আমার কবিতা
সৈয়দ রনো
আমার কবিতা সীমান্তরক্ষী
বাংলাদেশের প্রতীক
আমার কবিতা ঝঞ্ঝা তুফানে
পথচলা এক পথিক।
আমার কবিতা ভূখা- নাঙাদের
মুখে তুলে দেয় ভাত
আমার কবিতা লাখো শহীদের
মুষ্ঠিবদ্ধ হাত।
আমার কবিতা বিশ্বায়নের
স্বপ্নে তোলা ঝড়
আমার কবিতা দেশাত্ববোধে
ভীষণ শক্তিধর।
আমার কবিতা মুক্তিসেনার
বুলেট বিদ্ধ খুলি
আমার কবিতা ভয় করেনি
এটম বোম আর গুলি।
আমার কবিতা গণতন্ত্রমনা
লাল সবুজের ছবি
আমার কবিতা অগ্নিমিছিল
রাজপথের এক কবি।
আমার কবিতা ফেলানীর লাশ
সাগর রুনির মা
আমার কবিতা বিশ্বজিতের
মায়ের বুকের ঘা।
আমার কবিতা হাইকোর্টে ঝুলে
গুমরে গুমরে কাঁদে
আমার কবিতা আগ্রাসনে
আটকে পড়েছে ফাদে।
আমার কবিতা বন্দী এখন
পড়শী দেশের হাতে
আমার কবিতা চেটেপুটে খায়
হায়েনারা সব রাতে।
প্রতিচ্ছবি
সৈয়দ রনো
পাহাড়ের খাচকাটা ভাঁজে
ভেসে যায় মৌন মিছিল
রাতজাগা আলিঙ্গন
বধূর ফিসফাস শব্দ মিলায়
পাখির কলরব
নওজোয়ানের তারুণ্যে
সাদা ধব ধবে উড়ন্ত বলাকা
পলাশীর দিগন্তে অস্তমিত সুখ
তবু রুখেনি বাংলার ডুবন্ত সূর্য
ক্লান্তির তল্লাটে ভেসে ওঠে
কামপিয়াসী মন
লাজুক চাহনীর ফাঁকে
খেলা করে আগুনলাগা রূপের প্রতিচ্ছবি
টলমলে যৌবন
ছায়া আর কায়া একাকার হতে হতে
নান্দনিকতার নেশায় তৃষিত হৃদয়
চুঁইয়ে চুঁইয়ে ভরেছে
কাব্যিক আলোর প্রজ্জ্বলনে
তারুণ্যের বাতিঘর
সখির নিকষিত প্রেম
জমেছে এক ঘোরলাগা ঘোরে
চাঁদের কিনারে
জোছনার মিছিল
দেখি তার নিভাঁজ মুখচ্ছবি
পড়ন্ত বিকেলের শৈল্পিক সাঁজে
কোন এক পূর্ণিমার রাতে
ঠোঁটের দু’পাট্টায়
কী যে কথা কয়
জাগে শুধু ভয়
চুপিসারে তারার বাসর
তেঁতুল কাষ্ঠে পোড়া
জোড়াতালি মন
মেতেছে বাউল নেশায়
বিরহের মাতামাতি
ঘোরলাগা কোনো এক ঘোরে
খুঁজি আমি তারে
দেখেছি চৈত্র দুপুরে
গঙ্গাস্নানের শুভ্রতা নিয়ে
ঘূর্ণায়মান খড়কুটো
ভাসানোর তোড়ে
বেদনায় নিমজ্জিত ভাসমান স্রোতে
আজন্ম ভাসিয়েছে সখি
কী দুপুর কী বিকেল
নিদারুণ তারুণ্যের সকাল
মিশে গেল সব
মিশকালো রাতের গহিনে
ঘোরলাগা কোনো এক ঘোরে
খুঁজি আমি তারে
শরীরের ভাঁজ
নিভাঁজ তার প্রতিচ্ছবি
হেমলক পানে
চোখে চোখ রাখি
পাপড়ির ফাঁকে
সুখ ঢেকে রাখে
নয়নের জল করে টলমল
দেয় সখি ফাঁকি
ঘোরলাগা কোনো এক ঘোরে
খুঁজি আমি তারে
কথা হয় চোখে চোখ রাখি।
বিশ্বায়ন
সৈয়দ রনো
মানবিকগুণের দৃঢ়চিত্ত
সবলের ঘৃণা দুখের যম
কাঙালের চোখে রক্ত ঝরে
মারছে সিমার বেরোয় দম।
পানির তোড়ে ভাসছে ফেনা
হযরত আলীর শক্তি চাই
পাহাড় গুলিয়ে বানাবো নদী
তবেই যদি শান্তি পাই।
ভাত কাপড়ের অভাব দেখি
ঘুরছে মাথায় ঘূর্ণিপাক
গরিব কাঙাল পিষছে যারা
বিশ্বায়নে নিপাত যাক।
শয়নে স্বপনে প্রেমের বাঁধনে
পাগল কেবল মজনু হয়
চন্ডিদাসের ধৈর্য সাধন
প্রেম সাগরে উজান বয়।
দেহ জমিনে লাঙ্গল চালায়
কৃষ্ণলীলা রাধার বন
কাম আগুনে ঝলসে ওঠে
নগর বাউল গুপ্তধন।
ইয়াজুজ মাজুজ বন্ধ ঘরে
ঘুরছে কেবল চতুর্দিক
খুঁড়ছে মাটি সারাবেলা
ছুটছে ওরা দিগবিদিক।
হাসান হোসেন ঘুমিয়ে কেন
কারবালাতে যুদ্ধ চাই
বঙ্গমাতার রক্ত জাগে
ঘুমের জন্য ঔষধ নাই।
সমকালীন ছড়া
সৈয়দ রনো
পেটের কাঁন্নায় জ্বলে ক্ষুধার লেলিহান
তন্দ্রাহীন মধ্যরাত যেনো শ্মশানপুরী
মশাল হাতে ছুটে চলে পোয়াতীর ভূড়ি।
ছলনার খেলা দেখি টেক্কার হাটে
তসবি তাহলিল চলে মাঠে ঘাটে
জাতি-ভেদ তুলে দেই মুর্দার খাটে
অভাগার ক্রন্দনে জনরোষ হাটে।
দুখিনী দুঃখ পেলে গালে দেয় হাত
ভন্ডও টাকা হলে সাজে ভালো জাত
কাব্যের সুধাপানে মাথা ঘুরে কাত
তৃষিত হৃদয় কাঁদে জেগে থাকে রাত।
আসলকে রেখে করি নকলের খোঁজ
অনাবাদে কাটে দিন করি ভুড়ি-ভোজ
রেডিমেড মানুষের খেলা দেখি রোজ
কবি সেজে দাম নেই কবিতার খোঁজ।
ভাগ বাটরা
সৈয়দ রনো
রাষ্ট্র নেতার বসলো সভা
বসলো চাঁদের দেশে
খোশ মেজাজে আছেন সবাই
বলছে কথা হেসে।
পাতি নেতার প্রস্তাবনা
করবে ভূমি ভাগ
সব রাষ্ট্র সমান হবে
এটাই অনুরাগ।
পশ্চিমা এক নেতা বলেন
কাজের বেলায় ফাঁকি
ভূমির চেয়ে মানুষ বেশি
কোথায় তাদের রাখি।
নেতায় নেতায় হচ্ছে কথা
আমলা বসা পিছে
ফিস ফিসিয়ে বলছে কথা
ওদের কথা মিছে।
হতে পারে রাষ্ট্র সমান
বাঙালিদের কী
দুধের বদল রক্ত দিয়ে
বানায় গাওয়া ঘি।
পাশের দেশের সচিব বলেন
যতোই ওদের মারি
সীমান্তেরই কাঁটা তারে
ঝুলতে বানায় বাড়ি।
বাংলাদেশের সচিব বাবু
যুক্তি দিয়া কয়
চুক্তি হলে বাড়বে ভূমি
মানুষ হবে ¶য়।
ধমক দিয়া নেতা বলেন
বুঝাও কথার মানে
সচিব বাবু কাচুমাচু
উত্তরও সে জানে।
ভূমির চেয়ে বাংলাদেশে
জনসংখ্যা বেশি
অন্য দেশের ভূমি পেলেও
হারাইবো এই দেশি।
নেতা এবার বেজায় খুশি
হাসতে হাসতে বলেন
জনসংখ্যা কমবে দেশের
অন্য দেশে চলেন।

