আজ রবিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বন্ধ শিল্পে প্রাণ ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় পুনঃঅর্থায়ন ও সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ ঘোষণা দেন।

গভর্নর বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। একসময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থাকলেও তা পরে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে তা আরও কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতও বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, অর্থপাচার এবং আমানতকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে চাঙা করতে বিশেষ এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১৯ হাজার কোটি টাকার সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে ৫ হাজার কোটি টাকা, কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হিমায়িত মাছ ও ফিশ এক্সপোর্টে ২ হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে ১ হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গভর্নর জানান, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। এটি ঋণ নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এ তহবিল পুরোপুরি কার্যকর হলে শিল্পকারখানা পুনরায় সচল হবে, কৃষি উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ঋণ দেওয়া হবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে, যাতে আনসার ও ভিডিপির লাখো সদস্য উপকৃত হবেন।

সুদের হার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে এবং ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। ফলে বড় ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু হবে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

 

- Advertisement -
- Advertisement -