আজ , ।   
Home Blog Page 628

১৫ বছরে গুম, শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আলোকিত প্রতিবেদক: ১৫ বছরের গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ সোমবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন তিনি।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়াদের মধ্যে আরও আছেন, সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

সোমবার সকালে তাদের গ্রেপ্তারের আবেদন করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাজির করতে বলা হয়েছে।

এদিন শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের সংস্কৃতি চালু করে আওয়ামী লীগ সরকার। যারা গুম করতেন তাদেরকে পুরস্কৃত করা হতো।

র‌্যাব, ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই সবচেয়ে বেশি গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

খ্যাতিমান অভিনেতা প্রবীর মিত্র আর নেই

বিনোদন: প্রবীণ অভিনেতা প্রবীর মিত্র মারা গেছেন। সংকটাপন্ন অবস্থায় তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

আজ রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা মিশা সওদাগর। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান মিশা সওদাগর জানান তিনি।

প্রবীর মিত্র দীর্ঘদিন ধরে শরীরে অক্সিজেন স্বল্পতাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২২ ডিসেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

প্রবীর মিত্র ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পুরান ঢাকায় বেড়ে উঠেছেন। তার পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। স্কুলজীবন থেকেই তিনি নাট্যচর্চায় যুক্ত হন। স্কুলের ছাত্রাবস্থায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র।

১৯৬৯ সালে নির্মিত ‘জলছবি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয় তার।প্রয়াত এইচ আকবর পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি।

প্রবীর মিত্র অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে, ‘ফরিয়াদ’, ‘রক্ত শপথ’, ‘চরিত্রহীন’, ‘জয় পরাজয়’, ‘অঙ্গার’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সেয়ানা’, ‘জালিয়াত’, ‘মিন্টু আমার নাম’, ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘তরুলতা’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘পুত্রবধূ’ ‘মধুমিতা’, ‘অশান্ত ঢেউ’, ‘অলংকার’, ‘অনুরাগ’, ‘প্রতিজ্ঞা’।

প্রায় চার শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এ অভিনেতা। নান্দনিক অভিনয়ের জন্য বরাবরই প্রশংসিত প্রবীর মিত্র। কিন্তু দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার পুরস্কার ভাগ্য প্রসন্ন নয়।

কেবল ‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। শারীরিক অসুস্থতার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে অনিয়মিত তিনি। এ সময় ঘরবন্দিই কাটছিল তার দিন-রাত তার জীবনে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাগরপথে ৩৬ রোহিঙ্গা টেকনাফে অনুপ্রবেশ

হেলাল উদ্দিন: টেকনাফ মাছ ধরার বোটে সাগর পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফ অনুপ্রবেশ করলো নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৩৬ জন রোহিঙ্গা।
রোবার দুপুরে  টেকনাফের সাবরাংয়ের মুন্ডার ডেইল ঘাট এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে। তাঁরা এখন বিজিবির হেফাজতে রয়েছে তাদের ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবি। এদের মধ্য ৫ নারী ১০ শিশু ২১ পুরুষ রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে টেকনাফের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভের মুন্ডারডেইল ঘাট দিয়ে একটি ট্রলারে নারী-শিশুসহ ৩৬ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবপশ করেছে। তারা এখন বিজিবির হেফাজতে রয়েছে। এছাড়া বাহারছড়া ঘাট দিয়ে আরো একটা রোহিঙ্গা বোঝাই বোট সাগরে ভাসছে বলে জানা গেছে।’
চার দিন সাগরে ভাসমান থাকা মোঃ আলম জানান (৩০), আকিয়াবের পূর্বে নাঁশং এলাকায় আমাদের গ্রাম। সেখানে “মগ বাগি ” আরকান আর্মি  রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে তাই আমরা প্রাণে বাঁচতে  একটি কাঠের বোট নিয়ে গত পাঁচদিন আগে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করি। আজ আমাদের ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার একটি ট্রলার টেনে নিয়ে আমাদেরকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
একই এলাকার রোহিঙ্গা জাহের আলম জানান, আমাদের এলাকায় পাঁচটি মুসলিম গ্রাম আছে। সেখান থেকে জোরপূর্বক ভাবে ধরে নিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ করাচ্ছে। এবং রোহিঙ্গাদের দিয়ে জান্তার বিপক্ষে দাঁড় করাচ্ছে। যদি মগ বাগির দলে যোগ না দিলে রোহিঙ্গাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাই।মূলত রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতেছে আরাকান আর্মি । যুদ্ধ করার চেয়ে বাংলাদেশে মরলে ভালো হবে তাই বাংলাদেশে চলে আসি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো.এহসান উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।’
টেকনাফ ২ বিজিবির মেজর ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘সাগরপথে ৩৬ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের প্রতিহত করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আনোয়ারায় রাজাকার কমান্ডার জালাল চৌধুরীর স্মরণে শোকসভা, অসন্তোষ বিএনপি নেতা কর্মীরা

এম জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম: ১৯৭১—এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আনোয়ারা থানা রাজাকার কমান্ডার ছিলেন, রায়পুর ইউনিয়ন গহিরা গ্রামের জালাল উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রকাশ জউল্লা রাজাকার। যার নেতৃত্বে আনোয়ারার জনপদে স্বাধীনতাকামী শতশত নিরীহ মানুষ ও অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছে। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে শতশত নারী। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।

ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ১৪/১৫ টি গণকবর। যেই জল্লাদের নাম শুনলে এখনো শিউরে ওঠে গায়ের পশম। তাছাড়া জউল্লা রাজাকারের বড়ভাই নুরুল আনোয়ার চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা মুসলিম লীগের (প্রতিক্রিয়াশীল) সাধারণ সম্পাদক। প্রায় দেড়যুগ পর গত ৪ জানুয়ারী ২০২৫ শনিবার জউল্লা রাজাকারের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভার আয়োজন করেছে আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন। দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির চৌধুরী আনছার, পাবলিক প্রসিকিউটর ( পিপি) এডভোকেট ফৌজুল আমিন চৌধুরী। এই তিন নেতা ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির অন্যন্য নেতারা অনুষ্ঠানটি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

দোয়া মাহফিল ও শোকসভার বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজাকার সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, জালাল উদ্দীন আহমদ চৌধুরী আমৃত্যু বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং জেলা কমিটির সভাপতিও ছিলেন। অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেয়া বিএনপির একাধিক নেতারা আলোকিত প্রতিদিনের প্রতিবেদককে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জালাল উদ্দীন আহমদ চৌধুরী প্রকাশ জউল্লা ছিলেন, একাত্তরের তালিকাভুক্ত রাজাকার, তিনি ছিলেন একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী।

আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির ব্যানারে এই রাজাকারের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোকসভা আমাদেরকে ব্যথিত করেছে, মর্মাহত করেছে। এ বিষয়ে ৭১— এ মুক্তিযুদ্ধকালীন গ্রুপ কমান্ডার হাইলধর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মাষ্টার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আনোয়ারা থানা রাজাকার কমান্ডার জালাল চৌধুরী প্রকাশ জউল্লা রাজাকারের স্মরণে বিএনপি শোক সভার আয়োজন করেছে ? তিনি বলেন, ছি ছি ছি লজ্জা লজ্জা। বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসু মাষ্টার কথিত শোকসভার প্রতি ঘৃণা জানিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এশিয়াটিক সোসাইটির গবেষক সাংবাদিক জামাল উদ্দিন জানান, জালাল চৌধুরী প্রকাশ জউল্লা মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আনোয়ারার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণহত্যা, গণধর্ষণ, জ্বালাও—পোড়াও সহ নিকৃষ্টতর সব কাজ করেছে। আমি এই শোকসভার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। গবেষক জামাল উদ্দিন বলেন, রাজাকার কমান্ডার জউল্লার স্মরণ শোকসভার আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যারা কলঙ্কিত করেছে তারাও একদিন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। যেমনটি হয়েছে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পরিবার। আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, জালাল চৌধুরীর নামে কারা ব্যানার ঝুলাচ্ছে, কারা পোষ্টার লাগাচ্ছে, কারা শোকসভা করছে, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। বিএনপির নেতা—কর্মীরা সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ও লালন করে চলে। এসব বিষয় নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু সুফিয়ানের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বর্তমানে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটিতে সাবেক হওয়াতে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দৌলতপুরে ভূয়া জন্ম নিবন্ধনের তথ্য প্রকাশ করায় কর্মকর্তাকে হ*ত্যার হুমকি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে দুর্নীতির মাধ্যমে ৭৯৫ টি ভুয়া অবৈধ জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ফাঁস করায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম মোল্লাকে প্রাণনাষের হুমকি দিয়েছে কয়েকজন দুর্বৃত্তরা। এঘটনার প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী প্রশাসনিক কর্মকর্তার অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদে অবৈধ ৭৯৫ টি জন্ম নিবন্ধন রেজিস্ট্রার করা হয়।

গত ২০ অক্টোবর মোহাম্মদ সেলিম মোল্লা ওই পরিষদে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। পরে তিনি ৭৯৫ টি ভূয়া জন্মনিবন্ধনের তথ্যের বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এনিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদের ভিডাব্লিউবি চাউল বিতরণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের জৈন্তা ব্রিজের উপরে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ওৎ পেতে থাকা মুখোশ ও মাস্ক পরা অপরিচিত তিনজন মধ্য বয়সী যুবক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম মোল্লার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। পাশে থাকা অন্য যুবক বলে তোর কারনে আমাদের দুর্ণাম হয়েছে, তুই পরিষদে না আসলে আমাদের সমস্যা হতো না, তোর জন্য আমরা ঠিকমত কাজ করতে পারছি না। তোকে আজ শেষ বারের মত ওয়ার্নিং দিলাম। আবার দৌলতপুরে পেলে হাত পা ভেঙ্গে প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিমু।

একথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় দুর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে চরকাটারী ইউনিয়ন পরিষদের নতুন যোগদানকৃত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মোহাম্মদ সেলিম মোল্লা আলোকিত প্রতিদিন কে বলেন, আমি চরকাটারী ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে ৭৯৫ টি জন্ম নিবন্ধন লিপিবদ্ধ হওয়ার তথ্য ফাঁস করি। এ অবৈধ জন্ম নিবন্ধনের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সকল জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলে নিউজ হয়। সেই ক্ষোভে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। সেলিম মোল্লার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।

তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আহসানুল আলম বলেন, আমি অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সারাদেশের ন্যায় লংগদুতে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু (রাঙ্গামাটি) সুদীর্ঘ্য সতের বছর পর সারাদে ন্যায় দূর্গম পার্বত্যাঞ্চলের জেলা রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা, কেককাটা ও কম্বল বিতরণের মধ্য দিয়ে ছাত্র দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নানা কর্মসূচীতে পালিত হয়েছে।  ৫ জানুয়ারি (রবিবার) বেলা ১২ টায় উপজেলার মাইনীমুখ বাজার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের গৌরব ও ঐতিহ্যের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, জাতীয় ও দলীয় পতাকা,  উত্তোলন, আলোচনা সভা, ক্রেস্ট বিতরণ, কেককাটা এবং শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে পালিত হয়েছে।  লংগদু উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি মোঃ রায়হানুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তানজির হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্র দলের সহ-সভাপতি মোঃ শামসুল আলম মাসুদ।

 প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্র দলের বিপ্লবী সভাপতি মোঃ ফারুক আহমেদ সাব্বির,  বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনা রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী আকবর সুমন।  উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আবু নাছির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ সহ জেলা ও উপজেলার বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল ও ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ছাত্র দলের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন ।

এসময় বক্তারা বলেন,  বিগত সতের বছর আওয়ামী লীগের জুলুম, নির্যাত ও তাণ্ডবের ফলে আমরা নামাজ আদায় ও পবিত্র মাহে রমজানের রোজা রেখে ইফতার জোটেনি। খুনি হাসিনা ও কাউয়া কাদের বলতো পালাবোনা, কিন্তু সেই হাসিনা ও কাউয়া কাদের জুলাই বিপ্লবের পালিয়ে গিয়ে  ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে লংগদু উপজেলার ছাত্র ওয়াসিম শহীদ হয়েছেন।  বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পেটুয়া বাহিনী বিগত ১৫ টি বছর ধরে যে নির্যাতন,  জুলুম,অন্যায় করেছে তার মধ্যে  ছাড়া দলের কর্মীরা বেশী নির্যাতিত হয়েছে। কখনো দিনের ভোট রাতে, আবার কখনো এক তরফা প্রহসণের নির্বাচন মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। এদের অপতৎপরতা এখনো পর্যন্ত চলছে,  তাই বিএনপির পরিবারের খেয়াল রাখতে হবে যাতে খুনি হাসিনার দোসররা দলে ডুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। লংগদু উপজেলা ছাত্র দলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে  সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান বক্তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত

সাইফুল ইসলাম সবুজ, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রবিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ছাত্রদল জেলা শাখার পক্ষ থেকে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কোরআন তেলাওয়াত, দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দলীয় সংগীত গাওয়া এবং কবুতর মুক্ত করে দিনের কর্মসূচি শুরু করা হয়।
পরে একটা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। শোভা যাত্রায় ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে।
পরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক দুর্জয় হোড় শুভ‘র সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো,জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলি, যুবদলের আহবায়ক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম ঝলক
জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচার আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ছাত্রদল বাংলাদেশের গনতন্ত্র রক্ষায় অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী শাহাদতবরণ করেছে। আর আন্দোলনের মুল দায়িত্ব পালন করেছে বিএনপি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করে লাভ হবেনা। ছাত্রদল সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। এর জন্য নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নেত্রকোণার সীমান্তে ৩১ বিজিবি’র অভিযান, ৯৬৩ বোতল ফেনসিডিলসহ মিনি ট্রাক জব্দ 

শহীদুল ইসলাম রুবেল: নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) গোপালপুর সীমান্তে মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন অবস্থায় ৯৬৩ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মিনি ট্রাক জব্দ করেছে। নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এ এস এম কামরুজ্জামান (পিবিজিএম) রবিবার সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি ) এর দুর্গাপুর উপজেলার নলুয়াপাড়া বিওপি ক্যাম্পের ৬ সদস্যের একটি টহল দল আজ রবিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় টহল কালে দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় দ্রুতগামী একটি মিনি ট্রাককে সন্দেহ হলে ট্রাকটিকে থামানোর সিগনাল দেয়। এসময় ট্রাক থেকে চোরাকারবারিরা ট্রাক ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবির জোয়ানরা মিনি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৯৬৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার ও মিনি ট্রাকটি জব্দ করে।জব্দকৃত ফেনসিডিলসহ ট্রাকটি নেত্রকোণা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ভারতে পাচার করা হয় নারী, বিনিময়ে আসে গরু!

আলোকিত প্রতিবেদক:  রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মা-বাবা ও চার বোনের সঙ্গে থাকতেন বৃষ্টি (ছদ্মনাম)। টানাটানির সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ্যের আশায় চাকরি খুঁজছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে ফেসবুকে নদী আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। নদী তাঁকে পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে ভারতে পাচার করেন তিনি।

বৃষ্টিকে ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। পাঁচ মাস পর তিনি বেঙ্গালুরুর বন্দিদশা থেকে পালান। ২০২১ সালের মে মাসে বৃষ্টি কলকাতা হয়ে সীমান্ত পথে দেশে ফেরেন তিনি।

এ ঘটনায় একই বছর ১৯ জুন পাচার করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও আইনে মামলা হয়। 

বৃষ্টির এই ঘটনা শুধু একজন-দুজনের নয়। সংঘবদ্ধ পাচারচক্র এমন আরো অনেক তরুণীকে চাকরি দেওয়াসহ নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে ভারতে পাচার করে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীকে ভারতে পাচারে করে বিনিময়ে সেখান থেকে গরু নিয়ে আসা হয়।

রাজধানীর মগবাজার এলাকার দুই বান্ধবী মরিয়ম (ছদ্মনাম) ও মুক্তার (ছদ্মনাম) ক্ষেত্রেও বৃষ্টির মতো একই ঘটনা ঘটে। পাচারকারীরা মূলত এসব তরুণীর আর্থিক দুর্বলতার বিষয়টিকে কাজে লাগাচ্ছে তারা।

ভারতে মানবপাচারের ঘটনায় ২০২১ সালে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় করা পৃথক চারটি মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগ আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সিটিটিসির পরিদর্শক মো. সেলিম আকতার ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ তালুকদারের দেওয়া অভিযোগপত্রে আসামি রিফাদুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় ও আসামি নদী আক্তার ওরফে ইতি ওরফে নূরজাহানসহ ৫১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আরো ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও তাঁদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি৷ এ জন্য তাঁদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে আসামি রুবেল সরকার রাহুল ও আশরাফুল ইসলাম রাফি এখন কারাগারে। ২৮ আসামি পলাতক ও অপর আসামিরা জামিনে রয়েছেন।

ভারতে মানবপাচারে জড়িত অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইসরাফিল হোসেন খোকন, মো. তরিকুল ইসলাম, মো. আল আমিন হোসেন, আব্দুল হাই ওরফে সবুজ, সাইফুল ইসলাম, বিনাস সিকদার, মো. আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম রাফিসহ অন্যরা।

নারী পাচার করে গরু আনা হয় :

মানবপাচার চক্রের সদস্য আল আমিন হোসেনের বাড়ি যশোরের শার্শায়। স্বল্প শিক্ষিত এই ব্যক্তি জমিজমা সব বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পাচারে সক্রিয় হন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ভারতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত আছে।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘ভারতে আমি মেয়ে নিয়ে যেতাম এবং গরু নিয়ে ফিরতাম। আমার সঙ্গে মূলত শফিকুল, আক্তারুল, অলি, জয়ন্ত, শহীদ কাজ করে এবং তারা সবাই আমার গ্রামের। নদী চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঢাকা থেকে মেয়েদের এনে ভারতে পাচার করতেন।’

আল আমিন বলেন, ‘ঢাকা বা বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের বর্ডারে নিয়ে এলে আমিরুল, আব্দুল হাই ও সিরাজুল আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। তরিকুলের ইজি বাইকে করে আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দিত। মেয়েদের আমার বাড়িতে রাখতাম। বিনিময়ে জনপ্রতি ২০০ টাকা পেতাম। খোকন নিজে কিংবা সাইফুলের মাধ্যমে বিকাশ করত।

পুলিশ এলাকায় ঢুকলে নেছার উদ্দিন ও সাইফুল সতর্ক করে দিত। আমরা একটা মেয়ে ভারতে পাচার করতে পারলে জনপ্রতি এক হাজার টাকা পেতাম এবং নেছার উদ্দিনকে জনপ্রতি এক হাজার টাকা দিতে হতো। আমি প্রায় ৫০-৬০ জন মেয়েকে বর্ডার দিয়ে পার করেছি।’

৩০০-৫০০ টাকা পেতেন নৌকার চালক :

শার্শা থানার ভুলাটে মো. আমিরুল ইসলামের বাড়ি। তিনি নৌকা বা শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করে ভারতে পারাপারের কাজ করতেন৷ এ জন্য তিনি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পেতেন। গ্রেপ্তারের পর জবানবন্দিতে তিনি এসব তথ্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কমবেশি ৭০ থেকে ৮০ জনকে ভারতে পার করেছি। নেছার মেম্বারের সহযোগিতায় মেয়েদের আমরা ভারতে পলক মণ্ডল, বকুলের কাছে পৌঁছে দিতাম। পারাপারে কোনো মেয়ে ধরা পড়লে নেছার মেম্বার ছাড়িয়ে আনতেন।’

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী কালের কণ্ঠকে বলেন, যারা দেশের বাইরে থাকে, তারা স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে মানবপাচার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। অনেকে জামিন পেয়ে ফের এ ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাই ভারতে পাচারের ঘটনায় করা মামলাগুলোর তাড়াতাড়ি বিচার করা উচিত।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী সালমা আলী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনের সঠিক প্রয়োগ ও নজরদারি নেই। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ চক্র নারীদের ভারতে পাচার করে। এদের সঙ্গে সরকারের লোকজনও জড়িত। অত্যন্ত দ্রুত সময়ে বিচার শেষ করে দোষীদের সাজা নিশ্চিত করতে হবে।

ডিএমপির (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলার মেরিট অনুযায়ী তদন্তকাজ করি৷ মানবপাচারে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, আইনগত দিক বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও স্মরণসভা

মোঃ নুর হোসেন: শেরপুরের নকলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ আলহাজ্ব জাহেদ আলী চৌধুরীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের মুক্তিযুদ্ধা স্মৃতি বিদ্যানিকেতন মাঠে  এ স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
শহর  বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব কামরুল আলম খান লিটনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন
সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন ও তার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন শহর বিএনপি আহব্বায়ক আলহাজ্ব কামরুল আলম খান লিটন, থানা বিএনপির নেতা বেলায়েত হোসেন,  রজব আলী,  থানা বিএনপির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল, উপজেলা যুবদল সিনিয়র যুগ্ম আহব্বায়ক মোরাদুজ্জামান মাসুম, শহর যুবদল আহব্বায়ক মশিউর রহমান লুটাস, শহর যুবদল যুগ্ম আহ্বায়ক মীর হাসান, শহর যুবদল যুগ্ম আহব্বায়ক হাসান আলী সরকার, উপজেলা শ্রমিক দলের আহব্বায়ক জিয়ায়ুল হক জিয়া, উপজেলা তারেক দলের সদস্য সচিব হুমায়োন কবির,উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাহিবুর রহমান জয়, ৬ নং ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি  মিসকাত হোসেন আকাশ,শহর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম রিজন  ছাত্রদলের অন্যতম নেতা নাইস চৌধুরী প্রমুখ।
  এ সময় উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং বিএনপি দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বৃন্দ ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি