আজ সোমবার, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ।   ১৭ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

অখাদ্য নির্মাণের কারণেই রুচিশীল দর্শক হারাচ্ছি : জাকারিয়া আজাদ

-Advertisement-

আরো খবর

- Advertisement -
- Advertisement -

আবু নেসার শাহীন : জাকারিয়া আজাদ, প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ স্ক্রীপ্ট রাইটার। সমসাময়িক তার লেখা নাটক বেশ নন্দিত হয়েছে। পেয়েছে দর্শক প্রিয়তা। `নাট্য জগতে তার পথচলা ও বর্তমান প্রেক্ষিতে নাটক’ -এ বিষয়ে জাকারিয়া আজাদ -এর সঙ্গে কথা বলেছেন- আবু নেসার শাহীন। সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতকারটি আলোকিত প্রতিদিন -এ তুলে ধরা হলো।

১. আপনার লেখা প্রথম নাটক কোনটি ? ডিরেক্টর কে ছিলেন ? এটি কোথায় প্রচার করা হয় ?

  • প্রথম নাটক ছিলো  ‘চশমা পরিবার’ । ডিরেক্টর ছিলেন- শামীম জামান । অভিনয়ে ছিলেন– মোশাররফ করিম, শখ, মনিরা মিঠু, শামীম জামান, আ খ ম হাসান, তারেক স্বপন প্রমূখ । নাটকটি সম্প্রচার করা হয় – বৈশাখি টেলিভিশনে ।
    ‘চশমা পরিবার’ নাটকটি সম্প্রচারের পর দর্শক এবং নাট্যাংঙ্গনের বিভিন্নজনদের আগ্রহ দেখে আরো কিছু নাটকের কাজ করেছি এবং নতুন কিছু নাটকের কাজ হাতে নিয়েছি । কিন্তু ব্যবসায়িক এবং মহামারি করোনার কারণে কিছুদিন লেখার কাজ নিয়মিত হয়ে ওঠেনি ।  তবে ইদানিং আবার লেখায় নিয়মিত হয়েছি । বাংলাদেশ টেলিভিশনের আমি একজন নিবন্ধিত গীতিকার ।

২.  নাটক লেখার শুরুর গল্প বলুন ? এ পর্যন্ত কয়টি নাটক প্রচার হয় ?

  • সেই কৈশর থেকেই আমার লেখালেখির প্রতি দূর্বলতা । বাংলাদেশের সব কয়টি জাতীয় দৈনিকের সাহিত্য পাতায়, শিশুকিশোর পত্রিকাসহ বিভিন্ন লিটলম্যাগ এ নিয়মিত লিখতাম । এ পর্যন্ত কয়েকটি উপন্যাস এবং ছড়ার বই প্রকাশ পেয়েছে ।
    আমার ছোট ভাই জাহিদ আনোয়ারের উৎসাহে ‘চশমা পরিবার’ শিরোনামে নাটকটি লিখে ফেলি । তারপর শামীম জামান ভাইকে নাটকটির সিনোপসিস দেখালে তিনি প্রচন্ড আগ্রহ প্রকাশ করেন । এরপর থেকেই চলছে লেখার ধারাবাহিকতা। ‘চশমা পরিবার’ এর পর মাই টিভিতে ‘বাহারি ক্ষুধা’ শিরোনামে ছয় পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটক সম্প্রচার হয়েছে । এর মধ্যেই একটি সিঙ্গেল নাটক ‘বিয়া করুম না’ সম্প্রচার হয়েছে চ্যানেল নাইনে ।
    এছাড়াও প্রায় বিশটি নাটকের কাজ হয়েছে বিভিন্ন চ্যানেলে  এবং  কয়েকটির শ্যুটিংয়ের কাজও চলছে । ইউটিউবসহ স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলে প্রচার লক্ষ্যে কিছু পরিচালক স্ক্রিপ্ট নিয়েছেন এবং কেউ কেউ নতুন স্ক্রিপ্ট চেয়েছেন ।

৩. বর্তমান প্রেক্ষাপটে নাটক লেখাকে পেশা হিসেবে নেওয়া যায় কিনা ?

- Advertisement -
  • কেন নেয়া যাবে না ! নিয়মিত মান সম্মত স্ক্রিপ্ট লেখার প্রতি সুযোগ্য সব ধরনের নির্মাতাগণের আগ্রহ রয়েছে । তাই  সহজেই বলা যায়, নাটক লেখাকে পেশা হিসেবে নেয়া যায় ।

৪.  অনেকেই স্ক্রিপ্ট ছাড়া নাটক তৈরি করছেন । এটা কীভাবে দেখেন ?

  • আর্কিটেক্ট এর ডিজাইন ছাড়া বহুতল ভবন নির্মানের মতন বিয়ষটি । যা যখন তখন ধসে পড়তে পারে । তেমনি স্ক্রিপ্ট ছাড়া নাটক দর্শকবৃন্দকে ইতিবাচক কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না । এমনকি, কোনো প্রকার সুষ্ঠ পরিচ্ছন্ন গল্পও থাকে না  তাতে।
    স্ক্রিপ্ট ছাড়া যা নাটক বলে প্রচারিত হয় তাকে আমি কোনোভাবেই নাটক বলি না । সেসব খামখেয়ালি ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন অখাদ্য নির্মাণ এবং প্রচারের কারণেই আজ আমরা রুচিশীল দর্শক হারাচ্ছি ।

৫. নাটক লেখা ছাড়া আর কী করছেন ?

  • ব্যবসা ।

৬.  টিভি চ্যানেল না ইউটিউব কোন মাধ্যমে নাটক বেশি জনপ্রিয় ?

  • সেই প্রচার মাধ্যম জনপ্রিয়তা পায়, যে প্রচার মাধ্যমটিতে দর্শকের পছন্দসই ‍কিছু প্রচার করা হয় । তাই আমি বলবো, টিভি চ্যানেল এবং ইউটিউব দু’টি দুই মেরু । একটি আন্তর্জাতিক মাধ্যম হয়েও হাতের মুঠোয় এবং অন্যটি আমাদের দেশীয় গণমাধ্যম, যা কিনা দেশ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বহন করে ।

৭. বেশির ভাগ নাটক দেখি কমেডি ধরনের । এটা কেন ?

  • কমেডি নাটকের প্রতি দর্শকদের চাহিদা আছে । মানুষ বাস্তবতার যান্ত্রিক কলে ক্লান্ত মানসিকতায় অধৈর্য্য হয়ে উঠেছে । তাই হাস্যরস কার্যকর উপাদান হতে পারে এক্ষেত্রে ।

৮. সমাজ বিনির্মাণে নাটক কী ভূমিকা রাখে ?

  • সাংস্কৃতিক বিষয়াদিতে লক্ষ্য করলেই একটি দেশের অভ্যন্তরীন গঠনব্যবস্থা অনুভব করা যায় । সেক্ষেত্রে শুধু নাটক নয়, সাংস্কৃতিক যেকোনো বিষয়ই পরোক্ষভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ।

৯. আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।

  • আপনাকেও ধন্যবাদ অফুরন্ত ।

আলোকিত প্রতিদিন/জেডএন

- Advertisement -
- Advertisement -