নিজস্ব প্রতিবেদক :
শীতের আগমনী সময়ে সবজির দাম কমার প্রত্যাশা থাকলেও রাজধানীর বাজারে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বৃষ্টির প্রভাবের কথা বলে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। বেশির ভাগ সবজির কেজি ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে থাকলেও শিম ও কাঁচা মরিচের মতো কিছু পণ্যের দাম ছাড়িয়েছে ১৬০ টাকা। এতে বাড়তি চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। গোল বেগুনের কেজি ১০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এ ছাড়া করলা, শসা ও ঝিঙার কেজি ৮০ টাকা করে। পটল, কাকরোল, ঢেঁড়স ও ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।
অন্যান্য সবজির মধ্যে বরবটির কেজি ৮০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি ৪০ টাকায়।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেশি। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে ভালোভাবে সবজি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এত দামে সবজি কেনা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর।
তিনি আরও বলেন, শীত আসার আগে সবজির দাম কমার কথা থাকলেও এখন উল্টো বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে। বিক্রেতারা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলছেন। আগে যে পরিমাণ সবজি কিনতেন, এখন খরচ সামলাতে প্রতিটি পণ্য অল্প করে কিনতে হচ্ছে।
রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বেগুনের কেজি ১০০ টাকা। অন্যান্য সবজির বেশির ভাগই ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তাঁর মতে, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজারে সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বেড়েছে।
তিনি বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে আসার আগে আগের মৌসুমের অনেক সবজির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়তি রয়েছে। তবে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
সব মিলিয়ে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবে রাজধানীর সবজির বাজারে বাড়তি দামের চাপ অব্যাহত রয়েছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের নিত্যদিনের বাজার খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

