আজ শনিবার, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জুয়ার টাকার লোভে এসএসসি পরীক্ষার্থী হ*ত্যা, গহনা লুট-গ্রেপ্তা*র-১

আরো খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ধামরাই, ঢাকা
ঢাকা, ২৫ এপ্রিল ২০২৬:
ঢাকার ধামরাইয়ে জুয়ার টাকার লোভে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনায় শামীম ওরফে স্বপন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধামরাই থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান। এর আগে শুক্রবার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে ধামরাই পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত নাহিদা আক্তার (১৬) ওই বাসায় তার নানীর সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের বাণিজ্য বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার সময় নাহিদার নানী বাসার বাইরে ছিলেন। পরে ফিরে এসে ঘরের দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে নাতনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পর নাহিদার কানের দুল, গলার চেইন ও আঙটি লুট হয়ে যায়। তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ শামীম ওরফে স্বপনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি একই বাড়ির ভাড়াটিয়া এবং ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, অর্থসংকট ও অনলাইন জুয়ার আসক্তির কারণে তিনি এই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। পূর্বপরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে একপর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীকে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পেষণ পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, “অনলাইন জুয়া একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হয়ে উঠছে, যা অপরাধ প্রবণতা বাড়াচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -