মোঃ কবির হোসেন জোমাদ্দার, ক্রাইম রিপোর্টার :
রাজধানীর পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে দিন দিন বেড়েই চলেছে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিপত্য। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল এবং বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাইল, জামগড়া, পল্লী বিদ্যুৎ, জিরাবো, নয়ারহাট, ইয়ারপুর, আশুলিয়া বাজার, কাঠগড়া এলাকাসহ নবীনগর-চন্দ্রা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়ক এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। সড়কের মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা, যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা, হঠাৎ দিক পরিবর্তন, উল্টো পথে চলাচল এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রায়ই যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী এসব সড়ক ব্যবহার করেন। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। নিবন্ধন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় তারা মহাসড়কসহ ব্যস্ত সড়কেও ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছেন। এর ফলে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, যা পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি জি. এম. মিন্টু বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা সাধারণ মানুষের যাতায়াতে প্রয়োজনীয় হলেও মহাসড়ক ও ব্যস্ত প্রধান সড়কে এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, চালকদের প্রশিক্ষণ, বিকল্প সড়ক নির্ধারণ, নিয়মিত অভিযান এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, স্বল্প দূরত্বে ব্যাটারিচালিত রিকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। তিনি নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, লাইসেন্সিং, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কয়েকদিন পরই পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যায়। তাই তারা প্রশাসনের টেকসই ও কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল আইনসম্মত নয়। এসব যানবাহনের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আশুলিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, শিল্পকারখানার সম্প্রসারণ এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন না হলে ভবিষ্যতে যানজট ও দুর্ঘটনার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক সড়ক নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

