আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
৩১ আগস্ট সোমবার কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) বার্ষিক সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ আরও এক ডজনেরও বেশি দেশের নেতারা যোগ দিচ্ছেন।
এ বছর ‘এসসিও’ প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মধ্যেই এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘এসসিও’ ঐতিহাসিকভাবে অর্থনৈতিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং প্রেসিডেন্ট শি এই সম্মেলনকে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের নিজেদের ধারণা তুলে ধরা এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রকাশে ব্যবহার করেছেন।
‘এসসিও’র প্রতিষ্ঠা ঘোষণায় বলা হয়েছে, সংগঠনটি ‘অন্য কোনও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত জোট নয়’। কিন্তু গত বছরের সম্মেলনে পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, শি ‘ভয় দেখানোর কর্মকাণ্ড’-এর নিন্দা করেন, যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। এবারের সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং তার তুর্কি প্রতিপক্ষ রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে তুরস্ক এই সংগঠনের সদস্য নয়।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এবারের ‘এসসিও’সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পুতিনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরান ২০২৩ সালে এই জোটে যোগ দেয়। দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে এবং চীনের সঙ্গে রয়েছে জ্বালানি খাতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই কিরগিজস্তানের চোলপন-আতায় অনুষ্ঠিত ‘এসসিও’এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকের ফাঁকে বৈঠক করেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
‘এসসিও’ এর ১০টি স্থায়ী সদস্য দেশের পাশাপাশি আরও ১৫টি দেশ ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার।
‘এসসিও’ পূর্ণ সদস্য ভারত এবং পাকিস্তানের নেতারাও এবারের সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই জোটের দাবি, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে তারা।
সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, তিনি জি২০-এর সদস্য দেশগুলোকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের শর্তগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করতে উৎসাহিত করবেন। তিনি বেইজিংয়ের ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্তকে ‘অস্থিতিশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
৩০ আগস্ট রবিবার যুক্তরাষ্ট্রে জি২০-এর অর্থনৈতিক নেতাদের বৈঠকের আগে রয়টার্সকে বেসেন্ট বলেন, ‘১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিয়ে বিশ্ব একটি চীনকে মেনে নিতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘চীনের অর্থনীতি বেশ দুর্বল এবং তারা রফতানির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তাদের অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও জানান, জি২০ সম্মেলনের সময় তিনি চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর প্যান গংশেংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছেন।
আলোকিত প্রতিদিন /৩১ আগস্ট ২০২৬/মওম

