রাইসুল ইসলাম খোকন,সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকার ও বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসানো হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ি তালা দিয়ে স্বপরিবারে পালিয়ে যায়। জানা যায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া গ্রামের হিশু মণ্ডলের বাড়িতে স্থানীয়দের উদ্যোগে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় জামাল উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন এবং পরিচালনা করেন হাফিজুর রহমান। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ওয়াজেদ আলী ওরফে খোকন মিয়া, সোলায়মান, এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, স্বপন মাস্টার, মঞ্জুরুল ইসলাম ও সুজাত আলীসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। এ সময় সালিশ বৈঠকে ৫-৬ শতাধিক বিভিন্ন পেশাজীবী জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট দুপুরের দিকে বলারদিয়ার গ্রামের বাসিন্দা দুই সন্তানের জনক মাছুদুল হাসান রানা (৪৮) তার বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে প্রতিবেশী দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। তাদের একজনকে বাড়ির একটি কক্ষে মোবাইলে গেম খেলার জন্য মোবাইল দিয়ে বসিয়ে রাখে এবং অপর দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী (৯)কে বসত ঘর থেকে নিয়ে গোসলখানায় বলাৎকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। আরো অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রলোভনে বিভিন্ন সময় দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। অপর তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টা করলে সে ঘটনাস্থল থেকে চলে আসে।
এ বিষয়টি কাউকে জানালে ওই শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। পরদিন দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী শারীরিক ব্যথার কথা জানালে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক ওয়াজেদ আলী ওরফে খোকন মিয়া ও সোলায়মান বলেন, আমরা প্রথমে সামাজিকভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অভিযুক্ত পক্ষ সালিশে উপস্থিত হয়নি। এখন এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ ব্যাপারে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুদুল হাসান রানার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

