আজ , ।   
Home Blog Page 453

টাঙ্গাইলে ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, চালক নিহত

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আহত হয়। ১৯ মে সোমবার সকালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে৷ নিহত মো.মাহবুব(২৫)গাজীপুরের জমির উদ্দিনের ছেলে।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরীফ বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা একটি মোটরসাইকেল ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল স্লো করলে পেছনে থাকা একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়।
এসময়  পিছনের আরেকটি ট্রাক সামনের ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই পেছনে থাকা ট্রাকের চালক নিহত হয়৷ আহত মোটরসাইকেল চালককে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কবলিত গাড়িগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৯মে ২০২৫/মওম

নুসরাত ফারিয়ার নামে মামলা ছিলো বলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার নামে মামলা ছিল বলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন।

১৯ মে সোমবার সচিবালয়ে ঈদে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,নুসরাত ফারিয়া কি করছেন আমি জানি না। আমরা বলছি বিনা কারণে যেন শাস্তিভোগ না করে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলতে পারবো।

তিনি বলেন, নুসরাত ফারিয়ার নামে মামলা থাকলে আমরা কী করব? আসামি না ধরলে আবার আপনারা বলবেন, আসামি ছেড়ে দিয়েছে।

ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থের স্ত্রীর বিদেশ যাত্রা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো কেস নেই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে জানিয়েছেন- গরুর হাট এবং ঈদের সময়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, মহাসড়কের পাশে কোনো হাট বসতে পারবে না। গরুর হাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। গরু রাস্তা দিয়ে নামানো যাবে না; গাড়ি হাটের ভেতরে নিয়ে গরু নামাতে হবে। যেকোনো পরিবহন মাধ্যমে গরু পরিবহন করার সময় ব্যানারে হাটের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

তিনি বলেন, ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে এবং পরের তিন দিন পর্যন্ত বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। কোনো সময়েই রাতে বাল্কহেড চলবে না। গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। যারা এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৯মে ২০২৫/মওম

নগর ভবন ব্লকেড, যান চলাচল বন্ধ

আলোকিত প্রতিবেদক:

বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে টানা চার দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পর আজ নগর ভবন ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। মূল ফটক আটকে নতুন এই কর্মসূচি পালন করায় দক্ষিণ সিটির সব ধরনের সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

১৯ মে সোমবার সকাল থেকে ডিএসসিসির নগর ভবন ব্লকেড ঘোষণা করে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নগর ভবনের সামনে ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে এসে জড়ো হন তারা।

নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, আদালতের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরেও ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব ইশরাক হোসেনকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে টানা চারদিনের বিক্ষোভ শেষে নগরভবন ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেছেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গুলিস্তানের প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়েছে, ফলে ব্যস্ত এ এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

দক্ষিণ সিটির এক বাসিন্দা বলেন, যতদিন জনতার মেয়র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে শপথ পাঠ করানো না হবে, ততদিন আমরা একইভাবে নগর ভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাবো এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এদিকে গত পাঁচ দিন ধরে নগর ভবনের সামনে কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে আজও নগর ভবনের ভেতরে ঢুকতে পারছেন না সেবাগ্রহীতার। সে কারণে সেবাগ্রহীতাদের সেবা নিতে এসে ঘুরে যেতে হচ্ছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু তাদের কারণে আমরা সেবা নেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা স্বপরিবার দেশের বাইরে যাবো। তার আগে আমার ছোট মেয়ের জন্মনিবন্ধন নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে অনেক চেষ্টা করেও সেই সমস্যার সমাধান করতে পারছি না।

এদিকে গত  ১৭ মে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করা হয়েছিল। তাপস প্রভাব খাটিয়ে এই মামলা থামানোর চেষ্টা করেন। তখন আদালত আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সব আইনি পদক্ষেপ মেনে আমরা রায় পেয়েছি। কাজেই আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে যারা কথা বলছেন, তারা আদালত অবমাননা করছেন।

গেজেট প্রকাশের ২০ দিন পার হলেও তাকে শপথ করানো হয়নি জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা শপথ গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

গতকাল ১৮ মে রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বলেছে, ইশরাকের বিষয়ে মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে রিট আবেদনের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত আসার পর।

