রিপন পাল:
“গোটা দেশের মত রূপগঞ্জেও তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে| তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন| তার সাথে যোগ হয়েছে মরন যন্ত্রনার লোডশেডিং| একে তো তাপদাহ তারওপর লোডশেডিং যেন মরার ওপর খঁরার ঘা আরকি| উৎপাদন কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে লোডশেডিংয়ের দরুন| এভাবে চলতে থাকলে আমরা তো শেষ হয়ে যাব” এভাবে কথাগুলো বলেন রূপগঞ্জের ব্যবসায়ি আব্দুল হালিম মিয়া|
এলাকাভেদে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে| বিদ্যুতের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় এবং দফায় দফায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না আসায় ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা| বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং চলায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটছে |
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে| গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুর আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ| সেই সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে| এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং|
শিল্প-কারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন লোডশেডিং শিল্প-কারখানার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে| জেনারেটরের মাধ্যমে কারখানা সচল রাখতেও জ্বালানি ¯^ল্পতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে| তারা বলছেন, এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে শিল্প-কারখানাগুলো সচল রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে|
মা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের ¯^ত্বাধিকারী আনোয়ার বলেন, লোডশেডিংয়ে কখনো দুই থেকে তিন ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না| সময়মতো গ্রাহকদের মাল ডেলিভারি দিতে পারছি না| শ্রমিকদেরও বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে| এভাবে কতদিন চলতে পারবো বুঝতে পারছি না|
ফয়সাল সাজঘরের ছালাউদ্দিন বলেন, এই কাঠফাটা গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া দোকানদারি করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে| একবার বিদ্যুৎ গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা আর খবর থাকে না|
লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়, যেখানে নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন—বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই অনিয়ম কেবল আরাম-আয়েশ নয়, বরং মানুষের মৌলিক জীবনযাত্রাকেও পঙ্গু করে দিচ্ছে|
এসএসসি পরীক্ষার্থী মারিয়া, নেহাল মিয়া বলেন, একবার বিদ্যুৎ গেলে আর আসে না| কারেন্ট ছাড়া পড়ালেখা করতে সমস্যা হচ্ছে| পরিস্খাও ভাল হচ্ছে না| এর দায় কে নিবে|
পূর্বাচল জোনাল অফিসের ডেপুটি ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম বলেন, ১৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি ৮০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট| ৫০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে| এই ঘাটতি পূরণে আমাদের লোডশেডিং করতে হচ্ছে| জ্বালানি সংকটে এই পরিস্থিতি ˆতরি হয়েছে| নির্বিঘ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে আমাদের প্রচেষ্টার কোন ঘাটতি নেই|
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ইরান যুদ্ধে ˆবষয়িক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে| আমাদের প্রতিদিনের চাহিদা রয়েছে ২৬০ মেগাওয়াট| সরবরাহ করা হচ্ছে ২০০ মেগাওয়াট| গড়ে ২০ শতাংশেরও বেশি ঘাটতি রয়েছে| ধৈর্য্যরে সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে| যুদ্ধ স&ভাবাবিক হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
আলোকিত প্রতিদিন /২৫ এপ্রিল ২০২৬ /মওম
- Advertisement -

