ভাবের পদাবলী-০১
দিনের আলোর সঙ্গছেড়ে
অন্ধকারে ফেরা
এই পৃথিবীর ভেতর বাহির
মায়ার জ্বালে ঘেরা।
আমি ছিলাম অন্ধকারে
ভাবনা ছিল ভালো
সুখ সোহাগের এই পৃথিবী
লাগছে বেজায় কালো।
আমার রাজ্যের রাজা আমি
প্রজাও আমি নিজে
দুঃখ জয়ের মন্ত্রপড়ে
আনন্দ পাই কী যে।
আলোর ঝলক হারিয়ে খুঁজি
অন্ধকারের গায়
মাটির দেহ এখন আমায়
আপন করে চায়।
ভাব ভাষাতে যাই লিখেছি
মূল কথাটি বলি
এই পৃথিবী কাঁদবে যেদিন
ফোটবে ফুলের কলি।
চলার পথে রাস্তা হারাই
রাত্রে কিংবা দিনে
লজ্জা লালে জন্ম কাঁদে
ভাউতা বাজির ঋণে।
ভাবের পদাবলী- ০২
আমজনতা বলছে এবার
খাইছে ধরা পিরিত চান
রাগের মাথায় সেদিন কেন
ডুবাইলো এই রাজার মান।
মান বাঁচাতে উজির বলেন
করবো বিচার কাটবো কান
কানের বদল কাজ না হলে
করবো খতম ওদের জান।
উজির বলেন আদেশ পেলেই
ঠ্যাং ঝুলাবো মগডালে
রাজার আদেশ মানতে হবে
মারবো জুতা তোর গালে।
দোষ করেছে রাজার চেলা
ফাঁসবে এবার চান মিয়া
মিথ্যা দোষে দুষি হয়ে
মুক্তি মিলে জান দিয়া।
ভুল করেছে রাজা মশাই
ধরবে কেন প্রজার দোষ
রক্ত খেয়ে ফুর্তি করেন
রাজার নেশায় হেব্বি জোস।
রাজার জন্য মনটা ভাবে
এই রাজা কি সেই রাজা
রাজার দোষে সবাই দুষি
সত্য বলায় পায় সাজা।
ভাবের পদাবলী-০৩
দেহের নদে ঝড় বয়ে যায়
শরীর এবং মন ক্ষয়ে যায়
উজানদেশে গুমোট ঢেউ
বেলা শেষে অধম রনো’র
আপন বলে নাই যে কেউ।
তোমার আমার কঠিন প্রেমে
আঁকছি ছবি কাব্যফ্রেমে
দেহের ক্ষতে সেই প্যাঁচাল
নীল আকাশের তারার মেলায়
লাগবে এবার বেশ ক্যাচাল।
আমি হলাম অন্ধ বোবা
বয়স ভারে জোবাথোবা
রাস্তা দেখায় তিন কানা
ভুলের মাসুল শুধরে নিতে
তোমার সাথে হই ফানা।
শেষ বেলাতে আপন ভেবে
ভাবছি বসে তড়িয়ে নেবে
যায় হারিয়ে নাকের দুল
ঝড়ের তোড়ে যাচ্ছে ভেসে
তোমার দেয়া দেহের ফুল।
ত্রিভূবনে আমি অধম
ফেলছি কেবল ঘোড়ার কদম
চিনতে আমার নিজের রূপ
ভাবের খাতায় শুন্য দেখে
জ্বালাই মনে পূজার ধুপ।
শেষ বেলাতে তুমি আমি
আর কিছু নেই সত্যি দামি
তোমার দেহে হই ফানা
ভুলের পথে হাঁটতে গিয়ে
সত্যি হলাম দিন কানা।
আলোর পথের রাস্তা দেখাও
সরল পথে হাঁটতে শেখাও
পাপের জ্বালায় পুড়ছে মন
রূপের হাটে আগুন জেলে
পুড়াই আমার দেহের বন।
নাই প্রয়োজন রুটি রুজি
নিজের ভুলে হারিয়ে খুঁজি
তুমি আমার দয়াল চাঁন
তোমার প্রেমের ফুল বাগানে
করছি বপন নিজের মান।
ভ্রান্তনীতি
চলার পথে ভুল হয়ে যায়
জ্ঞান পিপাসার এই ধরায়
বুকের ক্ষতে জ্বলছে আগুন
সুখ বিহনের সেই খরায়।
ভাবছি এবার থাক না ওসব
মন বলেছে জলদি ভাগ
বাস্তবতা বলছে হেসে
দূর হয়ে যাক কঠিন রাগ।
হিংসা নিন্দা যাই ভুলে যাই
কাব্যেগড়ি এই ধরা
সব মানুষের দুঃখ আছে
রাখবো কেন মনমরা।
আমি না হয় ভুলেই যাবো
দিচ্ছে যারা অপবাদ
বন্দি রেখে পার পাবে না
ভাংবো আমি মরন ফাঁদ।
চাই না দাওয়াত খুশির দিনে
সাকি সবার আনজামে
আমার না হয় মৃত্যু হবে
বাস্তবতার গ্যাঞ্জামে।
তবুও আমি হোটবো না ভাই
পিছন দিকে একচুলও
বলছে প্রিয়া সেদিন আমায়
এগিয়ে যেতে মন খুলো।
ভুলের ফুলের তিক্তকাটায়
হয় না খুশি কবির মন
ছল চাতুরির অন্ধকারে
পুড়ায় সদা দেহের বন।
এক জীবনে কী আর হবে
বলবো আমি সত্য যা
ভুলের মাশুল গুনতে গিয়ে
আত্মা পুড়ে হচ্ছে ঘা।
পংকিলতার ভাবনা নিয়ে
ভাবছে তারা দিনকানা
হিংসা দিয়ে কাজ হবে না
মানুষ দিলে হই ফানা।
চলার পথে ভ্রান্তি ছিল
মানবো কেন এখন আর
ভুল চেতনার ফন্দি-ফিকির
নিন্দা জানাই এখন তার।
আমি রনো যেমন ছিলাম
এখন আছি ঠিক তেমন
হাস্যরসে কাটবে সময়
কাটছে আগে ঠিক যেমন।
চান্দু মিয়া ল্যাং মেরেছে
হর্ষবর্ধন করছে মর্দন
ঘি এর মাগ্যে তেল
তেল বিহনে শুস্ক মাথা
ভাংছে মাথা বেল।
চান্দু মিয়া ল্যাং মেরেছে
পিরিত চানের পায়
ঘুইরে বলে আবে হালা
ঠুয়া মারুম গায়।
দেহোস না রে রাষ্ট্রনীতির
মূল কথাটাই ভুল
সুখ শান্তি বন্দি রেখে
ছিড়ছে মাথার চুল।
শাকের মাগ্যে ঘি এর বাগার
কান্দে বিড়াল ম্যাও
পাহাড় চূড়ায় কুকুর ওঠে
ডাকছে শুধু ঘ্যাও।
পাছায় মেখে চুতরা পাতা
লাফায় নেতার ছাও
ভোটের নামে তেলেছমাতি
পুড়ায় সোনার গাঁও।
নেতা বলেন ছাড়বো না ভাই
জোর দখলের গদি
ছাড়লে গদি কষ্ট পাবেন
প্রাণের প্রিয় মোদি।
পরজীবি সেই নেতার ক্ষুধায়
রাধতে হবে ভাত
জ্বালাও আগুন পুড়ুক এবার
পঙ্গ পালের জাত।
ছড়া কবিতা ডট কম
কবিতার মগডালে
ছড়া বাঁধে বাসা
গল্পটা বলে কবি
রূপে গুনে খাঁসা।
ছড়ার ভূবনে ফোটে
কবিতার ফুল
বাংলার রূপরস
কাব্যের মূল।
শেখরের সন্ধানে
ছড়া ওঠে হেসে
কবিতার নদে ছড়া
ডুব দেয় শেষে।
কবিতার সংসারে
ছড়া দাদু ভাই
পাশাপাশি চলে ওরা
গড়মিল নাই।
এক গাছে ফোটে ওরা
বাংলার ফুল
ছড়া আর কবিতা
গর্বের মূল।
পদ্যকে মা ডাকে
গীতিকার বাপ
বিভাজনে লাভ নেই
বাড়ে শুধু টাপ।
ছড়ার শরীরে আছে
কবিতার রস
ছন্দের ডালে বাড়ে
নাম খ্যাতি যশ।
কবিতার আদি রূপ
ছড়ার মতন
ভাবের গভীরে ফোটে
করিলে যতন।
ছড়া আর কবিতার
মূল ছিল এক
ইতিহাস ঘেটে তাই
ভালো করে দেখ।
আদি রূপ পদ্য
আধুনিক ছড়া
শব্দের চালগুলো
তাই বেশ কড়া।
রাখালের মুখে শুনি
মধু মাখা সুর
ছড়া আর কবিতার
মাঝে নাই দূর।
দাঁড়ি গোঁফ
হাজার রকম গোফের ভিড়ে
রং বেরঙের দাঁড়ি
লম্বা গোফে তা দিয়ে কেউ
ধরে ভীষন আঁড়ি।
দাঁড়ি রাখে ধর্মভিরু
গোফ রাখে না তারা
মোচুয়া এক বীরবাঙালি
মোচেই আত্মহারা।
মুখের পাড়ায় গোফের কদর
মাখছে গোঁফে তেল
গোঁফঅলা এক শাসক বলেন
খেলবো নতুন খেল।
মোচের দেশে মাকুন্দা মোচ
লজ্জাতে লাল মুখ
কেউ রেখেছে লম্বা দাঁড়ি
তাতেই নাকি সুখ।
দেখতে ভালো চাঁদের আলো
ক্লিন সেভের মুখ
জোছনা¯্নানে নদীর ঝিলিক
তাতেই ভরে বুক।
কেউ বা আবার দাঁড়ি চুলে
গোঁফ রাখাতেই খুশি
কেউ আবার ন্যাড়া হয়ে
মারছে জোরে ঘুশি।
দোষ ধরে কয় গায়ের মোড়ল
থাকবে পরিপাটি
ফটকা সাজে মানুষ হাসে
কাঁদে দেশের মাটি।
এই পৃথিবীর লক্ষ মানুষ
করে হাজার কাজ
যেমন ইচ্ছা তেমন সাজে
পায় না কেহ লাজ।
লাজ লজ্জার বালাই ঠেলে
বাচ্চা সাজে বুড়ো
দাদা বলেন বব কাটিং-এ
হচ্ছে মেয়ে খুড়ো।
গোঁফের কদর যাচ্ছে কমে
চুলের কদর শেষ
সাব্বির বলে আমার চুলে
সোনার বাংলাদেশ।
কবির আকাশ মাথার ছাতি
মাটির কোলে ঘুমায়
ন্যাড়া মাথায় মোচ রেখে সে
মারছে মানুষ বোমায়।
দাঁড়ি গোঁফের পাল্লা দেখে
এই কবিতা লিখা
বাস্তবতায় মুখ পুড়েছে
সেখান থেকেই শিখা।
ভাবছি বসে
সকল দোষে
হচ্ছি আমি দোষি
দাঁড়ি ধরে টান দিয়ে কয়
মারবো শালা ঘুশি।
গীতিকবিতা-০১
বরফগলা জোছনা রাতে
খেলছি খেলা প্রভুর সাথে
চাঁদের গায়ে চাঁদ
লালন শাইজীর সুরগীতালী
কঠিন প্রেমে মন মিতালী
ভাংছে মরন ফাঁদ।
মায়ার জালে আটকে সাধক
জগত জ্বালার দুঃখে বাদক
ভুলটা ছিল মূল
মনের ঘরে আটকে তালা
ভজন সাধন ভাবের মালা
অথৈ জলের কূল।
সূর্যলালে ক্লান্তবেলা
কামনগরে ভাবের মেলা
ভাসছি দেহের স্রোতে
দেনা-পাওনার হিসেব কষে
বিদায় বেলার দুঃখ রোষে
ভাবছি কঠিন ব্রতে।
হাতকড়া
চিন্তা রোগে প্রজা বেহুস
দিচ্ছে রাজায় দাবার চাল
মাতাল রাজার কান্ডহীনে
গরীব-দুঃখীর মরার হাল।
ভাবখানা সে এমন দেখায়
এই দেশটা খেলার বল
ভাঙ্গা হাটে তাবিজ বেচে
এটাও রাজার নতুন ছল।
ছলচাতুরি জানেন ভালো
দিচ্ছে রাজায় কানপড়া
দ্বন্দ্ব ফ্যাসাদ লাগিয়ে দেশে
পড়ায় হাতে হাতকড়া।
এমন রাজা আর হবে না
ভাবছে বসে দেশটা তার
গোজামিলের অংক কষে
তিন দু’গুনে বানায় চার।
রাজার চেয়ে মন্ত্রী খারাপ
মুখের খাবার কাইড়ে খায়
মরা গাঙ্গে আগুন জেলে
শুকনা নদে বৈঠা বায়।
দৃশ্য দেখে ভাবছি বসে
লজ্জা শরম সবই শেষ
ধোকা বাজির অন্ধকারে
গড়ছে নাকি সোনার দেশ।
জাগবে মানুষ বলবে কথা
ভাত খাবো না ভোটটা চাই
লজ্জা ফেলে বলবে রাজা
মাফ করে দে বিদেশ যাই।
গীতি কবিতা-০২
প্রেমের হাটে বেচা কেনায়
নিলাম ভবে ঠাই
আকাশ আলোর স্বপ্নে ভেসে
তোমায় যেন পাই
দয়াল তোমায় যেন পাই ॥
জন্মে আমার ফুল ফুটেছে
রক্ত স্রোতে ভেসে
মৃত্যু বাধার প্রাচীর ভেঙ্গে
উঠবো আমি হেসে
দয়াল মায়ার বাধনে। ঐ
এই পৃথিবীর মায়ার বাঁধন
কেমনে যাবো ছাড়ি
রৌদ্দ তাপের নোনা জলে
প্রেমের বসত বাড়ী
দয়াল তোমার বসত বাড়ী। ঐ
সাদা রঙের কাফন পরায়
পরায় ফুলের মালা
রনো বলে বিদায় কালে
বদ্ধ ঘরের তালা
দয়াল উপায় বলো না। ঐ