এতে বলা হয়, ইশরাক হোসেনের রায়ের বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়ম এবং অসঙ্গতি তুলে ধরে এবং শপথ আয়োজন করা থেকে বিরত থাকতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ গত ২৮ এপ্রিল লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

মো. মামুনুর রশিদ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের ২৭ মার্চের রায় ও ডিক্রি, নির্বাচন কমিশনের ২৭ এপ্রিল করা সংশোধিত গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন।

এছাড়াও প্রতারণামূলক রায় দেওয়ার জন্য নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আইন, বিচার এবং সংসদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাইকোর্টে রিট মামলা বিচারাধীন অবস্থায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী এমন আন্দোলন আদালতের প্রতি অনাস্থা অথবা অবমাননার শামিল। নাগরিক সেবা ব্যাহত ও অচলাবস্থা দূর করতে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।

এদিকে ন্যায্যতার প্রশ্নে হলেও বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ পড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ন্যায্যতার প্রশ্নে হলেও ইশরাককে শপথ পড়াতে হবে। একই প্রক্রিয়া চট্টগ্রামের শাহাদাৎ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব পেলে তিনি পাবেন না কেন! আদালতের রায় নিয়ে ইচ্ছেকৃতভাবে জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ এই আইনজীবীর।

আরেক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ইশরাকের মেয়রের শপথের কোনও বাধা নেই। যেহেতু আদালতের রায়ের পর ইসি গেজেট প্রকাশ করেছে। স্বাধীন এই সংস্থা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে তাকে শপথ পড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, শপথ না পড়িয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আইনি পরামর্শ চাওয়ার নেপথ্যে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

ডিএসসিসির সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতার বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, নগরভবন কেন্দ্রিক সব সেবাই বন্ধ। জোনাল অফিস কেন্দ্রিক সেবাগুলো গতকাল পর্যন্ত চালু থাকলেও আজ সেটিও বন্ধ। এ নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত না এলে জনগণের আরও বেশি ভোগান্তি হবে।

এদিকে নগরভবনে কর্মরত অনেক কর্মচারী আজও ব্লকেড কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের বিষয়ে ডিএসসিসির এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সরকার ট্রেড ইউনিয়ন চালু করায় এই সুযোগ তারা পেয়েছেন। তবে তাদের কার্যক্রম আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হন। গেল ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। রায়ের কপি পেয়ে ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় নির্বাচন কমিশন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৯মে ২০২৫/মওম

 

 

পাকিস্তানের পাল্টা হামলা ভারতের সীমান্ত এলাকায় ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে

টানা বেশ কয়েকদিনের হামলা, পাল্টা হামলা এবং উত্তেজনার পর সম্প্রতি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে ভারত ও পাকিস্তান। এরপর উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তারা নিয়মিত একে-অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়াচ্ছেন।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভারত এবং পাকিস্তানের মাঝে উত্তেজনার পারদ কমে এলেও সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সীমান্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ছাপ খুব স্পষ্ট। মূলত পাকিস্তানের হামলায় ভারতের সীমান্ত এলাকায় ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এছাড়া হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে শত শত গ্রাম। ঘরছাড়া হয়েছেন অসংখ্য পরিবার। ১৯ মে সোমবার পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং তার পাল্টা পাকিস্তানি হামলায় ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরহারা হয়েছেন বহু পরিবার।।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, অপারেশন সিন্দুর ও তার পাল্টা পাকিস্তানি হামলায় কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর শত শত গ্রাম বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই সব এলাকা ঘুরে যা দেখেছেন, সেই ছবি মর্মান্তিক।

জানা গেছে, পাকিস্তানি হামলায় ১০ হাজারেরও বেশি বাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে। ঘরছাড়া অসংখ্য পরিবার। সীমান্তবর্তী পুঞ্চ, কুপওয়ারা, বারামুলা ও রাজৌরির গ্রামগুলো সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে শোচনীয় অবস্থা জম্মুর পুঞ্চ জেলার। পাকিস্তানি হামলায় নিহত ২২ জনের মধ্যে ১৪ জনই পুঞ্চের।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য আজাজ জান জানান, এই জেলার ৯০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৬০টিতে হাজার হাজার বাড়ি এবং ভবন গুঁড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এত বড় মাপের হামলা এর আগে এই এলাকায় হয়নি। পুরো এলাকায় একটিও বাড়ি দাঁড়িয়ে নেই। পাহাড়ি এলাকায় টিনের চালের বাড়ি কি এই হামলা রুখতে পারে! শেল ফেটে যে একটা বাড়ির ক্ষতি হয়েছে তা নয়, শ্র্যাপনেলে চারপাশের বাড়িরও বিপুল ক্ষতি হয়েছে।”

ভারতীয় এই সাংসদ জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৪০ শতাংশ নিজে ঘুরে দেখেছেন। এলাকাটি ভূকম্পনপ্রবণ বলে মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বাড়ির কাঠামোগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত, যে-কোনও মুহূর্তে একটি মৃদু কম্পনেই ভেঙে পড়তে পারে।”

এই পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে তার আবেদন, বাড়ি-ঘর পুনর্নিমাণের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। অনেকে ঘরে ফিরতে পারেননি এবং অদূর ভবিষ্যতে একটা ভূমিকম্প হলেই ভয়ঙ্কর বিপদে পড়বেন এলাকাবাসী।

তার দাবি, পাকিস্তানি হামলায় নিহত মানুষকে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ পুঞ্চে এসে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্যের পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণের আশা করছি।”

এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্ত এলাকার উরি এবং কারনা অঞ্চলও। কারনায় একশোটিরও বেশি এবং উরিতে ৪৫৮টি বাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাংসদ জাভিদ আহমেদের কথায়, “সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যাওয়া বাড়ির জন্য ১০ লাখ এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের আবেদন জানিয়েছি।”

স্থানীয় তাংদার গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ রাশিদের কথায়, গোলাবর্ষণ শুরু হওয়ায় আমরা বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিলাম। শেলিং থামার পরে বাইরে এসে দেখি সব বাড়িঘর গুঁড়িয়ে গিয়েছে। তার মতো অসংখ্য মানুষ এখন আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছেন।

এদিকে পাকিস্তানের হামলায় এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাসির আসলাম ওয়ানি। তিনি জানান, দুর্গতদের আর্থিক সাহায্যের চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। তার কথায়, “পুর্নবাসন প্রকল্প থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

আলোকিত প্রতিদিন/১৯মে ২০২৫/মওম

বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা,এই সিদ্ধান্তে ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত নিজেও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিজেদের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পোশাকসহ বেশ কিছু পণ্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষতির মুখে পড়বে খোদ নিজেরাও।

মূলত ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান এবং পরিবহন খাতে প্রভাব পড়তে পারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে কড়াকড়ির ফলে সীমান্ত রাজ্যে প্রভাব পড়লেও তাদের কাছে জাতীয় স্বার্থই বড়।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে  ১৮ মে রবিবার রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বাংলাদেশ থেকে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপের ফলে পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান এবং পরিবহন খাতে প্রভাব পড়তে পারে। তবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা।

গত শনিবার ভারত সরকার একটি নির্দেশিকায় বাংলাদেশ থেকে প্রস্তুত তৈরি পোশাক এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের মতো কিছু পণ্যের আমদানিতে নির্দিষ্ট বন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে। এর মাধ্যমে মূলত স্থলবন্দর দিয়ে এ ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশও ভারতীয় কিছু পণ্যের ওপর অনুরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (পিসিএএসডব্লিউএ) সদস্য কার্তিক চক্রবর্তী জানান, “ভারত তৃতীয় দেশের ট্রান্সশিপমেন্ট নিষিদ্ধ করার পরেও প্রতিদিন ২০-৩০টি ট্রাকে তৈরি পোশাক আসত। এই নতুন নির্দেশনার ফলে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। আগে যখন ট্রান্সশিপমেন্ট চালু ছিল, তখন ৬০-৮০টি ট্রাক পোশাক নিয়ে প্রবেশ করত।”

তিনি আরও বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সীমান্ত এলাকায় কর্মরত চালক, হেলপার এবং অন্যান্য লজিস্টিক কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এনডিটিভি বলছে, নাম প্রকাশ না করে একজন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কম দামে ভারতীয় খুচরা বাজারে ঢুকে পড়ছে, যার ফলে অনেক সময় দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এগুলোকে ‘ডাম্পিং’ও বলা যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে, যার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ এবং সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের (যেমন: ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক) সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তার মতে, “অর্থনৈতিক প্রভাব বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও জাতীয় স্বার্থের গুরুত্ব বেশি।”

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক এখন থেকে শুধুমাত্র নাভাশেবা এবং কলকাতা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে। কোনও স্থলবন্দর দিয়ে এই পণ্য ঢুকবে না।

অন্যদিকে, ফলমূল, ফল-স্বাদযুক্ত পানীয়, কার্বনেটেড ড্রিংকস, প্রক্রিয়াজাত খাবার (যেমন: বিস্কুট, চিপস, কনফেকশনারি), তুলা এবং তুলা বর্জ্য, প্লাস্টিকজাত ও পিভিসি পণ্য, ডাইস, প্লাস্টিসাইজার, গ্র্যানুলস ও কাঠের আসবাব— এসব পণ্যের আমদানি আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরামের এলসিএস (ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন) এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি এলসিএস দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কার্তিক চক্রবর্তী জানান, সমুদ্রপথে পণ্য আনতে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগে, যেখানে স্থলপথে সময় লাগে মাত্র ৩-৪ দিন। ফলে ব্যবসায়ীরা সমুদ্রপথে পণ্য আনতে উৎসাহী নন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৯মে ২০২৫/মওম

বহির্বিশ্বে যারা দেশকে রিপ্রেজেন্ট করবে, তাদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে: তারেক রহমান!

অনলাইন ডেস্ক : তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আমরা স্কুলের সিলেবাস ঢেলে সাজাতে চাই। সেখানে খেলাধুলা ও দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভূক্ত থাকবে। এর জন্য পরীক্ষায় আলাদাভাবে নম্বর থাকবে। তার মানে খেলাধুলা তাকে করতেই হবে। আমরা এটা অন্তর্ভুক্ত করে দেবো।

খেলাধুলার মাধ্যমে যারা বহির্বিশ্বে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করবে তাদের দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সকল বিভাগে একটি করে ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রয়োজনে খেলোয়াড় তৈরি করতে সিলেবাসে পরিবর্তন আনা হবে।

রোববার (১৮ মে) পশ্চিম লন্ডনের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৫ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ঢাকা শহরে ওয়ার্ড-ভিত্তিক খেলার মাঠ গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি। অন্তত দু’টি ওয়ার্ডের মাঝখানে যদি তিন থেকে চার বিঘা জমি বের করা যায়, সেখানে মাঠ করা হবে। বাচ্চারা খেলবে, মুরুব্বিরা হাঁটবে। মানুষ সেখানে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে। ঠিক এমন একটি চিন্তা আমাদের আছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা স্কুলের সিলেবাস ঢেলে সাজাতে চাই। সেখানে খেলাধুলা ও দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভূক্ত থাকবে। এর জন্য পরীক্ষায় আলাদাভাবে নম্বর থাকবে। তার মানে খেলাধুলা তাকে করতেই হবে। আমরা এটা অন্তর্ভুক্ত করে দেবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছি। এই নির্বাচনের জন্য আমাদের বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে। গুম হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এটি মানুষের রাজনৈতিক অধিকার। আমরা এর মাধ্যমে এমন একটি রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠান করতে চাই। যেই সরকার মানুষের রাজনৈতিক কল্যাণে কাজ করবে।’

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আজ একটি জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি। সকলে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটাকে গড়তে হবে। আমাদের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে মতপ্রার্থক্য থাকতেই পারে। গণতন্ত্রে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে এগিয়ে নেয়া, দেশের মানুষের নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

গাজীপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধিঃ গাজীপুর সদর উপজেলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও জোরপূর্বক জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী হাওয়া বেগম ও তার পরিবার।
রবিবার (১৮ মে) সকালে সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় এক সাংবাদিক কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হাওয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিকে বাড়ি, তালতলী দফাদারপাড়া এলাকায় সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দখল করে একটি পক্ষ অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ শুরু করে। এতে তারা রাস্তার অংশ আমাদের নিজস্ব জমির উপর চাপিয়ে দেয়। আমরা প্রতিবাদ করে দোকান নির্মাণে বাধা দিই। এ সময় শুকুর পলানের ছেলে শাহিনুর পলান (৪০) ও শারিকুল পলান (৩৭), কামাল হোসেনের ছেলে আশরাফুল (৩০) ও অমিত (২৭) সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের পরিবারের উপর হামলা চালায়।
হামলায় আমার ভাতিজা আতিক হাসান (১৭) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কিছু নেতৃবৃন্দ বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলে আমরা আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসি। কিন্তু পরবর্তীতে তারা কাওকে কিছু না জানিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই সাজানো অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পরে আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধেও একটি মামলা দায়ের করি।
এই ঘটনায় আমার ভাই সব্দুল হোসেন জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়।
হাওয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, এরপর থেকে তারা থানা ও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করে আসছে এবং জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। এমনকি আমাদের হত্যা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের পরিবারের সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ন্যায়বিচার ও মিথ্যা মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি চান।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

সাম্য হত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হলেও পুরস্কৃত পুলিশ!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিলেও এই মামলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হলেও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মূল হত্যাকারী এখনও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে এখনও।

এছাড়া ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে পুলিশের দুই পক্ষ।

হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও যে ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে সাম্য নিহত হন, তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাম্যর সহপাঠীসহ অন্যান্য ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

রহস্য উদঘাটন করেই পুরস্কৃত পুলিশ

এদিকে, দ্রুততম সময়ে সাম্য হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট টিমকে নগদ এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তার পরের দিনই (শুক্রবার) সাম্য হত্যায় জড়িত মূল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শাহবাগ থানা অবরোধ করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি-সাম্য হত্যার যিনি মূলহোতা, অর্থাৎ যিনি ছুরিকাঘাত করেছেন, সাদা শার্ট বা পাঞ্জাবি পরা সেই ব্যক্তি ও তার সব সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে হবে।

তবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে হত্যাকারীকে ধরতে পারেনি পুলিশ- অভিযোগ তুলে রবিবার আবারও শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার বর্ণনা ও হত্যাকাণ্ড-

প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৩ মে দিবাগত রাতে সাম্যর সঙ্গেই ছিলেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু আশরাফুল আলম রাফি ও আব্দুল্লাহ আল বায়েজিদ। ওই সময় খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে চড়ে রমনা কালী মন্দির গেট দিয়ে উদ্যানে প্রবেশ করেন তারা। পরে খাওয়া শেষে একটি শিশুর হাতে থাকা “টিজার গান” কাড়তে গিয়ে অন্য একটি পক্ষের মোটরসাইকেল ধাক্কা লাগে তাদের। আর এ নিয়েই শুরু হয় কথা কাটাকাটি, যা একপর্যায়ে প্রাণঘাতী মারামারিতে রূপ নেয় তখন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, “সেদিন আমাদের ইনস্টিটিউটের একটি প্রোগ্রাম ছিল। প্রোগ্রাম শেষ করে রাতে খাওয়া-দাওয়া করতে উদ্যানের গেটের দোকানগুলোতে যাই। ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে খাওয়া শেষে সেখান থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম। তার মধ্যেই এই বিপত্তি।”

তিনি বলেন, “মুক্ত মঞ্চের পাশে (হত্যাকাণ্ডের স্থানের পাশে) দুটি অল্পবয়সী শিশু ছিল। মন্দিরের গেট দিয়ে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ি নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের একজন আমাদের লক্ষ্য করে টিজার গান সদৃশ কিছু একটা মারে। শিশুদের হাতে এগুলো থাকা নিরাপদ না ভেবে সাম্য গাড়ি ঘোরায়। এ সময় আমরা বাচ্চাটিকে ধরতে গেলে সে পালনোর চেষ্টা করে। এ সময় সেখানে কয়েকজন বসে ছিলেন। তাদের দিকে আমাদের খেয়াল ছিল না। হঠাৎ তাদের একটি বাইকের সঙ্গে আমাদের (বাইকের) ধাক্কা লাগে। এরপরই ওই ব্যক্তিরা আমাদের ওপর তেড়ে আসে।”

ওই ঘটনায় আহত এই শিক্ষার্থী বলেন, “শুরুতে কথা কাটাকাটি হয়, পরে তারা প্রভাব দেখাতে চাইলে আমরাও উত্তেজিত হয়ে যাই। একপর্যায়ে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়া লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তি আমাকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করে। ১-২ মিনিটের মধ্যেই ঘটনার আকস্মিকতা সামলে দেখি, সাম্য উঠে দাঁড়িয়েছে। তারপর চোখ যায় তার পায়ের দিকে। দেখি, তার ডান পা রক্তাক্ত। তার পরপরই ধুপ করে পড়ে যায় সে।”

কথা বলতে গিয়ে এ সময় কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে বায়েজিদের। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, “এরপর আমরা ওকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নেওয়ার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাহায্য চাই, কিন্তু কেউ সে সময় এগিয়ে আসেনি। পরে একটি ছোট বাচ্চার সাহায্য নিয়ে ওকে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে নিয়ে যাই।”

মূলত তাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাদা শার্ট বা পাঞ্জাবি পরা এক যুবক বড় ছুরি জাতীয় কোনো অস্ত্র দিয়ে সাম্যর পায়ে আঘাত করেন। এর পরপরই তিনটি মোটরসাইকেলে করে তাদের ১০-১২ জনের একটি দল দ্রুত পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “অস্ত্রের আঘাতে সাম্যর ডান পায়ের উরুতে গভীর ক্ষত হয়। কাটা জায়গা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। হাসপাতালে নিতে নিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েই মারা যায় সে।”

পরে এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, “উরুর পেছনে শরীরের একটি অন্যতম প্রধান রক্তনালী থাকে, যাকে বলা হয় ফিমোরাল আর্টারি। এটিকে বলতে পারেন দেহের প্রধান রক্তনালীর একটি শাখা রক্তনালী, কিন্তু এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই রক্তনালী কেটে যাওয়ার পর হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।”

আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া-

এই ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরের দিন (বুধবার) সকালে রাজধানীর পৃথক তিনটি স্থান থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই শরিফুল আলম শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) ও পলাশ সরদারকে (২৮) আদালতে তোলে পুলিশ। এরপর তাদের প্রত্যেককে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন আসামিদের তিনজনই। তারা আদালতকে বলেন, “হয়রানি করার জন্য আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”

অন্যদিকে, গ্রেপ্তারদের অপরাধের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী বায়েজিদের দাবি, তারা ঘটনাস্থলেই ছিলেন। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার তিনজন আমাদের আক্রমণ করে মারধর করেছেন। তবে মূল হত্যাকারীকে ধরা হয়নি, তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইইআর-এর আরেক শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম রাফি হত্যাকারীর বর্ণনা দিয়ে বলেন, “যে তিনজনকে ধরা হয়েছে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তারা মূল হত্যাকারী নন। সাদা জামা কিংবা পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তি সাম্যকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ওই ব্যক্তির গায়ের রঙ ফর্সা; তাকে দেখতে মোটেও উদ্বাস্তুর মতো নয়।”

একই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ফারহান শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, “হত্যার দিন রাতে আমাদের ইনিস্টিটিউটের একটি প্রোগ্রাম ছিল। রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত আমরা সাম্য ভাইয়ের সঙ্গেই ছিলাম।”

তার দাবি, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছুরিকাঘাত এবং সোয়া ১২টার দিকে সাম্যকে মৃত ঘোষণা করা হলেও হত্যাকাণ্ডের ৬ ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থল অরক্ষিত ছিল। ঢাবি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে ঘটনাস্থলটি রক্ষা করে প্রমাণাদি বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “প্রধান আসামিকে ধরতে পারল না, অথচ শাহবাগ থানার তদন্ত টিমকে পুরস্কৃত করা হলো। পুলিশের এই ধরনের প্রহসনের তীব্র নিন্দা জানাই আমরা।”

পুলিশ কী বলছে

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম বলেন, “ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের ধরতে আমরা শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে তল্লাশি অভিযান শুরু করি। পরে শমরিতা হাসপাতাল থেকে একজন ও বিআরবি হাসপাতাল থেকে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করি।”

তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার ওই দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফোন নম্বর ট্র্যাক করে তৃতীয়জনকে ফার্মগেটের রাজাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়।” পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও দোয়েল চত্বরের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব?

এদিকে, পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে বিশ্লেষণ করছে বলে জানালেও রমনা কালী মন্দির ও বাংলা একাডেমি গেটের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন বায়েজিদ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ নাকি তাদের কাছে আছে। অথচ শাহবাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান আমাকে পার্সোনালি (ব্যক্তিগতভাবে) ডেকে বলেছেন, পুলিশ মন্দিরের গেট ও বাংলা একাডেমি গেটের সিসিটিভি ফুটেজ পায়নি।”

আক্ষেপ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, “রমনা কালী মন্দির একটি ধর্মীয় সেনসিটিভ (স্পর্শকাতর) জায়গা। মন্দিরের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ না পাওয়া ও বাংলা একাডেমির ফুটেজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশাসনের গাফিলতি আছে।”

তিনি বলেন, “তাদের (বায়েজিদ) সঙ্গে কথা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ অবশ্যই আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার পর দু-তিন চলে গেছে। আমরা বসেছিলাম না, কাজ করেছি। ঘটনার ক্লু বের করার চেষ্টা করছি।”

পরে এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট হওয়ার যে দাবি, সে বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে ওসি বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। আমরা অন্তত ১১টি আলামত জব্দ করেছি। এগুলো নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করছেন।”

বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে হত্যার বিচার-

সাম্য হত্যার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে শনিবার (১৭ মে) ঢাবি প্রশাসন ও ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীর মধ্যে বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।”

ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে উপাচার্যও সংহতি প্রকাশ করেছেন। ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, “অপরাধীদের আগামীকাল (রবিবার) থেকে রিমান্ড শুরু হবে। দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

এছাড়া আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ হত্যার বিচার কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে।”

বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত এক আনসার সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “উদ্যানের নিরাপত্তা রক্ষায় রাতের শিফটে আমরা মাত্র ৬ জন। এই ছয়জনের পক্ষে এতো বড় উদ্যানে টহল দিয়ে এসব বিষয়ের সমাধান করা কষ্টসাধ্য।”

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

মানিকগঞ্জে বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে প্রচারণা সমাবেশ 

মো: মহিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত ৩৬ দফা জাতীয় রূপকল্পের অংশ হিসেবে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিতে মানিকগঞ্জে এক প্রচারণা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৮ মে) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ শহরের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ (বিজয় মেলার মাঠ সংলগ্ন) এলাকায় এই সমাবেশের আয়োজন করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষক দল। এতে কৃষক দলের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের  নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কোনো রাজনৈতিক গিমিক নয়, বরং এটি দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী রূপরেখা। বর্তমানে দেশে যে দুঃশাসন চলছে, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েই চলেছে, এবং গণতন্ত্র প্রায় বিলুপ্ত সেই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন। এই কর্মসূচির মাধ্যমেই আমরা একটি সুশাসিত, উন্নত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচন নামের প্রহসনের মাধ্যমে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যে কারণে দেশের প্রতিটি সেক্টরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি হলো একটি সময়োপযোগী রূপরেখা—যা কেবল দলীয় নয়, এটি জাতীয় পুনর্গঠনের একটি কর্মপরিকল্পনা। এখন সময় এসেছে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রফিক উদ্দিন ভূইয়া হাবু, যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিন্নাহ খান, ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর রহমান খান সজীব। তারা বলেন, “বিএনপির ৩১ দফা কোনো একক দলের স্বপ্ন নয়। এটি একটি সার্বিক জাতীয় রূপান্তরের প্রস্তাবনা। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক দুর্নীতি দমন, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং জনগণের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ শেষে সাধারণ মানুষের মাঝে ৩১ দফা দাবির লিফলেট বিতরণ করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে পারে তবে জুনের পরে নয় : প্রধান উপদেষ্টা!

আলোকিত ডেস্ক : জাতীয় নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে, তবে ২০২৬ সালের জুনের পরে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না, সে বিষয় নিশ্চিত করেননি। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) দি ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো দুর্বল। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভঙ্গুর রয়েছে। বিপ্লবের ৯ মাস পরও বড় পরিবর্তন আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, `ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করবে, যা নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ খুলে দেবে এবং একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনে সহায়তা করবে।

 

ওই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ ইস্যুতে বলা হয়, ১২ মে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে, ফলে দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি