আজ , ।   

হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকান ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প

আরো খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২১ আগস্ট শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে চলf সংঘাতের অবসানেও কোনো সমঝোতা এখনো হয়নি বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প জানান, তিনি বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে আমেরিকান ভূখণ্ড হিসেবে দেখছেন। তার দাবি, প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনো জাহাজ চলাচল করছে না।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যকার হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপথে বিশ্বে পরিবহন করা মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়।

ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে অন্তত ৬৮টি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবিকে ইরানের প্রত্যাখ্যান: হরমুজকে আমেরিকান ভূখণ্ড হিসেবে দেখার ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ট্রাম্পের এমন দাবিকে ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওয়াশিংটন সামরিক এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে।

এদিকে ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আলোকিত প্রতিদিন /২২আগস্ট ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -