নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের উৎপাদিত কথিত এনার্জি ড্রিংক ‘স্পিড’ নিয়ে দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এনার্জি বা শক্তি জোগানোর চটকদার প্রচারণার আড়ালে সাধারণ মানুষকে এক ভয়াল স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই কার্বনেটেড পানীয়।
বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে বহুল পরিচিত এনার্জি ড্রিংক আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ‘স্পিড’। তথাকথিত “ইনস্ট্যান্ট এনার্জি” বা মুহূর্তেই সতেজতার মোহনীয় বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ তরুণ এই পানীয়টি সেবন করছেন। তবে এর ভেতরের পুষ্টি উপাদান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এটি কোনো শক্তিবর্ধক পানীয় নয়, বরং স্বাস্থ্য ধ্বংসের এক নীরব মরণফাঁদ।
মাত্র ২৫০ মিলিগ্রামের একটি পুচকে প্লাস্টিক বোতলে থাকা উপাদানের তালিকা বিশ্লেষণ করলেই উন্মোচিত হয় এর মারাত্মক রূপ:
চিনির বোমা (৪৫ গ্রাম): বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সারা দিনে ২৫ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৫০ গ্রামের বেশি চিনি খাওয়া উচিত নয়। অথচ স্পিডের মাত্র ২৫০ মিলিলিটারের এক বোতলেই ঠুসে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪৫ গ্রাম চিনি! এটি কার্যত এক বোতল বোতলজাত স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং দাঁতের ক্ষয়ের কারণ।
অতিরিক্ত ক্যাফেইনের বিষক্রিয়া (৬৫ মি.গ্রা.): এই পানীয়টিতে রয়েছে প্রায় ৬৫ মিলিগ্রাম উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন। সাময়িক কৃত্রিম সতর্কতা কিংবা ঘুম তাড়ানোর বাহানায় এই বিপুল পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ স্নায়ুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: নিয়মিত বা অতিরিক্ত স্পিড পানের ফলে অনিদ্রা, হাত-পা কাঁপা, মানসিক অস্থিরতা, তীব্র মাথাব্যথা এবং হুট করে বুক ধড়ফড় করার মতো জটিল হৃদরোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
কৈশোর ধ্বংসের হাতিয়ার: কোনো পুষ্টিগুণ ছাড়া (জিরো প্রোটিন, জিরো ফ্যাট) কেবল বিপুল পরিমাণ ক্যালরি (১৮০ kcal) ও উদ্দীপক দিয়ে তৈরি এই পানীয় কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের জন্য এক মারাত্মক ফাঁদ। এটি কোনো শারীরিক দুর্বলতার চিকিৎসা বা পুষ্টিকর পানীয় নয়, বরং এক ধরনের সাময়িক কৃত্রিম উদ্দীপক যা শরীরকে ভেতর থেকে ক্রমান্বয়ে ফাপা ও অকেজো করে দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, ‘এনার্জি ড্রিংকস’ এর নামে বাজারে বিক্রি হওয়া এসব পানীয় বস্তুত তরুণদের রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে এবং ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল বানিয়ে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অনতিবিলম্বে এসব ক্ষতিকর এনার্জি ড্রিংকের লাগাম টানা না গেলে এবং শিশু-কিশোরদের হাতে এগুলোর সহজলভ্যতা বন্ধ না করলে সামনে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশ। কেবল সাময়িক চাঙ্গা ভাবের প্রলোভনে পড়ে নিজের অজান্তে তরল বিষ পান বন্ধ করার এখনই সময়!
বিস্তারিত আসছে…

