1:31 pm |আজ রবিবার, ১৭ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১লা আগস্ট ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জিলহজ ১৪৪২ হিজরি

সংবাদ শিরোনাম:
এলো শোকের মাস আগস্ট অসহায় মানুষের পাশে মানিকগঞ্জ জেলা পুুলিশ সুপার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শোকদিবসে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশ কিশোরগঞ্জে গৃহহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দেন এম পি সৈয়দ জাকিয়া নুর লিপি টাঙ্গাইলে ছেলের হাতে বাবা খুন আটপাড়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকার ভোগীদের সাথে মতবিনিময় সভা চাকরি বাঁচানোর তাগিদে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ শরীয়তপুরের জাজিরায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাতভর ভাঙচুর টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত: ভেসে গেছে মাছের ঘের ও ফসলি জমি আটপাড়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 
খুলনায় সুপেয় পানি সমস্যা সমাধানসহ ৮ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

খুলনায় সুপেয় পানি সমস্যা সমাধানসহ ৮ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধি, খুলনা:
খুলনা মহানগরীতে সুপেয় পানির সংকট-সমস্যার সমাধানে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে খুলনা সুপেয় পানি আন্দোলন কমিটি। শনিবার (২৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এসময়ে খুলনার ওয়াসার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন নেতৃবৃন্দ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক নেতা এড. কুদরত-ই খুদা। উপস্থিত ছিলেন সংবিধান প্রণেতা এড. এনায়েত আলী, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দীসহ বিশিষ্টজনেরা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, দেশের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী খুলনার অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে সুপেয় পানির প্রাপ্যতা। ১৮ লাখ মানুষের ৪৬ বর্গকিলোমিটারের খুলনা মহানগরীতে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয়। বিভিন্ন স্থানে দিন রাত পাম্প চালিয়েও ভূগর্ভস্থ পানি উঠছে না। যাদের বাড়িখে মা আছে তারাও থাবায় পানি পাচ্ছে না। তারাও ছুটছেন অন্য কোথাও খাবার পানির সন্ধানে। যাদের টাকা আছে তারা জিপ-টিউবয়েলের সাথে সাবমার্সিবল পাম্প বসানাের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে এর অন্যতম কারণ নিয়মহীন মুখস্থ পানি তোলা। মে মাসে কোথাও কোথাও তা সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৩৭ ফুটে নেমেছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭ থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। খুলনা ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে। এ অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব-সহনশীল টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে উপরস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে ২০১৩ সালে ২ হাজার ৫৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকায় খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প” নামে মেগা প্রকল্প গ্রহন করে খুলনা ওয়াসা। অর্থায়ন করে বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) ফান্ড ৭৫০ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, ঋণ প্রদান মুছে এডিবি ৫২৩ কােটি ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ও জাইকা ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। প্রায় ৪৫ কিলােমিটার দূরে অবস্থিত মধুমতি নদী থেকে পানি সংগ্রহের পর তা পরিশােধনের মাধ্যমে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে সরবরাহ করার । দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, খুলনা ওয়াসার এই প্রকল্প আশাহত করেছে। এই প্রকল্প যথেষ্ট মাত্রায় পানি সরবরাহ করতে পারছে উপরন্তু শুষ্ক মৌসূমে নােনা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ করছে। বর্তমানে ওয়াসার চারটি জোনের ৫৮টি গভীর নলকূপ থেকে মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। নগরীর প্রায় ১৮ লাখ মানুষের প্রতিদিনের পানির চাহিদা ২৪ কোটি লিটার। প্রকল্পের অধীনে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দ্বারা ১১ কোটি ৭০ লক্ষ লিটার পানি পরিশােধন করা সম্ভব। সূত্রমতে, গত ৪ মে খুলনা ওয়াসা পরিশােধন কেন্দ্রের রিজার্ভার থেকে তিন কোটি ৪৯ লাখ লিটার এবং নলকূপ থেকে দুই কোটি ৪৮ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করেছে। তাহলে ওইদিনে ওয়াসা মধুমতি ও নলকুপ দিয়ে মােট ৫ কোটি ৯৭ লক্ষ লিটার পানি সরবরাহ করেছে খুলনা শহরে। খুলনা শহরের মোট হাউজহােল্ড হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার। প্রকল্পের অধীনে ৪৫ হাজার বাড়ির পানির চাহিদা মেটানাের কথা বলা হলেও বর্তমানে পাইপ লাইনে সরবরাহ করা হয় ৩৬ হাজার বাড়িতে। তাহলে বাকি প্রায় ৪৪ হাজার হাউজহােন্ডের প্রয়ােজনীয় ১৮ কোটি ৩ লক্ষ লিটার পানির সরবরাহ সংকট থেকেই যাচ্ছে। এই সংকট মােকাবেলায় খুলনা নগরীতে প্রতিদিন ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ভূগর্ভস্থ পানি উঠছে প্রায় ২২ কোটি লিটার। আরও বলা হয়েছে, ২ হাজার ৫৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে “খুলনার ওয়াসা প্রকল্প” বর্তমানে মাত্র তিন কোটি ৪৯ লাখ ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করে। কিন্তু ওয়াসার কি-পারফরমেন্স ইন্ডিকেটর (কেপিআই) অনুযায়ী ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহ করার হার নির্ধারণ করা হয় ২০১৭-১৮ সালে ৪%, ২০১৮-১৯ সালে ৪৮% এবং ২০১১-২০ সালে ৬৫%। এই ইন্ডিকেটরগুলির সাথে বাস্তবের যে কোন মিল নেই, তা পরিষ্কার। বর্তমানে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া ও মধুমতি নদীতে লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ওয়াসা নগরবাসীকে মানসম্মত পানি সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১১ সালের মার্চে জাইকা-র ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছিল এনজেএস কনসালটেন্ট কোং লিমিটেড সেখানে ওয়াসা কর্তৃক সম্পাদিত একটি স্টাডির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, যে এলাকায় এই টাছি সম্পন্ন হয়েছে সেখানের পানিতে ক্লোরাইডের উচ্চ মাত্রার উপস্থিতি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথাগত শােধনের মাধ্যমে পানিতে বিদ্যমান ভারী ধাতু অপসারণ করা যাবে না। পরিশােধন কেন্দ্রে নদীর পানির ময়লা- দুর্গন্ধ, রোগ-জীবাণু পরিশোধনের ব্যবস্থা থাকলেও রাখা হয়নি লবণাক্ততা শোধনের কোন ব্যবস্থা। প্রকল্পের অধিনে ১.২৫ এমএলডি, ৫.৫ এমএলডি, এবং ১০০ এমএলজি সারফেস ওয়াটার টমেন্ট প্লান্ট-এর কথা বলা হয়েছে। এই ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কি লবন পানি শােধন করতে পারে?

আলোকিত প্রতিদিন/২৯ মে, ২০২১/ দ ম দ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

All rights reserved. © Alokitoprotidin
এস কে. কেমিক্যালস এগ্রো লি: এর একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান