আজ , ।   

কবি মোজাফফর বাবুর শুভ জন্মদিন

আরো খবর

আগামী ২৮ আগস্ট ২০২৬ অন্যধারা সাহিত্য সংসদের যুগ্ম মহাসচিব, প্রগতিশীল ছাত্রনেতা, কবি, গল্পকার ও কথাসাহিত্যিক মোজাফফর বাবুর শুভ জন্মদিন। প্রিয় কবির জন্মদিনে অন্যধারা সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে রইল লাল গোলাপের শুভেচ্ছা, আন্তরিক অভিনন্দন ও অফুরন্ত ভালোবাসা।

কবি মোজাফফার বাবুর পরিচিতি:
কবি, গল্পকার, কথাসাহিত্যিক এবং আশির দশকের প্রগতিশীল ছাত্রনেতা মোজাফফর বাবু ২৮ আগস্ট যশোর সদরের খড়কির সার্কিট হাউজ এলাকার পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মানবতাবাদী ও নতুন সমাজের দিশারী, আদর্শে অবিচল এক বিরল ব্যক্তিত্ব মাস্টার ইমান আলী এবং শেফালী খাতুনের ঘর আলোকিত করে তাঁর জন্ম। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে যশোরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসভবনে। শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি যশোরের খড়কি প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করেন। তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন যশোর জেলা স্কুলে। সেখান থেকে ১৯৮০ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৮২ সালে যশোর পলিটেকনিক কলেজে ডিপ্লোমা ইন কমার্স পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। তাঁর পিতামহ মাস্টার ইমান আলী ছিলেন দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী ও সমাজ পরিবর্তনের চিন্তাধারায় বিশ্বাসী একজন মানবতাবাদী। তাঁর আদি পরিবারও ছিল প্রগতিশীল চিন্তাধারার অধিকারী।

তাঁর বড় চাচা ডাক্তার লুৎফর বিশ্বাস এবং মেজ চাচা মোহাম্মদ খেলাফত বিশ্বাস ছিলেন মানবতাবাদী। তাঁর সেজ চাচা মো. বেলায়েত হোসেন ১৯৩৩ সালে ভারতবর্ষে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।জাতপাত ও শ্রেণিবৈষম্যের ঊর্ধ্বে থাকা তাঁর পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বহু গুণী ও বিশিষ্ট ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ইব্রাহিম খাঁ, শ্রী সুধীর বাবু, মোহাম্মদ সুলতান, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতাপ উদ্দিন আহাম্মেদ, ডাক্তার এম এ করিম, শ্রী নারান মাস্টার ও শরীফ প্রফেসরসহ আরও অনেকে।

শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক চর্চা:
বাল্যকাল থেকেই কবি মোজাফফর বাবু সাংস্কৃতিক চর্চায় মনোনিবেশ করেন। ছোটবেলা থেকেই নিজ উদ্যোগে যশোর সদরে ‘ঘোপ শিশু-সংঘ’ নামে সরকারের নিবন্ধনকৃত একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে রচনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি ‘একুশের ডাক’, ‘স্বাধীনতা’ ও ‘বাংলার শহীদ মিনার’ শিরোনামের নাটক মঞ্চস্থ করেন। ঢাকা ড্রামা সার্কেলের পক্ষ থেকে মহিলা সমিতির মঞ্চের নাটক এবং টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। অন্যধারা সাহিত্য সংসদ ভার্চুয়াল কমিটির লাইভ অনুষ্ঠান, বঙ্গীয় সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ, কৃষ্টি বন্ধন সাহিত্য সংসদ, শুদ্ধ চিত্ত বাংলাদেশ, ভিন্নমাত্রাসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আলোচনা, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমী মহলে পরিচিতি অর্জন করেছেন। সংগঠক হিসেবে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সাপ্তাহিক অন্যধারার সম্মাননা স্মারক ২০২০’ লাভ করেন। এছাড়া মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কার ও মাদার তেরেসা পুরস্কারসহ ভিন্নমাত্রা ও বিভিন্ন অভিনয়-আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করেন।

প্রগতিশীল ছাত্রনেতা:
প্রগতিশীল চিন্তাধারার কবি মোজাফফর বাবু বাল্যকাল থেকেই নতুন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে আসছেন। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইন কমার্স কলেজে পড়াশোনার সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিপুল ভোটে ভিপি নির্বাচিত হন। আশির দশকে ঢাকায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি প্রথম সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রজীবনের সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁর সাহিত্যচর্চায়ও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সাহিত্যকর্মে সমাজ ও মানুষের প্রতিচ্ছবি:
কবি মোজাফফর বাবুর লেখায় উঠে এসেছে সমাজ, মানুষ, প্রকৃতি, মানবিক মূল্যবোধ, বৈষম্য, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মা নুষ, জীববৈচিত্র্য এবং সমকালীন নানা সংকট। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের পথ চলায় আণবিক নয়; স্বাস্থ্য, কৃষি, জীব-বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ’, ‘অধরা টমটম গাড়ি’ ইত্যাদি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার মধ্যে রয়েছে ‘শিকড়ের সান্নিধ্যে’, ‘ময়নাতদন্ত’, ‘কফি হাউজের আবছায়া’, ‘খড়ায় পুড়ে মধ্যপ্রাচ্য’, ‘তখনো জর্জ ফ্লয়েড’ প্রভৃতি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমসাময়িক ঘটনাবলি, বাস্তব জীবনের নানা তথ্য-উপাত্ত এবং মানবমনের অব্যক্ত কথাকে পৃথক পৃথক চিত্রকল্পের মাধ্যমে তাঁর গল্পগ্রন্থে প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরার প্রয়াস রয়েছে। **‘জীববৈচিত্র্য’, ‘প্রান্তিক অবহেলিত কৃষক’, ‘ঘাতক করোনাভাইরাস’, ‘চেতনায় মাস্টার ইমান আলী’**সহ বিভিন্ন রচনায় তিনি সমাজের অবহেলিত মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, করোনাভাইরাসকালে মানুষের অসহায়ত্ব এবং জীবনের নানা বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। ছোট ছোট বাক্যে লেখা তাঁর অনেক গল্প পাঠকের মনে সহজেই জায়গা করে নেয়।

কবি মোজাফফর বাবুর নির্বাচিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে
কাব্যগ্রন্থ: কফি হাউজের আবছায়া
উপন্যাস:
তালুক (প্রথম প্রকাশ), অবাক জোছনা (দ্বিতীয় উপন্যাস)
গল্পগ্রন্থ:
উলুখাগড়াদের গল্প, কুহেলিকা, পাঠ ও ব্যক্তিজীবন

অবসর সময়ে তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সুকান্ত ভট্টাচার্য, স্টিফেন হকিং ও চে গুয়েভারা সম্পর্কে পড়াশোনা করেন। জ্ঞানচর্চা ও মননশীলতার পাশাপাশি তিনি প্রকৃতিরও নিবিড় প্রেমিক। নির্জনতা ও একাকিত্ব তাঁকে টানে। সাগরের তীরে, পাহাড়ের মাঝে এবং খোলা আকাশের নিচে সময় কাটাতে তিনি পছন্দ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি সদালাপী এবং একাধারে একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতায় আগামী বইমেলায় নতুন একটি গল্পগ্রন্থ ‘খালাশী’ প্রকাশের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কবি মোজাফফর বাবু। জন্মদিনের এই শুভক্ষণে কবির প্রতি রইল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা। তাঁর কলমে আরও সমৃদ্ধ হোক বাংলা সাহিত্য, তাঁর সৃষ্টিতে আরও গভীরভাবে প্রতিফলিত হোক মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির কথা।

শুভ জন্মদিন, প্রিয় কবি মোজাফফর বাবু।
আপনার সাহিত্যযাত্রা হোক আরও দীর্ঘ, সৃজনশীল ও আলোকিত।
অন্যধারা সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে
লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন।

- Advertisement -
- Advertisement -