আজ রবিবার, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 111

ইরানে হামলাকে অ*বৈধ ও নতুন লিডারকে ‘ইরানিদের পছন্দ: উ. কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানে দখলদার ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি বলেছে তেহরানের ওপর এ হামলা অবৈধ। এছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচন করাকে ‘ইরানিদের পছন্দ’ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটি।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আজ বুধবার বলেছেন, তারা ইরানে হামলার কঠোর নিন্দা জানান। ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেছেন, “ইরানে অবৈধ হামলা চালিয়ে বিশ্বব্যাপী তারা স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।”

অন্য কোন দেশের সরকারকে হেনস্তা করতে হুমকি এবং হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করেছে দেশটি।উত্তর কোরিয়া আরও বলেছে, ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট নতুন যে সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করেছে তাকে তারা শ্রদ্ধা জানান এবং এই নির্বাচনে ইরানিদের চাওয়া ফুটে উঠেছে।

সূত্র: সিএনএন

আলোকিত প্রতিদিন / ১১মার্চ ২০২৬ /মওম

জাতীয় সংসদ অধিবেশন ঘিরে রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নি*ষিদ্ধ করলো ডিএমপি

আলোকিত প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষ্যে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভসহ নানা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

১১ মার্চ বুধবার দুপুরে জারি করা এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। আদেশে বলা হয়, আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। বুধবার রাত ১২টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং সংসদের অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে- মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত ময়মনসিংহ রোড, বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত এলাকা, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোড সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত সড়ক, মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণি থেকে পুরাতন উড়োজাহাজ ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং এবং ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এলাকা।

ডিএমপি জানিয়েছে, সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১মার্চ ২০২৬ /মওম

সরাইলে ৯ বছর যাবত, একই কর্মস্থলে থেকে দুর্নীতি*র ইতিহাস করেছেন কায়সার আলম

শওকত আলী, ক্রাইম রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কর্মরত উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাইসার আলম এর বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির কোটি টাকার মালিক খেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছেন। এছাড়াও চাকুরি বিধি অনুযায়ী ৩ বছর পর পর বদলীর নিয়ম থাকলেও একই কর্মস্থলে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে চাকুরি করছেন কাইসার আলম। জনমনে প্রশ্ন একই কর্মস্থলে থাকার নেপথ্যে রহস্য কি ?

তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ২ যুগ পূর্বে এম এল এস পদে যোগ দিয়ে ছিলেন আশুগঞ্জ উপজেলার আন্দিদিল গ্রামের এক কৃষকের ছেলে কাইসার আলম,, গত ২০১৭ সালে যোগদান করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে,,গত ২০২৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী থেকে হয়েছেন ১৫ গ্রেডের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। কিন্তু বদল হয়নি একই কর্মস্থল,,একই কার্যালয়ে দুই-চার বছর নয় দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একই কর্মস্থলে বহাল আছেন তিনি।

দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ একাধারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে চাকরির সুবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের মধ্যপাড়াস্থ অভিজাত এলাকায় নিজের নামে এবং স্ত্রীর নামে ক্রয় করেছেন আলিশান ফ্ল্যাট, নামিদামি আসবাবপত্র, চোখ ধাঁধানো পাথরের কারুকাজ; কী নেই সেখানে! দীর্ঘ ২৮ বছরের চাকরির জীবনে এই ‘সোনার হরিণ’ পেয়ে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে,, বিপুল সম্পদ তিনি অর্জন করেন,জলমহাল ইজারা, হাটবাজার ইজারা এবং ১% তহবিলে অর্থ ছাড় করণসহ নানান দাপ্তরিক নথি অনুমোদন করার ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে।

অভিযোগ রয়েছে, কাইসার আলম প্রতি মাসে ৩৩ হাজার টাকার বেতন পেয়েও তাঁর পরিবারে প্রতি মাসে খরচ প্রায় লক্ষাধিক টাকা,, এক মেয়েকে পড়াশুনা করাচ্ছেন রাজধানীর ১ম শ্রেণির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ও এক ছেলের পিছনে খরচ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতন,,সম্প্রতি সরাইল উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুরের মাছ রাতের আধাঁরে বিক্রি করার মূল তিন কারিগরের মধ্যে তিনি ও একজন,,সরাইলবাসী চায় তার অজ্ঞাত আয় বহির্ভুত আয় ও দুর্নীতির তদন্ত হোক দুদকের মাধ্যমে।

সরাইলের স্থানীয় সাধারণ জনগণ এর একজন নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক,বলেন, তিনি একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি হয়ে একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ৯ বছর থাকার নেপথ্যে রহস্য কারন কি,যা দুদক কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে অজানা বহু তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের অনেকেই,,তাই তার বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত প্রয়োজন জরুরী হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই ।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাইসার আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ,, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আপনার দুটি ফ্ল্যাট আছে বলতেই তিনি বলেন, আমার সাথে যারা চাকরি করে তারা ২/৩ টা বাড়ি গাড়ি হয়েছে, আমি শুধু একটা ফ্ল্যাটের মালিক,, আমি ও আমার স্ত্রী চাকরি করে মাসে লাখ টাকা ইনকাম করি,,আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে।

সূত্রে আরো জানা যায়, সরাইলের ৪১ টা ইট ভাটার ম্যানেজার ও মালিকের বরাত দিয়ে জানা যায়। প্রত্যেক রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে যেমন স্বাধীনতা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৬ই ডিসেম্বর ও আরো অনেক রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামের নাম দিয়ে এই ইট ভাটা গুলো থেকে কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার টাকা করে চাদা কালেকশন করে আসছে বিগত ৯ বছর যাবৎ।

যেখানে এসব প্রোগ্রামে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ থাকে তারপরও সে এই টাকা গুলো কালেকশন করে থাকেন। তার এত দুর্নীতির পরও কেন সে একই জায়গায় বহাল আছেন ৯ বছর তার পিছনে শক্তি কি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বিয়ের পর প্রথমবার দম্প*ত্য জীবন নিয়ে মুখ খুললেন জেফার!

বিনোদন ডেস্ক: ঠিক ৫৪ দিন আগে ভালোবেসে উপস্থাপক রাফসান সাবাবের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন সংগীতশিল্পী জেফার রহমান। খানিক উড়নচণ্ডী স্বভাবের এই তারকা যেন বিয়ের পর অনেকটাই বদলে গেছেন তিনি, জীবনে এসেছে নতুন পরিবর্তন। বিয়ে, দাম্পত্য জীবন নিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কেউই কথা বলেননি। নতুন অধ্যায় ও কাজের নানা দিক নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন গায়িকা-অভিনেত্রী।

শুরুতেই জানতে চাই, জীবনের নতুন অধ্যায় অর্থাৎ দাম্পত্য জীবন কেমন কাটছে?

আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ। আমার নতুন এই অধ্যায়টা খুব উপভোগ করছি আমরা। কাজের প্রতি আমি অনেকটাই নিবেদিত এবং মনোযোগী। তাই আমার জন্য একজন সাপোর্টিভ ও বোঝাপড়াসম্পন্ন সঙ্গী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার সঙ্গী সেই বিষয়টাকে সম্মান করেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাকে ভীষণভাবে সাপোর্ট করেন সে।

হঠাৎ করেই বিয়ের খবর সামনে এলো—সিদ্ধান্তটা কি হুট করেই নেওয়া?

বলা যায়। নিশ্চিতভাবেই এটা আমাদের জীবনের একটা বিশাল পদক্ষেপ। আমরা সত্যিই খুবই ভাগ্যবান যে আমাদের কাছের মানুষজন পরিবার ও বন্ধুরা—আমাদের এই নতুন যাত্রাকে তাদের আশীর্বাদ ও ভালোবাসা দিয়ে উদযাপন করেছেন তারা।

আমরা চেয়েছিলাম শুধু নিজেদের কাছের মানুষ গুলোকে নিয়ে ছোট করে এই মুহূর্তটা উদযাপন করব এবং সেটাই করেছি। বিয়ের প্রতিটি আয়োজন আমাদের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ সত্যিই আমরা প্রতিটি অনুষ্ঠানে দারুণ সময় কাটিয়েছি। আমাদের বন্ধু ও পরিবারের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

বিয়ের পর নিজের জীবনে কতটা পরিবর্তন এসেছে?

অনেকটা—মানে অনেকটাই। আগে এক রকম ছিলাম, একা একা কাজ করতাম। এখন আমার একজন সঙ্গী আছেন, যিনি আমার জীবনের পার্টনার এবং একই সঙ্গে কাজেরও। জীবনটা এখন আমার কাছে অনেক সহজ লাগছে। দুজন দুজনের প্রতি সাপোর্টিভ, একে অপরের পার্থক্যগুলোকে সম্মান করি এবং বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে, ভ্রমণ করতে এবং সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে আমরা ভালোবাসি।

কাজের প্রসঙ্গে আসি। গান-অভিনয়ের খবর কী?

গত বছর আমার বেশ কয়েকটি প্লে-ব্যাক হয়েছে—যেমন ‘তাণ্ডব’, ‘দাগী’ এবং ‘ইনসাফ’ সিনেমায়। সবগুলোই ঈদে মুক্তি পেয়েছে। যেহেতু আমি নিয়মিত প্লে-ব্যাক করি না, তারপরও গত বছর বেশ কয়েকটি কাজ হয়েছে। এরপর থেকে নিজের জন্য কিছু সলো কাজ করার পরিকল্পনা করেছি, যেটা এখনো চলমান। মিউজিকের বাইরে স্টেজ শো, বিভিন্ন এন্ডোর্সমেন্ট তো আছেই। এরপর একটা ছোট্ট বিরতি নিয়েছিলাম, কারণ আমার জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে।

সব শেষ জানতে চাই, নতুন অধ্যায়ের পর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন—দুটো কিভাবে ব্যালেন্স করছেন?

দুটো বিষয়ই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ব্যালেন্সটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত জীবন যদি ভালো না যায় তাহলে সেটার প্রভাব কাজে পড়বে, আবার কাজ ভালো না হলে সেটারও প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে পড়বে। তাই ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করছি। আমার পরিবার খুব সাপোর্টিভ এবং আমার স্বামীও অনেক বেশি সাপোর্টিভ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

যুদ্ধের আ*ঘাতে অস্থির বিশ্ব. আশঙ্কায় বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে নয়া সরকার!

আলমগীর মতিন চৌধুরী: বিশ্বের বড় ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধের আঘাতের ধাক্কা লাগে কাছে কিংবা দূর দেশের জ্বালানী তেলের বাজার, স্থল-সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, প্রবাসী শ্রমবাজার ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা মাধ্যম অর্থনীতিতে। সম্প্রতি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অন্যতম বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। ফলে বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

যদিও যুদ্ধক্ষেত্র বাংলাদেশ থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে, তবুও এই যুদ্ধ বাংলাদেশের ওপর বড় আকারে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিসেবে বাংলাদেশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখে আসছে। এই যুদ্ধ থেকে তৈরি হওয়া সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখাদিতে পারে।

এর মধ্যে আছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রবাহে বিঘ্ন, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়া, প্রবাসী শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়া। যুদ্ধের প্রভাব কতটা হবে তা নির্ভর করবে যুদ্ধের তীব্রতা এবং কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। মূল প্রশ্ন শুধু ধাক্কার মাত্রা কত বড় তা নয়; বরং এটি কতদিন স্থায়ী হয় সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ যত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে, ক্ষতির পরিমাণ তত বেশি হবে। তাতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তেকেই যায়।

জ্বালানিতে ধাক্কার আশঙ্কা- ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও সম্ভাব্য বড় প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। গতকাল পর্যন্ত তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৯ ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে এক বছর আগে এটি ছিল প্রায় ৭২ ডলার। ভৌগলিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে নতুন করে পণ্য পরিবহনের বুকিং সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এর পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।

কারণ কাঁচা তেল থেকে শুরু করে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)—প্রায় সব ধরনের জ্বালানিই আমদানি করে বাংলাদেশ। তাই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে দেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। এদিকে আতঙ্কে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পে ইতোমধ্যে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পরিস্থিতির প্রভাব কমাতে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং জ্বালানি রেশনিং চালু করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং শিল্প উৎপাদনের খরচও বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় সরকারকে হয়তো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হবে। যেমন বাড়তি ভর্তুকি দিয়ে খরচ নিজে বহন করবে, নাকি জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে, সেই সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে হবে। এই দুই সিদ্ধান্তেরই অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। ভর্তুকি বাড়ালে সরকারি অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে, আর দেশে জ্বালানির দাম বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।

মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা- জ্বালানি খাতের ধাক্কা সাধারণত কেবল জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করছে। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। ২০২৫ সালে এটি কিছুটা কমলেও সম্প্রতি আবার বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার নতুন চাপের পেছনে আছে উচ্চ খাদ্যমূল্য, টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। বৈশ্বিক তেলের দাম আরও বাড়লে এই চাপ আরও তীব্র হবে, কারণ এতে সরবরাহ ব্যবস্থার সবখানে পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ বাড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে কৃষিতে সেচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন সবকিছুর খরচ বাড়ে। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমতে পারে। এতে অর্থনীতি এমন এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারে—যেখানে একদিকে মূল্যস্ফীতি বেশি থাকবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি কয়েক মাস কিছুটা কম থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে সামগ্রিকভাবে ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রধান কারণ ছিল খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি।

বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বৃদ্ধি- বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের অন্যতম বড় খাত জ্বালানি আমদানি। তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। উচ্চ আমদানি ব্যয় ও মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ আগেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে পড়েছে। নতুন করে জ্বালানি খাতে ধাক্কা লাগলে চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে এবং জ্বালানি আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ডলারের চাহিদা বাড়লে বাংলাদেশি টাকার ওপর আবার অবমূল্যায়নের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে দেশের বাজারে আমদানি করা পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়বে।
প্রবাসী আয়ে ঝুঁকি বৃদ্ধি- বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্যে। ২০২৫ অর্থবছর থেকে প্রায় ৮৬ লাখ বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন, যার প্রায় অর্ধেকই সৌদি আরবে। বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউ-২০২৫ অনুযায়ী, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রবাসী কর্মী কাজ করেন। যদি সংঘাত তীব্র হয় তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি কিছুটা কমলেও বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। কারণ দেশের আমদানি ব্যয় পূরণের ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুদ্ধ বৈশ্বিক বাণিজ্য পথেও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় শিপিং কোম্পানিগুলো প্রায়ই বিমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি করে এবং সংঘাত এলাকা এড়াতে ভিন্ন পথে জাহাজ যাতায়াত করলে ভাড়া বাড়বে। এতে রপ্তানি কেন্দ্রিক শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য উচ্চ লজিস্টিক খরচ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমাতে পারে। আমদানিকারকরাও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যন্ত্রপাতি এবং শিল্প উপকরণের জন্য বেশি খরচের মুখোমুখি হবে। এতে দেশের বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে। বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থা এখনও নাজুক। বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত আমদানি করা জ্বালানি এবং এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। যদি বৈশ্বিক গ্যাস বাজার সংকীর্ণ হয় বা এলএনজির দাম দ্রুত বাড়ে, তাহলে সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ কঠিন হয়ে যাবে। ফলে জ্বালানি ঘাটতি বা উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে। এতে শিল্প উৎপাদন, বিশেষ করে জ্বালানি-নির্ভর খাত, যেমন উৎপাদন ও টেক্সটাইল খাতে প্রভাব পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, প্রথম ঝুঁকি হলো জ্বালানি দাম বৃদ্ধি ও প্রাপ্যতা উভয়ই। বেশি দাম দিতে ইচ্ছুক থাকলেও সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প এবং সেবা খাত ঝুঁকির মুখে পড়ে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়লে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং আমাদের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। আমদানির পরিমাণ না বাড়লেও মোট খরচ বৃদ্ধি পাবে, অর্থাৎ একই পরিমাণ ডলার কিনতে আমাদের আরও বেশি টাকা খরচ করতে হবে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। মনে রাখা দরকার, ডলারের দাম বাড়লে বকেয়া পরিশোধ করা কঠিন হয়ে যায়, এবং পেমেন্টের দায় বাড়তে থাকে।

তৃতীয় মাধ্যম হলো বাণিজ্য ও আর্থিক প্রবাহ, বিশেষ করে লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি। ভাড়া, বন্দর খরচ এবং বিমার প্রিমিয়াম ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে, যা বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। পৃথকভাবে খরচগুলো ছোট মনে হলেও, সম্মিলিতভাবে বড় চাপ তৈরি করে। রেমিট্যান্স প্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যুদ্ধের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও বেতনের ঝুঁকি বাড়বে। পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেমে সম্ভাব্য প্রভাব অর্থ পাঠাতে কষ্ট সাধ্য হতে পারে। বৈদেশিক স্থিতি, আর্থিক খাত এবং জ্বালানি সরবরাহ সবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এদের সম্মিলিত প্রভাব শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও মজুরির ওপর প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশকে উদ্ভূত ঝুঁকি মোকাবিলার জরুরি প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করা নতুন সরকারের গুরুদায়িত্ব। ভাবতে হবে, ইতোমধ্যে যেসব বৈদেশিক অর্থ পাওয়ার পথে আছে তা কীভাবে ব্যবহার করা যায়, যেন রিজার্ভের ওপর চাপ সীমিত থাকে। এই তহবিল এসে রিজার্ভে কয়েক বিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে, যা বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ কমাতে সহায়তা করবে। জ্বালানি আমদানির খরচ হঠাৎ বেড়ে যায়, কেবল রিজার্ভ দিয়ে তা সামলানো খুব কঠিন হবে। ফলে জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব ও ব্যবস্থার বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সাথে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নূরুল হক টাওয়ার চশমা ব্যবসায়ী মার্কেট কমিটির ইফতার ও দোয়া মাহফিল

মাইনুল হাসান রুবেল:

১০ মার্চ ২০২৬ ইং, ২১ রমজান ১৪৪৭ হিজরী, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২, মঙ্গলবার পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর নূরুল হক টাওয়ার চশমা ব্যবসায়ী মার্কেট কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিসের পাশে অবস্থিত জনসন রোড শাখা স্টার হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

মো: কামরুজ্জামান সবুজ এর সভাপতিত্বে ও হাওলাদার অপটিক্সের সত্ত্বাধিকারী মো: দেলোয়ার হোসেনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায়, ছেলে নাজমুল হক স্বপন, শামসুল হক লিটন ও নাতি ইঞ্জামামুল হক ( মন্ত্রী ) মরহুম নুরুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা ও জান্নাতের উচ্চ স্থান কামনা করা হয়। সুন্দর সাজানো গোছানো পারিবারিক পরিবেশে আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্য সম্প্রীতির সাথে বৃহত্তর নূরুল হক টাওয়ার চশমা ব্যবসায়ী মার্কেটের এবং একই সাথে মার্কেট কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মো: শামসুল হক এর উপস্থিতিতে ছিলেন পূর্বের ও বর্তমান সহ কেন্দ্রীয় কমিটির উল্লেখযোগ্য নেতা-নেত্রীবৃন্দসহ হাওলাদার অপটিক্সের ওনার জনাব দেলওয়ার হাওলাদার, ওয়ার্ল্ড ভিশনের ওনার মিজানুর রহমান, রাসেল অপটিক্সের ওনার মো: কাইউম, A-Z অপটিকস ওনার জনাব খাজা আয়ান এবং সহকারী ইমতিয়াজ, শ্রাবন অপটিকস্ ওনার ও বাংলাদেশ চশমা শিল্প ও বণিক সমিতির পরিচালক জনাব শেখ মো: মুনিম, ফতেহগাজী অপটিকাল ওনার রাইসুল ইসলাম, এ রহমান অপটিকস্ প্রতিনিধি এবং অত্র প্রতিবেদক সাংবাদিক মাইনুল হাসান (রুবেল)।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

চর*মপ*ন্থি সং*গঠন আবারও সক্রি*য় হওয়ার চেষ্টা করছে : র‍্যা*ব

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব বলছে, আত্মসমর্পণ করা অনেক চরমপন্থি সদস্যও পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান, র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- পাবনা জেলার অস্ত্র ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন ওরফে শুটার আলমগীর (৪৫) এবং রকিব রানা (৫৫)।

গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অস্ত্র চট্টগ্রাম এলাকা থেকে ঢাকায় আনা হয়। পরে সেগুলো পাবনা অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

র‌্যাবের উইং কমান্ডার বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি পাবনা- কুষ্টিয়া এই অঞ্চলে চরাঞ্চল রয়েছে। এই চরাঞ্চল দখল নিয়ে বালুমহলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। এসব অস্ত্র এই অঞ্চলের বালু মহলে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।

সুন্দরবনে র‍্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরাও আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে সাধারণ মানুষের অপরাধ জগতের বিচরণ প্রত্যাবর্তন। সুন্দরবন জলদস্যুদের বিষয়টি আমরাও পরিলক্ষিত করেছি। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যে তথ্য পাচ্ছি তাতে এই ধরনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আমাদের তৎপরতা আগেও ছিল, এখনও আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। যাদের প্রত্যাবর্তন করানো হয়েছিল, যারা আত্মসমর্পণ করেছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরত গিয়েছিল। আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে যাতে তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনেই তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যায় এবং আবার এই দস্যু জীবনে তারা ফেরত না আসে।

তিনি বলেন, আর যারা ইতোমধ্যে অপরাধে জড়িয়ে গেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়া হবে। বিভিন্ন সময়ে র‍্যাব এককভাবে আবার কখনো কখনো র‍্যাব, পুলিশ এবং কোস্টগার্ড সম্মিলিতভাবে নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবেও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিচালিত বড় যৌথ অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ওই অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল, একটি এলজি, ২৭টি পাইপগান তৈরির পাইপ, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগজিন, ৬১টি কার্তুজ, ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চরমপন্থি গ্রুপগুলোর সক্রিয় হওয়ার বিষয় তুলে ধরে যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সর্বহারা ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা ছিল। ২০২৩ সালে র‍্যাব-১২ এর উদ্যোগে আত্মসমর্পণ করা প্রায় ৩১৩ জন চরমপন্থি সদস্যের পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

ঈদে সংবাদপত্রে ৫ দিন ছুটি ঘোষণা

আলোকিত ডেস্ক:

এবার ঈদুল ফিতরে সংবাদপত্রে ৫ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সংবাদপত্র মালিক সমিতি নিউজপেপার ওনার এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (নোয়াব)।

আজ ১০মার্চ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, গণমাধ্যমে ১৯-২৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের ছুটি পালন করা হবে।

সে হিসাবে ২০-২৪ মার্চ পর্যন্ত কোনও সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।

আলোকিত প্রতিদিন / ১০মার্চ ২০২৬ /মওম

ডিজিটাল দুনিয়ায় পা রাখলেন রিয়া চক্রবর্তী

বিনোদন ডেস্ক:

সিনেমার রূপালি পর্দার গণ্ডি ছাড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দুনিয়ায় পা রাখলেন বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নিজের হুবহু এক ডিজিটাল অবয়ব। যার নাম দিয়েছেন ‘মিষ্টি’। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ ভিডিওর মাধ্যমে নিজের এই এআই অবতারকে ভক্তদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন রিয়া চক্রবর্তী ।

রিয়ার ডাকনাম ‘মিষ্টি’র অনুকরণেই নামকরণ করা হয়েছে এই অবতারের। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এটি কেবল রিয়ার ক্লোন নয় বরং অভিনেত্রীর চিন্তা, আবেগ ও ব্যক্তিত্বের এক অনন্য সংমিশ্রণ। এআই স্টুডিওর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সিনেম্যাটিক এআই মডেল, মোশন ক্যাপচার এবং ভয়েস সিন্থেসিস ব্যবহারের মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। যা রিয়ার কণ্ঠস্বর এবং অঙ্গভঙ্গিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে।

ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের তীরে আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রিয়ার এই ডিজিটাল সংস্করণ। যার হাঁটা-চলা, কথা বলা কিংবা গায়ের রং সবকিছুই অবিকল আসল রিয়ার মতো। ভিডিওর আবহ সংগীতে শোনা যায় রিয়ার দরাজ কণ্ঠ। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘গোলাপ লাল, নীল বনফুল, চলো তুমি-আমি মিলে ভেঙে দিই পিতৃতন্ত্র’।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতে সেলিব্রিটি ও ভক্তদের মধ্যকার যোগাযোগে এটি একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হতে পারে। কারণ এই ‘মিষ্টি’র মাধ্যমেই ভক্তরা এখন প্রিয় তারকার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বা ভাব বিনিময়ের সুযোগ পাবেন।

নিজের এই নতুন উদ্যোগ নিয়ে রিয়া চক্রবর্তী বলেন, ‘চোখের সামনে মিষ্টিকে প্রাণ পেতে দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সে কেবল আমার প্রতিচ্ছবি নয় বরং ভক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার একটি নতুন মাধ্যম।

আলোকিত প্রতিদিন/ এম আর এম

ইরানের ক্ষে*পণা*স্ত্র হামলা অব্যা*হত থাকবে : আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেই যাবে এবং যতদিন প্রয়োজন হয়, ততদিন এই হামলা চলবে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে চলেছে। ট্রাম্পের এই সংবাদসম্মেলনের কিছু সময় পর মার্কিন সংবাদামাধ্যম পিবিএস নিউজকে সাক্ষাৎকার দেন সৈয়দ আরাগচি। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “গোলাগুলি অব্যাহত আছে এবং আমাদেরও পূর্ণ প্রস্তুতি আছে। যতক্ষণ প্রয়োজন হয়, আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত্রুদের ওপর আঘাত হানতে প্রস্তুত আছি। এতে যতদিন লাগে, লাগুক।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনায় যেতে তেহরান আর আগ্রহী নয় বলেও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, “মার্কিনিদের সঙ্গে এর আগেও কয়েকবার আমরা সংলাপে বসেছি। সেসব অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। আমরা আর সেসব অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চাই না। (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) আলোচনা আর আমাদের এজেন্ডার তালিকায় নেই।”

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের অন্তত ৪০ জন সামরিক এবং বেসামরিক শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ অক্টোবর নিহত হন। এই যুদ্ধে ইরানের জ্বালানি কাঠামো ও কয়েকটি জ্বালানি তেলের ডিপো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে লক্ষ্য নিয়ে ইরানে অভিযান করেছে, তা ইতোমধ্যে ব্যর্থ হয়েছে।

সূত্র : এএফপি

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম