প্রতিনিধি, ধামরাই : ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিয়া উদ্দিনের বিরুদ্ধে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই ইউপি সদস্য জিয়ার ছেলেসহ প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে সেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই ইউপি সদস্য।
অভিযোগে জানা গেছে, বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. জিয়া উদ্দিন এলাকার বেশ কয়েক জনকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন-চার হাজার করে টাকা নিয়েছেন। গোপনে নিজের ছেলে ও আত্মীয়স্বজনদের প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভাতার কার্ড করে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন তিনি।
বালিয়া ইউনিয়নের ভাবনাটি গ্রামের প্রতিবন্ধী আরিফুল ইসলাম সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, তারা প্রায় এক বছর আগে জিয়া মেম্বারের কাছে বয়স্ক ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পেতে চার হাজার করে টাকা দেন। তাকে চাপ দিলে কয়েকদিন আগে কার্ডগুলো দিয়েছেন। কিন্তু এর আগে ওই সব কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন মেম্বার।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান বলেন, ‘ইউপি সদস্য জিয়া এমন আরও অনেক দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে কার্ড দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।’ যারা নিরীহ অসহায়ের টাকা আত্মসাত করে তারা জনগণের সেবক হতে পারে না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য জিয়া বলেন, ‘এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’ আরিফুল নিজেই প্রতিবন্ধী কার্ডের টাকা উত্তোলন করে। তবে তাঁর ছেলের নামে প্রতিবন্ধী কার্ডের কথা স্বীকার করেন। এ প্রসঙ্গে ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ওই ইউপির চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক জানান, বর্তমানে করোনাভাইরাস মোকাবিলা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আর এবিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন / সা হা
- Advertisement -

