আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতি ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আজ পুরো বিশ্ব পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির মতে, মার্কিন একতরফা সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ধ্বংস করছে এবং অন্যান্য দেশকে সুরক্ষার জন্য পরমাণু অস্ত্র অর্জনে বাধ্য করছে। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বিশ্বের অনেক দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কথা ভাবতে বাধ্য করছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তার মতে, এতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মূর্খতা’ প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে এ হামলা বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সদস্যপদ কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকাতে পারবে না—ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে সেটি স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণেই বিশ্বে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রেজায়ির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ও কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে দেওয়া নিজেদের স্বাক্ষরের প্রতিও তারা সম্মান দেখায়নি। এ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল নতুন করে সাজানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যেসব দেশ অংশ নেবে, তেহরান তাদের ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত অন্যান্য রুটেও হামলা চালানোর জন্য ইরান প্রস্তুত। রেজায়ি বলেন, আলোচনা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
এর আগে গত বুধবার ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর কথা জানান। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতায় যুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন। এরই মধ্যে ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

