ঢাকা দক্ষিণের নব নির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে আরও এক হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেছেন যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ্ মধু। আজ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ মহানগরের ১ ও ৮ নং ওয়ার্ডের খিলগাঁও ও কমলাপুর এলাকায় এই খাদ্য বিতরণ করা হয়।
এসময় মধু বলেন, ‘করোনাকালীন দুর্যোগের প্রথম থেকেই অসহায় দুস্থদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত অস্বচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়িছি আমরা। আমাদের মেয়রের পক্ষে সব সময় ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছি। খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এই ত্রাণ বা সহযোগিতা দিতে গিয়ে অনেক ষড়যন্ত্রের শিকার হলেও আমরা থামিনি। আমরা থামবো না।’
তিনি সর্বস্তরের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। 
তিনি বলেন, ‘আপনার কাছের অন্তত দুইজনকে আপনার সাধ্যমত নিয়মিত সহযোগিতা করুন। দেখবেন, সবাই হাসিমুখে থাকবে এদেশে।’
মধু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিয়ে দেশবাসীকে করোনার হাত বাঁচাতে সব ধরণের কাজ করে চলেছেন। আমদেরকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে তার হাতকে সুদৃঢ় করতে হবে।’
খাদ্য বিতরণকালে ছিলেন খিলগাও থানা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম মাহবুব,
দক্ষিণ যুবলীগ মহানগর সহ-সভাপতি আবু সাঈদ মোল্লা ও মহানগর যুবলীগ নেতা এমএকে আজাদ, ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ইসমাইল হোসেন তপু, আওয়ামীলীগের ধর্মবিষায়ক উপ-কমিটির সদস্য এ কে আজাদ সরকার, মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সহসম্পাদক মো. ইমরান খান, যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজুর রহমান, হাজী রফিকুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।
ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মতিঝিল থানা ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমলাপুর জামে মসজিদের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম সেন্টু।
সর্বস্তরের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান দক্ষিণ মহানগর যুবলীগ সিনিয়র সহ-সভাপতির
না ফেরার দেশে কবি ও সাংবাদিক ফখরে আলম
::প্রতিনিধি, যশোর::
যশোরের প্রথিতযশা সাংবাদিক দৈনিক কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি কবি ফখরে আলম আর নেই। ষাট বছর বয়সী কবির কবিতায় ‘পাতাসি’ চরিত্রটি রয়েছে মানুষের মুখে মুখে। তিনি যশোর জেলা ব্রান্ডিং ‘নকশিকাঁথা ফুলের মেলা, খেজুরগুড়ের যশোর জেলা’ স্লোগানটি তারই রচিত।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আট বছর ধরে তিনি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি মা রওশন আরা বেগম, স্ত্রী নাসিমা আলম, কন্যা নাজিফা আলম মাটি ও পুত্র ফাহমিদ হুদা বিজয়সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
এদিন বাদ আসর যশোর জিলা স্কুল মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গ্রামের বাড়ি শহরতলীর চাঁচড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২য় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফখরে আলম ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে আমি ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি ভারতের টাটা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন। ২০১৮ সালের ০২ এপ্রিল ক্যান্সারের কারণে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন।
এদিকে, ফখরে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে) সভাপতি সাজেদ রহমান, সহ সভাপতি প্রণব দাস, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম রুবেল, কোষাধ্যক্ষ মারুফ কবীর এবং জেইউজে নির্বাহী সদস্য শফিক সায়ীদ ও জিয়াউল হক, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন’র সহ সভাপতি মনোতোষ বসু, যুগ্ম মহাসচিব সাকিরুল কবীর রিটন, নির্বাহী সদস্য নূর ইমাম বাবুল ও গোপীনাথ দাস, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি শহিদ জয়, সহসভাপতি মুর্শিদুল আজিম হিরু, সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক এসএম ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক ইকতিয়ার রহমান ইমন, কোষাধ্যক্ষ গালিব হাসান পিল্টু, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মীর কামরুজ্জামান মনি ও সদস্য সাইফুর রহমান সাইফ।

কবি ফখরে আলম ১৯৬১ সালের ২১ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। মা রওশনআরা বেগম গৃহিনী। বাবা শামসুল হুদা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭৭ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৭৯ সালে সরকারি এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৮১ সালে ঐ কলেজ থেকে তিনি বিকম পাশ করেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৫-৮৬ সালে ইত্তেফাক গ্রæপের সাপ্তাহিক ‘রোববার’ পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজের যশোর জেলা প্রতিনিধি পদে যোগ দিয়ে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। এরপর দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক যায়যায় দিন ও দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ১৯৯২ সাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০০ সালে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় তিনি এদেশে সবচেয়ে সাড়া জাগানো সিরিজ রিপোর্ট ‘সেই রাজাকার’ লেখা শুরু করেন। তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে যশোরে কয়েকটি বধ্যভূমি খুঁজে বের করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তাঁর দু’টি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি পত্র-পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর জানা-অজানা বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছেন। এ বিষয়ক ‘জানা-অজানা বঙ্গবন্ধু’ বলে তার একটি ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণা গ্রন্থ রয়েছে।
কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় ফখরে আলম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় তিনি ১৯৯৮ সালে বার্ক এর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। একই বছর তিনি কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় বিসিডিজেসি ও নোভার্টিজ এর ফেলোশিপ অর্জন করেন।
স্কুল জীবন থেকেই তিনি কবিতা লিখছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব পত্র-পত্রিকায় তার কবিতা ছাপা হয়েছে। বাংলা একাডেমীর উত্তরাধিকার ও পশ্চিমবঙ্গের শিব নারায়ন রায় সম্পাদিত জিজ্ঞাসা পত্রিকায় তার কবিতা স্থান পেয়েছে। ১৯৮০-৮১ সালে ফখরে আলম যশোর সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন কালে তিনি কলেজ বার্ষিকী সম্পাদনা করেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার কবিতা দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি ১৯৯১ সালে যশোর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় দেশ বিদেশের খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিকদের নিয়ে একটি সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করেন। এরপর ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি যশোর সাহিত্য পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি প্রথম পুরস্কার, পুষ্প প্রদর্শনী, সৌখিন ফুল পাখি চাষি পরিষদ-১৯৯৫, প্রথম পুরস্কার, বৃক্ষ মেলা, জেলা প্রশাসন-বন বিভাগ, যশোর-১৯৯৬, প্রথম পুরস্কার, বৃক্ষ মেলা, জেলা প্রশাসন-বন বিভাগ, যশোর-১৯৯৭, ফল বৃক্ষ রোপনে জাতীয় পুরস্কার, কৃষি মন্ত্রণালয় ২০০৬, বৃক্ষ রোপণে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় পুরস্কার- ২০০৭ সহ যশোরের কৃষি ও বৃক্ষ মেলায় অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
সাংবাদিকতায় ১৯৯৭ সালে মোনাজাতউদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার, একই বছর এফপিএবি পুরস্কার, ২০০০ সালে মধুসূদন একাডেমী পুরস্কার, ঐ বছরই বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম পুরস্কার, ২০০২ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার এবং বৃক্ষ রোপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ফখরে আলম ২০০৬ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পুরস্কার ও ২০০৭ সালে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। সাংবাদিকতায় ২০১১ সালে তিনি অশোক সেন স্মৃতি পুরস্কার পান। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবা দিবস উপলক্ষে ফখরে আলমকে জেগে ওঠো ফাউন্ডেশন সম্মাননা স্মারক প্রদান করে। ২০১৩ সালে ডিজিটাল যশোর বিনির্মাণে জেলা প্রশাসক তাকে সম্মাননা প্রদান করে। ফখরে আলম সাংবাদিকতায় ২০১৪ সালে প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক পুরস্কার, ২০১৭ সালে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠি পুরস্কার, একই বছর যশোর ব্র্যান্ডিং পুরস্কার, ২০১৮ সালে যশোর পৌরসভার ভৈরব পদকসহ আরও কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেন। একই বছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাঁকে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করে। ২০১৯ সালে যশোরের স্বগত কণ্ঠ তাকে কবি সম্মাননা প্রদান করে। এছাড়া এই বছর তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্যে সেরা প্রতিবেদক হিসেবে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক পান।
ফখরে আলমের ৩৮টি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি যশোরের চাঁচড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও কবরস্থানের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে), যশোর ইনস্টিটিউট, যশোর সাহিত্য পরিষদ, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম যশোরের সদস্য। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদসহ আরও কয়েকটি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্পৃক্ত ছিলেন।
আইডিয়ার পক্ষ থেকে মসজিদে জীবাণুনাশক বুথ স্থাপন
::প্রতিনিধি, যশোর::
আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা ও আইডিয়া পিঠা পার্কের পক্ষ থেকে যশোরের একটি মসজিদে স্থাপন করা হয়েছে জীবাণুনাশক বুথ। মুসল্লিদের করোনার প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে সদর উপজেলার খড়কীর ‘মসজিদে আম্মার’-এ এই জীবাণুনাশক এই বুথ স্থাপিত করা হলো। দেশীয় পদ্ধিতিতে তৈরি এটিই সম্ভবত প্রথম যশোরের কোন মসজিদে জীবাণুনাশক বুথ।
জানা যায়, কয়েক হাজার পরিবারকে নিয়মিত খাদ্য সুবিধা দিয়ে আসছে আইডিয়া সমাজকল্যাণ সংস্থা। দেড় মাসের অধিক সময় ধরে তারা তালিকা তৈরি করে ওই পরিবারগুলোকে নিয়মিত খাদ্য সহযোগিতা দিচ্ছে তারা। ফুরিয়ে যাওয়ার খবর মিললেই আবার পৌঁছে যাচ্ছে সেই ঘরে নতুন করে খাবার। এরই মাঝে শর্ত সাপেক্ষে মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হলে জবাণুনাশক বুথের চিন্তা করে তারা। পরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সে কাজ সম্পন্ন করে আইডিয়া স্বেচ্ছাসেবকরা।
জানতে চাইলে আইডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘করোনা পরিস্থিতিতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই বুথ স্থাপন করা হয়ছে। আগামীকাল থেকে শুরু হবে বুথের কার্যক্রম।’
বাম্পার ফলনের পরও দুশ্চিন্তায় কৃষক!
:: ইলিয়াস হোসেন, সাতক্ষীরা::
দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি নির্ভর জেলা সাতক্ষীরা। এ জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। করোনা পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন শ্রমিক পেতে ভোগান্তি, অন্যদিকে ধানের দাম নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। তবে কৃষকদের ধান কাটা এবং সরকারিভাবে ধান কেনার সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে এ জেলায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে। গতবারের তুলনায় এবছর বোরো ধানের ভাল ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস ভাবিয়ে তুলেছে তাদের। কেড়ে নিয়েছে তাদের মুখের সেই হাসি। কোথায় পাবে ধান কাটা শ্রমিক, আর কোথায় বা বিক্রি করবে এসব ধান তা নিয়ে যেন তাদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। তবে চাষিদের দাবি সরকার এ ব্যাপারে কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়াবে। তাদের উৎপাদিত ধান সুলভমূল্যে কেনার ব্যবস্থা করবে। তাহলে বাঁচবে কৃষক ও কৃষি।
সদর উপজেলার ব্রক্ষ্মরাজপুর বাজারের ধান ব্যবসায়ী ও চাতাল মোস্তাক আহমেদ জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে শ্রমিক সংকট ও আনুষঙ্গিক খরচ বেশি হওয়ায় সরকারের বেধে দেওয়া রেটে চাল বিক্রি সম্ভব না হওয়ায় অধিকাংশ চাতাল মালিকরা বন্ধ রেখেছে তাদের চাতাল।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবদি মো: নূরুল ইসলাম জানান, সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবার বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, কৃষকদের ধান ঘরে তুলতে শ্রমিক সহযোগিতার পাশাপাশি ধানে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করণে মধ্যস্বত্বভোগীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।
আক্রান্ত কিছুটা বাড়লেও ক্ষতি বেশি হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা যখন বেশি বাড়ছে, তখন লকডাউন শিথিল করায় বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কিত হলেও তেমন আশঙ্কা করছেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘মানুষের জীবিকার তাগিদে সরকারকেও সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা খুলে দিতে হয়েছে। এসব কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হয়ত আরও কিছু বৃদ্ধি পেতেও পারে। তবে এই বৃদ্ধি দেশে খুব বেশি ক্ষতিকর কিছু হবে না।’
বৃহস্পতিবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে নার্সিং ও মিড ওয়াইফারি অধিদপ্তরে নতুন ৫ হাজার নার্সের বরণ অনুষ্ঠানে জাহিদ মালেক একথা বলেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসের বিস্তার রোধে ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তার এক মাস পর ঈদের আগে সরকার যখন কিছু বিধি নিষেধ শিথিল করেছে, তখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত গতিতে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বুধবারই রেকর্ড ১ হাজার ১৬২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, রেকর্ড ১৯ জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারও হাজারের বেশি রোগী শনাক্তের কথা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা গত এক মাসে বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আমরা বেশি সংখ্যক আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে পারছি। যত বেশি আক্রান্ত মানুষ চিহ্নিত হবে, তত আক্রান্তের ঝুঁকিও কমবে। এই নমুনা পরীক্ষা খুব দ্রুতই ১০ হাজার এবং এরপর তা ১৫ হাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। এর জন্য সরকারের হাতে পর্যাপ্ত কিটসও মজুদ আছে।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাদুর্ভাব দেখেও সরকার সঠিক সময়ে যথাযথ ভূমিকা নেয়নি বলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বিস্তার লাভ করেছে বলে রয়েছে অভিযোগ। দেশের স্বাস্থ্যসেবার রুগ্ন দশাও চলছে বিস্তর সমালোচনা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আবারও বলেন, ‘সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেই আজ বিশ্বের আক্রান্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই কম। করোনায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় শুরু থেকেই জোরালো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। হাসপাতাল বেড বৃদ্ধি,পিপিই মজুদ বৃদ্ধি করাসহ এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।’
নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক চৌধুরী। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ৫ হাজার নিয়োগ দেওয়ায় এখন নার্সের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আরও ১৫ হাজার নার্স, মিডওয়াইফারি ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান।
করোনাভাইরাস: এক দিনে আরও ১ হাজার ৪১ আক্রান্ত, মৃত্যু বেড়ে ২৮৩
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
এক দিনে আরও ১ হাজার ৪১ জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৮৬৩ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ১৪ জন । এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৩ জন হল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বৃহস্পতিবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। গত এক দিনে মোট কতজন সুস্থ হয়েছেন সে তথ্য বুলেটিনে জানানো হয়নি। বুধবার পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৬১ জন সুস্থ হয়ে ওঠার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অধ্যাপক নাসিমা জানান, গত একদিনে যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তাদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ, ৩ জন নারী। তাদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা, বাকিরা চট্টগ্রামের। এই ১৪ জনের মধ্যে ২ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরেরর মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরও ২০১ জনকে, বর্তমানে সারা দেশে আইসোলেশনে রয়েছেন ২ হাজার ৫৭০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১টি ল্যাবে ৭ হাজার ৩৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও বুলেটিনে তথ্য দেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ; সে বিবেচনায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন রয়েছে দশম সপ্তাহে। অষ্টম সপ্তাহ অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত সময়ে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছিল ৩ হাজার ৭৯২ জনের মধ্যে। সে সপ্তাহে সুস্থ হয়েছিলেন ৬৪ জন, মারা গেছেন ৩৫ জন। নবম সপ্তাহ, অর্থাৎ ৩ মে থেকে ৯ মের মধ্যে শনাক্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৯৮০ জন কোভিড-১৯ রোগী। সুস্থ হয়েছিলেন ২ হাজার ৩৩৭ জন, মারা গেছেন ৩৯ জন। ১০ মে থেকে শুরু হওয়া দশম সপ্তাহে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৯৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৯ জন, মারা গেছেন ৬৯ জন।
ধনীদের কঠোর সমালোচনা করলেন মান্না
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
‘এক বিল গেটস দিয়েছেন ৪৪ বিলিয়ন ডলার, হেল্প করেছেন। চীনের জ্যাক মা ৪০ বিলিয়ন, ভারতের শাহরুখ খান, সালমান খান, আমির খান দিয়েছেন ২০০ কোটির উপরে। আমাদের দেশের বড় লোকরাই সব ফকির, কেউ কোনো টাকা দিতে পারে নাই। কী কারণে, বলেন তো? আমাদের দেশের লক্ষ-কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়, কিন্তু টাকা দিতে পারে নাই কেউ।’ করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় বিল গেটস, জ্যাক মা, শাহরুখ খান ও আমির খানদের অনুদানের তথ্য তুলে ধরে দেশের সম্পদশালীদের কঠোর সমালোচনা করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ‘করোনা: শ্রমজীবীদের চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে এক গোলটেবিল আলোচনায় চলমান সংকট মোকাবেলায় সরকার ‘ব্যর্থ হয়েছে’ দাবি করে তাদেরও সমালোচনা করেন মান্না। বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক।
এই সংকটকালে দেশের বিত্তবানদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘গার্মেন্ট শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছে না। এখন তো শুধু আমরা শ্রমিকদের কথা বলছি। যারা নিম্নবিত্ত তারা দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যাবে, যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত তারা দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে যাবে। এটা কত দূর কন্টিনিউ করবে কিছু জানি না। কত বড় যে সংকট, আমাদের যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের মাথায় এগুলো কিচ্ছু নাই। মানে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এদের কাছে কিছু প্রত্যাশা করা মুশকিল।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘চার কোটি পরিবার আছে যারা দিনে আনে দিন খায়, ওরা দুই মাস বেঁচে আছে কেমনে আমি তাই ভেবে বুঝতে পারি না। মারা যাবে লোক, দুর্ভিক্ষের লাশের সারি দেখবেন রাস্তার মধ্যে। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যদি আপনি এখনই কিছু না করতে পারেন।’ এই সংকট মোকাবেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষার জন্য সব পেশাজীবী সংগঠনকে এক হয়ে ‘একটা কিছু করার’ আহ্বান জানান মান্না।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আজকের ডেইলি স্টারে আছে, এক আওয়ামী লীগের নেতা উনি জেলার কি যেন সম্পাদক, উনি রেড ক্রিসেন্টের সম্পাদক, হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, আরও কয়েক জায়গায় আছেন- তার এক পরিবারের ১৩ জন ওএমএসর চাল পেয়েছে। এই ১৩ জনের মধ্যে ৪-৫ জন নাকি বিদেশে থাকে। আর অনলাইন নিউজপেপার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম দিয়েছে তিন দিন আগেই- একটা লোকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কার কাছে কী বলবেন? মানে আমরা এত অসহায়, এতই আমাদের হাত-পা বাঁধা। এই রকম একটা সিন্দাবাদের ভুত আমাদের কাঁধে। আপনি কাঁধ যতই নাড়া-চড়া করেন, মাটিতে গড়াগড়ি খান ও নামবে না, থাকবেই এবং কোনো কাজ করবে না, আপনার ঘাড় চাপতে থাকবে, চাপতে থাকবে। এর মধ্য দিয়ে কোনো টাকা পয়সা পাওয়া যায় কি না, না হলে চালটা পাওয়া যায় কি না-পানির নিচে রাখবে, মাটির নিচে রাখবে সেই চালের উপরে রাখবে- এই রকম একটা দুঃশাসন আমাদের ঘাড়ের ওপর চেপে বসে আছে।’
এই সংকট মোকাবেলায় সবাইকে নিয়ে একটি ‘কারিগরি কমিটি’ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবি মেনে নিন। এই সরকারের সমস্ত ব্যর্থতা সত্ত্বেও আমরা সবাই যদি ঘুরে দাঁড়াতে পারি নিশ্চয়ই উই উইল সারভাইভ।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘কথা একটিই- সরকারকে তার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিতে হবে, এই ব্যর্থতা স্বীকার করে অবিলম্বে বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষজ্ঞ তাদেরকে নিয়ে একটি জাতীয় সমন্বয়ক কমিটি গঠন করতে হবে। এই জাতীয় সমন্বয় কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে এই ভয়াবহ করোনাভাইরাস সংকট থেকে আমরা কীভাবে বাঁচতে পারি এবং কীভাবে আমাদের শ্রমিকদের বাঁচাতে পারি।’
শ্রমিকদের দুই-চার বেলা খাবার দিয়ে ‘কিছু হবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের রক্ষায় মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে। ৪০ বছর গার্মেন্ট মালিকরা ব্যবসা করেছেন, কোথায় তাদের টাকা?’
সভাপতির বক্তব্যে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, ‘খুব বেশি দূরে নয়, আমাদের শ্রমজীবীদের সকলকে একদিন এক হয়ে দাঁড়াতে হবে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বর্তমান সরকার মালিকদের সরকার। গার্মেন্ট মালিক, সংবাদপত্রের মালিক, দোকান মালিক সব মালিকরা হচ্ছে সরকারের সঙ্গে। টিপু মুনশি গার্মেন্ট মালিক, উনি হচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সব মালিকরা এই সরকারের ওপর চেপে বসেছে। এই জগদ্দল পাথর থেকে মুক্তির জন্য আমাদেরকে একটা কিছু করতে হবে।’
আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটির সভাপতি জাকির হোসেনের স্বাগত বক্তব্যে আলোচনা সভায় বিএসএমএমইউর সাবেক উপ-উপাচার্য্ অধ্যাপক এম এ মান্নান মিয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রধান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নুরুল হক নূর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা মুনির হোসেন কাশেমী, সমন্বিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পথিক, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সহ-প্রধান তাসলিমা আখতার, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাংঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, হালকা যানবাহন পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সাউথ-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফারহাদ হোসেন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা ছাড়লেন আরও ১৯৭ থাই নাগরিক
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা ছেড়েছেন থাইল্যান্ডের আরও ১৯৭ জন নাগরিক। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় থাই লায়ন এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে নাগরিকরা দেশের পথে রওনা হন বলে ঢাকায় দেশটির দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদেরকে বিদায় জানান থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অরুনরাং ফোথং হামফ্রেইস ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল প্রথম একটি ফ্লাইটে ৩৫ জন নাগরিক থাইল্যান্ড ফিরে যান। এছাড়া আরও নাগরিককে দেশে ফেরাতে আরেকটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
থাই নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে থাই দূতাবাস।
নিজের বিপিএল দলে দু প্লেসিকে চান তামিম
::ক্রীড়া প্রতিবেদক::
আইপিএলে নিয়মিত খেলছেন ফাফ দু প্লেসি। খেলেছেন বিগ ব্যাশ, সিপিএল ও ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টেও। তবে বিপিএলে খেলেননি এখনও। সামনের বিপিএলে দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটসম্যানকে নিজের দলে দেখতে চান তামিম ইকবাল। দু প্লেসিও জানিয়েছেন, বিপিএল খেলতে তিনি আগ্রহী। ফেইসবুক লাইভে বুধবার রাতে দু প্লেসির সঙ্গে আড্ডায় তামিম তুলে আনেন বিপিএলের প্রসঙ্গ। আইপিএলে অন্যতম বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংসে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে খেলেছেন দু প্লেসি। তামিমকে তিনি শোনালেন সেই অভিজ্ঞতার কথা। তামিম জিজ্ঞেস করেন, বিপিএলের ম্যাচ দেখার সুযোগ হয়েছে কিনা। দু প্লেসি জানালেন, টিভিতে বিপিএল দেখার সুযোগ তার হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপিএল লাইভ দেখা যায় না। তবে ক্রিকইনফোতে (ক্রিকেট ওয়েবসাইট) অনুসরণ করেছি, পরিচিত ক্রিকেটাররা কেমন করছে। টিভিতে সরাসরি দেখা হয়নি।”
তামিম বিপিএল নিয়ে খানিকটা ধারণা দিলেন দু প্লেসিকে, জানালেন তার ইচ্ছের কথাও। বিপিএল দারুণ টুর্নামেন্ট, আবহ থাকে দুর্দান্ত। তোমাকে কথা দিতে হবে, এবার তুমি বিপিএল খেলতে আসবে এবং অবশ্যই আমার দলে খেলবে। খুবই ভালো টুর্নামেন্ট, তুমি উপভোগ করবে।
চওড়া হাসিতে দু প্লেসি জানালেন বিপিএল নিয়ে তার আগ্রহের কথা। তোমাকে আগেই বলেছি যে আমি অবশ্যই বিপিএল খেলতে আসছি। ঠিক নিশ্চিত নই যে বিস্তারিত এই আলাপ করার উপযুক্ত জায়গা এটি কিনা, তবে অবশ্যই বিপিএল খেলতে ভালো লাগবে আমার।
না ফেরার দেশে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার ছেলে আনন্দ জামান জানান, ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ৪টা ৫৫ মিনিটে তার বাবার মৃত্যু হয়। বাংলা একাডেমির সভাপতি আনিসুজ্জামানের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। হৃদরোগ, কিডনি ও ফুসফুসে জটিলতা, পারকিনসন্স ডিজিজ এবং প্রোস্টেটের সমস্যার পাশাপাশি শেষ দিকে তার রক্তেও ইনফেকশন দেখা দিয়েছিল।
অসুস্থতা বাড়তে থাকায় গত ২৭ এপ্রিল এই অধ্যাপককে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৯ মে তাকে নেওয়া হয়েছিল ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদও জাতীয় শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।
বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। ভারত ভাগের পর তারা এপারে চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন আনিসুজ্জামান। এই ভূখণ্ডে ধর্মান্ধতা ও মৌলবাদবিরোধী নানা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তার।

