র আর দেখা যায়নি। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই গণপ্রস্থান বা নেগেটিভ নেট মাইগ্রেশনকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির সাফল্য হিসেবে দেখলেও মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে ভিন্ন কথা। কেবল অবৈধ অভিবাসীরাই নন, রেকর্ডসংখ্যক মার্কিন নাগরিকও এখন উন্নত জীবন, সাশ্রয়ী ব্যয় এবং নিরাপত্তার খোঁজে পাড়ি জমাচ্ছেন ভিনদেশে।‘স্বপ্নের দেশ’ ছেড়ে পালাচ্ছেন খোদ মার্কিনিরাই

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য এখন ‘আমেরিকান ড্রিম’ বা আমেরিকান স্বপ্ন মানেই হলো দেশটিতে আর বাস না করা। লিসবনের অলিগলি থেকে শুরু করে ডাবলিনের ট্রেন্ডি জেলাগুলোতে এখন পর্তুগিজ বা আইরিশ ভাষার চেয়ে আমেরিকান ইংরেজিই বেশি শোনা যাচ্ছে। ছাত্র, ফ্রিল্যান্সার থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ; সবাই এখন বিদেশের মাটিতে ভাগ্য খুঁজছেন।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ হারিয়েছে। ২০২৬ সালে এই বহির্গমন আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেখানে ২০২৩ সালে দেশটিতে প্রবেশের সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬-২৭ লাখে।

সাক্ষাৎকারে অনেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, বন্দুক হামলাসহ সহিংস অপরাধ এবং অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তাঁদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে।

১ লাখেরও বেশি মার্কিন শিক্ষার্থী এখন সস্তায় ডিগ্রির জন্য বিদেশে পড়ছেন। মেক্সিকোর সীমান্তে মাশরুমের মতো গজিয়ে ওঠা নার্সিং হোমগুলোতে ঠাঁই নিচ্ছেন মার্কিন বৃদ্ধরা, কারণ সেখানে সেবার খরচ অনেক কম। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে লিসবনে পাড়ি জমানো মাইকেল লে ব্ল্যাংক বলেন, আমার ৮ বছরের ছেলের স্কুলে দুইবার বন্দুক হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নিই আর এখানে নয়। ইউরোপে জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত।

ইউরোপের ২৭টি দেশের প্রায় প্রতিটিতেই আমেরিকানদের বসবাসের হার রেকর্ড ছাড়িয়েছে। পর্তুগালে আমেরিকানদের সংখ্যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে ৫০০ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর জার্মানি এবং আয়ারল্যান্ডে যত জার্মান বা আইরিশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরেছেন, তার চেয়ে বেশি আমেরিকান ওই দেশগুলোতে গিয়ে স্থায়ী হয়েছেন।

বিদেশে আয় করা অর্থের ওপর কর ছাড়ের সুবিধা থাকায় অনেক মার্কিন নাগরিক এখন আলবেনিয়ার মতো দেশেও ভিড় করছেন। এমনকি মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনের সংখ্যাও ২০২৪ সালে ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

আমেরিকানদের বিদেশে পাঠাতে এখন কাজ করছে বিশেষায়িত অনেক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে  ব্ল্যাক্সিট গ্লোবাল এবং নারীদের জন্য শি হিট রিফ্রেশ বেশ জনপ্রিয়। গ্যালপ-এর জরিপে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মার্কিন নারীদের ৪০ শতাংশই সুযোগ পেলে স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যেতে চান।

একসময় আমেরিকানরা মনে করতেন তাদের দেশই বিশ্বের সেরা। কিন্তু এখন টেম্পল ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্যাটলিন জয়েস বলছেন, আমেরিকানরা বিদেশে গিয়ে দেখছেন সেখানকার জীবন অনেক ভালো। তারা ইউরোপের সামাজিক গণতান্ত্রিক নীতিগুলো পছন্দ করছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

ফ্যাসিষ্ট দোসর প্রমাণ হওয়ায়, মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমির পদক স্থগিত

বিশেষ প্রতিবেদক: গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুরস্কার ঘোষণার পর সমালোচনার মুখে সেটি স্থগিতও করা হয়। পরে পুরস্কারের তালিকা থেকে তিনজনের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে পুরস্কার ঘোষণা করতে বাধ্য হয় বাংলা একাডেমি।

এবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৫ সালের জন্য নয়টি ক্যাটাগরিতে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নামের তালিকা ঘোষণা করা হয় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি)। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এ বছর কবিতায় পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল কবি মোহন রায়হানের। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তার এ পুরস্কার নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মোহন রায়হানকে পুরস্কারের জন্য বাছাই করায় আপত্তি জানিয়েছেন প্রগতিশীল ও জাতীয়তাবাদী ধারার ২৭ জন কবি ও লেখক। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়ে মোহন রায়হানের পুরস্কারের প্রত্যাহারের দাবি জানান। বিবৃতিদাতাদের অভিযোগ যা নিয়ে বিবৃতিদাতাদের অভিযোগ, মোহন রায়হান ফ্যাসিবাদের দোসর, কবিতা ব্যবসায়ী এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘কর্নেল তাহেরের খুনি’ আখ্যাদানকারী। বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিপক্ষে অবস্থানকারী অসংখ্য দেশপ্রেমিক ও জ্যেষ্ঠ কবি-সাহিত্যিকদের বাদ দিয়ে বর্তমান সময়ে তাকে এই পদক দেওয়ার মাধ্যমে ঠিক কী রাজনৈতিক অর্জন হবে, তা আমাদের জানা নেই। আমাদের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এবং বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাখার চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি চিহ্নিত ‘আওয়ামী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সিন্ডিকেট’ সুকৌশলে এই ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপি ও তারেক রহমানকে জনগণের কাছে দ্রুত অজনপ্রিয় করে তোলা এবং দলটির রাজনৈতিক পতন ত্বরান্বিত করা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্টের পর এই চিহ্নিত আওয়ামী সিন্ডিকেট ফ্যাসিবাদী ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’-এর ব্যানারে নানা সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে পুনরায় মাঠে নেমেছে। মূলত একটি দেশবিরোধী চিহ্নিত সাংস্কৃতিক চক্র রাষ্ট্রীয় নানা সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার অবৈধ চেষ্টায় নানা ছলচাতুরীর মাধ্যমে তাদের এই হীন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা দীর্ঘদিনের নির্যাতিত ও বঞ্চিত লেখকদের পাশ কাটিয়ে সুকৌশলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। অথচ এদের বেশিরভাগই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর; যাদের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তিকারী এবং ইতিহাস বিকৃতিকারী ‘ইনডেমনিটি’ নাটকের কুশীলব শ্যামল জাকারিয়াসহ অন্যরা রয়েছেন।

২৭ কবি-সাহিত্যিকের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হলেও এতে স্বাক্ষর করেছেন ২২ জন। তারা হলেন—একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু সালেহ, কবি মাহবুব হাসান, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, কবি শাহীন রেজা, কবি শামসুদ্দিন হারুন, কবি ফেরদৌস সালাম, ছড়াকার আতিক হেলাল, কথাসাহিত্যিক ইউসুফ শরীফ, কবি কামার ফরিদ, কবি তরঙ্গ আনোয়ার, কবি আইয়ুব সৈয়দ, কবি খান মোহাম্মদ খালেদ, ছড়াকার সালাম ফারুক, কবি শহীদ আজাদ, ছড়াকার জুলফিকার শাহাদাত, কবি আবু জুবায়ের, কবি শান্তা মারিয়া, কবি শাহিন রিজভি, কবি সৈয়দ রনো, ছড়াকার আমিনুল ইসলাম মামুন, কবি শামীমা চৌধুরী ও কবি ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ার।

বিবৃতি স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে একজন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবি শামসুদ্দিন হারুন। আলোকিত প্রতিদিনকে তিনি বলেন, অবিলম্বে পুরস্কারের তালিকা থেকে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার করে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও যোগ্য কবিকে এই সম্মাননা প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিদাতাদের মধ্যে অন্যতম জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সভাপতি কবি শাহীন রেজা এ বিষয়ে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘যাকে আমি খুনি বলে বিশ্বাস করি; তার ছেলের কাছ থেকে পদক নিতে আদর্শ কেন বাধা হয়ে দাঁড়ায় না?’

কবি ও সম্পাদক সৈয়দ রনো বলেছেন- বিবৃতিদাতাদের তালিকায়। তিনি বলেন, মোহন রায়হানের মতো ফ্যাসিস্টকে পুরস্কার প্রদানের নিন্দা জানিয়ে তিনি এবারের বইমেলা বয়কট করেছেন। মোহন রায়হানের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, প্রিয়জন প্রকাশনী আয়োজিত শহীদ জিয়াউর রহমান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে মোহন রায়হানকে দাওয়াত করা হলে মোহন রায়হান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কর্নেল তাহেরের খুনি স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের অনুষ্ঠানে তিনি যাবেন না। ন্যূনতম নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব বা আদর্শ থাকলে জিয়াপুত্রের হাত থেকে তিনি কীভাবে পুরস্কার নেন।

জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কী লিখেছেন মোহন রায়হান বিবৃতি দেওয়া কবি-সাহিত্যিকরা বলছেন, মোহন রায়হান ‘তাহেরের স্বপ্ন’ শিরোনামের একটি কবিতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত ‘আর হলোনা বাড়ি ফেরা’ শীর্ষক মোহন রায়হানের চতুর্থ কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা ওই কবিতাটি। পাঠকের সুবিধার্থে পুরো কবিতাটি এখানে তুলে দেওয়া হলো—

যিনি আবু তাহের কর্নেল
যিনি ফাঁসিমঞ্চে হাসলেন
তিনি এখন লজ্জায়
কালো হন, প্রতিদিন আমার স্বপ্নের মধ্যে।
গতকাল ভোররাতে আমাকে সে
নিয়ে গেল দেশের একটি সেনাবাসে
ইশারায় খুব আস্তে আস্তে তাঁর ক্র্যাচে
হেঁটে হেঁটে সারি সারি জোয়ানের
কবরের পাশে দাঁড়ালেন।
অনেকের গলায় ফাঁসির চিহ্ন
কারো বুক গুলিবিদ্ধ, কারো দেহ থেঁতলানো,
তারা প্রত্যেকেই হঠাৎ জেগে উঠল
অভিবাদন জানাল পেশাগত কায়দায়;
তাহের তাদের প্রত্যেকের সাথে করমর্দন ক’রে,
আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন, আমি বিপুল উৎসাহে
আনন্দে তাদের প্রতি হাত এগিয়ে দিলাম
কিন্তু তারা প্রত্যেকে আমাকে প্রত্যাখ্যান ক’রল;
ঘৃণায় তাদের চোখ মুখ ভুরু নাক কুঞ্চিত হল।
অপমানে আমি চিৎকার ক’রতে গেলে
তাহের আমার মুখ চেপে ধরলেন;
সরে আসলেন আমাকে নিয়ে।
হাঁটতে হাঁটতে ভোরের রুপালি হাওয়ায়
বুক ভরে নিয়ে আমরা এলাম শেরেবাংলা নগর,
বিরাট চত্বর পেরিয়ে মূল্যবান পাথরে
নির্মিত কবরটির কাছে আসতেই লাফ দিয়ে দাঁড়ালেন
একজন জেনারেল, থরথর কাঁপন শুরু হল তার
হাতজোড় করে ক্ষমাভিক্ষা করলেন;
মুদু হেসে তাহের তখন তার কাঁধ স্পর্শ করলেন
বিনীত বন্ধুর মতো, নতজানু জেনারেল
তাহেরের প্রতি হস্ত প্রসারণ করলেন;
কিন্তু তাহের ভ্রুক্ষেপ করলেন না বরঞ্চ কঠিন
শক্ত হল তাঁর চোয়াল, ঘৃণায় উপচে পড়ল চোখ।
সেখান থেকে লাল-সালু-ঘেরা এক মঞ্চে
নিয়ে এলেন আমাকে তিনি; ‘তাহের, তোমায় লাল সালাম’
হাজার জনতার ভিড়ে; তাহের তোমায় লাল সালাম
স্লোগানে ফেটে গেল আকাশ-বাতাস,
কয়েকজন ধবধবে পা’জামা-পাঞ্জাবি পরিহিত
থলথলে গাল নেতা এগিয়ে এলেন তাঁর দিকে; একজন
তাঁর চোখের চশমা খুললেন, একজন তাঁর ভরাট কণ্ঠের
গম্ভীর আওয়াজ জনতার কণ্ঠে মিলিয়ে দিলেন।
কিন্তু তাহের তাদের প্রত্যেককে পাশ কাটিয়ে
ধীরপায়ে তাঁর কাঠের ক্র্যাচ ঠুকে ঠুকে
মাইকের সামনে এগিয়ে গেলেন,
বিশাল জনসমুদ্র মুহূর্তে নীরব হ’য়ে গেল।
তাহের শুধু কান্নায় ভেঙে প’ড়ে বললেন :
স্বাধীনতাযুদ্ধে আমার একটি পা শুধু উড়ে গেছে
কিন্তু আমি খোঁড়া নই
অথচ তোমরা পা থাকতেও পঙ্গু।

সাহিত্য সমালোচকরা যা বলছেন-

কবিতাটি নিয়ে কবি ও প্রাবন্ধিক বকুল আশরফের মতে, এ কবিতায় রূপকভাবে জিয়াউর রহমানকে কর্নেল তাহেরের খুনি ও কবরে শোয়া ‘সারি সারি জোয়ান’-এর গণহত্যাকারী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছেন মোহন রায়হান। এশিয়া পোস্টকে বকুল আশরাফ বলেন, ‘কবিতাটিতে দেখানো হয়েছে মোহন রায়হান স্বপ্নে কর্নেল তাহেরকে দেখেন। তাহের তাকে নিয়ে যান সেনাবাহিনীর কবরস্থানে, যেখানে নিহত সৈনিকদের কবর। পরে তারা শেরেবাংলা নগরে যান, যেখানে কবরে শায়িত এক জেনারেল ক্ষমা চান। আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন থেকে আমরা দেখে আসছি, তিনি (মোহন রায়হান) ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমানকে স্বৈরশাসক, হত্যাকারী ইত্যাদি বলে বিষোদ্গার করতেন। জিয়াউর রহমানকে ভিলেন বানানো আর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে নিন্দা-মন্দ করাই ছিল তাদের তৎকালীন জাসদের রাজনীতি।’

বকুল আশরাফ আরও বলেন, কবিতার বিশেষ প্যারায় উল্লেখ আছে, ‘‘হাঁটতে হাঁটতে ভোরের রুপালি হাওয়ায় বুক ভরে নিয়ে আমরা এলাম শেরেবাংলা নগর,/ বিরাট চত্বর পেরিয়ে মূল্যবান পাথরে নির্মিত কবরটির কাছে আসতেই লাফ দিয়ে দাঁড়ালেন একজন জেনারেল,/ থরথর কাঁপন শুরু হল তার হাতজোড় করে ক্ষমাভিক্ষা করলেন; মৃদু হেসে তাহের তখন তার কাঁধ স্পর্শ করলেন/ বিনীত বন্ধুর মতো, নতজানু জেনারেল তাহেরের প্রতি হস্ত প্রসারণ করলেন;/ কিন্তু তাহের ভ্রুক্ষেপ করলেন না বরঞ্চ কঠিন শক্ত হল তাঁর চোয়াল, ঘৃণায় উপচে পড়ল চোখ ।’’ জিয়াউর রহমানকে তাহেরের ‘প্রতিপক্ষ’ ও রূপক অর্থে ‘হত্যাকারী’ হিসেবে দেখিয়ে তার প্রতি ‘উপচে পড়া ঘৃণা’ দেখিয়েছেন মোহন রায়হান।

মোহন রায়হানের আলোচিত কবিতা নিয়ে বকুল আশরাফের ব্যাখ্যা সমর্থন করে বিশিষ্ট কবি ও মুক্তিযোদ্ধা ড. মাহবুব হাসান বলেন, এটা স্পষ্ট মোহন রায়হানের কবিতাটি একটি উদ্দেশ্যমূলক রচনা। কবিতাটিতে দেখানো হয়েছে জিয়াউর রহমান কবর থেকে উঠে কর্নেল তাহেরকে স্যালুট করছেন। এটা হয় কীভাবে। জিয়া তো তার সিনিয়র ছিলেন। আর কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দিয়েছে তৎকালীন সামরিক আদালত। এখানে জিয়াকে জড়ানোটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণীয় বলে মনে করেন তিনি।

মোহন রায়হান যা বলছেন: মোহন রায়হানের পুরস্কার পাওয়া নিয়ে বিরোধিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, যারা আমাকে নিয়ে কথা বলছে তারা বহু লোককে দিয়ে তদবির করেও পুরস্কার পায়নি। তাই খেপে গেছে। তারা এরশাদের দালাল ছিল। সব জায়গায় যখন যে সরকার আছে, তার সুবিধা নিয়েছে। আমাকে দেখান, আমি কারও সুবিধা নিয়েছি কি না। আমার কোনো ক্ষমতার মোহ নেই, কোনো পুরস্কারের মোহ নেই। এই পুরস্কারের জন্য আমার কোনো প্রত্যাশাও নেই। পুরস্কার না নিলে আমার কী আসে যায়?

জিয়াউর রহমানকে কটূক্তি করে কবিতা লেখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু-মিত্র বলে কিছু থাকে না। হ্যাঁ—আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে অটুট থাকা যায়। কিন্তু আন্দোলনের কৌশল হিসেবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়। আমি তো তখন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে, তাহেরকে নিয়ে কবিতা লিখেছি। স্বাভাবিকভাবে জিয়াউর রহমান এসেছে। আমি যখন জাসদের (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি—হাসানুল হক ইনু যখন শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐক্য করল তখন আমরা একটি গ্রুপ নিয়ে চলে আসি।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন যেটা সঠিক মনে করেছি, সেটার প্রতিবাদ করেছি। আমি কখনোই দলদাস ছিলাম না। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আমি অংশ নিয়েছি। রাজপথে ছিলাম। সেসবের প্রমাণও আছে। এরপর আমরা কবিতা পরিষদ পুনর্গঠন করেছি এবং বৈষম্যমুক্তির জন্য কবিতা-স্লোগান দিয়ে উৎসব করেছি।

বিতর্ক ওঠার পর পুরস্কার নিয়ে কী ভাবছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মোহন রায়হান বলেন, তারা (বিবৃতিদাতারা) যা বলছে, তা ভুল। তারা যদি বিএনপিকে কনভিন্স করে সেটাও ভুলভাবে কনভিন্স করবে। এতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি কোনো পুরস্কারের জন্য লালায়িত নই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহেদ তালুকদারের মাতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া, বিভিন্ন মহলের গভীর শোক ও সমবেদনা

এস. এম. জালাল উদদীন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: সিলেটের হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদ আহমদ তালুকদারের মাতা সুলতানা রাজিয়া বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে। মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “সুলতানা রাজিয়ার মৃত্যুতে আমরা একজন স্নেহময়ী, ধর্মপ্রাণ ও পরোপকারী নারীকে হারালাম। তিনি পরিবার ও সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ চর্চায় অনুকরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।” তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানান। এদিকে পৃথক শোকবার্তায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “সুলতানা রাজিয়ার ইন্তেকালে পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এ শোক বহনের শক্তি দান করেন।” এছাড়াও মরহুমার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা জুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি ও জুড়ী অনলাইন প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম জালাল উদদীন, জুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি তানজির আহমদ রাসেলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। মরহুমা সুলতানা রাজিয়া সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দানবীর মরহুম হাজী ইনজাদ আলী পরিবারের সদস্যা ছিলেন। তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শফিক উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী। জীবদ্দশায় তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং এলাকার মানুষের কাছে একজন পর্দানশীল, সদালাপী ও মানবিক নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় মসজিদ ও বিভিন্ন স্থানে তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা মরহুমার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে বাড়িতে ভিড় করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

 

শিবালয়ে শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক কাশাদহ খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

​সৈয়দ এনামুল হুদা : ​মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর আওতাধীন বোরো সেচ প্রকল্পের খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস.এ. জিন্নাহ কবির।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস.এ. জিন্নাহ কবির বলেন, “এই কাশাদহ খাল বাংলাদেশের কৃষি ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচির শুভ সূচনা করেছিলেন এই কাশাদহ খালের মাধ্যমেই। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কালের বিবর্তনে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক প্রকল্প অবহেলার শিকার হয়েছে। বোরো আবাদ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরণের সেচ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি।”

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন -শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার, উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, পিআইও তাহমিনা আক্তার চৌধুরী, মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মুস্তাক হোসেন দীপু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: আওরঙ্গজেব সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের পশ্চিম পয়েন্টে আরিচা ঘাটের দক্ষিণে ছোট আনুলিয়া গ্রাম সংলগ্ন যমুনা নদীতে এ বছর বিশাল চর জেগে উঠেছে। ফলে যমুনা নদী থেকে সেচ প্রকল্পের জন্য পানি উত্তোলনে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট নিরসনেই জরুরি ভিত্তিতে পলি অপসারণ ও খাল খনন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

​কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মো: শফিউদ্দিন খান জানান, এই প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে প্রায় আড়াই হাজার একর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যমুনার উৎস মুখে চর জেগে ওঠায় সময়মতো সেচ দেওয়া নিয়ে কৃষকদের মাঝে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, যমুনার মূল প্রবাহ সচল না থাকলে পুরো মৌসুমে পানি সেচ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ​

ঐতিহাসিক এই সেচ প্রকল্পটি পুনরায় সচল হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই কাশাদহ খাল খননের মাধ্যমেই সারা দেশে বিখ্যাত ‘খাল খনন কর্মসূচি’র শুভ সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সংকট নিরসনে আজ আবারও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দু*র্বৃত্তের ছু*রিকাঘাতে ছাত্রী হ*ত্যার ঘটনায় ঘা*তক গ্রে*ফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাজারীবাগে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪) হত্যার ঘটনায় ঘাতক সিয়াম ওরফে ইমন (১৯) কে গ্রেফতার করেছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকায় কলাবাগান থানাধীন কাঁঠাল বাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার হেফাজত হতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকু, ঘটনার সময় গ্রেফতারকৃতের পরিহিত ভিকটিমের রক্ত মাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
হাজারীবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হাজারীবাগ থানাধীন রায়ের বাজার হাই স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে রাত আনুমানিক ৯:৩০ টায় গ্রেফতারকৃত সিয়াম ওরফে ইমন হাজারীবাগ থানাধীন চরকঘাটা এর সম্মুখস্থ পাকা রাস্তায় ধারালো ছুরি ভিকটিমকে গুরুতর আঘাত করে। তখন স্থানীয় জনগণের সহায়তায় রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রথমে সিকদার মেডিকেল হাসাপাতালে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১০ টায় ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মোঃ বিল্লাল হোসেনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
থানা সূত্রে আরও জানা যায়, মামলা রুজুর পর হাজারীবাগ থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতারকৃত সিয়াম ওরফে ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০ টায় কলাবাগান থানাধীন কাঁঠাল বাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি ও গ্রেফতারকৃত সিয়াম ওরফে ইমন একই স্কুলে পড়তো। এ সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বর্তমানে ভিকটিম গ্রেফতারকৃতের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রাখতে অপারগতা প্রকাশ করলে উক্ত হত্যার ঘটনাটি সংঘটিত হয়। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান
উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান পিপিএম।
আলোকিত প্রতিদিন/২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মৃতি বিজড়িত কাশাদাহ সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি জিন্নাহ কবির

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ছোট আনুলিয়ায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতি বিজড়িত কাশাদাহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আওতাধীন সেচ প্রকল্পের ইরি-বোরো মৌসুমের কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার  দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির আনুষ্ঠানিকভাবে পাম্প চালু করে সেচ কার্যক্রমের সূচনা করেন। সমিতির সভাপতি মো. শফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রানী কর্মকার, সহকারী ভূমি কমিশনার জান্নাতুল নাঈম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক আহমেদ দিপুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমবায় নেতৃবৃন্দ, কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি এস এ জিন্নাহ কবির কৃষি উন্নয়নে আধুনিক সেচ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সময়োপযোগী সেচ ব্যবস্থা অপরিহার্য। ইরি-বোরো মৌসুমে সময়মতো পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা অধিক ফলন পাবেন এবং সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, সমবায়ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা কৃষকদের মধ্যে ঐক্য, সমন্বয় ও অংশীদারিত্ব বাড়ায়। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্প ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিবালয়ের ছোট আনুলিয়ায় কাশাদাহ খাল খনন করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচি কাশাদাহ এলাকা থেকে উদ্বোধনের আহ্বান জানান তিনি।
সমবায় সমিতি সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। যমুনা নদী থেকে পানি উত্তোলনের মাধ্যমে জমিতে সেচ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ফলন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, সেচ প্রকল্প চালু হওয়ায় তাদের চাষাবাদ কার্যক্রম আরও সহজ ও ফলপ্রসূ হবে। সময়মতো পানি নিশ্চিত হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

ঘুষের টাকাসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ আটক ২

 প্রতিনিধি,ফেনী :

এক লাখ টাকা ঘুষসহ ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আল-সাঈদকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময়ে তার সহযোগী হিসেবে কার্যসহকারী আবু নাসেরকেও আটক করা হয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বিশেষ ফাঁদ পেতে তাকে আটক করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্পের কাজ সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে সম্পন্ন করেন। কাজ শেষে বিল দাখিল করলে পিআইও আল-সাঈদ বিল ছাড় করার বিনিময়ে তার কাছে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে অভিযোগকারী ঘুষ দিতে সম্মত হন এবং বিষয়টি গোপনে দুদক নোয়াখালী জেলা কার্যালয়কে অবহিত করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কমিশন একটি ‘ট্র্যাপ টিম’ বা ফাঁদ মামলা পরিচালনার অনুমোদন দেওয়ার পর আজ বিকেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুষের প্রথম কিস্তির ১ লাখ টাকা গ্রহণ করার সময় বিশেষ টিম আল-সাঈদ ও আবু নাসেরকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

আটক করা দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলছে দুদক।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম