আজ শুক্রবার, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৬ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 101

রূপগঞ্জে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার

নজরুল ইসলাম বাদল :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ঠাকুরবাড়ি এলাকায় মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে দেড় মণ গাঁজা ও সাড়ে চার শতাধিক ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। রবিবার (১৫ মার্চ) ভোর ৩টার দিকে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ির টেক এলাকা থেকে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যরা হলেন—রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন আহমেদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহসানুল্লাহ ও নাদিরুল ইসলাম। প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন।

এর আগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহায়তায় লাভরাপাড়া ও ঠাকুরবাড়ি টেক এলাকার ঝোপঝাড় ও ইরিখেত থেকে ৬০ কেজি গাঁজা এবং ৪৫০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। সে সময় পৃথক অভিযানে ম্যাগাজিনসহ একটি পিস্তল, মাদকবহনকারী প্রাইভেটকারসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট আবু হানিফকে তার এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর নির্দেশনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, জনসাধারণ পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় আমরা মাদক উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছি। গত দুই সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুঃখজনকভাবে কোনো পুলিশ সদস্যের সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে বা সন্দেহ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনজনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আবু হানিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে মাদকের বিভিন্ন স্পটে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে রূপগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক হুমায়ূন আহমেদ, সহকারী উপপরিদর্শক আহসানুল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/ এম আর এম

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: ডিএমপি 

এমএইচ চৌধুরী:
১৫ মার্চ রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপির মিডিয়া সেলে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মোঃ সরওয়ার বিপিএম-সেবা (ভারপ্রাপ্ত) কমিশনার আসন্ন ঈদে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে ঢাকার বাইরে যাবেন নগরবাসীর বড় একটি অংশ। তাঁদের ঈদযাত্রা যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয় সে লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সর্বসাধারণের সুবিধার্থে রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন ঘিরে নেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা। যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে ইউনিফর্মড পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ। এসব টার্মিনালে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ছাড়াও তিনটি বাস টার্মিনালে ডিএমপি কর্তৃক ১০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত মোতায়েনের পাশাপাশি প্রায় ছয় শত অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। লক্কড় ঝক্কর গাড়ি যেন রাস্তায় নামতে না পারে, সেজন্য ইতোমধ্যে ট্রাফিক বিভাগের সহায়তায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধে বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল সমূহে জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে নয়টি মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে। ঈদযাত্রায় বিড়ম্বনা এড়াতে আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, রপ্তানি পণ্য, ঔষধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এর আওতামুক্ত থাকবে। আগামী ১৬ মার্চ হতে ঈদ যাত্রা সংশ্লিষ্ট যানবাহন চলাচল সুগম করার জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকা -ময়মনসিংহ মহাসড়ক (কুড়িল টু আব্দুল্লাহপুর),ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (গুলিস্তান টু সাইনবোর্ড),ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক (আড়ং ক্রসিং টু আমিনবাজার), ঢাকা-কেরাণীগঞ্জ মহাসড়ক (ফুলবাড়িয়া টু তাঁতীবাজার টু বাবুবাজার ব্রিজ, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক (গুলিস্তান টু বুড়িগঙ্গা ব্রিজ), মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং হতে বসিলা ব্রিজ সড়ক, আব্দুল্লাহপুর টু ধউর ব্রিজ সড়ক, ফুলবাড়িয়া টু সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক সমূহ পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো। গণপরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং এসব নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য চারটি বাস টার্মিনালে সংশ্লিষ্টদের সাথে পৃথক মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে। সম্মানিত যাত্রী সাধারণ ও পথচারীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ কোনোভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করবেন না। যাত্রাপথে অপরিচিত কোন লোকের দেওয়া কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন এবং ভ্রমণকালে নগদ অর্থ ও মালামাল নিজ হেফাজতে রাখবেন। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে গমনাগমনের রাস্তা এবং ঢাকা হতে বাইরে যাওয়া ও ঢাকার প্রবেশমুখের সড়ক সমূহ নির্বিঘ্ন রাখতে ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন থাকবে।
ফাঁকা রাজধানীতে মোটর রেসিং থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। মোটর রেসিং রোধ এবং গতিসীমা লঙ্ঘন প্রতিরোধে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী টু আব্দুল্লাহপুর সড়ক এবং গুলশান এলাকায় ডিএমপির মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। ঈদে ঢাকা ছাড়ার আগে বাসা/ ফ্ল্যাটে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা এবং স্থাপিত ক্যামেরাসমূহ সচল রাখা, বাসাবাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা এবং যেকোন সময় পুলিশি সহায়তার জন্য নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
উক্ত ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোঃ মাসুদ করিম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

ভারতীয় অভিনেত্রী মধু মালহোত্রা মা*রা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক

অভিনেত্রী মধু মালহোত্রা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। ১৯৭৫ সালে ‘র‍্যামসে ব্রাদার্স’র হাত ধরে বলিউডে অভিষেক হয় মধুর। ভৌতিক ঘরানার এই ছবির সুবাদেই বলিউডে জার্নি শুরু তার।এরপর শক্তি সামন্ত, রমেশ সিপ্পির মতো পরিচালকের ছবিতে দেখা গিয়েছিল। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ এর দশকে একাধিক হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

সুভাষ ঘাইয়ের ‘হিরো’ ছবিতে ‘লম্বি জুদাই’ গানে তার পর্দায় উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল দর্শকের। মুখ্য চরিত্রে নয় বরং পার্শ্বচরিত্রেই তাকে বেশিরভাগ সময় দেখা গিয়েছে।

তা সত্বেও নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, রাকেশ রোশন, ঋষি কাপুরের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে।

পরবর্তী সময় শ্রীদেবী, অনিল কাপুর, আমিরখান, রানি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও করেছেন অভিনয়। অভিনেত্রীর শেষ অভিনীত ছবি ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ও বেওয়াফা থি’।

আলোকিত প্রতিদিন /১৫মার্চ ২০২৬ /মওম

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের পথে মির্জা আব্বাস

আলোকিত ডেস্ক:

উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। ১৫ মার্চ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমানটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ১৩ মার্চ শুক্রবার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর মির্জা আব্বাসকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। ১৪ মার্চ শনিবার সকালে তার মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়লে দ্রুত একটি ভার্চুয়াল মেডিক্যাল বোর্ড বসে এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়।

শুক্রবার দুই দফায় মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে।

শুক্রবার দুপুরে তার শারীরিক খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলের নেতা ড. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। তবে অসুস্থতার কারণে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।

আলোকিত প্রতিদিন /১৫মার্চ ২০২৬ /মওম

নে*তানিয়াহুকে ‘খুঁজে বের করে হ*ত্যার’ হু*মকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রবিবার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মাঝে রবিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু করার অঙ্গীকার করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

আইআরজিসির পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, তাহলে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।’’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের মাঝে আইআরজিসি ওই বিবৃতি দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানানো হচ্ছে।

গত ১২ মার্চ নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে তার হাতের আঙুলগুলো এমনভাবে দেখা গেছে যেন এক হাতে ছয়টি আঙুল রয়েছে। তবে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে কি না; তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতের আঙুল পাঁচটিই রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান এবং ইসরায়েলের মাঝে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর সেটি ছিল ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর প্রথম সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও। সেই ভিডিওতে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার পরোক্ষ হুমকি দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন।

হিব্রু ভাষায় দেওয়া সেই ভাষণে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‌‌‌‌‘‘আমি আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেব না। আমরা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছি। তবে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না, ইরানের জনগণই এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করবে কি না। কারণ একটি শাসনব্যবস্থা দেশের ভেতর থেকেই উৎখাত হয়।’’

মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্যান্ডেস ওয়েনসসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘‘বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) কোথায়?’’ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘‘নেতানিয়াহুর অফিস তার ভুয়া এআই ভিডিও কেন প্রকাশ এবং ডিলিট করছে? আর কেন হোয়াইট হাউসে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে?’’

এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর তার মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে বলেছে, তিনি নিরাপদ আছেন। ‘‘নেতানিয়াহুকে হত্যা করা হয়েছে’’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবির বিষয়ে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে তার দপ্তর বলেছে, ‘‘এসব ভুয়া খবর। প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।’’

তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর বা তার সহকারীরা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেয়নি। কিছু ব্যবহারকারী বলছেন, নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্সে প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ফলোয়ার রয়েছে এবং ব্যাপক সক্রিয় ছিলেন তিনি। গত ৯ মার্চের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও পোস্ট করেননি তিনি।

সূত্র: এএফপি।

আলোকিত প্রতিদিন /১৫মার্চ ২০২৬ /মওম

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পর পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন রকেট লঞ্চারের পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

একদিন আগে একযোগে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর এবার পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন রকেট লঞ্চারের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চলমান বসন্তকালীন সামরিক মহড়ার মাঝে রবিবার এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উন মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের ওই পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ সময় তিনি ১২টি ৬০০ মিলিমিটার ক্যালিবারের অতি-নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন।

কিম জং উন বলেছেন, এই পরীক্ষা ৪২০ কিলোমিটার (প্রায় ২৬০ মাইল) দূরত্বের মধ্যে থাকা পিয়ংইয়ংয়ের শত্রুদের মাঝে এক ধরনের ‘‘অস্বস্তি’’ ও ‘‘কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি’’ তৈরি করেছে।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ছোড়া সব রকেট পূর্ব সাগরে ৩৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের একটি দ্বীপের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব রকেট লঞ্চারকে ‘‘অত্যন্ত প্রাণঘাতী অস্ত্র’’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কিম জং উন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বড় বড় যানবাহন থেকে কয়েকটি রকেট আকাশে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে কিম এবং তার মেয়ে জু আয়েকে সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে দূর থেকে এই উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভি অনুষ্ঠানে জু আয়েকে নিয়ে ঘন ঘন হাজির হতে দেখা যাচ্ছে কিম জং উনকে। জু আয়ে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী শাসক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বলেছে, শনিবার উত্তর থেকে পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। সিউলের ব্লু হাউস এই উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী উসকানি আখ্যা দিয়ে নিন্দা এবং পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে এ ধরনের কাজ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেক কয়েক দিন আগে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন কিমের সঙ্গে তার একটি ‘‘ভালো’’ বৈঠক হবে। ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাস ধরে পিয়ংইয়ংয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে এবং এ বছরে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় কিমের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের সম্ভাবনা দেখছে।

সূত্র: এএফপি।

আলোকিত প্রতিদিন /১৫মার্চ ২০২৬ /মওম

সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ

আলোকিত প্রতিবেদক:

সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই  বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। এটি যদি আইনে পরিণত হয় তখন দেখা যাবে। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন শুরু হয়েছে। ১৫ মার্চ রবিবার বেলা ১১টায় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের না। সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই, বিষয়টি এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার দলের পথ থেকে পদত্যাগ করেছেন, যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।

তিনি বলেন, সাংবিধানিকভাবে সেরকম কোনো পরিষদের (সংস্কার পরিষদ) অস্তিত্ব তো আমাদের সামনে নেই। যদি গণভোটের রায় অনুসারে সেটা ধারণ করতে হয় কনস্টিটিউশনে সেটা সংবিধানের আগে সংশোধনী হতে হবে। সেটা সংসদে আলাপ আলোচনা হবে। সংবিধান সংশোধন হলে সে মত সেটা সংবিধানে ধারণ হবে।

আলোকিত প্রতিদিন /১৫মার্চ ২০২৬ /মওম

বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫ তম মৃ*ত্যুবার্ষিকী

বিশেষ প্রতিবেদক:

বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক, স্বৈরাচার পতন সংগ্রামের অগ্রনায়ক, ক্রান্তিকালের কান্ডারী, বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্মৃতি ফাউন্ডেশন আগামী ১৬ মার্চ-২০২৬ রোজ সোমবার দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করেছে। অনুষ্ঠান সূচি নিম্নে প্রদান করা হলো: ১৬ই মার্চ-২০২৬, সোমবার, বাদ যোহর বীর মুক্তিযোদ্ধা, একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক, স্বৈরাচার পতন সংগ্রামের অগ্রনায়ক, ক্রান্তিকালের কান্ডারী বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

আয়োজনে: ড. খোন্দকার আকবর হোসেন (বাবলু), সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন-এর সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত: খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন (১৯৩৩-২০১১) আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার খিরাই পাচুরিয়া গ্রামে ১৯৩৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা খোন্দকার আবদুল হামিদ ছিলেন একজন মশহুর আলেম এবং তাঁর মাতা ছিলেন আকতারা খাতুন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ১৯৪৭ সালে মানিকগঞ্জ হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৪৯ সালে মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স), ১৯৫৩ সালে এমএ এবং ১৯৫৫ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে খোন্দকার দেলোয়ার বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থীর স্বপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি মানিকগঞ্জ মহকুমা আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ১৯৫৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং তখন থেকেই তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের শুরু। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধীদলের (কপ) প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে মানিকগঞ্জ মহকুমায় গঠিত ইলেকশন মনিটরিং কমিটির প্রধান ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির মানিকগঞ্জ মহকুমা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। আইনজীবী সমিতিগুলোর কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ১৯৬৬ সালে ছয়দফা কর্মসূচি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তিনি ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ছিলেন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক এবং তিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকবাহিনীর গণহত্যা শুরুর পরপরই মানিকগঞ্জে গঠিত বিপ্লবী কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন খোন্দকার দেলোয়ার।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৮ সালে গঠিত জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দলে যোগ দেন এবং দলের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক নিযুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে পুনরায় তিনি বিএনপির মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সাল থেকে বিএনপির জাতীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর) নির্বাচনী এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকা থেকে পঞ্চম (১৯৯১), ষষ্ঠ (১৯৯৬), সপ্তম (১৯৯৬) ও অষ্টম (২০০১) সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ ও অষ্টম জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন সংসদীয় দলের চীফ হুইপ এবং সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধী সংসদীয় দলের চীফ হুইপ ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সদস্য ছিলেন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বেশসংখ্যক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি ১৯৭৬-১৯৭৮ এবং ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে মানিকগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং ১৯৭৯-১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন ‘মানিকগঞ্জ খোন্দকার নূরুল হোসেন ল’ একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ।

তিনি তাঁর নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন কলেজ এবং পাচুড়িয়া মাদ্রাসা। ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে তাঁর ব্যাপক অবদান রয়েছে। আশির দশকের শেষদিকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসন বিরোধী আন্দোলনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় মোর্চা লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। তত্বাবধায়ক সরকার কৃর্তক ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন। গ্রেফতার হওয়ার প্রাক্কালে তিনি দলের মহাসচিব আব্দুল মান্না্ন ভূইয়াকে বহিস্কার করে তদস্থলে স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে দলের মহাসচিব পদে নিয়োগ দান করেন। এক-এগারোর পর যখন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের সিনিয়র নেতৃবর্গ আটক ছিলেন, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন তখন অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সঙ্কটের মোকাবেলা করে দলের ঐক্য ও অখন্ডতা অক্ষুন্ন রাখেন। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের পর পুনরায় তিনি বিএনপির মহাসচিব নিযুক্ত হন।

খোন্দকার দেলোয়ার স্মরণীয় হয়ে থাকবেন জাতীয় স্বার্থে পালিত তাঁর সংগ্রামী ভূমিকার জন্য। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে ক্ষমতা দখলকারী সেনাসমর্থিত সরকারের দিনগুলোতে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করলে দেখা যাবে, গণতন্ত্র পুনরুদ্বারের সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপসহীন এক দুর্দান্ত সাহসী নেতা। সেটা এমন এক সময় ছিল ওই সরকার যখন দুই নেত্রীকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়ার এবং রাজনীতিবিদদের উতখ্যাত করার ভয়ঙ্কর চেষ্টা চালাচ্ছিল। সরকার একদিকে দলীয় নেতাদের গ্রেফতার করেছিল, অন্যদিকে দলের ভেতর থেকে কোনো কোনো নেতা গোপনে সরকারকে সহযোগিতা দেয়ায় সে সময় বিশেষ করে বিএনপির অস্থিত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। তেমন এক কঠিন সময়ে নিজে গ্রেফতার বরণ করার ঠিক আগমুহুর্তে খোন্দকার দেলোয়ারকে বিএনপির মহাসচিব পদে নিযুক্ত করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। দলের জন্য তো বটেই, এই সিদ্বান্ত দেশ ও জাতির জন্যও অত্যন্ত সঠিক এবং সুফলপ্রসূ বলে প্রমাণিত হয়েছে। মামলা ও গ্রেফতারের হুমকি এবং দমন-পীড়নের ভয়-ভীতি দেখানোসহ সব পন্থাতেই তাকে বাগে আনার চেষ্টা করেছে সরকার। দলীয় সভা-সমাবেশের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন ও টিভির টকশোতে তিনি দুর্দান্ত সাহস বক্তব্য রেখেছেন, সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং জাতীয় নির্বাচন দেয়ার দাবিতে সোচ্চার থেকেছেন। প্রবীণ সাংবাদিক আতাউস সামাদ যথার্থই বলেছেন, খোন্দকার দেলোয়ার ছিলেন রাজনীতির দুঃসময়ের কাণ্ডারি। বলা বাহুল্য, গভীর দেশপ্রেম এবং গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন মনোভাব ছিল বলেই খোন্দকার দেলোয়ারের পক্ষেে এমন অনমনীয় অবস্থান নেয়া এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়েছিল।

একই কারণে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারসহ রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিপক্ষরা পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। আমরাও মনে করি, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মনে-প্রাণে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। নিজে বিএনপি করলেও অন্য দলগুলোর প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ ছিল। ছিল পরমতসহিষ্ণুতা। প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করতেন তিনি, কিন্তু বিদ্বেষ বা শত্রুতা নয়, সবকিছুর পেছনে থাকত কেবলই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। জাতীয় স্বার্থে  কখনও একচুল পরিমাণ ছাড় দেননি তিনি। নিখাদ ছিল তাঁর দেশপ্রেম। ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার জন্য খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন একুশে পদকে ভূষিত হন। সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২০১১ সালের ১৬ই মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

প্রকাশ্যে ইরানে*র পাশে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া ও চীন!

আলোকিত ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীন সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে চীনের সরকার ২ লাখ ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এতথ্য জানিয়েছে তারা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন (১৪ মার্চ, শুক্রবার) জানিয়েছেন, সহায়তা দেওয়া হবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে এবং এটি নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক।

চীনের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, স্কুলে হামলা এবং নিরপরাধ শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। চীন সব সময় মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী এবং এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থেকে সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে ইরানের ঢাল হয়ে দাঁড়ায় রাশিয়া ও চীন।নিউইয়র্কে শুক্রবার (১৩ মার্চ) অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র।

নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি হিসেবে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। এই আলোচনা রাশিয়া ও চীন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও তা ভোটাভুটিতে ব্যর্থ হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দোলনা থেকে ক*বর পর্যন্ত পুলিশ ছাড়া চলবে না: আইজিপি!

বিশেষ প্রতিনিধি: দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশ ছাড়া চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে জেলা পুলিশ লাইনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।

আইজিপি বলেন, ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশ ছাড়া চলবে না। কারণ হাসপাতালে শিশুর জন্ম নেওয়ার পর শিশুকে পাহারা দিতে হয়। হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি হয়ে যেতে পারে, সেখানেও পুলিশ দরকার। আবার কবর দিতে গেলেও সেখানে কঙ্কাল বা লাশ চুরি হয়ে যেতে পারে, সেখানেও পুলিশ দরকার। পুলিশ ছাড়া এ সমাজ চলবে না। কার্যকরী, শান্তিপূর্ণ, উন্নয়নমূলক ও সভ্য দেশ গঠনের জন্য পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা পুলিশকে সহযোগিতা করেন। সেই ফ্যাসিস্ট যুগের পুলিশ যাতে বাংলাদেশে না থাকে সেটার জন্য কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই নিদের্শনা দিয়েছেন যে বাংলাদেশ পুলিশ হবে একদম সৎ ও মানবিক পুলিশ এবং জনগণের বন্ধু।’

আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্নে করতে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় এখানে বাড়তি নজরদারি থাকবে। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থাকবে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হবে।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সায়িখা আক্তার শিখার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আহমদ হোসেন ভূইয়া, জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার, ডা. মাহজারুল আলম, মহানগর বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন সরকার, মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, বিএনপি নেতা আহমদ আলী রুশদী, প্রভাষক বসির উদ্দিন, গাজী সালাউদ্দিন, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার প্রমুখ।

পরে আইজিপি গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইন ময়দানে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি