আজ , ।   

এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক

আরো খবর

বিনোদন ডেস্ক: অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ভারতের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক (রুক্মিনী মল্লিক)। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি জিতলে ও তৃলমূল হারলে পদত্যাগ করেন তিনি। তবে ফের রাজ্যসভার এমপি পদে একই আসন থেকে প্রার্থী হলেন কোয়েল। তবে এবার তিনি প্রার্থী হলেন বিজেপির হয়ে। আর এতে তার সমালোচনা করছে ভেঙে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের দুই অংশই।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য বেড়ে হয়েছে ছয়জন। কোয়েল এমপি হলে তা সাতজনে দাঁড়াবে। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য ছিল ১৩। এখন কমে তা নয়জনে নেমেছে।

বিধানসভা ভোটে তৃণমূল পর্যুদস্ত হওয়ার পর সংসদের দুই কক্ষেও তৃণমূলের মধ্যে ‘বিদ্রোহ’ বাধে। রাজ্যসভা থেকে একে একে পদত্যাগ করেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক। তিন রাজনীতিক এখন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ। বাকি ছিলেন কোয়েল। তৃণমূলের সদস্য হিসেবে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করা অভিনেত্রীকেও প্রার্থী করেছে বিজেপি। আগামী ১৬ অক্টোবর, দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন রাজ্যসভার উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আবার প্রার্থী কোয়েল মল্লিক।

কোয়েলের রাজনৈতিক জীবন শুরু চলতি বছরেই। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করে তৃণমূল। ১৬ মার্চ নির্বাচনে জয়ী হন। ৬ এপ্রিল রাজ্যসভায় শপথ নেন। তা ছাড়া শ্রম, বস্ত্র এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটির সদস্যও করা হয় তাকে। যদিও ওই দফায় এমপিজীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি কোয়েলের। একটি অধিবেশনেও যোগ দেননি। সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

তবে কোয়েলকে যে এ বার বিজেপি রাজ্যসভায় পাঠাতে পারে, এমন জল্পনা ছিল। এমপিপদে ইস্তফা দেওয়ার পরপরই কোয়েলের সঙ্গে বৈঠক হয় নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রবীণ বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের। তার আগে লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ এমপিরা ওই সময়ে একাধিক বার বৈঠকে বসেছিলেন ভূপেন্দ্রের বাড়িতে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের সরকারি অনুষ্ঠানে কোয়েলের বাবা প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে হাত ধরে মঞ্চে তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে, কোয়েল বিজেপির প্রার্থী হওয়ায় সমালোচনা করছে তৃণমূলের দুই অংশই। ঋতব্রত তৃণমূল বা গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বিধানসভার বিরোধীদলের মুখ‍্যসচেতক আখতারুজ্জামান এ জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুষেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা রক্ত-ঘাম দিয়ে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে, জীবন বাজি রেখে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিলেন, তাদের খেয়াল রাখেননি উনি (মমতা)। কোথাকার কোন তারকা, কোন শিল্পপতি, বিদেশ থেকে আমদানি করা লোকজনকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। কোয়েল মল্লিক তাদের মধ্যে একজন। তিনি অভিনেত্রী। মমতা তৃণমূল নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে তাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। এখন সময় বুঝে তারা তো বিজেপিতে যাবেনই।’’

আবার আখরুজ্জামানের সন্দেহ, কোয়েলকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যেও কোথাও মমতা রয়েছেন।

কুনাল বলেন, ‘কোয়েলের বাবা রঞ্জিত মল্লিককে কলকাতার শেরিফ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোয়েলকে রাজনীতিতে নিয়ে এসে সরাসরি রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন। এত কিছুর পরেও যদি কেউ এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেন, তা হলে তো রাজনৈতিক দলগুলোর ভরসা উঠে যাবে রাজনীতির বাইরের লোকেদের ওপর থেকে। রাজনৈতিক দলগুলো যে উদারতা দেখায়, অনেক ক্ষেত্রে দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের পাশে সরিয়ে রেখে যে ভাবে অন্য ক্ষেত্রের লোকজনকে টিকিট দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে, এর পরে তো সেই উদারতা দেখাতে রাজনৈতিক দলগুলি ভয় পাবে।’

মমতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মমতাদিরও ভাবা উচিত, তার এই সব সিদ্ধান্ত কতটা ঠিক ছিল। সারাবছর যারা দলের কাজে থাকেন, তাদের বদলে এই ভাবে গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে লোকজন খুঁজে এনে টিকিট দেওয়ার ফল কী হয়, নিশ্চয়ই মমতাদি বুঝতে পারছেন এবার।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -