আজ , ।   

সদর থানায় বিশেষ অভিযান: দুই মাসে বিভিন্ন মামলার ১০৫৯ আসামি গ্রেফতা*র

আরো খবর

আবু সায়েম: কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত দুই মাস তথা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা অপরাধের অভিযোগে ১০৫৯ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর মডেল থানা পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে চোর ও ছিনতাইকারী ৩৬০ জন, মাদক ব্যবসায়ী ৮৬ জন, মাদক সেবনকারী ৩৪০ জন, পেনাল কোড ২৯০ ধারায় ৫২ জন, ওয়ারেন্টমূলে ১৮৪ জন এবং নিয়মিত মামলার ৩৭ জনসহ সর্বমোট ১০৫৯ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, পর্যটন শহর কক্সবাজারে অপরাধ দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষ ও ঘুরতে আসা পর্যটকদের মাঝে। গত দুই মাসে বিশেষ অভিযানে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিহ্নিত চোর, ছিনতাইকারী এবং তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কাটিয়ে পর্যটন নগরীতে এখন শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুম শুরু হতেই শহরে চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পর্যটন স্পট ও নির্জন এলাকাগুলোতে পর্যটকরা ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছিলেন। পাশাপাশি কিছু অসাধু চক্র মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে শহরের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছিল।এমনকি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছিলো।

সার্বিক বিষয়গুলো নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক সফল অভিযানে ধরা পড়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের মূল হোতারা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া মালামাল এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

সরেজমিনে কয়েকজন পর্যটকের সাথে কথা বলে জানা যায়, শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক জোরদার মনে হচ্ছে। মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল থাকায় তারা গভীর রাত পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াতে পারছেন।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, শহর নিরাপদ থাকলে পর্যটকের সমাগম আরও বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।

সচেতমন মহল মনে করেন, সদর থানার এই বিশেষ অভিযানে চোর, ছিনতাইকারী, মাদক সেবনকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত মামলার আসামি আইনের আওতায় আসায় আইনশৃংখলা পরিস্থতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার সুযোগ্য ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযান পর্যটন শহর কক্সবাজারে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সাধারণ মানুষ পুলিশের এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তাঁরা মনে করেন, পর্যটক এবং স্থানীয়দের স্বার্থে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ করতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকুক।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, “পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চোর, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে অভিযানের গতি তরান্বিত করা হয়েছে। তিনি আরো জানান,পর্যটক এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শহরে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শহরে আগত পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাই ও বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

এদিকে চলমান এই বিশেষ অভিযানে ১৯৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যদেরও আটক করা হয়।এছাড়া থানায় আগত সেবাপ্রার্থীরা তাৎক্ষণিক সেবা পাচ্ছে। মামলা, জিডি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ যে কোন সেবাগ্রহণের ক্ষেত্রে কোন টাকা দিতে হয়না বলে জানিয়েছেন অনেক সেবাগ্রহীতা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -