আজ , ।   

ঔষধ বিক্রেতা সংগঠন ‘ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আনোয়ারায় চলছে দুই পক্ষের উত্তেজনা

আরো খবর

এম জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম। বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি (BCDS) দেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অভ্যন্তরীণ অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনি জটিলতার কারণে এটি তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।। সাধারণ ওষুধ ব্যবসায়ী ও “কেমিস্ট-বান্ধব ঐক্য পরিষদ” সহ বিভিন্ন পক্ষের পক্ষ থেকে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ কমিটি গঠন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ আত্মসাত ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

এসব সংগঠনকে ঘিরে তৈরি হওয়া মূল বিতর্কগুলো হলো: নির্বাচনহীনতা ও ‘পকেট কমিটি’ গঠনের বিতর্ক, নির্বাচন ছাড়াই স্বঘোষিত কমিটির নামে বৈধ ও অবৈধ ফার্মেসী থেকে গণহারে চাঁদাবাজি এবং সমিতির সবচেয়ে বড় বিতর্ক হলো : স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে। সুদীর্ঘ ১৫- ২০ বছর ধরে কোনো উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। একইভাবে আনোয়ারায় ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শাখায় দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে কোনো সাধারণ সভা বা ভোটাভুটির মাধ্যমে কোনো নির্বাচন হয়নি। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মন্ত্রী- নেতাদের নাম ভাঙিয়ে একটি প্রতারক চক্র একটানা পকেট কমিটি’ দিয়ে সংগঠন চালানোর নজির রয়েছে।

এতে বিভিন্ন ফার্মেসীর লাইসেন্স বাতিল ও অভিযানের ভয় দেখিয়ে সমগ্র আনোয়ারায় গণহারে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। গত ১৮ জুন (২০২৬) বৃহস্পতিবার আনোয়ারার কনভেনশন সেন্টারে নকল- ভেজাল ঔষধ বিক্রয়ের বিরুদ্ধে ফার্মেসী মালিকদের নিয়ে একটি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, ঔষধ প্রশাসন চট্টগ্রামের তত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফজলুল হক, ঔষধ তত্বাবধায়ক নাসরিন আক্তার। সভায় অতিথিরা স্পষ্টভাবে জানান আনোয়ারায় ‘ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি’- নামে কোনো কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়নি এবং গণহারে চাঁদাবাজি করার লাইসেন্সও কাউকে দেয়া হয়নি।

অতিথিরা সেদিন বলেছিলেন যে- ঐক্যমতের ভিত্তিতে আনোয়ারার বৈধ সব ফার্মেসী মালিক এক প্লাটফর্মে আসলে একটি কমিটি অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। ঔষধ প্রশাসনের পরামর্শকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে গত ৩ অক্টোবর শনিবার ফার্মেসী মালিকদের ক্ষুদ্র একটি অংশ ১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণা করেন। এতে ঔষধ প্রশাসনের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষ থেকেও কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এই স্বঘোষিত কমিটির সভাপতি হলেন সজল মিত্র, সাধারণ সম্পাদক ডি এইচ মনছুর।

এ ব্যাপারে গত ২০ জুন ২০২৬ ইংরেজি তারিখে গঠিত ক্যামিষ্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি আনোয়ারা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহাজাহান ও সদস্য সচিব আবদুল মান্নান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সদ্য স্বঘোষিত কমিটির সভাপতি- সেক্রেটারি ঔষধ প্রশাসনের নীতিমালা না মেনে যেনতেন করে কমিটি গঠন করেছে। এই দুই নেতা বলেন, চাঁদাবাজি ও ভেজাল ঔষধ আনোয়ারায় ঢুকানোর জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে এই কমিটি গঠন করেছে। শাহাজাহান- মান্নান সহ আনোয়ারার একাধিক ফার্মেসী মালিক অভিযোগ করেন গত ৩ অক্টোবর শনিবার যে কমিটি গঠন হয়েছে সেই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের কাছে ঔষধ বিক্রির কোনো ড্রাগ লাইসেন্স নাই । শাহাজাহান ও মান্নান বলেন, আমরা সাম্প্রতিক সময়ে স্বঘোষিত কমিটির এহেন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাখনুওন তাবাসসুম বলেন যে কেউ নিজেদের ইচ্ছামতো কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ’ক্যামিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট’ এর নাম ব্যবহার করে কমিটি গঠন করলে সেই কমিটি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, অনুমোদনহীন কমিটির বিরুদ্ধে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -